আমিই নন্দলাল

ছোট থেকেই যাতে প্রতিটি শিশু নৈতিকতার শিক্ষা পায় সেজন্য আমাদের পাঠ্য বইগুলোতে নানা ধরনের নিতিকথা মূলক গদ্য-কবিতা সংযোজিত থাকে। কিন্তু মুখস্থের এই বাজারে কয়টি বাচ্চা সেই কবিতা থেকে শিক্ষা গ্রহন করে? মুখস্থ করে পরীক্ষা বৈতরণী পার হতে পারলেই হয় এতো বুঝা-বুঝির চিন্তা করে মাথায় বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!


ছোট থেকেই যাতে প্রতিটি শিশু নৈতিকতার শিক্ষা পায় সেজন্য আমাদের পাঠ্য বইগুলোতে নানা ধরনের নিতিকথা মূলক গদ্য-কবিতা সংযোজিত থাকে। কিন্তু মুখস্থের এই বাজারে কয়টি বাচ্চা সেই কবিতা থেকে শিক্ষা গ্রহন করে? মুখস্থ করে পরীক্ষা বৈতরণী পার হতে পারলেই হয় এতো বুঝা-বুঝির চিন্তা করে মাথায় বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!

তেমনি একটা কবিতা ছিল ‘দ্বিজেন্দ্রলাল রায়’ এর ‘নন্দলাল’ কবিতাটি। কবিতাটি যখন পড়েছি বুঝতে চেষ্টা করিনি, কিন্তু কবিতাটির মজার মজার শব্দ পড়ে এবং কবিতার পাশে নন্দলালের পেট মোটা ছবিটি দেখে অনেক হেসেছি আর মজা করে আবার পড়েছি। কিন্তু মূল বক্তব্য কখনোই বুঝিনি। আজ আবার চোখের সামনে সেই কবিতাটি পড়লো। এবার পড়লাম, বয়সের সাথে সাথে মাথায় হয়তো কিছু বুদ্ধি গজিয়েছে তাই হয়তো কবিতাটির মর্মার্থ বুঝতে পারলাম আর বুঝতে পারলাম সমাজের একটি শ্রেণীর মানুষের প্রতি কি বিদ্রূপটাই না এই কবিতার মাধ্যমে করা হয়েছে। সেই বিদ্রূপটা তো মনে হয় আমার উপরেও প্রযোজ্য, কে জানে হয়তো আপনার উপরও প্রযোজ্য। আসুন আর একবার পড়ে দেখি সেই কবিতাটি-

নন্দলাল

নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ –
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল, ‘আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?’
নন্দ বলিল, ‘বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?’
তখন সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।’

নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা!
সকলে বলিল, ‘যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা’
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক’
তখন সকলে বলিল- ‘হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।’

নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির,
গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির;
পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ;
খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল,
তখন সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।’

নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি;
সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি;
নন্দ বলিল, ‘আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই,
কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই?
বলো কি’ বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।’
তখন সকলে বলিল – ‘বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!’

নন্দ বাড়ির হ’ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে ‘কলিসন’ হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
সকলে বলিল- ‘ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।’

৩ thoughts on “আমিই নন্দলাল

  1. মুখস্থ করে পরীক্ষা বৈতরণী পার
    মুখস্থ করে পরীক্ষা বৈতরণী পার হতে পারলেই হয় এতো বুঝা-বুঝির চিন্তা করে মাথায় বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!
    বাস্তবে চলছে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *