ডিজিটাল স্বৈরতন্ত্র?

ইনকিলাবের ছাপাখানা ছিলগালা করা হয়েছে! তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ! তারা বাশেরকেল্লার সহযোগী হিসাবে কাজ করছে, ভুয়া নিউজ দিয়ে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায় ইত্যাদি, ইত্যাদি!
বিশিষ্ট রাজাকার মাওলানা মান্নানের পত্রিকা ইনকিলাব। অসংখ্য বুদ্ধিজীবী হত্যার হোতা এই মাওলানা মান্নান আবার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির শাসনামলে মন্ত্রীও ছিলেন।


ইনকিলাবের ছাপাখানা ছিলগালা করা হয়েছে! তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ! তারা বাশেরকেল্লার সহযোগী হিসাবে কাজ করছে, ভুয়া নিউজ দিয়ে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায় ইত্যাদি, ইত্যাদি!
বিশিষ্ট রাজাকার মাওলানা মান্নানের পত্রিকা ইনকিলাব। অসংখ্য বুদ্ধিজীবী হত্যার হোতা এই মাওলানা মান্নান আবার বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির শাসনামলে মন্ত্রীও ছিলেন।

২০০১ সালের কথা! বিএনপি-জামাত তখন ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। মাওলানা মান্নানের সাথে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতির প্রশ্নে চাঁদ সাঈদীর গেঞ্জাম শুরু লেগে যায়। এই গেঞ্জামের ফল হয় অনেক সুদুরপ্রসারী। মাওলানা মান্নান এবং তার ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দিন সঙ্গ ত্যাগ করেন জামাত-বিএনপির। দুজনেই উঠে পড়েন আওয়ামী লীগের কোলে। আওয়ামী লীগ আদর-যত্ন করেই তাদের কোলে তুলে নেন। আর তখন থেকেই জামাতের ইনকিলাব হয়ে যায় আওয়ামী লীগের ইনকিলাব। শেখ হাসিনার গুণকীর্তন আর জামাত-বিম্পির শ্রাদ্ধ চলতে থাকে ইনকিলাবের পাতা জুড়ে!

মাওলানা মান্নানের গায়ে রাজাকারের ছিল থাকলেও মাওলানা বাহাউদ্দিনের গায়ে তো সেই ছিল নেই। তাই পিতা মান্নানের মৃত্যুর পর বাহাউদ্দিনের কদর বাড়ে আওয়ামী লীগে। শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হয়ে বিদেশেও গিয়েছেন এই বাহাউদ্দিন। এই তো এবারের নির্বাচনেও নাকি বাহাউদ্দিন চাঁদপুরের একটা আসন থেকে নৌকার নমিনেশন নেয়ার বেশ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু দীপু মনির হস্তক্ষেপে সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু কথা হলো এই আমলীগার বাহাউদ্দিনই তো ইনকিলাবের মালিক! সেই আওয়ামী ইনকিলাবই কেন এখন সিলগালার শিকার?? তাইলে কি রাজাকার পুত্র আবার নিজের ঘরেই ফেরত গেলেন? না কি আওয়ামী লীগ যে সুবিধা বাগাতে রাজাকার বাপ-ব্যাটাকে দলে টেনেছিলেন, সেই সুবিধায় এখন বাঁধা পড়েছে?? না কি বাহাউদ্দিনকেও জামাত ত্যাগের হুমকি হিসাবে এই ব্যবস্থা?

জামাত-বিএনপির পক্ষে মিথ্যা সংবাদ ছাপালে সেটা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অপরাধ, বেশ ভাল কথা! কিন্তু ২০০১ সাল থেকে যে বছরের পর বছর জামাত-বিএনপির বিপক্ষে আর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে অসংখ্য মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ ছাপালো ওই একই ইনকিলাব- তখন কোন তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অপরাধ হয়নি?? মহাজোট সরকারের নেকনজরে গত পাঁচবছর তো বহাল তবিয়তেই ছিলো ইনকিলাব!

নৌকায় উঠলে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী সব ধোয়া তুলসি পাতা, আর নৌকার বাইরে আসলেই সিলগালা? এ কোন ডিজিটাল স্বৈরতন্ত্র??

১৩ thoughts on “ডিজিটাল স্বৈরতন্ত্র?

  1. ভাই আপনার সব কথা ঠিক আছে। এখন
    ভাই আপনার সব কথা ঠিক আছে। এখন আপনিই বলেন- তারা যে ভুঁয়া সংবাদটি ছেপেছে, সেটা কি ঠিক হয়েছে? বাক স্বাধীণতার নামে এই ধরনের দেশদ্রোহী সংবাদ পরিবেশন পৃথিবীর কোন দেশ কি মেনে নেবে? আর সংবাদটি কি বিশ্বাসযোগ্য?

    কিন্তু ২০০১ সাল থেকে যে বছরের পর বছর জামাত-বিএনপির বিপক্ষে আর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে অসংখ্য মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ ছাপালো ওই একই ইনকিলাব- তখন কোন তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অপরাধ হয়নি?

    তখন আইসিটি আইন বলে যে কিছু একটা ছিল, এটা আপনি কি জানতেন? নাকি আইনটি ছিল?এই
    আমি সব সময়ই বাকস্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু ইনকিলাবের এই কাজটি কি শুধুমাত্র বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার মত? ইনকিলাবের ডিক্লারেশন কিন্তু বন্ধ করেনি। ভারতের মত গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের সংবাদ ছাপালে পত্রিকার ডিক্লারেশন বন্ধ করে দিত। তারপর প্রেস কাউন্সিলের মুখোমুখি হয়ে নিষ্পত্তি হত।

    1. যা বলার দুলাল ভাই বলে দিয়েছেন
      যা বলার দুলাল ভাই বলে দিয়েছেন আর কিছু বলার নাই।
      লেখকের মতে ২০০১ এ যে আইসিটি আইন বলে কিছু ছিল সেটা জানিয়ে উস্ঠা খাইলাম!!!

    2. আমি কিন্তু মোটেও বলছি না যে,
      আমি কিন্তু মোটেও বলছি না যে, ইনকিলাব ভূয়া, দেশদ্রোহী সংবাদ দেয়নি। আমি বলছি অবশ্যই তাদের এধরণের সংবাদ পরিবেশন রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
      অন্যদিকে, আইসিটি আইনের আগেও গত ৪২ বছরে কিন্তু অনেক পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে, তাদের কোন কোনটার বিরুদ্ধে একই ধরণের রাষ্ট্রদ্রোহী সংবাদ ছাপানোর অভিযোগও ছিলো। তাই আইসিটির উপর পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল বা সাময়িক প্রকাশনা বন্ধ নির্ভর করে না। এখন আইসিটি আছে বলে সেটাকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। আর এই আইসিটির ৫৭ ধারাই কিন্তু ব্লাসফেমির মতোই কার্যকরী।
      আমার মূল বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা সবসময়ই রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করেই তার আইন-আদালতকে ব্যবহার করে। গণতন্ত্র বা জনেগণের স্বার্থের দিকে তাঁকিয়ে নয়? যদি গণতন্ত্র বা গণস্বার্থের কথাই সরকার চিন্তা করতো তাহলে মাওলানা মান্নান বা মাওলানা বাহাউদ্দিনরা কোন অবস্তাতেই আওয়ামী লীগে ঢুকতে পারতো না!

  2. এই ধরণের মিথ্যে , বানোয়াট
    এই ধরণের মিথ্যে , বানোয়াট সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে অবশ্যই সরকারের তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত । এক্ষেত্রে যতো দ্রুততার সাথে ইনকিলাব ছাপাখানা সিলগালা করা হলো তারচেয়ে অধিক দ্রুততায় প্রেস কাউন্সিলের বিচারের আওতায় এর নিষ্পত্তি করা উচিত। অন্যথায় জনগণের মনে লীগের বিরুদ্ধে বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের পুরনো ভূত চাঙ্গা হয়ে উঠবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *