বিএনপির রাজনৈতিক এবং নৈতিক পরাজয় – শাদা চোখে দেখা

চারিদিকে জোর শোরগোল – বিএনপি পরাজিত হয়েছে । হ্যা তাতো হয়েছে বটে । ইলেকশনে না গিয়ে পরাজিত হয়েছে । গৃহপালিত ও অগৃহপালিত দুই শ্রেণীর অধিকাংশ রাজনীতি বিশ্লেষক টকশোজীবিরাই বলছেন বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয় ঘটে গেছে । কথাটা অর্ধসত্য । অর্থাৎ বিএনপির রাজনৈতিক ভরাডুবি হয়েছে এটি অর্ধসত্য । ৯১ পরবর্তী তথাকথিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক সরকারের ৫ বছর অন্তর অন্তর একবার রাজনৈতিক পরাজয় ঘটে । এবারো তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি । গত ৫ বছরের আওয়ামীলীগের নানান নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে পূর্বের ধারাবাহিকতায় তাদের অবশ্যই রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে । তবে এই আলোচনার শিরোনাম অনুসারে বিএনপি কে নিয়ে পরচর্চায় মনোনিবেশ করবো ।


চারিদিকে জোর শোরগোল – বিএনপি পরাজিত হয়েছে । হ্যা তাতো হয়েছে বটে । ইলেকশনে না গিয়ে পরাজিত হয়েছে । গৃহপালিত ও অগৃহপালিত দুই শ্রেণীর অধিকাংশ রাজনীতি বিশ্লেষক টকশোজীবিরাই বলছেন বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয় ঘটে গেছে । কথাটা অর্ধসত্য । অর্থাৎ বিএনপির রাজনৈতিক ভরাডুবি হয়েছে এটি অর্ধসত্য । ৯১ পরবর্তী তথাকথিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক সরকারের ৫ বছর অন্তর অন্তর একবার রাজনৈতিক পরাজয় ঘটে । এবারো তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি । গত ৫ বছরের আওয়ামীলীগের নানান নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে পূর্বের ধারাবাহিকতায় তাদের অবশ্যই রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে । তবে এই আলোচনার শিরোনাম অনুসারে বিএনপি কে নিয়ে পরচর্চায় মনোনিবেশ করবো ।

যা বলছিলাম বিএনপির বাকি আটআনা নৈতিক পরাজয় ঘটেছে । ২০০১ সালে দুই তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট নিয়ে এই বিএনপি ক্ষমতার মসৃণ তখতে অধিষ্ঠিত হয়েছিলো । যথারীতি যা হওয়ার কথা ঘুষ – দুর্নীতিতে, পারসেন্টিজে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়লো তারেক – ফালু – মামুনদের ‘ হাওয়া ভবন । সে আর নতুন কী ?

তা নতুন কিছু নয় বৈকি । নতুনত্ব যা ঘটলো তা হলো নিজামী – মুজাহিদের মন্ত্রিত্ব গ্রহন । তা রাজাকারের মন্ত্রিত্ব আবার নতুন কী ঘটনা দেশের রাজনীতির ময়দানে ? শাহ আজিজুর রহমান কি জিয়ার কৃপাভোগী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না ? হুম, সে কথাও দিবালোকের মতো সত্য । কিন্তু ২০০১ এ নিজামী গং দের ক্ষমতায় অধিষ্ঠান এতো আড়ম্বরপূর্ণ ছিল যে মুক্তিযুদ্ধ, চেতনা – টেতনা গৃহ অভ্যন্তরে এমন সেঁধিয়ে গেল যে ৭১ সালে আদৌ কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিলো বলে কোন শালা আওয়াজ তোলে ? স্মৃতি সৌধে পুষ্প অর্ঘ অর্পণ করে মুজাহিদরা তখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মস্ত হেফাজতকার । ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের শোভাযাত্রা মুজাহিদ – কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামানদের আচকান, টুপি ও পায়জামার দড়ির রঙে রঙিন ! মুজাহিদ তো বলেই বসলেন, ৭১ এ কোন যুদ্ধাপরাধী ছিলোনা ।

কোনো শালা আওয়াজ করেনি বটে কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলো ৩০ লক্ষ শহীদের অপমান । বিএনপির নৈতিক পরাজয়ের পট রচিত হলো ঠিক তখন থেকে । সেই সাথে জিনিস পত্রের মূল্য বৃদ্ধি, পানি – বিদ্যুতের হাহাকার, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্যাতন ইত্যাদি যুক্ত জিয়ার দলের ভূমি ধ্বসপরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার । হলোও তাই । ওয়ান ইলেভেন নাটক শেষে নানান ঘাত প্রতিঘাতের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে লীগ পেলো কাংখিত বিজয় ।

বিএনপি তবু আঁকড়ে রইলো জামাতকে । জামাতের প্রায় ৫ পারসেন্ট ভোট একটা ব্যাপার তো ! তা বিএনপি কে দোষ দেই কী করে ? নূর হোসেন, ডাঃ মিলনের রক্ত গায়ে মেখে যদি পতিত স্বৈরাচার নৌকোর যাত্রী হতে পারে, রাজাকার নিজামী – সাইদী রা কেন ধানের অংশীদার হতে পারবে না ? বাংলার ছাপোষা মধ্যবিত্ত সহ আপামর প্রান্তিক মানুষও আসলে এই দুই দলের এই ধরণের বেলেল্লেপনায় মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে গেছে । বেশ মানিয়ে নিয়েছে এর সাথে । মানিয়ে না নিয়ে উপায় কী ? ধান, গম, বেগুণের চাষ বাস করে করে সেই সাথে সার বীজ , অল্প ফলন ও অধিক ফলনের টেনশন করতে করতেই তো চাষা ভূষার বছর কাভার । ৫ বছর অন্তর অন্তর ভোট ভোট খেলায় বাম হাতের বুড়ো আঙুলের নখে নীল রঙ লাগানো ছাড়া এই আধমরা মূর্খগুলো রাজনীতির কোন বালে ভূমিকা রাখে ? বা চোদনা ডেমোক্রেসিতে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ দেওয়া হয় ?

১১৮৯ সনে নুরলদীন শেষবার মুজিব হয়ে আসছিলো । সেই ডাকে এরা সাড়া দিয়েছিলো এও সত্য । বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে পাকি কুত্তা খুন করেছিলো সেই ইতিহাসও তো জ্বলজ্বল করছে । তারপর পদ্মা – মেঘনা দিয়ে কতো জল গড়াল । বাম – ডান – মধ্যবাম – মধ্যডান কতো বালেস্বর বাল এলো গেলো । কতো কথার ফুলঝুরি ফুটালো । সেই চিরচেনা বজ্র কণ্ঠে কেউ ডাক দিয়ে বললো না – ‘ জাগো বাহে … কোনঠে সবায় …’

তো বিএনপি’র সাথে জামাতের মিত্রতা বা গাঁটছড়া সাধারণ মানুষের মনে তেমন সমস্যা তৈরি করেনি তখন পর্যন্ত যখন কিনা মানবতা বিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের ইস্যু সামনে চলে আসলো । এই বিচার লীগের ক্ষমতার সিঁড়ি কিনা বা তাদের ইশতেহারে ঘোষিত ভীশন বা মিশন – ২১ কিনা তারচে বড় আলাপ হলো পাবলিক এই বিচার চায় । কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষিত মধ্যবিত্তের চাওয়া এখানে সরব ও জোরালো তথাপি মূর্খ প্রান্তিক জনের চাওয়া কলুর বলদের মতোই নিঃশব্দ । মোট কথা অল্প কিছু পাকি ভাবধারা পুষ্ট সংখ্যালঘু অমানুষ ছাড়া এটি একটি পপুলার ডিমান্ড ।

ক্যান্টনমেন্টে গড়ে ওঠা ধান্দাবাজ আমলাদের পার্টি বিএনপি ভোটের হিসাব মেলাতে গিয়ে দ্বিতীয় ভুলটি করে ফেললো যুদ্ধাপরাধের বিচারকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকমানের নয় বলে ঘোষণা দিয়ে পক্ষান্তরে এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করে । এই ঘোষণার ন্যায্যতা, আন্তরিকতা গ্রহণযোগ্য হতে পারতো যদি জামাতকে ছেড়ে দিয়ে উক্ত ঘোষণাটি দেওয়া হতো ।

৫ ফেব্রুয়ারি’ ১৩ – বিএনপির ষোলকলা পূর্ণ হবার দিন । সরকারের কূট কৌশল হোক বা না হোক । ৫ ফেব্রুয়ারি একটা ঐতিহাসিক দিন বাঙালির জীবনে । শাহাবাগ গণজাগরণ মঞ্চ পালটে দিলো রাজনীতির অনেক সমীকরণ । কুম্ভকর্ণের ঘুম নাকি ৬ মাস পরে একবার ভাঙে । ৯০ ‘র স্বৈরাচার পতনের পর দীর্ঘ ২৩ বছরের ঘুম ভাঙলো কাদের মোল্লার প্রহসনমূলক রায়ের পর । শাহাবাগসহ সারা দেশ তখন তারুণ্যের শেকল ভাঙার দৃপ্ত শপথে বিহ্বল ! ওদিকে কিংকর্তব্যবিমুঢ় বিএনপি , আওয়ামীলীগ নার্ভাস !

পুরনো দল হিসেবে লীগ নার্ভ শক্ত করতে পারলেও অদৃশ্য উপদেষ্টা হুজুরে ক্যাবলা ফরহাদ মজহার – গোলাপ শফিক রেহমান বেষ্টিত জাতীয়তাবাদী’রা পুরনো মুসলিম জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা উর্ধে তুলে ধরাকে আশু কর্তব্য জ্ঞান করে আপাত বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠে শাহাবাগীদের ‘ নাস্তিক ‘ আখ্যা দিয়ে বসলেন । এবং এই পপুলার আন্দোলনের সম্পূর্ণ বিরোধী অবস্থান নিয়ে বসলেন । এইটা ছিল বিএনপির চূড়ান্ত রকমের ভুল সিদ্ধান্ত ।

একটা কথা আছে যে ভুল সমীকরণ দিয়ে যতোই অঙ্ক কষা হোক রেজাল্ট ভুল হতে বাধ্য । বিএনপির ক্ষেত্রে ঘটলো তাই । তারা এবার মাঠে নামাল অশীতিপর লম্পট বৃদ্ধ কুলাঙ্গার আল্লামা শফীকে । ইসলামের হেফাজত করতে ত্যানারা ঢাকা এলেন এবং বেদম মাইর খেয়ে রাতের আঁধারে প্রস্থান ও করলেন । মতিঝিলের লাগোয়া বঙ্গভবন বা গণভবন কোনটাই তাদের দখলে নেওয়া হলনা । এই হেফাজত মুভমেন্ট আর কিছু করতে না পারলেও একটা জিগির সারা দেশের বিপুল সংখ্যক ধর্মভীরু ও ধর্মান্ধ মানুষের মধ্যে জাগিয়ে দিতে পেরেছিল যে ইসলামের সৈন্য – সামন্তরা ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ – গাজী ( !!! ) হয়েছেন । সেই রেশ ৫ টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্পষ্টত প্রতিফলিত হয় ।

তথাপি, এই আপাত ভেজাল সুবিধাজনক অবস্থান সহ বিএনপির সামনে বিরাট সুযোগ ছিল লীগের রাজনীতির বারোটা বাজিয়ে দেওয়ার । জাস্ট ২ টি কাজ করতে পারলে –

১) জামাত ছেড়ে দেওয়া
২) যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার বাকোয়াজ ছাড়া পূর্ণ সমর্থন দেওয়া ।

এতদসত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচনে এলে জিততে পারতো । এক মাগুরা নির্বাচনে দুই নম্বরী করে বিএন পি কে যদি ক্ষমতা ছাড়তে হয় তাহলে আওয়ামীলীগের পক্ষে ৩০০ আসনে দুই নাম্বারী করে উইন করা আদৌ কি যৌক্তিক বা সম্ভব ছিল ? আর যদি সম্ভব হতোই তো সেই ভয়াবহ অবৈধ ক্ষমতা কতদিন ধরে রাখা যেতো ? আওয়ামীলীগ ও তো একটা রাজনৈতিক দল । জনগনের ম্যান্ডেট নিয়েই তো তাকে পাওয়ারে আসতে হতো , তাই নয় কি ? তো এমন অপকর্ম করার পর তাকে কেমন মাশুল দিতে হতো ?

আসলে এখানে মূল কাহিনী ছিল এই যে , বিএনপি ৫ জানুয়ারি’১৪’র নির্বাচনের শেষ রজনী পর্যন্ত ধারণা করেছিলো , যেকোন ভাবেই হোক নির্বাচন বন্ধ হবেই । কিন্তু ৫ জানুরারি শেষে দেখা গেলো নির্বাচন হয়ে গেছে । এখন একে আপনি একতরফা বলেন আর প্রহসন বলেন । এটা তো সত্য এই নির্বাচনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই । তো বিএনপির লাভ কী হলো ? নির্বাচনে অংশ না নিয়ে পরাজিত হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়া ! এরচে এটাই কি ভালো হতোনা ইলেকশনে অংশগ্রহন করে লীগের পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া ( বিএনপির ভাষ্য মতে ) ? তাতে অন্তত সারা বিশ্বের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা এটা দেখে রিপোর্ট করতো যে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়নি । নির্বাচন ছিল সাজানো ও পাতানো ।

সাধারণ জনগনের উপর আস্থা হারিয়ে জঙ্গি জামাত – শিবির দিয়ে সারা দেশে সহিংসতা করে এবং এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষ ও সরকারকে জিম্মি করে ক্ষমতা দখলের জীর্ণ অপ রাজনীতি মানুষ গ্রহন করেনি । ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপির এই নষ্ট রাজনীতি । প্রত্যাখ্যান যে করেছে তার দৃষ্টান্ত হলো এরকম একটা একতরফা ইলেকশনের পরও জনগণের কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া নেই । বাংলাদেশের কোন অঞ্চল ফুঁসে ওঠেনি গণতন্ত্রের মৃত্যু ( ! ) দেখে !

পরিশেষে এই বলে শেষ করবো – বিএনপি রাজনৈতিকভাবে যতোটা না পরাজিত হয়েছে তারচে অনেক বেশি নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে । এই নৈতিক পরাজয় বিএনপির ভ্রান্ত রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল গ্রহনের জন্য । বিএনপি যতোদিন না জামাত ছাড়বে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট অবস্থান নেবে ততদিন পর্যন্ত তারা একিই আবর্তে ঘুরপাক খেতে থাকবে । আমারিকা – সৌদি – পাকিস্তান তাদের রক্ষা করতে পারবে না । রক্ষা যে করতে পারেনি তা কি ম্যাডাম জিয়ার কাছে এখনো স্পষ্ট নয় ? আশা করছি আগামী ৫ বছরের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে । ততদিন খালেদা জিয়া আপনি, জামাত (! ) , বিএনপি বেঁচে থাকুক ।

১৬ জানুয়ারি’ ১৪’ ঢাকা ।

৬৯ thoughts on “বিএনপির রাজনৈতিক এবং নৈতিক পরাজয় – শাদা চোখে দেখা

  1. একেবারে চুলচেরা বিশ্লেষণ
    একেবারে চুলচেরা বিশ্লেষণ রাহাত ভাই। বিএনপির ভরাডুবির কারণ আজ একটা দুগ্ধপোষ্য শিশু বুঝতে পারলেও খালেদার মোটা মাথায় তা ধরেনা এটা আমি বিশ্বাস করিনা। কিন্তু খালেদা আজ এমন এক দুষ্ট চক্রে আবদ্ধ হয়ে গেছে যে মৃত্যু ব্যতীত আর কিছু এই গাঁটছড়া ছিন্ন করতে সক্ষম নয়। ভালো লাগলো আপনার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। অন্তত মূল ধারার দালাল মিডিয়ার পোষা কলাম লেখকদের চেয়ে কোটি গুন ভালো লিখেছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. অনেক ধন্যবাদ আতিক ভাই
      অনেক ধন্যবাদ আতিক ভাই 😀 :গোলাপ:
      আসলে অভ্যাস মাঝে মাঝে বড় খারাপ হয়ে দাঁড়ায় । ভেজাল ঘি খেতে খেতে যেমন ভালো ঘি পেটে সয় না তেমনি ম্যাডাম খালেদা জামাতে ছাড়তে পারছেন না । বড়োই দুঃখজনক !

  2. সাধারণ জনগনের উপর আস্থা

    সাধারণ জনগনের উপর আস্থা হারিয়ে জঙ্গি জামাত – শিবির দিয়ে সারা দেশে সহিংসতা করে এবং এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষ ও সরকারকে জিম্মি করে ক্ষমতা দখলের জীর্ণ অপ রাজনীতি মানুষ গ্রহন করেনি । ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপির এই নষ্ট রাজনীতি । প্রত্যাখ্যান যে করেছে তার দৃষ্টান্ত হলো এরকম একটা একতরফা ইলেকশনের পরও জনগণের কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া নেই । বাংলাদেশের কোন অঞ্চল ফুঁসে ওঠেনি গণতন্ত্রের মৃত্যু ( ! ) দেখে !

    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  3. যে খালেদা তার নেতাদেরই
    যে খালেদা তার নেতাদেরই বিশ্বাস করেন না তার আবার জনগন।তার সাথে দ্যেখা করতেও তার নেতাদেরও সিএসএফ এর কাছে নানা রকম পরীক্ষা দিতে হয়।

  4. রাহাত ভাই নৌকা কিন্তু
    রাহাত ভাই নৌকা কিন্তু সংখ্যালঘু নির্যাতনেরও অংশিদার তারা নৌকায় করে হিন্দুদের আদর করে ভারতে দিয়ে আসতে চায় আর জমিগুলোও কব্জা করতে চায়।আর একটা কথা কেউ বলে না আমি বলি,এই নিয়ে আমি একটা লেখাও লিখব চিন্তা করেছি।তা হলো ইতিহাস বিকৃতি।লিগাররা অভিযোগ করে বিএনপি সবসময় ইতিহাস বিকৃত করে।কিন্তু সত্যি কথা হলো আওমিলিগ বিএনপি কেউই ইতিহাস বিকৃতিতে কম যাননা।লিগাররা কৌশল করে কমরেড সিরাজ শিকদারকে ইতিহাস থেকে হাওয়া করে দিয়েছেন আর এখন বলছে সিরাজ শিকদার মুক্তিযোদ্ধাই না।তাদের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলি মুজিব যখন পাকিস্থানিদের সাথে ক্ষমতা ভাগ বাটোয়ারা করবেন চিন্তা করেছিলেন তখন সিরাজ শিকদারই যুদ্ধের ডাক দিয়ে এবং গেরিলা আক্রমন করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই মুহুর্তে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই।

    1. রাতুল সাব, আপনাদের মতো
      রাতুল সাব, আপনাদের মতো ইস্পিশাল “সিরাজ শিকদার বলতে অজ্ঞান” টাইপের মানুষগুলোর জন্য এই সামান্য উপস্থাপনা… 😀 কৃতজ্ঞতায় প্রিয় অর্ফি…

      প্রসঙ্গঃ সিরাজ শিকদার

      সিরাজ শিকদারকে নিয়ে আজও বেশ ফ্যান্টাসিতে ভোগে আমাদের কিছু বামপন্থী । সিরাজকে নিয়ে অত্যুক্তি করা হয় বাংলার চে বলে । সিরাজ শিকদারকে বলা হয় ‘শহীদ’ এবং ‘দেশপ্রেমিক’ একথা অনস্বীকার্য যে সিরাজ শিকদারের যদি খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী থাকতো , আজ বাংলার ঘরে ঘরে শহীদ সিরাজের আদর্শ ছড়িয়ে পরতো । সিরাজ শিকদার মরিয়া প্রমান করিলো সে মানুষ ছিলো ।

      যা হোক । কমরেড মাও এর গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও নীতিতে বিশ্বাসী সিরাজ শিকদার সশস্ত্র বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন বরাবরই । পেশায় প্রকৌশলী হলেও বামপন্থী আন্দোলনে জড়িয়ে ছিলেন সবসময় । কিন্তু প্রথাগত বামপন্থীদের তিনি এক হাত নেন । সিরাজ শিকদারের থিসিস তার দলে টেনে আনে বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর ছেলেদের ।

      আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই সিরাজ শিকদার গঠন করেন চরমপন্থী সর্বহারা পার্টি । এরপর তিনি ঘোষণা দেন শ্রেণী শত্রু খতম করার । কাটা রাইফেল আর মল্টোভ বোমা , এই ছিলো তাদের হাতিয়ার ।

      দেশ ও জাতির স্বার্থে আওয়ামী লীগ আর বামপন্থী সবগুলো দল একসাথে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয় , সিরাজ শিকদার তখন ত্রিমুখী যুদ্ধ ঘোষণা করেন মুক্তিবাহিনী , ভারতীয় বাহিনী এবং পাকিস্থানী বাহিনীর বিরুদ্ধে । মুক্তিযোদ্ধাদের বারবার আক্রমন করে তার সর্বহারা বাহিনী । পুরো মুক্তিযুদ্ধে তেমন কোনো সফলতা নাই তাদের । অথচ ফ্যান্টাসীতে ভরা বিপ্লব করতে যেয়ে সিরাজ শিকদারের হঠকারিতায় মারা যায় অনেক যোদ্ধা ।

      আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশের সিল মারা যুদ্ধাপরাধী দল জামাত ইসলাম পর্যন্ত যেটা করার সাহস পায়নি , সেটা করেছিলো সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি । ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে হরতাল ডাকে সর্বহারা পার্টি । পার্টির মুখপত্র ‘স্ফুলিঙ্গ’ ও প্রচারপত্রে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী শক্তির কাছে মুজিব সরকারের আত্ন সমর্পণ দিবস । গুয়াজমের সাথে সিরাজ শিকদারের বা পাকিপন্থী জামাতের সাথে চীনপন্থী সর্বহারা পার্টির কোনো পার্থক্য নাই ।

      এক এনএসআই সদস্যের স্ত্রীর সাথে সিরাজ শিকদারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো । আই এম দ্য পার্টি ভাবভঙ্গি নিয়ে চলা সিরাজের সাথে এ নিয়ে মতভেদ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের । সিরাজের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয় । নিপাত চক্র প্রতিষ্ঠা করে সিরাজ শিকদার দক্ষিনাঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন । বরিশাল কলেজের ছাত্র কমরেড সেলিম শাহনেওয়াজকে মেরে ফেলেন তিনি ।

      পচাত্তরের ২ জানুয়ারি পুলিশের হাতে নিহত হন সিরাজ শিকদার । মাওবাদী আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পরিনত করা সিরাজ শিকদার এবং তার প্রলেতারিয়েত পার্টির মুভমেন্টে সদ্য স্বাধীন একটা দেশ যে ভয়ানক পরিস্থিতিতে পরেছিলো তার দায়ভার আমরা আজও বয়ে বেরাচ্ছি ।

      সিরাজ শিকদার । একজন ভুল বিপ্লবের বাঁশীওয়ালা

      আশা করি “মুজিব যখন পাকিস্থানিদের সাথে ক্ষমতা ভাগ বাটোয়ারা করবেন চিন্তা করেছিলেন তখন সিরাজ শিকদারই যুদ্ধের ডাক দিয়ে এবং গেরিলা আক্রমন করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই মুহুর্তে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই এই ধরনের বালছাল বলে মানুষকে অযথা বিভ্রান্ত করবেন না… :ভাবতেছি: :অপেক্ষায়আছি:

      1. মুজিব যখন পাকিস্থানিদের সাথে

        মুজিব যখন পাকিস্থানিদের সাথে ক্ষমতা ভাগ বাটোয়ারা করবেন চিন্তা করেছিলেন তখন সিরাজ শিকদারই যুদ্ধের ডাক দিয়ে এবং গেরিলা আক্রমন করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই মুহুর্তে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই –

        :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:

      2. হ্যে ভাই এখানে ১৬ ডিসেম্বর
        হ্যে ভাই এখানে ১৬ ডিসেম্বর হরতাল নিয়ে আমারও একটি যুক্তি আছে তা হলো বঙ্গবন্ধু তখন বাংলাদেশকে ভরতের অঘোষিত অঙ্গরাজ্য তৈরি করেছিলেন, আবার সেই উপনিবেশিক শাসনই তৈরি হয়েছিলো।যা আমরা হুমায়ুন আহমেদের বই দেয়ালেও দেখতে পাই।
        স্পষ্ট একটি কথা বলি–
        আমরা পিন্ডির কাছ থেকে ঢাকাকে ছুটিয়েছি দিল্লিকে দেয়ার জন্য নয়।

      3. ডন,
        কিছু কমুনা ভাবছিলাম ।

        ডন,
        কিছু কমুনা ভাবছিলাম । শুধু একটা বাক্য কই – শেখ কামালের ব্যাংক ডাকাতি এবং মেজর ডালিমের বৌর সাথে ইয়ে’র ব্যাপারেও কিন্তু নিউজ পড়েছি বাট ঘটনাটি সত্য নয় বলেই পরে জেনেছি । সুতরাং সিরাজ শিকদার সম্পর্কিত অর্ফিয়াসের স্ট্যাটাস কতটা ঠিক তাহা নির্ণয় কে করিবে ?

        1. আচ্ছা, ভাই । আমি তাহলে
          আচ্ছা, ভাই । আমি তাহলে অর্ফিকে এই স্ট্যাটাসের তথ্যসূত্র দিয়ে যেতে বলছি। আশা করি তখন কোন সংশয় থাকবে না… :খুশি:

        2. রাহাত ভাই, আপনি জানতে
          রাহাত ভাই, আপনি জানতে চেয়েছিলেন স্ট্যাটাসটা কতটা সত্য… অর্ফির এই স্ট্যাটাসের সোর্সগুলো আমি এখানে দিয়ে দিলাম… স্ট্যাটাসটা এই সোর্সগুলোর উপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে… :খুশি:

          http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=7150

          http://www.bengaliska.com/Siraj.Sikder.html

          1. ভেরি গুড, টাইম পেলে পড়ে দেখবো
            ভেরি গুড, টাইম পেলে পড়ে দেখবো । তবে কথা হচ্ছে স্ট্যাটাস ঠিক মানে এই নয় স্ট্যাটাস এর বক্তব্য বা ওই লিঙ্ক গুলোর বক্তব্য অভ্রান্ত । একটা বিষয়তো মানো বিএনপি পন্থীরা এখনো বলে বেড়ায় স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া , কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষ্য , ঐতিহাসিক দলিল, বিভিন্ন গ্রন্থ এমনকি এমেরিকার পুরনো দলিল থেকে এটা এখন প্রমাণিত সত্য যে বঙ্গবন্ধু ই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, জিয়া ২৭ মার্চ’ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন মাত্র ।

            সো, ব্লগ পোস্ট কে বেদবাক্য মানার কোন কারণ নেই । সত্যকে ছুঁয়ে দেখতে হলে অনেক মিথ্যের বেসাতি পার হতে হয় । আর আমাদের উচিত মুক্তমন নিয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা । কাউকে হেয় বা খাটো করা আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয় নয় ।

            তথাপি লিঙ্কগুলো প্রভাইড করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ । এতে এই পোস্ট আরও কিছুটা সমৃদ্ধ হলো ।

          2. সত্যকে ছুঁয়ে দেখতে হলে অনেক

            সত্যকে ছুঁয়ে দেখতে হলে অনেক মিথ্যের বেসাতি পার হতে হয় । আর আমাদের উচিত মুক্তমন নিয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা । কাউকে হেয় বা খাটো করা আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয় নয় ।

            একশত ভাগ সমত।অহংবোধ একটি মানষিক ব্যাধি। কাউকে খাটো করে দেখানোর মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই।অপ্রিয় সত্য হলো এই অহংবোধ এর জন্যই আজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিগুলো ঐক্যে আসতে পারিছেনা।এর জন্য যতটা আওয়ামীলীগ দায়ী ততটাই বামপন্থি বা কমিউস্ট দলগুলোও দায়ী। দেশের স্বার্থে অন্তত একবার সকল মতভেদ ভুলে একটা বৃহৎ ঐক্যের খুব প্রয়োজন ছিলো।

          3. সত্যকে ছুঁয়ে দেখতে হলে অনেক

            সত্যকে ছুঁয়ে দেখতে হলে অনেক মিথ্যের বেসাতি পার হতে হয় । আর আমাদের উচিত মুক্তমন নিয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা । কাউকে হেয় বা খাটো করা আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয় নয় ।

            :থাম্বসআপ:

    2. মুজিব যখন পাকিস্থানিদের সাথে

      মুজিব যখন পাকিস্থানিদের সাথে ক্ষমতা ভাগ বাটোয়ারা করবেন চিন্তা করেছিলেন তখন সিরাজ শিকদারই যুদ্ধের ডাক দিয়ে এবং গেরিলা আক্রমন করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই মুহুর্তে যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই।

      হা হা হা হি হি হি হে হে হে হু হু হু হো হো হো…

      And salute to both Orpheus & Don…

    3. রাতুল,
      আপনাকে ধন্যবাদ কমেন্ট

      রাতুল,
      আপনাকে ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য ।
      হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশ ছাড়া করার পেছনে জামায়াত – বিএনপি – লীগ সবাই কম বেশি দায়ী । স্বয়ং বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ।

      ইতিহাস বিকৃতি মূলত জামায়াত – বিএনপি করেছে । আর আওয়ামীলীগ করেছে ইতিহাস অস্বীকার । বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে বামদের ভূমিকার বিষয়টি লীগের কোন নেতা মুখে তুলতে চান না ।

      কমরেড সিরাজ সিকদার কে লাল সালাম জানাই এই কারণে যে উনি একজন কমিউনিস্ট ছিলেন । উনি শ্রেণীহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন । তবে সমাজতন্ত্রের অভিযাত্রায় ওনার লাইন নিয়ে আমার সংশয় আছে । সোজা কথায় ওনার লাইনে আমি আস্থাশীল নই ।

      সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য এবং পথ নিয়ে আমার ছোট্ট একটা স্ট্যাটাস এখানে তুলে দিলাম । কমরেড সিরাজ শিকদারের হত্যা দিবস স্মরণে লিখেছিলাম –

      ” শাহাবাগ পৌঁছতেই হবে … ”

      সমাজতন্ত্রের বসত ভিটে যদি ‘ শাহাবাগ ‘ ধরি তো শাহাবাগে পৌঁছানো যায় ফার্মগেট – শেরাটনের রাস্তা দিয়ে , টিএসসি হয়ে, মৎস্য ভবনের ওদিক দিয়ে কিম্বা সাইন্সল্যাব – আজিজ সুপার মার্কেট হয়ে । এ দেশে অনেকগুলো বাম দল আছে – কারও পীঠে রুশপন্থী , কারও মুখে চীনপন্থি সিল মেরে দেওয়া হয়েছে বা তারা নিজেরাই মেরে নিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন এখন আর নাই, মাও’এর চীন ও এখন নাই । পুঁজির সেবা দাস হয়ে গেছে এরা তাওতো কতকাল হয়ে গেলো ।

      কথা সেটা নয় । কথা হলো শাহাবাগ পৌঁছানো । সিপিবি – বাসদ বলতেই পারে মৎস্য ভবন দিয়ে শাহাবাগ যাওয়া সঠিক এবং উত্তম । ওদিকে গনসংহতি – বাম মোরচা দাবী করতে পারে, না, সাইন্সল্যাব দিয়ে পদব্রজে শাহাবাগ পৌঁছানো জলবত তরল । শাহাবাগ পৌঁছানোটা কৌশলগত বিতর্ক । ‘ শাহাবাগ পৌছতেই হবে ‘ এটা নীতির প্রশ্ন – যেখানে বামপন্থী দলগুলোর কোন দ্বিমত আছে বলে আমার জানা নেই । দুঃখের বিষয় হলো সমাজতন্ত্রের অভিযাত্রায় বামদের রাস্তা বহুধা বিভক্ত। তারা একটি প্লাটফর্মে আসতে পারছে না কিছুতেই । অথচ, মার্কসবাদকে আদর্শ মেনেই তারা নীতি – কৌশল তৈরি করেছে ।

      আজ মাওবাদী সমাজতন্ত্রী কমরেড সিরাজ শিকদার হত্যা দিবস । ওনার শাহাবাগ যাওয়ার রাস্তা আমার পছন্দ না হতে পারে কিন্তু শ্রেণীহীন – শোষণহীন, সাম্যের সমাজ বিনির্মাণের পথের একজন বিপ্লবীকে স্যালুট করতে আমার কোন দ্বিধা নেই । লাল সালাম কমরেড !!!

      1. আপনার সিরাজ সিকদারকে নিয়ে বলা
        আপনার সিরাজ সিকদারকে নিয়ে বলা উদাহরণ অতি-সরলীকরণ হয়ে গেছে। উদাহরণ টা এমন হওয়া উচিৎঃ
        একটা ছেলেকে ডাঃ বানাবেন। এখন আপনি চাইলে বেঁধে মেরে জোড় করে জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেও হলেও ডাঃ বানায়তে পারেন আবার বুঝিয়ে স্বাভাবিকভাবে মানবিকভাবে ডাঃ বানাতে পারেন। এখন আপনার পছন্দ আপনি কোনটা বেঁচে নিবেন।।

        আমি ডাঃ বানানোর প্রশ্নে একমত। সেই জন্যে মিঃ সিকদারকে আমি ডাঃ বানাতে হবে এইটা উপলব্ধি করতে পারার জন্যে ক্রেডিট দেই কিন্তু অমানবিক, অদূরদর্শী এবং হঠকারী হওয়ার জন্যে ধিক্কারও দেই। আমি কখনও অগণতান্ত্রিক উপায়ে একটা সমাজকে সমাজতান্ত্রিক করার পক্ষপাতী না তবে এইটা মানতে রাজী সমাজতন্ত্র আজ পর্যন্ত সকল মতবাদের মাঝে সবচে বেশী স্বপ্নময় এবং গনমানুষের।। এবং আমি এও মনে করি সাম্যবাদ মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য যদিও পারিপার্শ্বিকতা অনেকসময় মানুষকে বিচ্ছিন্নতাবাদী করে তুলে…

        1. সমাজতন্ত্রে জোর করে ডাঃ বানায়
          সমাজতন্ত্রে জোর করে ডাঃ বানায় বলে শুনিনি । বরং সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রতিটি মানুষকে তার প্রবনতা বিচার করে সেইভাবে বড় করা হতো । আর কোন মানুষকে জোর করে কিছু বানানো যায়না । যেমন জোর করে কিছু খাওয়ালে বমি হয়ে যায় তেমনি ।

          আর যদি কোনভাবে ডাক্তারি সনদ একটা পেয়ে যায় । তো, দেখা যাবে খৎনা করতে গিয়ে পুরো ‘ জিনিসটি ‘ কেটে ফেলেছে ।

          আমি উপরের কমেন্টে সমাজতন্ত্র – সাম্যবাদে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বামপন্থী দলের কৌশলের কথা উল্লেখ করেছি । দলগুলোর লক্ষ্য কিনু একটাই – সমাজতন্ত্র – সাম্যবাদ । একটু খিয়াল কইরা পড়লে বুঝতে পারবেন ।

          আর আগেও বলেছি আবারো বলছি কমরেড সিরাজ শিকদারের লাইনে আমি বিশ্বাসী নই । কিন্তু একজন কম্যুনিস্ট হিসেবে তাকে অবশ্যই স্যালুট জানাবো । এখন তার লাইনের কারণে শত সহস্র জোতদার, গরীবের জমি দখলকারী ভূস্বামী, সুদখোর, মহাজন নিহত হলো কি হলনা সেই আলোচনার চেয়ে বড় আলোচনা আমরা এই ব্যক্তিটিকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করতে পেরেছি কি না ।

          1. সিরাজ শিকদার আসলে
            সিরাজ শিকদার আসলে মাও,লেলিন,চে দের থেকে একটু ভিন্ন ভাবে সংগ্রাম করেছেন তবে আমি সেটার কোনো দোষ দেখিনা।রাশিয়ান চৈনিক ইত্যদি কায়দার চেয়ে দেশের প্রেক্ষাপটে দেশি কায়দাটাই তখন সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য ছিলো।এটাতো আমাদের গর্ব যে তিনি সংগ্রামের নতুন কৌশল তৈরি করেছিলেন।তার সংগ্রাম ব্যার্থ হয়েছে দেখেই আজকে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা,সমালোচনা হচ্ছে তবে তার আন্দেলন সফল হলে মাও লেলিনের সাথে আমাদের কমরেডরা সিরাজ শিকদারের নামও উচ্চরিত হতো।তখন সিরাজ শিকদারও একজন লিজেন্ড থাকতেন।

      2. হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশ ছাড়া

        হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশ ছাড়া করার পেছনে জামায়াত – বিএনপি – লীগ সবাই কম বেশি দায়ী

        :থাম্বসআপ:

        1. এই কথাটি হচ্ছে দৃশ্যমান
          এই কথাটি হচ্ছে দৃশ্যমান অবলোকনের ফল, কিন্তু ব্যাপকভাবে দেখতে গেলে আজ আমাদের দেশে অমুসলিমদের নিগৃহীত হতে হয় কারণ আমাদের রাজনীতিতে বর্তমানে ধর্ম একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে যার কারণ সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছদের জিয়া কর্তৃক ধর্ষণ;অথচ ১৯৭৮ সালের পূর্বে নিষেধ ছিল !! জেনারেল জিয়া এবং লে জেনারেল এরশাদ ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিনত করায় আজকের এই বিপত্তি…

          1. লিংকন,
            হিন্দু সম্প্রদায়কে

            লিংকন,
            হিন্দু সম্প্রদায়কে নিগ্রহ করায় আওয়ামীলীগের ও সম্পৃক্ততা আছে অস্বীকার করতে চান কিনা বলেন ?
            তারপর আসেন অন্য আলোচনায় ।

  5. চমৎকার বিশ্লেষন রাহাত ভাই।
    চমৎকার বিশ্লেষন রাহাত ভাই। মাস্টার সাহেব, ইদানিং অনেক ভাল পোস্ট আসছে, জানি স্টিকি নিয়ে আপনি চাপেই আছেন। তারপরও লেখাটি সম্ভব হলে স্বল্প সময়ের জন্য স্টিকি করা যায় কিনা ভেবে দেখতে পারেন।

    1. দুলাল ভাই,
      আপনাকে অসংখ্য

      দুলাল ভাই,
      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ! পোস্টটি স্টিকি হবার মতো মনে করেছেন এতেই আমি খুশি ।
      ভালো থাকবেন । :ফুল: :গোলাপ:

    2. এমন লেখা গুলো আলাদা সংরক্ষন
      এমন লেখা গুলো আলাদা সংরক্ষন করা গেলে ভাল হত। স্পেশান কর্নার টাইপ।
      এতে মোটামোটি মান সম্পন্ন লেখা এক সাথে থাকবে।
      আমাদের নাভিদ কায়সার ভাই যার দাবি বরাবরই জানি আসছেন।

  6. চুল ছেড়া বিশ্লেষন যাকে বলে
    চুল ছেড়া বিশ্লেষন যাকে বলে একদম সেইরকম রাহাত ভাই ।। বিএনপি নিজের পায়ে নিজে কুরাল মেরেছে জানিনা এখনো সুযোগ আছে নাকি যদি ও থেকে থাকে তাহলেও মনে হয়না বিএনপি সেই সুযোগ গ্রহণ করবে কারণ ন্যারা একবার বেলতলায় যায় আর বিএনপি বার বার যেতে চাই …… 😀

      1. ডন দা রাহাত ভাইয়ের বিশ্লেষন
        ডন দা রাহাত ভাইয়ের বিশ্লেষন দেখে আমার মাথার অবশিষ্ট চুল ( এমনিতেই চুল কম) :দেখুমনা: ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে কেমনে এত্ত বিশ্লেষণ করছেন কি আছে উনার মটকার ভেতর জানার খুব ইচ্ছা :ভেংচি:

    1. একেলা পথের পথিক,
      ন্যারা

      একেলা পথের পথিক,

      ন্যারা একবার বেলতলায় যায় আর বিএনপি বার বার যেতে চাই ….

      – এরপর গেলে আর বেল পাবে না । 😀
      আপনাকে ধন্যবাদ ! :ফুল:

      1. সহজ হিসেব বিম্পি সত্যিকারের
        সহজ হিসেব বিম্পি সত্যিকারের অর্থে মানুষের দল না একদল প্রতিবন্ধীর দল হয়ে উঠছে কালে কালে… এখন এইটা একটা প্রতিবন্ধী রাজনৈতিক দল!!

        1. সহজ হিসেব বিম্পি সত্যিকারের

          সহজ হিসেব বিম্পি সত্যিকারের অর্থে মানুষের দল না একদল প্রতিবন্ধীর দল হয়ে উঠছে কালে কালে… এখন এইটা একটা প্রতিবন্ধী রাজনৈতিক দল!

          :হাহাপগে: :ভেংচি: :হাসি: 😀

        2. সহজ হিসেব বিম্পি সত্যিকারের

          সহজ হিসেব বিম্পি সত্যিকারের অর্থে মানুষের দল না একদল প্রতিবন্ধীর দল হয়ে উঠছে কালে কালে… এখন এইটা একটা প্রতিবন্ধী রাজনৈতিক দল!!

          :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  7. কিছু ব্যাপারের সাথে
    কিছু ব্যাপারের সাথে মতপার্থক্য থাকলেও স্রেফ অসাধারন বিশ্লেষণ করেছেন রাহাত ভাই… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    ভাললাগা রেখে গেলাম… :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: :ফুল: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ডন মাইকেল কর্লিওনি,
      তোমাকে

      ডন মাইকেল কর্লিওনি,
      তোমাকে একলক্ষ :ধইন্যাপাতা:
      সেই সাথে :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: ( ফুলের কালারটা কিছুটা গোলাপি মনে হচ্ছে !)

  8. রাহাত ভাই এইটা আপনার প্রায়
    রাহাত ভাই এইটা আপনার প্রায় দেড় মাস বিরতি দিয়ে আসা কামব্যাক পোস্ট! আপনার বিশ্লেষণের সাথে ১০০% একমত না হলেও প্রায় সহমত পোষণ করছি, চমৎকার একটা বিশ্লেষণ করছেন। প্রথমে ওয়েলকাম ব্যাক জানিয়ে :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: অতঃপর পোস্টে :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: …

    এইবার আপনার বিশ্লেষণের দুটি আপত্তি এবং দুটি সম্পূরক প্রশ্ন, আশাকরি জবাব দিবেনঃ

    ক) নূর হোসেন, ডাঃ মিলনের রক্ত গায়ে মেখে যদি পতিত স্বৈরাচার নৌকোর যাত্রী হতে পারে, রাজাকার নিজামী – সাইদী রা কেন ধানের অংশীদার হতে পারবে না?

    — রাহাত ভাই সদ্য প্রয়াত দুনিয়া কাঁপানো মহান নেতা নেলসন মেন্ডেলা’র জীবনের একটা উদাহরণ দিয়েই শুরু করি! যে F. W. de Klerk এর ষড়যন্ত্রে মেন্ডেলা দীর্ঘ সময় জেলে ছিলেন সেই ডি ক্লার্কই ছিলেন প্রেসিডেন্ট মেন্ডেলার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং যৌথভাবেই তাঁরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে। একই রাষ্ট্রে বর্ণবাদ বিরোধসহ নানান রাজনৈতিক প্রবল বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্নে যারা অভিযুক্ত এবং বিরোধিতাকারী তাদের সাথে আপনি কখনই এমনকি দুই মেরুতে অবস্থান নেয়া দুই দলের রাজনৈতিক ঐক্যকে এক করতে পারেন না। এইটা বিএনপি’কে জামাতের সাথে থাকার শুধু অসৎ সাহসই দেয় না, একই সাথে আপনাদের কৌশলে সম্মতিও দেয়াও বুঝায় (মাঝে মাঝে মনে হয়); আসলে আমরা সাদাকে সাদা বলি এইটা প্রমাণ করার জন্যে অপরাধীর সাথে সাথে নিষ্পাপকেও {সামগ্রিক অর্থে না} কিছু কথা শুনাতে চাই। আরেকটা মজার ব্যাপার কি জানেন ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯১ সালের এই সামরিক এবং ছদ্ম সামরিক শাসন কোন সুস্থ এবং রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত মানুষ মেনে নিতে পারে না এবং এই গোটা প্রক্রিয়ার জন্যে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর দল আওয়ামীলীগ দায়ী নয়; তাই যৌক্তিকভাবেই এইসময়ে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক জঞ্জালপূর্ণ আদর্শের দলগুলোর দায়ও আওয়ামীলীগের উপর বর্তায় না, অর্থাৎ আজকের এরশাদের জন্মের জন্যেও জিয়া দায়ী। না হয় ন্যাফ ভাসানি- মজাফফর বা বাম দলগুলোই বিরোধীদল থাকার কথা, ১৯৭৩ এর নির্বাচন দ্রষ্টব্য… ব্যাখ্যাসমেত উত্তর দিয়ে যাবেন আশাকরি!!

    খ) ৫ বছর অন্তর অন্তর ভোট ভোট খেলায় বাম হাতের বুড়ো আঙুলের নখে নীল রঙ লাগানো ছাড়া এই আধমরা মূর্খগুলো রাজনীতির কোন বালে ভূমিকা রাখে ? চোদনা ডেমোক্রেসিতে কন্ট্রিবিউট করার সুযোগ দেওয়া হয় ?

    — আজকের দুনিয়ায় সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির পূর্বশর্ত হিসেবে সফল বা আংশিক সফল অথবা স্বতঃস্ফূর্ত পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সফলভাবে বিকশিত কোন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্তপাতহীনভাবে এবং পুস্পময়ভাবে হয়েছে আমাকে একটু দেখাবেন রাহাত ভাই? হয় প্রবল রক্তপাতের মাঝেই এই পুঁজিবাদ বিকশিত হয়েছে অথবা শাসকশ্রেণী জোড় করে কিছুটা স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সফলতার মুখ দেখেছে। আমি বলতে চাচ্ছি ‘চো*না ডেমোক্রেসি’ বলার মত রিএক্ট করাটা আপনার মত সজ্জনের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দুঃখিত এবং আতংকিতও বটে তাই বলে সম্পূর্ণ আশাহত না। আশাকরি ভাল কিছু অপেক্ষা করছে জাতির জন্যে, আমি আশাবাদী মানুষতো তাই এইসুরে বলা। আশাকরি বুঝিয়ে দিবেন আপনার ব্যাখ্যা। ভাল থাকুন…

    1. লিংকন,
      আপনাকে ধন্যবাদ চমৎকার

      লিংকন,
      আপনাকে ধন্যবাদ চমৎকার আলোচনা তৈরি করার জন্য । হ্যাঁ, অনেকদিন পর ইস্টিশনে লিখলাম । তবে কামব্যাক হবে কেন ব্রাদার ? ছেড়ে গেলাম কবে ? মাঝে মাঝে তো টুকটাক কমেন্ট করেছি । সে যাকগে , আপনার জিজ্ঞাসার জবাব দেয়ার চেষ্টা করছি –

      প্রথমত, নোবেল পুরস্কারটাই তো বিতর্কিত । মহাত্মা গান্ধী যেখানে শান্তিতে নোবেল পায়না আর আমাদের ইউনুস হোয়াইট হাউজে শান্তির পায়রা উড়ায় !!! সেখানে ডি ক্লার্ক নোবেল পাইলো কি পাইলো না তাতে কিছু যায় আসে না ।

      স্বৈরাচার আর রাজাকারকে একই পাল্লায় কেন মাপছি ?
      আমি,এরশাদ এবং গোলাম আজমের মধ্যে পার্থক্য করি সময় এবং অবস্থান দিয়ে । মুক্তিযুদ্ধের সময় বেহায়া এরশাদ দেশে ছিলোনা, মুক্তিযুদ্ধ করেনি অন্যদিকে গোলাম আযমরা দেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে ।

      এছাড়া আদর্শগত কোন পার্থক্য এই দুই দলের মধ্যে আছে বলে মনে হয়না । ৭২’র মূল সংবিধানের মূল নীতির বিরুদ্ধে এরা উভয় শিবির ঐক্যবদ্ধ । এরা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে না, এরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় আস্থা রাখেনা, এরা সমাজতন্ত্রের বিরোধী ( তা যে রঙের সমাজতন্ত্র হোক না কেন ) এরা গণতন্ত্রের মুণ্ডুপাত করে । ৮৮ সালে এই এরশাদ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যুক্ত করে ।

      এখন আপনি তাহলে এই দুই দলের মতাদর্শগত বিভাজন খুঁজে বের করেন । তথাকথিত জাতীয় পার্টি ও জামায়াত – এরা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ । এরা সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের চর্চা করে । এই এরশাদ ভণ্ড শফীর হেফাজতকে পানি পান করায়, তাদের সাথে সহমত পোষণ করে । এই এরশাদ হাটহাজারীতে গিয়ে ধর্মান্ধ জঙ্গি তালেবান শফীর পদ চুম্বন করে আসে । আরও হাজারো উদাহরণ আপনি চাইলে সরবরাহ করতে পারি ।

      তো কথা হলো আওয়ামীলীগ এবং অন্যান্য চতুর দলগুলো এরশাদ এবং তার এই সাম্প্রদায়িকতার দিকটি আড়াল করে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে । আর কেন করবেনা বলুন, একিই নৌকোর সহযাত্রী কে কীভাবে ফেলে দেওয়া যায় ? তাছাড়া পাকা বাম ইনু, মেনন, লেনিন, নাহিদ, মতিয়া দের কল্যাণে লীগের তো একটা প্রগতিশীল তকমা আছেই – সেইটা রক্ষা করা এবং এরশাদকে সাথে রাখা যখন দুইটাই জরুরী হয়ে পড়ে তখন আমার মুখ দিয়ে ‘ বালের গণতন্ত্র বা চো দ না গণতন্ত্র ‘ বের হয়ে যেতে পারে । তথাপি এই ধরণের শব্দ প্রয়োগ করতে হলো বলে আমি দুঃখিত !

      এরশাদ কে নানান ছল চাতুরীর মাধ্যমে জাস্টিফাই করা যেতে পারে কিন্তু আমি পারিনা আপাত সুখের ছলনায় নিজেকে ভুলাতে ।

      দ্বিতীয়ত, ক্যাপিটালিস্ট সমাজের গণতন্ত্র যে কী বস্তু তাহা বোধকরি আমাদের সবার জানা আছে । এই সমাজে গণতন্ত্রের সুরক্ষা কেবল ধনিক শ্রেণীর জন্য অর্থাৎ তার সম্পদ পাহারার জন্য । আপনার কল্পনায় গণতন্ত্রের যে মডেল অংকিত হয়ে আছে তার সাথে আমার সাধের গণতন্ত্রের স্বাভাবিক কারণেই মিল নেই ।

      এই দেশে, এই রাষ্ট্রের গণতন্ত্রে পুঁজিবাদের বিন্দুমাত্র প্রোগ্রেসিভ উপাদান আপনি খুঁজে পাবেন না । এখানে গণতন্ত্র চরম উপহাস ছাড়া আর কিছু নয় । কারণ গণতন্ত্রের মানবিকিকরনের ভার অর্পিত হয়েছে অমানবিকের হাতে ।

      আলোচনা চলুক …

      1. রাহাত ভাই,
        ক) আপনি প্রথম

        রাহাত ভাই,
        ক) আপনি প্রথম যুক্তিতে আমার মৌলিক স্থানটিই এড়িয়ে গেছেন। আমি বলেছি নোবেল পুরষ্কার উনারা দু’জনেই যৌথভাবে পেয়েছেন! যাহোক, এইখানে মূল উপজীব্য হচ্ছে ডি ক্লার্ক অমানুষ হলেও এতটা অমানুষ না যতটা হলে তিনি মেন্ডেলার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ গড়ার এক হয়ে কর্মযজ্ঞে যোগ দিতেন না। অর্থাৎ নোবেল পুরষ্কার আমার কথার উপজীব্য ছিল না তার মানসিকতা ছিল আলোচ্য।

        খ) আমার প্রথম প্রশ্নের শেষের এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ আপনি এড়িয়ে গেলেন রাহাত ভাই। আমি বলেছি ১৯৭৩ সালের নির্বাচন দ্রষ্টব্য, আপনি কিছুই বললেন না। কোথায় আজকের ন্যাফ ভাসানি-মোজাফফর? কোথায় সেইদিনকার শক্তিশালী বামদলগুলো? কে দায়ী আজকের এই অসুস্থ রাজনীতির জন্যে? সেই জেনারেল জিয়া এবং তার দলই তো আজকের পোস্টের আলোচনার বিষয়বস্তু? কিন্তু ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধারা কি কখনো নিজের ভুলেও ৪ বছর পরের এই পরিণতি চিন্তা করেছিল?

        গ)’একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ’ সবাই কোন অর্থে এই কথা বলে আমি জানি না। তবে টস দিলে এক পিট জয় প্রমাণ করলেও অপরটি হার বুঝায়। এইক্ষেত্রেও জামাতের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ যদি এরশাদ এন্ড গং ক্ষতিগ্রস্ত এবং বাধাগ্রস্ত না করত আশির দশকে তবে আজকের জামাতের রূপ আরও ভয়াবহ হতে পারতো! যদিও এরশাদ জামাতের নগ্ন আগ্রাসনকে দমাতে ধর্মকে যথেচ্ছাচারে ব্যবহার করেছেন। তারপরও আমি যেহেতু শেষপর্যন্ত লক্ষে পৌঁছাইতে বদ্ধপরিকর যতই দেরী হোক তাই অপেক্ষাকৃত কম নষ্টকে সাময়িকভাবে মেনে নিতে রাজী আছি! আর আমাকে আজকের জঞ্জালপূর্ণ রাজনীতি ঠিক করতে বলা হলে আমিও প্রথম প্ল্যানে কৌশলে বা প্রয়োজনে এরশাদকে সাথে নিয়ে জামাতকে নিধন করতাম। জানি না আপনার কি মতামত…

        ঘ) মজার ব্যাপার কি জানেন রাহাত ভাই। আজও আওয়ামীলীগ নিজেই নিজের বিরোধীদল। আদর্শিক আওয়ামীলীগ এবং বাস্তবের আওয়ামীলীগের মাঝেই যত দ্বন্দ্ব। আওয়ামীলীগের সমালোচনা করবে এমন কোন আদর্শিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয় নি। ২% ও না এমন ভোটের প্রতিনিধিকে আমি কখনও রাজনৈতিক দল বলতে পারি না, রাজনৈতিক আদর্শ বলতে পারি। কিন্তু স্বপ্নের বামেরা যদি সকাল-বিকাল বিভাজন রোধ করে নিজেদের নির্বুদ্ধিতা এবং সময়ের সাথে তাল মিলাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলো বের করে নিজেদের সংশোধন করত তবেই দল হিসেবে তাদের কথা জনগণ আমলে নিত।

        ঘ) পাকা বাম দের আম নিজেদের দিকে টেনেছে নাকি পাকা আমেরা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাইতে আমের সঙ্গী হয়েছে তা সময় হলেই বুঝা যাবে। আপনি যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন তার সকল মূল [গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ] ব্যাপারই বঙ্গবন্ধুর দল এবং বাংলাদেশে ছিল কিন্তু আজ নেই। তার জন্যে কে দায়ী বের করুণ? সব পরিষ্কার হয়ে যাবে! কি বলবেন এইবার সুযোগ পেয়েও কেন ১৯৭২ এ ফিরে গেল না? তা আপনিও বুঝেন! জনগণকে শিক্ষিত না করে এখন এই যায়গায় যাওয়া আর দেশের মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা একই জিনিষ। যে সুনাম ২১ বছর ধরে নষ্ট হয়েছে তা উদ্ধারে ৪২ বছরও লাগতে পারে।

        পরিশেষে জামাত আর জাতীয় পার্টিকে আপনার অর্থে মুদ্রার এপিট-ওপিট বলাটা তাই তর্কের খাতিরে বলা আমি জানি এইটা আপনি নিজেও বিশ্বাস করেন না। এখন গতানুগতিক বাঙালী হিসেবে নিজের ইগো বিসর্জন দিয়ে কখনই নিজের ভুল স্বীকার করবেন না। এইসব বিষয়ে যুক্তি সারাদিনই দেয়া যায় চাইলে, জীবনেও আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না যতদিন না আমরা জনগণ নিজেরাই গণতান্ত্রিক হব…

        ভাল থাকবেন রাহাত ভাই, আপনার ফিরে আশাই সবচে বড় পাওয়া! আশাকরি নিয়মিত হবেন। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

        1. লিংকন,
          আসলে ব্যাপার কি জানেন,

          লিংকন,
          আসলে ব্যাপার কি জানেন, আপনার স্বপ্নের সোনার বাংলা আপনি খোঁজেন আওয়ামীলীগের ভেতর ( আই রিপিট আওয়ামীলীগের ভেতর ) আর আমি খুঁজি একটা দর্শনের মাঝে ( আই রিপিট একটা দর্শন )তথা মার্কসবাদের মাঝে – আমার দর্শনের আলোকে গঠিত ১০০ ভাগ খাঁটি কম্যুনিস্ট পার্টি বর্তমান বাস্তবতায় দেখি না । তারমানে এই না মানুষ জাগবে না, কম্যুনিস্ট আন্দোলন গড়ে উঠবে না ।

          একটা পেটি বুর্জোয়া,সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়ানক দল হিসেবে লীগ নানান সমস্যায় জর্জরিত হবে, নানান রকমের জটিলতা তৈরি করবে, মৌলবাদ, স্বৈরাচারের সাথে আপোষ – সমঝোতা করবে, মালিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে, শ্রমিক পেটাবে,এটা কে না বোঝে ?

          তথাপি, এই ধরণের দলের প্রগতিশীল ভালো কাজগুলোকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে । কল, কারখানা তৈরি তথা পুঁজির সুষম বিকাশ যেন এদের মাধ্যমে ঘটতে পারে সেদিকেও উৎসাহ দিতে হবে । পাশাপাশি এদের জনবিরোধী কাজের সমালোচনা অবশ্যই করতে হবে । যেহেতু বামপন্থী দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার মতো শক্তি অর্জন করতে পারেনি ।

          আর হ্যাঁ, মেনন, ইনু, দিলীপ, মতিয়া, লেনিন, নাহিদ, নূর দের মতো আদর্শ বিচ্যুত হয়ে আওয়ামীলীগে বিলীন হয়ে গিয়ে আওয়ামীলীগ কে সহায়তা করার হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বাম আন্দোলনের পাছা মারা ( দুঃখিত আবারো এই শব্দবন্ধ ব্যবহার না করে পারলাম না ! )নিশ্চয়ই কোন কাজের কথা নয় ।

          সো, আপনাকে বোঝানো আমার কম্ম না। আপনি বুঝতেও চাইবেন না । আর আপনাকে বোঝাতে হলে লীগের অন্ধ সমর্থক হওয়া লাগে । তাহা এই বান্দার পক্ষে সম্ভব নহে । তবে আলোচনা চলতে পারে … চাই কি অনন্তকাল, যদি টাইম এলাউ করে ।

          1. আমি জানি না আপনি কেন এড়িয়ে
            আমি জানি না আপনি কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন যে পুঁজিবাদের পূর্ণ বিকাশ না হলে সমাজতন্ত্র কায়েম করা সম্ভব না। এই ব্যাপারটা উপেক্ষা করে ভ্লাদিমির লেনিন যা করেছিল তাই তাও ব্যর্থ হয়েছে, তারপরও তাঁদের আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি কেননা মার্ক্স-এঙ্গেলস-লেনিন-মাও আমরাও বুঝতে চাই, জন্মগতভাবে সম্যবাদি বলে। যাহোক এখন আপনি আজকের বাংলদেশে কিসের উপরে দাঁড়িয়ে সরাসরি সমাজতন্ত্র কায়েমের কথা বলছেন বুঝি না। আপনিও জানেন আমিও জানি পুঁজিবাদের সার্থক বিকাশ হওয়া দরকার, এবং এই কাজটা করার জন্যে দেশে এখন আপনার পছন্দ কোন দল? এইটা যে সরাসরি বলতে পারবে না, বুঝতে পারবে না বা বলতে পারবে না সে যতই আদর্শবাদী হোক না কেন দিন শেষে অর্থহীন অপরিণামদর্শী…

            আমার ভাই একটাই কথা “আমি গুটি গুটি পায়ে সকল জঞ্জাল (আবার বলছি জঞ্জাল মাড়িয়ে!) মাড়িয়ে শীর্ষে উঠতে চাই সাথে সাথে নিজেকে যোগ্য এবং সংশোধন করতে চাই। কিন্তু নীচে বসে ১০০% খাঁটি আদর্শবাদী হয়ে একলাফে চুড়ায় উঠার নিষ্ফল এবং নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ স্বপ্নচারিতা করতে আমি রাজী নাই…”

            মানুষের মুক্তি তিলে তিলে হয়, আচানক নয়।
            কেবল বন্ধীত্বই নাযিল হয় কিন্তু মুক্তি আসে সুদীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে।

      2. গণতন্ত্রের মানবিকিকরনের ভার

        গণতন্ত্রের মানবিকিকরনের ভার অর্পিত হয়েছে অমানবিকের হাতে।

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  9. নূর হোসেন, ডাঃ মিলনের রক্ত

    নূর হোসেন, ডাঃ মিলনের রক্ত গায়ে মেখে যদি পতিত স্বৈরাচার নৌকোর যাত্রী হতে পারে, রাজাকার নিজামী – সাইদী রা কেন ধানের অংশীদার হতে পারবে না ? –

    দুইটাই অপরাধ। কিন্তু দুটোকে একই মাপকাঠিতে মাপা ঠিক হল?

  10. চমৎকার বিশ্লেষণ রাহাত ভাই।
    চমৎকার বিশ্লেষণ রাহাত ভাই। অনবদ্য লেখনী। তার সাথে তারিক ভাই বাকীদের আলোচনায় হয়েছে দারুণ। রিয়াল ব্রেইন স্টরমিং। আমি যা বলতে চাইছি বাকিরা বলে দিয়েছে। কয়েকদিন পরে হলেও স্টিকি করা দরকার পোস্ট টা।

    1. পোস্টে এরকম প্রাণবন্ত আলোচনা
      পোস্টে এরকম প্রাণবন্ত আলোচনা হলে ব্লগিং করে দারুণ মজা পাওয়া যায় । যেহেতু সবার বক্তব্য ধরা থাকে সো, যে কেউ পোস্ট এবং আলোচনা পড়ে আইডিয়া গুলো সম্বন্ধে ধারণা লাভ করতে পারেন ।

      আপনার কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ !

  11. চমৎকার বিশ্লেষণ।প্রখর যুক্তি
    চমৎকার বিশ্লেষণ।প্রখর যুক্তি আর সাবলীল লেখনী আপনার পোস্টটিকে করেতুলেছে অনবদ্য। অসাধারণ।
    আমারো দুঃখ হয় প্রিয় দলটি যখন নূর হোসেন,ডাঃমিলনের হত্যাকারীদের সাথে একই নৌকায় ভাসতে দেখি। শুধুই কি তাই?১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লাল দিঘির ময়দানে ভাষণ রত অবস্থায় এরশাদের পুলিশ বাহিনী কি শেখ হাসিনাকে উদ্যেশ করে গুলি ছুড়েনি?সেদিন ২৪জন আওয়ামী কর্মী নিহত হয়েছিলো। তখন যদি একটা বুলেট শেখ হাসিনার গায়ে লাগতো তবে ইতিহাস হয়তো আজ অন্যরকম হত।শুধু ৮৮তেই নয় ৮৬তে ঐ চট্রগ্রামেই একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে যখন শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তখনো এরশাদের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনী শেখ হাছিনাকে লক্ষ করে গুলি চালিয়েছিল। পর পর দুইবার হত্যার চেস্টা করা হয়েছিলো হাসিনাকে।ভাগ্যক্রমে বেঁচেযান হাসিনা।বেচারীর ভাগ্য আছে বলা যায়।৭৫রেওতো একবার বেঁচে গিয়েছিলেন।আর তারেক বাবরের গ্রেনেড হামলা? হাহাহা……..। তবে এত কিছুর পরেও আমি হয়তো রাজাকার আর স্বৈরাচারের মধ্যে গুলিয়ে ফেলবনা।
    মনে সামান্য হলেও সান্তনা পাই যখন সংসদে হাসিনা সামনে বসে থাকা এরশাদকে দৃঢ় কন্ঠে স্বৈরাচার বলে উঠতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেননা।আর এরশাদ দুঃখ ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলে উঠেন,প্লিজ আমাকে স্বৈরাচার বলবেননা। দুটি বড় দলের মধ্যে পার্থক্য আসলে এখানেই। জোটবদ্ধ অবস্থায় খালেদাকি কখনো নিজামিদের রাজাকার বলে ওঠার সাহস রাখে? না বড়ং গোলাম আজম-নিজামিদের আলেম আখ্যা দিয়ে তাদের মুক্তি দাবী করেন। শুধু একটা কথা মনে রাখবেন,বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির জন্ম কোনো গনতান্ত্রিক পন্থায় হয়নি।দুইটার জন্মই হয়েছে স্বৈরাচারী পন্থায়। দুইটা দলের আদর্শই এক ও অভিন্ন।দুইটা দলের জনকেরই হাত রক্তে রঞ্জিত। যদি সেই হিসেব করেন তবে বলবো,জাতীয় পার্টির কথা পরে আসবে,বিএনপিরইতো অধিকার নেই এদেশে রাজনীতি করার।তবে যাই হোক এদের কাউকেই অন্তত জামাতের সাথে তুলোনা করবোনা।

    1. চমৎকার কমেন্ট করেছেন । তবে
      চমৎকার কমেন্ট করেছেন । তবে কথা হলো গিয়ে উনিশ আর বিশ । এরশাদ কে উনিশ ধরলে গো আজম, সাইদী কে ধরতে হবে বিশ । বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কর্ণধার রা আপাতত ‘ উনিশ ‘ নিয়ে সন্তুষ্ট আছে ।

      মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে জামাত একটি ঘৃণিত দল । তাদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই । পোস্টে আলোচনা হয়েছে ক্ষমতার প্রশ্নে জাতীয় পার্টি তথা এরশাদ এবং জামাত তথা নিজামী, মুজাহীদ দের নিয়ে । এদেরকে বড় দুই দল পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলেই রাজনীতিকে এরা কলুষিত করতে পারছে । আঁখেরে আসলে আমাদের জন্য এরা দুর্যোগ ছাড়া সু -যোগ ( ভালো কিছু ) বয়ে আনবে না । আর এই দুই দলের দর্শনগত জায়গায় কোন অমিল নাই । একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বাদ দিলে জাতীয় পার্টি ও জামাতকে আপনি আলাদা করতে পারবেন না । আবেগের উর্ধে উঠে একবার ভেবে দেখুন আসলে এই দলের মধ্যে বেসিক কোন পার্থক্য আছে কিনা ?

      রাজাকার আর স্বৈরাচার আক্ষরিক ভাবেই দুটো ভিন্ন অনুষঙ্গ । ঐতিহাসিক ভাবেই এই দুই অনুসঙ্গকে বিচার করতে হবে । কিন্তু তাৎপর্যগতভাবে এই দুইয়ের অপরাধ অবশ্যই এক দাঁড়িপাল্লায় মাপা যাবেনা, উচিত ও নয় । কিন্তু ওই যে আদর্শগতভাবে এরা ‘ উনিশ ‘ ও ‘ বিশ ‘ ।

      1. রাহাত ভাই জামাতের কথা দিয়ে
        রাহাত ভাই জামাতের কথা দিয়ে শুরু করি।জামাত কখনওই এদেশে একক ভাবে ক্ষমতায় আসেনি।তার সকল অপকর্ম এর ওর ঘারে ভর করে।আর জামাত একটি দল হিসেবে একাত্তরের তার যে ভুমিকা সেটাকে এরশাদের স্বৈরশাসন এর সাথে ১৯/২০এ তুলনা করা একাত্তরকে খাটো করারই সামিল।
        এখন একটি ঘটনা বলি।প্রকাশ্যে হয়তো এরশাদকে কখনো বলতে শুনিনি তবে এরিশাদেরই দলের একজন যিনি বর্তমানে এখন এমপি হয়েছেন তার মুখে শোনা।এরশাদ প্রায়ই তাদের একটা কথা খুব দুঃখ নিয়ে বলেন-আমাকে এখন ওরা স্বৈরাচার বলেন তাহলে মেজর জিয়া কি ছিলো?
        রাহাত ভাই আমি কিন্তু এরশাদের এই কথা ফেলে দিতে পারিনা।আমার কথা হলো যদি জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগ এর ঐক্য করায় কারো আপত্তি থাকে তবে বিএনপিকে প্রধান দল হিসেবে গন্য করাকেও আমি আপত্তির কারণ হিসেবে দেখি।কিন্তু দুঃখের বিষয় এদেশে বিএনপিকে গন্য করেই জাতি এগিয়ে যেতে চায়!তাহলে এরশাদ মামুর জাতীয় পার্টিতে দোষটা কোথায়?

        1. আর জামাত একটি দল হিসেবে

          আর জামাত একটি দল হিসেবে একাত্তরের তার যে ভুমিকা সেটাকে এরশাদের স্বৈরশাসন এর সাথে ১৯/২০এ তুলনা করা একাত্তরকে খাটো করারই সামিল।

          – সম্ভবত আমার রিপ্লাই পড়ে আপনি মূল জায়গাটা আইডেন্টিফাই করতে পারেন নি । আমি বলেছি তাদের রাজনৈতিক দর্শনগত ঐক্যর কথা । সেখানে এদেরকে আপনি কীভাবে পৃথক করবেন ? আমি বলেছি

          একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বাদ দিলে জাতীয় পার্টি ও জামাতকে আপনি আলাদা করতে পারবেন না

          আর বিএনপির প্রধান দল হয়ে ওঠাটা এ দেশের রাজনীতির জন্য শোচনীয় দুর্ভাগ্য । মেজর জিয়া এরশাদের থেকেও বড় স্বৈরাচার ছিল সে ব্যাপারেও কোন সংশয় নেই । সংবিধানের উপর্যুপরি ধর্ষণের খলনায়ক এই জিয়া ।

    2. মনে সামান্য হলেও সান্তনা পাই

      মনে সামান্য হলেও সান্তনা পাই যখন সংসদে হাসিনা সামনে বসে থাকা এরশাদকে দৃঢ় কন্ঠে স্বৈরাচার বলে উঠতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেননা।আর এরশাদ দুঃখ ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলে উঠেন,প্লিজ আমাকে স্বৈরাচার বলবেননা। দুটি বড় দলের মধ্যে পার্থক্য আসলে এখানেই। জোটবদ্ধ অবস্থায় খালেদাকি কখনো নিজামিদের রাজাকার বলে ওঠার সাহস রাখে? না বড়ং গোলাম আজম-নিজামিদের আলেম আখ্যা দিয়ে তাদের মুক্তি দাবী করেন।

      :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *