চাদর মোড়া শীত আর আমি (পর্ব ২)

#নানুবাড়ি
খুব বেশি হয়তো নয় তবু আমার প্রায় সব শীতের কোনো না কোন অংশ কেটেছে নানুবাড়িতে । আটোয়ারির রসেয়া । জেলা পঞ্চগড় । হিমালয় কন্যা । সাইকেল কিংবা মোটরসাইকেল নিয়েই এখান থেকে হিমালয় যাওয়া সম্ভব । তাই এখানে শীতকালটা কেমন তা সহজেই অনুমতি হওয়ার কথা ।

সেই ছোটবেলা থেকে প্রতি শীতেই যেতাম নানুবাড়িতে । আর শীতের আকর্ষন, পিঠা তো প্রতিদিনই থাকতো । মামা খালামণিরা সেসময় আসতো নানুবাড়িতে । সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে পিঠা খাওয়ার জন্য সবাই যুদ্ধ লাগিয়ে দিত । পাটিসাপটা পিঠা আমার খুব পছন্দের । নানু সবসময় আমার জন্য আলাদা করে রেখে দিত ।

#নানুবাড়ি
খুব বেশি হয়তো নয় তবু আমার প্রায় সব শীতের কোনো না কোন অংশ কেটেছে নানুবাড়িতে । আটোয়ারির রসেয়া । জেলা পঞ্চগড় । হিমালয় কন্যা । সাইকেল কিংবা মোটরসাইকেল নিয়েই এখান থেকে হিমালয় যাওয়া সম্ভব । তাই এখানে শীতকালটা কেমন তা সহজেই অনুমতি হওয়ার কথা ।

সেই ছোটবেলা থেকে প্রতি শীতেই যেতাম নানুবাড়িতে । আর শীতের আকর্ষন, পিঠা তো প্রতিদিনই থাকতো । মামা খালামণিরা সেসময় আসতো নানুবাড়িতে । সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে পিঠা খাওয়ার জন্য সবাই যুদ্ধ লাগিয়ে দিত । পাটিসাপটা পিঠা আমার খুব পছন্দের । নানু সবসময় আমার জন্য আলাদা করে রেখে দিত ।
কখনও খুব ভোরে উঠে যাওয়া হত পাখি মারতে । মামাদের সাথে । একসময় ওদিক খুব ডাকাত আসতো । তাই আমাদের প্রায় সব বাড়িতে রাইফেল গান বা সহজ কথায় বন্দুক আছে । বন্দুকের গুলিটা বেশ বড় । দশটা পাখি যদি একসাথে বসে থাকে, সেখানে চোখ বন্ধ করেও একটা গুলি ছুড়লে দু’তিনটা পাখি পড়বে । কখনো আবার এয়ারগান নিয়ে যাওয়া হত । পাখি শিকারে যাওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো বেশ চমৎকার ।
শীতের সময় প্রতিদিন উত্তরের আকাশে হিমালয় দেখা যায় । যেন একটা সাদা বরফের দেয়াল । কাঞ্চনজংঘা অথবা এভারেস্ট । কোনটা আমি ঠিক শিওর না । আর রাতের বেলা পাহাড় বেয়ে উঠা গাড়িগুলোর আলো দেখা যায় একটু ফাকা জায়গায় গেলেই । হিমালয় দেখার ব্যাপারটা যে কেমন, তা ভাষায় প্রকাশ বেসম্ভব । যারা দেখেনি তারা এটার সৌন্দর্য কল্পনাও করতে পারবে না । নীল আকাশের সাথে আরেক শাদা আকাশ । বরফের দেয়াল…

গ্রাম হলেও আমাদের বাসার আশ-পাশটা ঠিক গ্রাম মনে হয় না । সব পাকা বাড়িঘর, পিচঢালা রাস্তা সামনের মাঠ পেরোলেই । আর একটু পাশেই বেশ কিছু পুকুর । কনক্রিটের শানবাঁধানো ঘাটও আছে । বিকালে অথবা রাতে ওখানে বসতাম । আড্ডা, গল্পগুজব চলতো বেশ । পুকুর থেকে মাছও ধরা হত । মাছ ধরার মজাটাই আলাদা । ছিপ কিংবা হুইল দিয়ে । পুকুরের পাশেই মসজিদ আর কবরস্থান । গ্রামগুলোতে স্বভাবতই রাত একটু তাড়াতাড়ি নামে । একটু রাত হলেই কবরস্থানটা ভয়ংকর লাগে । শীতকালে একে তো অন্ধকার তার সাথে আবার কুয়াশার চাদর । মনে আছে ছোটবেলায় ভয় পেলে মামা খালামণিরা বলতো,”ওখানে তোমার নানু আছে, কিচ্ছু হবে না..ইত্যাদি ইত্যাদি ।
শীতকালের নিঝুম রাতে রাতপাখিদের ডাক আর ডানা ঝাপটানির আওয়াজটা খুব মধুর লাগতো । কেমন যেন একটা উদাসী জগৎ ।

নানুবাসায় কাটানো প্রতিটা শীত অতুলনীয় ছিল । আফসোস লাগে এবছর শীতে নানুবাসায় যেতে পারলাম না । এবার আর যাওয়া হবেই না । কতটা মন খারাপ যে হচ্ছে তা কেমনে বোঝাই…
শীতের কুয়াশার চাদর তার মায়া নিয়ে জড়িয়ে থাকুক, রাতজাগা পাখিগুলোও ভাল থাকুক…

#ঢাকায়_শীত
শীতকাল খুব আনন্দে কেটে যাওয়ার কথা । কিন্তু কেন জানি ঢাকার শীতে কোনো মজাই পাই না । কেমন যেন অগোছালো । দুগ্ধ ফেনিল কুয়াশার চাদর দেখা যায় না । পিঠার উৎসব দেখা যায় না । তীব্র শীতে মানুষজন আগুন তাপছে, এমন দৃশ্য খুবই বিরল । তাই এবার শীতটা খুব করে মিস করছি ।
গত বছরের জানুয়ারিতে খুব ঠাণ্ডা পড়েছিল । তাপমাত্রা ৬-৭ এর মত । ঠাকুরগাঁও এ তখন ৩ ডিগ্রি এর মত । তো সেসময় ছিলাম রেসিডেনশিয়াল এর হাউসে । হঠাৎ একদিন রাতে প্রচন্ড কুয়াশা । ব্যাপারটা আমার কাছে দারুন লাগলো । মনে হল, এইতো আমার বৃত্ত, আমার চিরচেনা শীত । রাত তখন ১২টা পার হয়েছে । বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি । তো তীব্র রকমের কুয়াশা দেখে অনেকেই রুম থেকে বের হয়ে কুয়াশা দেখছিল অবাক হয়ে । কেও দক্ষিণ বঙ্গের, কেওবা পূর্ব বঙ্গের । তখন আমি ফাপর নিলাম । B) B) এমন কুশায় তো আমি অভ্যস্ত, ওরা কেউই তেমন পরিচিত নয় এমন শীতের সাথে । শুরু করে দিলাম আমাদের শীতের গপ্প । খুব মজাই লেগেছিল ।

কুয়াশা ছাড়া শীতটা কেমন যেন অপুর্ণ মনে হয়…

শেষ

২ thoughts on “চাদর মোড়া শীত আর আমি (পর্ব ২)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *