আমার বান্দরবেলা পর্ব ৩

একবার নানা ঠিক করলো বড় মামারে বিয়া দিতে হবে।সবাই মিলে পাত্রী খোজা শুরু কইরা দিলো।এক ঘটক নানারে বললো আমার কাছে একটা মেয়ে আছে দেখতে পুরা নাগিন সিনেমার শ্রিদেবীর মতো।বড় মামা মেয়ের বর্ণনা শুইনা বললো এত টাকাপয়সা খরচ কইরা সাপ বিয়া করমু নাকি?,বাসর রাতে একবার একটা ঠোকর দিয়া বসলে আমার স্বর্গবাস ঠেকায় কে?।আবার সাপ নাকি পুর্নিমার রাতে নাচানাচিও করে,বিয়ার পর মেয়ে কোন না কোন খালবিলে গিয়ে সঙ্গীসাথী নিয়া নাচানাচি করবো রাইত বিরাইতে তারে খুজতে আবার কে যাবে।বহুৎ কিচ্ছাকাহিনীর পর একজন মেয়ে ঠিক হইলো।সবাই মিইলা পাত্রীর বাসায় গেলাম তারে দেখতে।পাত্রী সবার জন্য চা নাস্তা নিয়া আইসা লাজুক লাজুক মুখে চুপ কইরা বইসা রইলো। কথাবার্তা চলতেছে এমন সময় দেখি সবাই নাঁক কুচকানো শুরু করছে,একটু পর টের পাইলাম কে যেন বিষাক্ত বায়ু নির্গমন করছে।মা আমার দিকে এমন ভাবে তাকায়লো যেন আমিই ঐটার জন্য দায়ী,অবশ্য কারনও ছিলো,ছুডুবেলায় হাবিজাবি খাওয়ার ফলে প্রায়ই আমি পিছনদিক দিয়া ফরাসী সৌরভ ছাড়তাম।আমার একেকটা বায়ু একেকটা পরমাণু বোমের ন্যায় শক্তশালী আছিলো।বায়ু থেইকা পরমানু বোম বানানের কোন উপায় থাকলে এতো দিনে বড়লোক হইয়া যাইতাম।আম্রিকা,রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা আমারে মাথায় যে তুলতো আর নীচে নামাইতো না। অবশ্য মাথার উপরে তোলা অবস্থায় বায়ু ছাড়লে তাদের মারা যাবার আশঙ্কাও উড়ায় দেওয়া যাইতো না।

যাই হোক, বায়ু ছাড়ার মিথ্যা অপবাদ থেইকা বাচাঁর আশায় চরিদিকে অনুসন্ধান চালাইতে লাগলাম।সবার পিছনদিকে ঘুইরা ঘুইরা শুঁকতে লাগলাম কে সেই কালপ্রিট।অবশেষে আবিস্কার করলাম বায়ু ছাড়ার জন্য আর কেউ না, স্বয়ং লাজুক মুখের পাত্রীই দায়ী।আবিস্কারের অতিশায্যে চিৎকার কইরা সবাইরে জানায় দিলাম,”মামার জন্য যে মেয়ে তোমরা ঠিক করছো সেই বায়ু ছাড়ছে”।এ কথা শুইনা পাত্রী পারলে কাইন্দা দেয় ।আরও ছুডুবেলায় শুনছিলাম,”অধিক শোকে মানুষ পাথর হয়’ আমার কথা শুইনা পাত্রীর বাবা অধিক শোকে গ্রানাইট হয়া গেলো।বাসায় আসার পর মামা বললো, “আমি এই মেয়েরে বিয়া করুম না।এই মেয়ে যদি বাসর রাতে এমন ভাবে ঠাশ ঠাশ কইরা পাঁদ মারতে থাকে,তাইলে পরেরদিন পুলিশ আইসা ঘরের মধ্যে বোমা ফাটাইয়া সন্ত্রাসী কার্যকালাপের জন্য আমারে থানায় নিয়া যাবে। তাছাড়া মেয়ে যদি সারারাত এমনে পাদ মারতে থাকে তাহলে সকালে উইঠা তোমরা, আমার, গন্ধের চোটে মমি হয়ে যাওয়া লাশ পাইবা,পত্রিকায় খবর আসবে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে বাসর রাতে মেধাবী স্বামীর মৃত্যু, নববধূ গ্রেপ্তার”……

একবার খালার সাথে তার বান্ধবীর বাসায় বেড়াইতে গিয়া দেখলাম একটা মুরগী ডিমের উপর বইসা আছে,খালারে ডিমের উপর বসার কারন জানতে চাইলে বললো মুরগী ডিমে তাঁ দিতেছে বাচ্চা ফুটানের জন্য।বাসায় আসার পর আমারও ওমন কইরা ডিমে তা দিতে ইচ্ছা হইলো,রান্না ঘরে খুইজা কয়েকটা ডিম নিয়া উঠানের উপর রাইখা আমিও তাঁ দিতে বইসা গেলাম।বসার সাথে সাথে দেখি ডিম ভাইঙ্গা আমার প্যান্টের সাথে লেপটায় গেছে।আমার কান্ড দেইখা ছোট খালা চিৎকার দিয়া মা রে ডাক দিয়া কয় দেখেন আপনের পোলা কান্ড দিনদুপুরে তার বাচ্চা ফুটানের খায়েশ হইছ.খালারে কইলাম,বাচ্চা কি রাত দুপুরে ফুটামু নাকি?।এরই মধ্যে মা খুইজাপাইতা কই থেইকা জানি একটা লাঠি নিয়া আমারে দৌড়ানি দিলো।ঐ দিন দৌড়ানির সময় বারবার দূর্গাদেবীর কথা মনে পড়তেছিলো।দেবী যেমনে অসুররে মারার জন্য খড়গ হাতে দৌড়ানি দিছিলো আমারেও মা তেমনি কইরা দৌড়ানি দিয়া ঘরের ভিতর তাড়ায় নিয়া আসলো।মার হাতে দৌড়ানি খাবার পরও ডিমে তা দেওয়ার ইচ্ছা রয়া গেলো।এইবার ভাবলাম শক্ত কিছুতে তাঁ দিতে হবে যাতে না ভাঙ্গে।অনেক খুজাখুজির পর বড় খালুর চকচকা টাক টা পছন্দ হইলো।কিন্তু বড় খালু তো সেচ্ছায় তার মাথারে তাঁ দিতে দিবেনা।অনেক মাথা খাটায়া বাইর করলাম খালু ঘুমাইলে তাঁ দিতে হইবো।বড় খালুরে যদি তা দিয়া ফ্রি তে একটা বাচ্চা ফুটায়া দিতে পারি তাইলে আর আমার উপর রাগ করবে না।কয়েকদিন পর খালু দুপুরে নাক ডাইকা ঘুমাইতেছে এইফাঁকে আমি খালুর মাথার উপর তাঁ দিতে বইসা গেলাম,বসতে না বসতে পিছনদিক দিয়া বিষাক্তবায়ু ছাইড়া দিছিলাম,গন্ধ পাইয়া খালু ধড়মড় কইরা উইঠা কইলো,”তুমি আমার মাথার উপর কি কর?।আমি কইলাম, “আপনের মাথারে তা দিয়া বাচ্চা ফুটাইতেছি”।এ কথা শুইনা খালু আমারে চ্যাং দোলা কইরা মার কাছে দিয়া আসলো।তারে অনেক কইরা বুঝাইতে চাইলাম একটা বাচ্চা ফুটাইতে পারলে তারই লাভ,সে আরেকটা বাচ্চা ফ্রিতে পাবে।কিন্তু আমার গোয়াঁড় খালু কিছুতেই বুঝলো না যে আমি তার কতবড় উপকার করতে চাইছিলাম।ঐদিন নানা মার খাওয়ার হাত থেইকা বাঁচায় দিছিলো।

কয়েকদিন পরও ডিমে তাঁ দেওয়ার কথাটা মাথা থেইকা সরাইতে পারলাম না।একদিন মারে জিজ্ঞেস করলাম,আম্মু আমি কেমনে হইছি?” মা কইলো, “তুমি পেটের ভিতর থেইকা আসছো”।আমি কইলাম তাইলে পেট রে কে তাঁ দিছিলো?তুমি বাবার পেটে বইসা তাঁ দিছো নাকি বাবা তোমার পেটে বইসা তাঁ দিছে”।একথা শুইনা মা গালে একটা থাবড়া বসাইয়া বললো,’বেশী পাকনা হইছো”।
সেদিন মায়েরকাছে থাবড়া খাওয়ার কারন ক্লাশ ৯ এ উইঠা বুঝছি।

পর্ব ২

পর্ব ১

১১ thoughts on “আমার বান্দরবেলা পর্ব ৩

  1. কয়েকদিন পরও ডিমে তাঁ দেওয়ার

    কয়েকদিন পরও ডিমে তাঁ দেওয়ার কথাটা মাথা থেইকা সরাইতে পারলাম না।একদিন মারে জিজ্ঞেস করলাম,আম্মু আমি কেমনে হইছি?” মা কইলো, “তুমি পেটের ভিতর থেইকা আসছো”।আমি কইলাম তাইলে পেট রে কে তাঁ দিছিলো?তুমি বাবার পেটে বইসা তাঁ দিছো নাকি বাবা তোমার পেটে বইসা তাঁ দিছে”।একথা শুইনা মা গালে একটা থাবড়া বসাইয়া বললো,’বেশী পাকনা হইছো”।
    সেদিন মায়েরকাছে থাবড়া খাওয়ার কারন ক্লাশ ৯ এ উইঠা বুঝছি।

    ভাই দিতে থাকেন অবশ্যই মজার জিনিস 😀

  2. (No subject)
    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  3. ইঁচড়ে পাকা আর কারে কয়!! ভাই
    ইঁচড়ে পাকা আর কারে কয়!! ভাই একটা সিরিয়াল বানানোর দরকার…
    দুলাল ভাই! ভাল কাটতি হবে মনে হচ্ছে এমন হাস্যকর স্ক্রিপ্টের হাঁসির নাটকের সিরিজ আসলেই অসাধারণ কিছু একটা হবে!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি:
    “মামার জন্য যে মেয়ে তোমরা ঠিক করছো সেই বায়ু ছাড়ছে”
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: :হাসি: :হাসি: 😀 😀 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *