আমার বান্দরবেলা পর্ব ৪

ছুডুবেলায় জ্বর হইলে মা মাথায় পানি ঢালতো।একদিন টেলিভিসন দেখতেছি হঠাৎ টিভির উপরে হাত দিয়া দেখি গরম হয়া গেছে।টিভির জ্বর হইছে মনে কইরা সাথে সাথে মগে কইরা পানি আইনা টিভির উপরের ফুটাগুলি দিয়া ঢাইলা দিলাম।একটু পর দেখি ফটাশ কইরা শব্দ কইরা টিভি বন্ধ হয়া গেছে।আমি মারে ডাইকা আইনা বললাম আম্মা টিভি মইরা গেছে।আম্মা টিভির অবস্থা দেইখা কইলো,” টিভির উপর পানি ঢালছো কেন?”আমি কইলাম টিভির জ্বর হইছিলো তাই মাথায় পানি দিছি,কিন্তু জ্বর মনে হয় বেশী ছিলো তাই টিভি মইরা গেছে।


ছুডুবেলায় জ্বর হইলে মা মাথায় পানি ঢালতো।একদিন টেলিভিসন দেখতেছি হঠাৎ টিভির উপরে হাত দিয়া দেখি গরম হয়া গেছে।টিভির জ্বর হইছে মনে কইরা সাথে সাথে মগে কইরা পানি আইনা টিভির উপরের ফুটাগুলি দিয়া ঢাইলা দিলাম।একটু পর দেখি ফটাশ কইরা শব্দ কইরা টিভি বন্ধ হয়া গেছে।আমি মারে ডাইকা আইনা বললাম আম্মা টিভি মইরা গেছে।আম্মা টিভির অবস্থা দেইখা কইলো,” টিভির উপর পানি ঢালছো কেন?”আমি কইলাম টিভির জ্বর হইছিলো তাই মাথায় পানি দিছি,কিন্তু জ্বর মনে হয় বেশী ছিলো তাই টিভি মইরা গেছে।

বড় খালুর মাথায় চুল আঁকার কারনে মাইর খাওয়ার ফলে কয়েকদিন ছবি আঁকা বন্ধ ছিলো।কিন্তু বড় বড় শিল্পীদের কেউ দমায় রাখতে পারেনা।আমি ছবি আকাঁর জন্য জায়গা খুজতে লাগলাম।একদিন দেখি বড়মামা তার ঘরে উবু হইয়া শুইয়া আছে।আর তার লুঙ্গী পা ঢাকা বাদ দিয়া মাথা ঢাকার তালে আছে।মামার ফর্সা পাছা দেইখা ভাবলাম শিল্প চর্চার জন্য এর চেয়ে সুন্দর ক্যানভাস হইতে পারে না।ব্রাশ আর রং নিয়া আইসা মামার দুই পাছায় সুন্দর কইরা দুইটা চোখ আইঁকা দিলাম আর কোমড়ে একগাছি চুল।পাছার মাঝখানে চেড়া ছিলো দেইখা নাক,ঠোট আঁকতে পারি নাই।

বাবারে শেভ করতে দেইখা আমারও খুব শেভ করতে ইচ্ছা করতো।একদিন বাবার রেজর নিয়া মাথার দুই পাশে দুইটা টান মারলাম একটু পর দেখি ধানক্ষেতের আঁইলের মতো আমার মাথার দুইপাশে দুইটা আঁইল তৈরী হইছে।শেভ কইরা বাইর হওয়ার পর আমার নতুন স্টাইল দেইখা সবাই পারলে ভিড়মী খায়।পরে সেলুনে গিয়া পুরা মাথা ন্যাড়া করতে হইছিলো।ঐদিন রাতে একটা বিয়ার দাওয়াত ছিলো ন্যাড়া মাথার কারনে যাইতে না চাইলে সবাই আমারে রাইখাই বিয়া খাইতে চইলা গেছিলো ।

ছুডুবেলায় দেখতাম মা খালারা কোথাও বেড়াইতে যাওয়ার আগে মেকআপ করতো,এইটা দেইখা আমারও শখ হইল মেকআপ করবো।মা মেকআপ বক্স আলমারীতে তালা মাইরা রাইখা দিতো বইলা শখ পূরন করতে পারতাম না।একবার বাসায় রং লাগানের কাজ চলতেছে।সন্ধ্যায় কাজ শেষে লেবাররা রং এর ব্রাশ,ডিব্বা স্টোর রুমে গুছায়গাছায় রাইখা চইলা গেছে, আমি স্টোররুমে ঢুইকা পা থেইকা মাথা পর্যন্ত ব্রাশ দিয়া নিজেরে সাদা রং করলাম।মা মেকআপের সময় গাল লাল দেখানের জন্য কি যেন দিতো।আমিও গালের মধ্যে লাল রং দিয়া গাল লাল কইরা ফেল্লাম।মেকাপ কইরা স্টোর রুমে রাখা আয়নায় নিজেরে দেইখা পুরা মুগ্ধ হয়া গেছিলাম,নিজেরে নবাব সিরাজউদৌলা সিনেমার ফিরিঙ্গির মতো লাগতেছিলো।মেকআপ শেষে স্টোর রুম থেইকা বের হইছি এমন সময় ছোট মামা মাত্র গেট দিয়ে বাসায় ঢুকতেছে,আমার নতুন রুপ দেইখা মুগ্ধ হয়া মামা মুখ দিয়া গোঁ গোঁ আওয়াজ করতে করতে ভিড়মী খায়া মাটিতে পড়ে গেছে।মামার গোঁ গোঁ আওয়াজ শুইনা আমি ভাবলাম সন্ধ্যা হইছে তাই মনে হয় আমারে বাসার ভিতরে যাইতে বলতেছে (ছোট মামার ইংরেজী বলার শখ ছিলো।কথায় কথায় ইংরেজী বলতো।তাই মামা গোঁ গোঁ শব্দ শুইনা ভাবছিলাম ইংরেজীতে মামা আমারে কোথাও যাওয়ার কথা বলতেছে) ঘরে ঢুইকা নানীর ঘরে উকিঁ দিলাম দেখি নানী নামাজে দাড়াইছে,ঐ অবস্থ্যায় আমারে দেইখা নানীও স্লো মোশনে জায়নামাজের উপর ঢইলা পইড়া গেলো।অবস্থা বেগতিক দেইখা আমি রান্নাঘরে চাল রাখার একটা ড্রামের ভিতর ঢুইকা গা ঢাকা দিলাম।ড্রামের ভিতর বইসা চাল খাইতে খাইতে বাইরের শোরগোল শুইনা বুঝলাম ব্যাপক একটা কিছু ঘটায় ফেলছি।একদিকে সবাই ছোট মামা আর নানীরে নিয়া টানাটানি শুরু করছে অন্যদিকে মা আর মেঝো খালা আমারে খুঁজতেছে।একটু পর বাসার কাজের বুয়া আমারে খুজতে খুজতে রান্নাঘরে আইসা ড্রামের ভিতর উকি দিয়ে দেখে সাদা রঙের একটা বস্তু বইসা বইসা চাল খাইতেছে।বুয়া আল্লাহরে বইলা চিৎকার দিয়ে একলাফে রান্নাঘর থেইকা বাইর হইতে গিয়ে পিছলায়া পইড়ে মাথা ফাটায় রক্তারক্তি কান্ড।এরপর মা আইসা কান ধইরা আমারে বাইর করছিলো।ঐ ঘটনার জন্য মা ২টা কাঠের স্কেল ভাঙ্গছিলো আমার পিঠে।

প্লে গ্রুপে থাকতে বার্ষিক অনুষ্ঠানে একবার রাজপুত্রের অভিনয় করছিলাম।নাটকের শেষ সিনে রাজপুত্র ডাইনিবুড়ী কে মেরে রাজকন্যারে নিয়া রাজ্যে ফিরা যায়।তো শেষ সীনের আগে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে গেছিলাম।বাথরুম থেইকা বাইর হইতে না হইতে শুনি শেষ দৃশ্যের ঘোষনা হয়া গেছে।আমি প্যান্ট না পইড়াই রাজকন্যারে বাচাঁইতে আমার কাঠের তালোয়ার নিয়া স্টেজে দৌড় মারলাম।অবস্থা বেগতিক দেইখা ডাইনীবুড়ীর পোষা বাঘ আমারে পাঁজাকোলা কইরা স্টেজের বাইরে নিয়া যাইতে চাইলো( বাঘ সাজছিলো স্কুলের এক স্যার)।কিন্তু তখন আমি রাজকন্যারে পাষাণ ডাইনীবুড়ীর হাত থেইকা উদ্ধার করার জন্য মরিয়া।বাঘের চোখে কাঠের তালোয়ার দিয়া দিলাম এক রামগুতা,গুতা খায়া বাঘ ‘বাপরে’ বইলা মাটিতে গড়াগড়ি খাইতে লাগলো এদিকে আমি ডাইনীর সামনে গিয়া তালোয়ার দিয়া মাথায় এক চাটি মাইরা বললাম “এবার তোর শয়তানী শেষ রাক্ষসী”।ডাইনী নেংটা রাজপু্ত্ররে দেইখা ডায়লগ ভুইলা হা কইরা আমার দিকে তাকায় রইলো।আমি ভাবলাম এখন যদি ডাইনী ডায়লগ না দিতে পারে তাহলে তো নাটক ভন্ডুল হয়া যাবে।তাই আমিই বানায় বানায় কয়েকটা ডায়লগ মাইরা লাথিগুতা দিয়া ডাইনিরে মাটিতে শুয়াইয়া রাজকন্যার দিকে বললাম ‘চলো এবার রাজ্যে ফিরে যাই”।বইলাই একখানা নুরানী হাসি উপহার দিলাম। রাজকন্যা আমার দিকে এতোক্ষন হা করে তাকায় ছিলো।আমি রাজ্যে ফিরা যাবার কথা বলতে ফিক কইরা হাইসা দিয়া বলে “ছিহ! তুমি তো নেংটু।তোমার সাথে যাব না” বইলা মুখ ঢাইকা উল্টা দিকে দৌড় দিছে।এদিকে রাজকন্যারে ছাড়া ফিরা গেলে রাজ্যে আমার মান-সুলেমান কিছুই থাকবে না তাই রাজকন্যারে ধরার জন্য আমিও পিছে পিছে তালোয়ার উঁচায়া দৌড়াইতে লাগলাম।এদিকে দর্শকরা আমার কান্ড দেইখা হাসাহাসি শুরু কইরা দিছে।আমি ভাবলাম রাজকন্যারে ধরতে পারতেছি না দেইখা সবাই হাসতেছে।অপমান থেইকা বাঁচার জন্য আরও জোরে রাজকন্যার পিছনে দৌড়াইতে লাগলাম।বহুৎ দৌড়ানির পর রাজকন্যার চুলের নাগাল পাইলাম।চুল ধইরা হিড়হিড় কইরা টানতে টানতে আমার রাজকন্যারে স্টেজের ভিতর নিয়া গেলাম।নাটক শেষে অনেক হাততালি পাইছিলাম।ফার্স্ট প্রাইজও পাইছিলাম।তবে রাজকন্যারে বাঁচানের জন্য নাকি প্যান্ট না পইড়া স্টেজে ঢুকার সাহস দেখানের জন্য পুরস্কারটা পাইছিলাম সেটা আজও বুঝি নাই।নাটক শেষে সবাই বাসায় চইলা যাবে এমন সময় আমি শুরু করলাম কান্নাকাটি।রাজকন্যারে ছাড়া বাসায় কিছুতেই ফিরবো না।হাউমাউ কইরা কানতে শুরু করলাম।আমার কান্দা দেইখা রাজকন্যাও কাঁনতে শুরু কইরা দিলো।সে ও আমার সাথে আমার বাসায় যাবে।আমাদের সম্মেলিত আহাজারিতে আমাদের বাপ মার মন গললো।শেষ পর্যন্ত রাজকন্যারে বগলদাবা কইরা আমার রাজ্যে মানে বাসায় নিয়া আসছিলাম।সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলাধুলা কইরা,পরে আবার আসবার কথা দিয়া রাজকন্যা তার রাজ্যে ফিরা গেছিলো।বাসায় যাওয়ার আগে আমার একটা হাতি নিয়া গেছিলো আর ফেরত দেয় নাই।

পর্ব ৩

১৩ thoughts on “আমার বান্দরবেলা পর্ব ৪

  1. হাসতে হাসতে চোখে পানি চইলা
    হাসতে হাসতে চোখে পানি চইলা আইল ভাইদি। সারাদিন অফিসে কুত্তাখাটা খাটতে খাটতে বিরক্ত হয়েছিলাম। আপনি মনটা ভাল কইরা দিলেন। :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান:

  2. শেষ পর্যন্ত রাজকন্যারে

    শেষ পর্যন্ত রাজকন্যারে বগলদাবা কইরা আমার রাজ্যে মানে বাসায় নিয়া আসছিলাম।সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলাধুলা কইরা,

    ইয়ে মানে তখন উনার বয়স কত হয়ছিলো জানতে ইচ্ছা হচ্ছে খেলাধুলার তো আর শেষ নাই তাই আর কি …… 😀

  3. হাঁসতে হাঁসতে চাপা ব্যথা হইয়া
    হাঁসতে হাঁসতে চাপা ব্যথা হইয়া গেলো… :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: 😀 😀 😀 😀 😀

  4. এইসব যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে
    এইসব যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে আপনার এই বাঙলার শ্রেষ্ঠ বাঁদরামির খেতাব পাওয়া উচিৎ… আর যদি হাসির সৃষ্টিশীলতার নিদর্শন হয়ে থাকে তবে আপনাকে জাতির পুরস্কৃত করা উচিৎ!! জীবনে এইভাবে আগে কখনও হাসি নাই…
    আমারে মেন্টাল হসপিটালে পাঠায় দেয় কিনা অফিস থেকে সেই চিন্তাই আছি!!
    😀 😀 😀 😀 😀 😀 😀 😀 :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

  5. হাসতে হাসতে অবস্থা বেগতিক !
    হাসতে হাসতে অবস্থা বেগতিক ! এতো হিউমার কোই পান ভাই ? বহুদিন পর মন খুলে হাসলাম । আগের পর্ব গুলো পড়া হয়নি । ওগুলোতে কি অপেক্ষা করছে কে জানে ! অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর সহজ করে উপস্থাপন করার জন্য ।

  6. ওয়েল, হাসতে হাসতে বাড়ির মানুষ
    ওয়েল, হাসতে হাসতে বাড়ির মানুষ জড়ো করে ফেলবার দায়ে আমার বিরুদ্ধে রুল জারি হইছে… :মাথাঠুকি: :ভেংচি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    আপনে মিয়া একটা আস্তা বান্দর… :হাসি: :হাসি: :হাসি: :ভেংচি: 😀

Leave a Reply to তারিক লিংকন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *