আমার বান্দরবেলা

তামিম ইরফান ভাইয়ের লেখা ।
অসাধারন একটা লেখা, যতবারই পড়ি হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যায় । তাই ভাবলাম শেয়ার না দিলে ভুল হবে । লেখাটা মোটামুটি ৯ পর্বের । তাই একেবারে দিয়ে সব মজাটা নষ্ট করে দিতে চাচ্ছি না ।
আজকে দিলাম ১ম পর্ব । এভাবে চলতে থাকবে । অনেকে হয়ত পড়ে থাকবেন । যারা পড়েননি তারা অবশ্যই পড়ে দেখবেন ।

এক্ববারে ছুডুবেলা থেইকা শুরু করি…….মার কাছে যতটুকু শুনছি


তামিম ইরফান ভাইয়ের লেখা ।
অসাধারন একটা লেখা, যতবারই পড়ি হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যায় । তাই ভাবলাম শেয়ার না দিলে ভুল হবে । লেখাটা মোটামুটি ৯ পর্বের । তাই একেবারে দিয়ে সব মজাটা নষ্ট করে দিতে চাচ্ছি না ।
আজকে দিলাম ১ম পর্ব । এভাবে চলতে থাকবে । অনেকে হয়ত পড়ে থাকবেন । যারা পড়েননি তারা অবশ্যই পড়ে দেখবেন ।

এক্ববারে ছুডুবেলা থেইকা শুরু করি…….মার কাছে যতটুকু শুনছি

ছোট থেইকাই নাকি বান্দরের মতো স্বভাব ছিলো।হাসপাতালে জন্মের পর আকাশ বাতাস কাঁপায়া এমনভাবে কানছিলাম যে নার্স আমারে কোলে নিয়া ছিলো সে নাকি আমার আওয়াজ শুইনা ডরের চোটে ভিড়মী খায়া পড়ছিলো।নানা আমার কান্না শুইনা নাকি বলছিলো ভোটের সময় সবাই মাইক ভাড়া দেয়,আমিআমার নাতিরে ভাড়া দিমু,তার গলার আওয়াজ একাই একশ মাইকের কাজ করবে।হাসপাতাল থেইকা বাসায় আনার পর কাউরে শান্তিতে থাকতে দিতাম না এক সেকেন্ডও।সবাই নাওয়া খাওয়া ছাইড়া আমার পিছনে পইরা থাকতো।সবচেয়ে জ্বলাইতাম
রাতেরবেলা।রাত যত গভীর হইতো আমার বান্দরামী তত বাড়তো।আমারে শান্ত কইরা সবাই যখন ঘুমাইতে যাইতো আবার কান্দাকাটি শুরু কইরা দিতাম,এভাবে ভোররাত পর্যন্ত চলতো।সবাইরে জ্বালাইয়া সকালের দিকে ঘুমাইতে যাইতাম আর বাকি সবাই তখন না ঘুমানো লাল লাল চোখ নিয়া দিনের কাজ শুরু করতো

সবচেয়ে বেশি জ্বালাতন করতাম খাবার নিয়া ( এখনও করি)।কোনকিছুই সহজে খাওয়াইতে পারতো না মা আমারে, মুখে কিছু দিলেই ফালায় দিতাম আর নাইলে চোখমুখ উল্টাইয়া এমনভাব করতাম যে ভয়ের চোটে মা আর কিছু দিতে সাহস করতো না।সব পোলাপাইন ফিডার খাইতো দুই হাতে ধইরা আর আমি ফিডার খাইতাম দুই পায়ের মাঝখানে ধইরা।একটু বড় হওয়ার পর ফিডার খাওয়া শেষ হইলে জানালা দিয়া ফিডার ফালায় দিতাম।

মোটামুটি হাটতে শিখার পর আমার প্রিয় খেলা ছিলো বিছানার পাশে জানালার শিক ধইরা ঝুলা ঝুলা খেলা।আরেকটা প্রিয় খেলা ছিলো খাওয়া খাওয়া খেলা,এই খেলায় সমানে যা পাইতাম মুখের ভিতর দিয়া ফেলতাম।এই খেলা খেলতে গিয়ে যে কত পোকামাকড় পেটের ভিতর চালান করছি হিসাব নাই।একবার একটা তেলাপোকা খেয়ে ফেলছিলাম।খাওয়ার পর মুখে ঘা হয়ে গেছিলো সাতদিন লিকুইড খাবার ছাড়া আর কিছু খাইতে পারি নাই।

আমার নানার ২টা ছাগল ছিলো।একটা সাদা আরেকটা কালো।ঢাকা শহরে বাসার ভিতর যে কেউ ছাগল পালতে পারে এইটা আমার নানারে দেইখা বুঝছি।ঐ ছাগলগুলার জন্য আলাদা বিছানা,খাওয়ার প্লেট ,শীতের দিনে ঠান্ডা নিবারনের জন্য কম্বল সব ছিলো।এই ছাগল ২টা আহ্লাদ পাইয়া এমন ভাব নিতো যেন তারা ২টা নবাবজাদা নাসিরুল্লার পায়জামা।ছোটবেলায় বেলায় এই ছাগলা ২টা অনেক জ্বালাইছে আমারে।আমারে দেখলেই তেইড়া আসতো।একবার কালো ছাগলটা মাথা দিয়া আমার পেট ঢুঁশা দিছিলো।এরপর থেইকাই ছাগল দেখতে পারিনা আমি।ছাগল সামনে পড়লেই গদাম লাথ্থি মারি সেটা বাস্তবের ছাগল হোক আর ব্লগের ছাগল হোক।একদিন সাদা ছাগলটার ল্যাজে দড়ি বেঁধে আগুন ধরায় দিছিলাম, আগুনের ছ্যাকায় ছাগল হনুমানের লঙ্কাকান্ডের মতো আমার নানাবাড়িতেও একটা লঙ্কাকান্ড ঘটাবার প্ল্যান করছিলো কিন্টু আমার বড় খালা ছাগলের ল্যাজে জল ঢাইলা দেওয়ায় আমার ছাগলের লঙ্কাকান্ড দেখবার আশা জলে গেলো।

খুব তাড়াতাড়িই ২য় পর্ব —>

৯ thoughts on “আমার বান্দরবেলা

  1. ছাগল সামনে পড়লেই গদাম লাথ্থি

    ছাগল সামনে পড়লেই গদাম লাথ্থি মারি সেটা বাস্তবের ছাগল হোক আর ব্লগের ছাগল হোক।

    ছাগুরে গদামের উপরেই রাখতে হয় ।

  2. ছাগল সামনে পড়লেই গদাম লাথ্থি

    ছাগল সামনে পড়লেই গদাম লাথ্থি মারি সেটা বাস্তবের ছাগল হোক আর ব্লগের ছাগল হোক।

    ভেরি নাইস । অনেক ভালো লাগছে পড়তে । কী মজা রে বাবা !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *