শান্তি আসুক অসাম্প্রদায়িকতার হাত ধরে…

কেউ যদি একই সাথে দাবী করে যে সে নাস্তিক এবং অসাম্প্রদায়িক তাহলে আমার একটু খটকা লাগে! আচ্ছা- নাস্তিক মাত্রই কি অসাম্প্রদায়িক?
আমার কিন্তু একটু সন্দেহ আছে! অসাম্প্রদায়িকতা বলতে আমি বুঝি এমন একটা আচরন যেখানে অন্য যে কোন বিপরীত বিষয়ে বিশ্বাসী কারো সাথে আমার কোন নীতিগত বিরোধ নেই… যেমনটি ছিলেন ফকির লালন শাহ্‌ কিংবা বাবা লোকনাথ!
কিন্তু অনেক নাস্তিককেই আমি দেখি- ধর্ম বা ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের কটাক্ষ করে কথা বলে!
তাহলে আর অসম্প্রদায়িকতা রইলো কোথায়?
অনেক নাস্তিক যুক্তি দেখান- আমি তো কেবল প্রতিবাদ করি, কোন ঈশ্বর বিশ্বাসীর গলা কাটার জন্য চাপাতি-রামদা’ নিয়ে দৌড়ানি দেই না!

কেউ যদি একই সাথে দাবী করে যে সে নাস্তিক এবং অসাম্প্রদায়িক তাহলে আমার একটু খটকা লাগে! আচ্ছা- নাস্তিক মাত্রই কি অসাম্প্রদায়িক?
আমার কিন্তু একটু সন্দেহ আছে! অসাম্প্রদায়িকতা বলতে আমি বুঝি এমন একটা আচরন যেখানে অন্য যে কোন বিপরীত বিষয়ে বিশ্বাসী কারো সাথে আমার কোন নীতিগত বিরোধ নেই… যেমনটি ছিলেন ফকির লালন শাহ্‌ কিংবা বাবা লোকনাথ!
কিন্তু অনেক নাস্তিককেই আমি দেখি- ধর্ম বা ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের কটাক্ষ করে কথা বলে!
তাহলে আর অসম্প্রদায়িকতা রইলো কোথায়?
অনেক নাস্তিক যুক্তি দেখান- আমি তো কেবল প্রতিবাদ করি, কোন ঈশ্বর বিশ্বাসীর গলা কাটার জন্য চাপাতি-রামদা’ নিয়ে দৌড়ানি দেই না!
এই যুক্তিতে অনেক ঈশ্বর বিশ্বাসী এমনকি গোড়া ধার্মিকও অসাম্প্রদায়িক! কারণ সেও তো কারো গলা কাটে না!
আসলে আমি মনে করি, প্রত্যেকের বিশ্বাসই তার কাছে লজিক্যাল! সেটাকে যেকোন ভাবে তাচ্ছিল্য করাটাই সাম্প্রদায়িকতা! একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনাধারী হিসেবে আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ যেটা করতে পারি সেটা হলো- নিজের বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তিগুলো অপরের নিকট তুলে ধরা। সেটাতে যদি সে কনভেন্সড হয় তাহলে আপনা থেকেই সে আমার মত ভাবতে শুরু করবে। আর যদি না হয় তবুও আমার এটা বলার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না যে- তুমি অন্ধ (কিংবা ধর্মান্ধ!), তোমার বিচার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে… ইত্যাদি।

তবুও সহিংসতা বিচারে নাস্তিকরা আস্তিকদের তুলনায় এখনও পর্যন্ত কম উগ্র! কিন্তু সেটা আসলে সাময়িক। আমার ধারনা- উগ্রপন্থী আস্তিক-নাস্তিক সবার মধ্যেই আছে! কারণ উগ্রতার কোন ধর্ম নেই। একটা সময় মুসলিমরা সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে গণ্য হতো। আরবের তত কালীন মানুষেরা ইসলাম গ্রহণ করেছিল মুসলিমদের ব্যবহারের মুগ্ধতায়, তাদের উগ্রতার ভয়ে নয়। এখন অনেকেই দাড়ি-টুপি দেখলে ভ্রু-কুচকে তাকায়! এটা হয়েছে তখন, যখন মুসলিমদের দল ভারি হয়েছে, ক্ষমতা বেড়েছে… সেই সাথে বেড়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা!
এটা শুধু মুসলিমদের বেলায়ই নয়, সহিংসতা দেখিয়েছে ইহুদি নিধনের নামে খৃষ্টান হিটলার। আবার ইজরায়েল-এর ইহুদিরাও এখন দেখাচ্ছে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর! তেমনি ভাবে ভারতের হিন্দুরা কিংবা চির শান্তি প্রিয় “জীব হত্যা মহাপাপ”-এ বিশ্বাসী খোদ মায়ানমারের বৌদ্ধরাও কিন্তু সহিংসতায় কম যায়নি রোহিঙ্গাদের সাথে! আর এর প্রতিটা ঘটনাই ঘটেছে যখন তারা সাম্প্রদায়িক ভাবে ক্ষমতাশালী হয়েছে তখন…!
আবার এটাও সত্য, কোন একটা সহিংস ঘটনায় ঐ সম্প্রদায়ের সবার সম্পৃক্ততা থাকে না। থাকে সেই সব লোকগুলোরই যারা সহিংসতা পছন্দ করে! কিংবা বলা ভালো- সহিংসতার সুযোগ নেয়! আর এই লোকগুলোর কোন ধর্ম নেই, আগেই বলেছি এরা সকল গোত্রেই বিদ্যমান।
কাজেই একটা সময় যখন নাস্তিকদের দল ভারি হবে সেই দলে যে কিছু উগ্রপন্থী থাকবে না এমন ভাবার কোন কারণ নেই! তখন যদি কোন উগ্রপন্থী নাস্তিক ভোর বেলা ফজরের আজানের শব্দে বিরক্ত হয়ে কোন এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের জিহ্বা কেটে দেয় খুব একটা অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না হয়তো! কারণ এখনও এমন হচ্ছে কোথাও কোথাও। হয়তো কোন উগ্রপন্থী পাশের হিন্দু বাড়ির “উলুর” আওয়াজে বিরক্ত হয়ে তার ঠাকুর ঘর ভেঙ্গে দিয়ে আসে!

কাজেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সমাধান হিসেবে কোন বিশেষ ধর্মের মানুষকে দায়ী করে লাভ নেই। কোন নির্দিষ্ট একটা কিংবা (ঈশ্বর বিশ্বাসীদের) সকল ধর্ম বিলোপ সাধনও কোন সমাধান হতে পারে না! আর সেটা আদৌ সম্ভবও নয়। কারণ, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত- ভিন্নমত থাকবেই!
এই ভিন্নমতের জগতে সমঝোতা ও অসহিংস একটা শান্তিপ্রিয় সমাজের একমাত্র পথ হচ্ছে অসম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরী করা। এটাও হয়তো কঠিন কিন্তু একেবারে অসম্ভব নয়! কেবল মাত্র পারস্পারিক বিশ্বাসের ওপর সহনশীল মনোভাবই পারে একটা সুস্থ সমাজ উপহার দিতে।

ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচয়- একজন মুসলিম, বাংলাদেশী-বাঙ্গালী, বাবা-মায়ের কনিষ্ঠ সন্তান, পুরুষ, ইঞ্জিনিয়ার, কথা সাহিত্যিক… ইত্যাদি অনেককিছুই হতে পারে। তবে সবার আগে নিজেকে একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ ভাবতেই সবচেয়ে পছন্দ করি আমি।
তবে যদি কোনদিন নাস্তিকের খাতায় নাম উঠাই তো সেটা নাস্তিকদের দেয়া “ঈশ্বর নেই”-এই যুক্তির কারণে হব না। হব কিছু অতি উৎসাহী উগ্রপন্থী গোঁড়া ধার্মিকের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও বিতৃষ্ণা নিয়ে…!

– সফিক এহসান
(১৭ জানুয়ারি ‘১৪)

২৭ thoughts on “শান্তি আসুক অসাম্প্রদায়িকতার হাত ধরে…

  1. অসাম্প্রদায়িকতা বলতে আমি বুঝি

    অসাম্প্রদায়িকতা বলতে আমি বুঝি এমন একটা আচরন যেখানে অন্য যে কোন বিপরীত বিষয়ে বিশ্বাসী কারো সাথে আমার কোন নীতিগত বিরোধ নেই

    নীতিগত বিরোধ নেই বলতে কি বুঝাইলেন একটু খোলাসা করেন সফিক ভাই। 😀

    1. ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন!
      যাই

      :খাইছে: ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন! :চিন্তায়আছি:

      যাই হোক, নীতিগত বিরোধ বলতে আমি যেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছিঃ
      মানুষ হিসেবে প্রথম নীতি হওয়া উচিৎ- নৈতিকতা, ভালবাসা ও ইনসাফ। এই যায়গাটায় কোন বিরোধ থাকা উচিৎ নয়। কেউ একজন ঈশ্বরকে বিশ্বাস করুক না করুক কিংবা ঈশ্বরকে ভিন্ন ভাবে সজ্ঞায়িত করুক, সেটা মূল বিবেচ্য বিষয় না হয়ে যে ব্যক্তির কাছে একজন মানুষের চারিত্রিক গুণাবলীই প্রধান বিবেচ্য বিষয় তাকেই আমি “অসাম্প্রদায়িক” বলে মনে করি।

      আরো সহজভাবে বলতে গেলে- যে ব্যক্তি একজন মানুষকে তার ধর্মীয়/জাতিগত মতাদর্শ দিয়ে বিচার না করে বরং ঐ মানুষটার আচার-ব্যবহার ও কৃতকর্ম দিয়ে বিচার করে সে-ই অসাম্প্রদায়িক…

      আশা করি ডাক্তার সাবকে বুঝাতে পেরেছি! 😀

  2. প্রত্যেকের বিশ্বাসই তার কাছে

    প্রত্যেকের বিশ্বাসই তার কাছে লজিক্যাল! সেটাকে যেকোন ভাবে তাচ্ছিল্য করাটাই সাম্প্রদায়িকতা!

    তবে যদি কোনদিন নাস্তিকের খাতায় নাম উঠাই তো সেটা নাস্তিকদের দেয়া “ঈশ্বর নেই”-এই যুক্তির কারণে হব না। হব কিছু অতি উৎসাহী উগ্রপন্থী গোঁড়া ধার্মিকের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও বিতৃষ্ণা নিয়ে…!

    আপনার সাথে আমার ব্যাক্তিগত মতের কিছুটা মিল খুজে পাচ্ছি।

  3. সফিক ভাই অসাম্প্রদায়িক
    সফিক ভাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ।। যুদ্ধের পড়ে তিনি ১৯৭১ সালে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের ফিরিয়ে এনেছিলেন আবার বাংলাদেশে কিন্তু আজ ৪৩ বছর পরেও এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গয়রে তোলা সম্ভব হয়নি তার একমাত্র কারণ হিন্দুদের আওয়ামীলীগ প্রীতি আর জামাত শিবিরের ধর্মের রাজনীতির কারণে ।। এই দুটি থেকে মুক্ত না হলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ স্বপ্ন থেকে যাবে বাস্তবে হবেনা ।।

    1. মোটামুটি ভাবে সেটাই বোঝাতে
      মোটামুটি ভাবে সেটাই বোঝাতে চেয়েছি…

      মানুষের পরিচয় হোক মানুষ। হিন্দু কিংবা মুসলিম অনেক অনেক পরের একটা গৌণ আলোচনা…

  4. ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচয়-

    ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচয়- একজন মুসলিম, বাংলাদেশী-বাঙ্গালী, বাবা-মায়ের কনিষ্ঠ সন্তান, পুরুষ, ইঞ্জিনিয়ার, কথা সাহিত্যিক… ইত্যাদি অনেককিছুই হতে পারে। তবে সবার আগে নিজেকে একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ ভাবতেই সবচেয়ে পছন্দ করি আমি। –

    তথাকথিত ধর্মই মানুষকে সাম্প্রদায়িক বানায় । তাইলে ?

    1. অনেকাংশে তো বটেই…! অন্তত
      অনেকাংশে তো বটেই…! অন্তত বর্তমান বিশ্বে সেটাই সবচেয়ে প্রবলভাবে দৃশ্যমান।

      তবে আদিমকালে যখন ধর্ম বলে কিছু ছিল না তখনও কিচতু সাম্প্রদায়িকতা ছিল…! কাজেই ধর্মই একমাত্র সাম্প্রদায়িকতা নয়, আর সেটাও কিন্তু আমার পোস্টেই উল্লেখ করেছি।

      সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সমাধান হিসেবে কোন বিশেষ ধর্মের মানুষকে দায়ী করে লাভ নেই। কোন নির্দিষ্ট একটা কিংবা (ঈশ্বর বিশ্বাসীদের) সকল ধর্ম বিলোপ সাধনও কোন সমাধান হতে পারে না! আর সেটা আদৌ সম্ভবও নয়। কারণ, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত- ভিন্নমত থাকবেই!

  5. এটা শুধু মুসলিমদের বেলায়ই নয়,

    এটা শুধু মুসলিমদের বেলায়ই নয়, সহিংসতা দেখিয়েছে ইহুদি নিধনের নামে খৃষ্টান হিটলার। আবার ইজরায়েল-এর ইহুদিরাও এখন দেখাচ্ছে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর! তেমনি ভাবে ভারতের হিন্দুরা কিংবা চির শান্তি প্রিয় “জীব হত্যা মহাপাপ”-এ বিশ্বাসী খোদ মায়ানমারের বৌদ্ধরাও কিন্তু সহিংসতায় কম যায়নি রোহিঙ্গাদের সাথে! আর এর প্রতিটা ঘটনাই ঘটেছে যখন তারা সাম্প্রদায়িক ভাবে ক্ষমতাশালী হয়েছে তখন…!

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচয়-
    ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচয়- একজন মুসলিম, বাংলাদেশী-বাঙ্গালী, বাবা-মায়ের কনিষ্ঠ সন্তান, পুরুষ, ইঞ্জিনিয়ার, কথা সাহিত্যিক…এবং “অবিবাহিত”

    যাই হোক সে প্রসঙ্গে আর গেলুম না। :চোখমারা:

    পোষ্টের ব্যাপারে আমারও একই মন্তব্য,
    আমি মুসলমান, হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-নাস্তিক — যে কোন মতেই বিশ্বাস করতে পারি। কিন্তু অন্যের বিশ্বাস বা অনুভূতিকে আঘাত করে ফেরে যারা, তাঁরা আর যাই হোক “মানুষ” না। জুতা মারি তাদের মুখে।

    1. এই লোক দেখি “বিবাহিত”
      এই লোক দেখি “বিবাহিত” “অবিবাহিত”দের মধ্যে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা না লাগিয়েই ছাড়বে না!!!
      :/ :ক্ষেপছি: :মাথাঠুকি:

      1. দুঃখিত সফিক ভাই আপনার পোস্টে
        দুঃখিত সফিক ভাই আপনার পোস্টে ছিলোনা । ঐটাতো নাভিদ কায়সার রায়ান ভাইয়ের কমেন্টে ছিল :লইজ্জালাগে:

  7. যদি ব্যক্তি মানুষের চিন্তার
    যদি ব্যক্তি মানুষের চিন্তার জায়গা উন্নত না হয় তাহলে সে যত ধার্মিক বা নাস্তিক যাই হোক না কেন উগ্রতা রোধ করা যাবে না। ভাল লেগেছে আপনার লেখা সফিক ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *