শরীরযন্ত্রের যে মৃত্যু , তা আমাকে কোন ভীতিবোধে আচ্ছন্ন করে না ।

আজকাল মৃত্যু এসে ভীড় করে মনে। মনে হয়, অনেক তো হলো।
ভাবি – তবে কি বুড়িয়ে গেলাম?
কুড়িতেই যক্ষা নিয়ে যায় সুকান্তকে। আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলা রুদ্রকবিও চলে যান
অল্প সময়ে।
এইসব মৃত্যুদের মনে হলে অবশ্য সময়টা চলে যাওয়ার জন্যে “অ-কাল” মনে হয় না।

শৈশব এসে ভীড় করে পুরো হৃদয় জুড়ে, স্মৃতিরা একেকটা অদ্ভূতুড়ে প্রাণযুক্ত হয়ে ওঠে – উপহাস করে – আবার কোনটা মায়া জড়িয়ে মাদকের আবেশ রেখে চলে যায়। আমি পড়ে থাকি একা ।
এইখানে।
নিধুয়া এই পাথারে।

সবকিছু ছবি হয়ে আসে।

আজকাল মৃত্যু এসে ভীড় করে মনে। মনে হয়, অনেক তো হলো।
ভাবি – তবে কি বুড়িয়ে গেলাম?
কুড়িতেই যক্ষা নিয়ে যায় সুকান্তকে। আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলা রুদ্রকবিও চলে যান
অল্প সময়ে।
এইসব মৃত্যুদের মনে হলে অবশ্য সময়টা চলে যাওয়ার জন্যে “অ-কাল” মনে হয় না।

শৈশব এসে ভীড় করে পুরো হৃদয় জুড়ে, স্মৃতিরা একেকটা অদ্ভূতুড়ে প্রাণযুক্ত হয়ে ওঠে – উপহাস করে – আবার কোনটা মায়া জড়িয়ে মাদকের আবেশ রেখে চলে যায়। আমি পড়ে থাকি একা ।
এইখানে।
নিধুয়া এই পাথারে।

সবকিছু ছবি হয়ে আসে।
চৈত্রের খনখনে রোদে আমি দৌড়ুতে গিয়ে উল্টে পড়ে যাই ধুলো হয়ে যাওয়া লাঙল দেয়া জমিটায়, মায়ের লাঠির ভয়ে অনেক কষ্টে থুথু দিয়ে ধুলো মোছার ব্যর্থ চেষ্টা করি।

ধুর, এইসব কেন যে মনে পড়ে?
বুড়োত্বের খুব বড়সড় সিমটম।

একা ভাবতে বসি, পেরিয়ে যায় সময়। মনে মনে অনেকদূর চলে যাই – ফিরতে পারি না আর, কোথা থেকে শুরু করেছিলাম।
হয়ে যাই ফটিক কিংবা অপু অথবা অনিমেষ। মফুস্বলে আমি এই ধনবাদী নগরের কংক্রিটের বেড়াজালে খুঁজে ফিরি আশ্রয় শূন্যতার কাছে।
ভাবনা ঘিরে ধরে ক্লান্ত-শ্রান্ত আমায় , এই পথের ক্লান্তি থেকে জিরিয়ে নেবার সুযোগও পাই না আজকাল- দেশ-কাল-পাত্র কোন কিছু না ভেবেই যে পথটা এতোদূর এলাম।
দেশ-কাল-পাত্রের অক্ষ অবশ্য ভাবনার পটে গৌণ – সব সমান্তরাল – মাঝেমধ্যে কিছুকিছু এবড়োথেবড়ো বাদ দিলে।

ভাবি, অনেকদূরই তো হাঁটলাম এই স্বল্প সামর্থ্যের দুর্বল আমিত্ব নিয়ে।
ঠিকঠাক বেঁচে থাকলে আর কদিন পর হয়তো বৈশ্যিক দাসত্ব করবার জন্যে নষ্ট কর্পোরেটদের দরজায় দাড়িয়ে পড়বো, একগাদা মিথ্যে প্রতিদিন অবলীলায় বানিয়ে বলে যাবো কলচাবি দেয়া পুতুলের মতো। নিজেকে সর্বোত্তম দাস হওয়ার জন্যে যোগ্যতম হিসেবে হাজির করবো স্যারদের দরবারে দন্তপাটি বিস্তৃত হাসি উপহার দিয়ে।
তারপর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পা চাটতেই থাকবো প্রভূদের। জানি, সে-ই জীবন অপেক্ষা করে থাকে – এই পথের শেষে।

এই প্রতিবেশে অস্ত্র নেই, কোন উদভ্রান্তের এলোপাথাড়ি গুলিতে অকালে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা মিলিয়নে এক এরও কম।
এই শহরে ট্রাম নেই, ভয় নেই জীবনানন্দ হওয়ার। বাতাসে সীসা নেই, পানিতে নেই অতিমাত্রার খনিজবিষ।
এই শহর এবং শাহরিক মানুষগুলো অ-কালে মরে না। তারা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে, অন্যদের সমস্যা করে অথবা না করেই। তারা আমাদের তথাকথিত বুড়োত্বের বয়সে পৌঁছেও নির্জীব হয় না, দিব্যি বেঁচে থাকে – শারীরিক ও মানসিক ভাবে। জগতকর্মে কোন বাধা পড়ে না; প্রেম করে, করে পরকীয়াও।

তবুও এইসব কিছুর মাঝে থেকেও আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে।

শরীরযন্ত্রের যে মৃত্যু , তা আমাকে কোন ভীতিবোধে আচ্ছন্ন করে না । ঈশ্বরে আমার অবিশ্বাস নেই – কিন্তু ব্যাপারটা অনেকটা – ঝাল খাবারে আমার অরুচি নেই – ধরনের বিষয়ের মতো সহজ। প্রার্থনা অথবা ঈশ্বর-উপাসনা – মাঝেমধ্যে সামান্য করি না – তাও নয়। খুব খারাপভাবে বললে – কিঞ্চিত ভণ্ড – বিশ্বাসে।

তাই শরীরযন্ত্রের মৃত্যু নামক পৃথিবীর জটিল অনন্য ব্যাপার-স্যাপারটি আমাকে সামান্যতম শুদ্ধ বা ভীত হতে শেখায় না।
“আছি” বা “থাকি” ব্যাপারগুলো তৃতীয় পক্ষের চোখে “ছিলো” বা “থাকতো” হয়ে যাওয়াটা আর এমন কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশুনা করছে এরকম কাছাকাছি একজন প্রথম কোন ডেথ সার্টিফিকেট লিখে বেশ উত্তেজনা প্রকাশ করেছিল আমার কাছে, আমি অবাক হয়েছিলাম। সময়ের প্রবাহে নাকি খুব একটা কিছু বোধ হয় না।

তবে মন নামক আপাত-আপেক্ষিক বস্তুটির নিঃশেষ হয়ে যাওয়া আমাকে ভীত করে তোলে।
বুড়োত্বের ভয় আমার সেইখানেই।
অজরামর কোন প্রাণের প্রত্যাশা আমি করি না। জরাকে আমি জীবনের সঙ্গী বলেই বোধ করি।
মৃত্যু আমার কাছে রোমান্টিক কোন ধারণা নয়, হয়তো নতুন কোন পথ খুলে আছে শ্যামসম মরণ এর ওপারে।
তবুও অপ্রিয় সে।
বড্ড অপ্রিয়। দাসের হেঁটে চলা জীবনেও সে অনাকাঙ্খিত।

৩ thoughts on “শরীরযন্ত্রের যে মৃত্যু , তা আমাকে কোন ভীতিবোধে আচ্ছন্ন করে না ।

  1. রার্থনা অথবা ঈশ্বর-উপাসনা –

    রার্থনা অথবা ঈশ্বর-উপাসনা – মাঝেমধ্যে সামান্য করি না – তাও নয়। খুব খারাপভাবে বললে – কিঞ্চিত ভণ্ড – বিশ্বাসে।

    আমরা প্রায় সবাই । মন থেকে কত জন ঈশ্বারকে ভালবাসে ? আমার মনে হয় সবাই ভয়েই ভক্তি করে । যার ভয় বেশী তার ভক্তিও বেশী ।

    ভাল লাগলো ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *