আমাদের মডেল কন্যা

দেখলাম ছোট ভাইয়ের ভীষণ মন খারাপ । এমনিতে সে পোলা হিসেবে বিটলা । তারে সচারাচর মন খারাপ হতে দেখি না । তবে আজ হল কি ?

কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাস করলাম — কি ব্যাটা , হইল কি রে ?
ছোট ভাই চোখ সরাসরি আসমান পানে তাক করিয়া উত্তর দিল — বাংলাদেশী মডেল কন্যাদের কথা ভাবতেছি আর মন উদাস করতেছি ।

অবাক আমি গোল গোল চোখ করে জিজ্ঞাস করলাম — সেটার ই বা হেতু কি রে ?


দেখলাম ছোট ভাইয়ের ভীষণ মন খারাপ । এমনিতে সে পোলা হিসেবে বিটলা । তারে সচারাচর মন খারাপ হতে দেখি না । তবে আজ হল কি ?

কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাস করলাম — কি ব্যাটা , হইল কি রে ?
ছোট ভাই চোখ সরাসরি আসমান পানে তাক করিয়া উত্তর দিল — বাংলাদেশী মডেল কন্যাদের কথা ভাবতেছি আর মন উদাস করতেছি ।

অবাক আমি গোল গোল চোখ করে জিজ্ঞাস করলাম — সেটার ই বা হেতু কি রে ?

ছোট ঘাড় কিঞ্চিৎ বাম দিকে ক্যাঁৎ করে বলল — ভাই , একটা জিনিস খেয়াল করছেন ? এই দেশে মডেলকন্যারা অনেকটা শীত কালীন অথিতি পাখির ন্যায় । একটা সারটেইন প্রিয়ডে তারা আসেন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে খালে বিলে জলকেলি করেন সময় শেষে আবার উড়াল দিয়ে হারিয়ে যান ।

আমি ছোট ভাইয়ের মুখ চোখ লক্ষ্য করছি । সে আসলেই ফিলিংস নিয়ে কথাগুলো বলছে । আমি এইবার ফিলিংস পাইতে অধিক মনোযোগ দিলাম । হুম , মডেল আর অথিতি পাখি । মিল । হুম ভাবতে হবে ।

ছোট ভাই বলে চলল — আভি , আপনি খেয়াল করছেন কি জানি না , যদি খেয়াল করেন তবে দেখবেন আমাদের দেশের প্রায় প্রত্যেকটা মডেল একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মিডিয়া কাঁপাতে আসে । মিডিয়া কাঁপান । ঝাঁকি দেওয়ান । খসান । আবার ফুড়ুৎ । ফুড়ুৎ মিনস হাপিশ হয়ে যান । যেমন আগুন ঝিলিকে উনারা আসেন তেমনি ধোঁয়ার মতো উড়ে চলে যান অজানায় । কেবল রেখে যান কিছু ছাই । সেই ছাই অল্পসময়ে বাতাসে মিশে যায় । মাঝে মধ্যে আমাদের মতো দর্শকদের গায়ে গুয়ে এসে পড়ে । আমরা গা ঝাড়া দিয়ে ছাই সরাই ।

পোলা ভালো ফিলিংস এ আছে । একবারও বাম পাশের আসমান থেকে চোখ সরাচ্ছে না । যেন আসমানের জমিন দেখে দর্শনের নীতিতে দর্শকের দর্শন বিবৃতি পড়ছে । আমি নিজেও তার কথার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি । তাই সহমর্মিতার সহিত ছোট ভাইকে বললাম — তোর , এরুপ চিন্তার সুত্র কি ?

ছোট ভাই এবার দৃষ্টি ডান পাশে ফিরিয়ে আবার বাম পাশে ঘাড় ক্যাঁৎ করলো । মনে হয় অধিক্সময় বাম পাশে থাকতে থাকতে ঘাড়ে টাশ দিছিল । যাই হোক সে বলে চলল —

মডেলকন্যা তিন্নিকে কি আপনার মনে আছে ? ২০০২ সালে দেশ মাতানো যে মডেলকে খুন করে ফেলা হয় ? মনে আছে নাকি ভুলে গেছেন না ? অবশ্য ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক । মৃতদের কেই বা মনে রাখে ।
তবে আশ্চর্য হয়ে সেদিন পত্রিকায় দেখলাম তিন্নি হত্যার একমাত্র চার্জশীটভূক্ত আসামি গোলাম ফারুক অভি দীর্ঘ দিন কানাডা সফর শেষে সম্প্রতি নাকি দেশে ফিরে এসেছেন । তিনি আগামী নির্বাচনে লড়বেন এমন কানাঘুষাও শোনা যাচ্ছে !
উলেক্ষ্য মডেল তিন্নি হত্যার বিচার গত প্রায় ১২ বছরেও শেষ হয়নি । আদ্য শেষ হবে বলে বিশ্বাস হয় না ।

আমি তিন্নির কথা ভুলে গিয়েছিলাম । এখন মনে পড়লো । তার লিজান মেহেদী বিজ্ঞাপনের এর কথা মনে পড়ছে । লেহাঙ্গা পড়া । মেয়েটিকে ভালো লাগতো । আমার মতো এমন অনেকেই আছে তার ফ্যান । মেয়েটি হঠাৎ কেন যে খুন হল , আজও রহস্যই রয়ে গেল ! হত্যাকারীরও খুঁজ খবর নেই । অদ্ভুত লাগে । ভালো লাগার একজন খুন হয়ে যায় , সময়ের স্রোতে আমরা ভুলেও যাই । বিচার আর হয় না খুনির !

ছোট ভাই বলে চলছে — শুধু কি তাই আরেক জনপ্রিয় মডেলকন্যা শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি ! সে কই জানেন ? কই তার সেই রুপ ঝলসানো ইমেজ !! একদম হারিয়ে গেল যেন । তাই না ?

ঠিক তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে সময়ে সময়ের রুপালী পর্দা কাঁপানো প্রায় সব মডেল । গতকাল এক পেইজে দেখলাম শ্রাবন্তিকে । বাচ্চা কোলে । পুরদুস্তর অ্যান্টি !

বিগত কয়েক বছর ধরে সময়ের আলোচিত মডেল । প্রভা । এই প্রভাকে নিয়ে কতো কি স্ক্যান্ডাল হয়ে গেল । ফার্মগেট টু নিউমার্কেট , মোবাইল টু পিসি প্রভা ঘুরে বেড়াল । অথচ আমরা তাকে নষ্টা নষ্টা বলে নিজেদের ঈমান পরিষ্কার করলাম ।

সেই প্রভা যখন নিজেকে সাহসিনী নারী হিসেবে সব কিছু পিছনে ফেলে সামনে এগিয়েছে তখনও তার গীবত গাওয়া থেকে নিজেদের মুখ বন্ধ করতে পারলাম না । আমার কথা হল প্রভা না হয় অতীতের অভিশাপ ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছে কিন্তু আমাকে কি কী বলতে পারবে আর কে পারছে প্রভার মতো সামনে এগিয়ে যেতে ?
মডেল চৈতি কি পেরেছে ফিরে আসতে ? ভিডিও স্ক্যান্ডালের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে এমন অনেকেই ।

আর লাক্স তারাকা মডেল রাহা কিছুদিন আগে একেবারে সুইসাইড- ই বসলো ! অনেকেই বলে সুই সাইড অনেকে খুন । সেই তদন্ত কি আদৌ শেষ হবে ? সত্য কি আমরা জানতে পারবো ? মনে তো হয় না

আবার দেখুন , আমাদের কিশোর বয়সের সুপার সেই তারকারা , সেই লাস্যময়ী অপরুপা শমী কায়সার তো কবেই পর্দা ছেড়ে আউট । খুব সচেতন ভাবেই ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন বিপাশা হায়াত , আফসানা মিমি , অপি করিমদের মতো সুপারস্টাররা !

ওদের বয়স হয়েছে বা একসময় সবাইকে চলে যেতে হয় ব্লা ব্লা এইসব অজুহাত দিলে নতুনদের ভিতরে কে আছে যে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে পেরেছে ? নিজ যোগ্যতায় শমী , মৌ মিমি বা বিপাশাদের সমকক্ষ হতে পেরেছে ?
সারিকা ? আচ্ছা , সারিকা কই আছে , জানেন ?
শখ , মেহজাবিন , সাফা কবির , ফারিয়া , আইরিন ? এরা কি শমী কায়সারদের পর্যায়ে যেতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন ? আমি তো বুঝতে পারি না । এরা তো অভিনয়ের চেয়ে ফেইসবুকে সেলফ পট্রেট তুলতেই বেশি ব্যাস্ত ।

একদম নতুন যে মডেল অভিনেত্রীরা আসচ্ছে তাদের ভিতরে সেই ইচ্ছে কেন জানি দেখতে পাই না । তারা মিডিয়ায় প্রবেশের আগেই নিজেদের নাম উঁচু করে ফেলে । এক পা এগিয়েই জড়িয়ে যায় স্কান্ডেলে । স্কান্ডেলকে আজকাল অনেকেই সহজে উপরে উঠার সিঁড়ি ভাবতে শিখে গেছে ।

এদের ভিতর কয়েকজন বিবাহের পর বিবাহ করে যাচ্ছেন । এইটা ঠিক বিবাহ , রিলেশন তাদের নিজস্ব পারসনাল ইস্যু । কিন্তু এইটাও সত্য তারা দর্শকের ফোকাসে থাকার জন্য যদি নিজেরাই বিবাহের মতো সামাজিকতা নিয়ে ছেলেখেলায় মত্ত হয় তবে সেটা হবে তীব্র হতাশার । সেদিন শিমুল নামের এক বন্ধুর সাথে আলাপে একটা গল্প শুনলাম । গল্পটা এমন –

আমরা কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলাম ।
আড্ডায় একজন অনেক পুরাতন চিত্রগ্রাহক স্বপন ভাই বললেন, শাবানা যখন নায়িকা ছিলেন তখন ভক্তদের দেওয়া সামান্য লালশাকও বাসায় নিয়ে নিজে রান্না করে খেয়েছেন, কখন তা উনার কাজের লোককে দিয়ে দেননি। কারন তাঁর কাছে ঐ শাক ছিল আর্শীবাদ। তিনি কখনও সেটে কোন প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেন নাই। কখন কোন ভক্ত তাঁর কাছে দেখা করতে এসে ফিরে যায় নি। কারন তাঁরা কাজকে ভালবাসতেন, তাই কাজের সাথে জড়িত সব কিছুকেই ভালবাসতেন। আর এই জন্যই তিনি সবসময়ের সুপারস্টার। স্বপন ভাই তার সাথে শুধু শাবনূরের তুলনা করেন, যার মাঝেও এসব অহংকার ছিল না। কিন্তু এখনকার অনেক শিল্পীই দু-একটা ছবি হিট হওয়ার পরেই নিজে
কে অনেক কিছু ভাবতে শুরু করেন, তাই তারা কখন প্রকৃত ‘সুপারস্টার’ হতে পারে না ।

এই কথা কেবল মাত্র এফডিসিতে প্রযোজ্য নয় , এই কথা ছোট পর্দা কিংবা মডেলিং জগতেও আরও অধিক প্রযোজ্য

আমি ছোট ভায়ের কথার জবাব দেই না । কেন যেনো আমার সবসময় কৌতুক প্রিয় মনটাও উদাস হয়ে যায় । আসলেই তো আমাদের মডেলকন্যারা কি কেবল অথিতি পাখি ?

এই তুলনা আমি মানতে চাই না । বিশ্বাস করতে চাই না । আমি বিশ্বাস করতে চাই আমাদের দেশের অসম্ভব প্রতিভাধর আমাদের মডেল কন্যারা যেন কোনদিন বলির পাঠা না হয় । তাদের যেন কোন ভাবেই কেবল মাত্র টিস্যু পেপারের মতো ইউজ না করা হয় । একজন মিডিয়া পারসন হিসেবে প্রতিটি মডেল যেন নিজ নিজ স্থানে যথার্থ যোগ্যতা পায় । সেটা নিজেদের যেমন আদায় করতে হবে তেমনি আমাদেরও মাঝেও সম্মান দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে । ভালো কাজ করতে চায় অনেকেই । তাদের আছে সামর্থ্য । এসব কিছুর যথার্থ ব্যাবহার নিশ্চিত করতে পারে একটি শক্তিশালী দেশীয় মিডিয়া সেক্টর । মূলত দেশের মিডিয়া রিপ্রেজেন্ট করে একটি দেশের ভাবমূর্তি বাইরের বিশ্বে । আমাদের মিডিয়া সমৃদ্ধশালী হলে সেটা আমাদের জন্যই আশীর্বাদক ।

মিডিয়ায় বিরাজ করুক সুস্থ সুন্দর মার্জিত পরিবেশ । মিডিয়া রিলেটেড বাজে স্ক্যান্ডালের অভিশাপ থেকে মুক্ত পাক আমাদের মডেলকন্যারা । বিচার হোক মডেল তিন্নিসহ এই পর্যন্ত মিডিয়ায় ঘটে যাওয়া যাবতীয় অনৈতিকতার । আমরা ভালবাসতে চাই আমাদের নিজস্ব মিডিয়া জগত ।

[ অফটপিক – আরেকটি বিষয় , ইস্টিশনে এই পোস্টের সাথে ট্যাগ অপশন দিতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম আমি এই রিলেটেড পারফেক্ট ট্যাগ খুঁজে পাচ্ছি না । আচ্ছা মডেল বা টেলিভিশনপর্দা বা মিডিয়া নামকরণে ইস্টিশন মাস্টার কি আরও একটি ট্যাগ অপশন যোগ করতে পারে ? ভেবে দেখবেন । ]

১৩ thoughts on “আমাদের মডেল কন্যা

  1. মিডিয়ায় বিরাজ করুক সুস্থ

    মিডিয়ায় বিরাজ করুক সুস্থ সুন্দর মার্জিত পরিবেশ । মিডিয়া রিলেটেড বাজে স্ক্যান্ডালের অভিশাপ থেকে মুক্ত পাক আমাদের মডেলকন্যারা । বিচার হোক মডেল তিন্নিসহ এই পর্যন্ত মিডিয়ায় ঘটে যাওয়া যাবতীয় অনৈতিকতার । আমরা ভালবাসতে চাই আমাদের নিজস্ব মিডিয়া জগত ।


    চমৎকার লাগলো সিফাত ভাই… :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :গোলাপ: :গোলাপ:

  2. লেখাটা মিস করছিলাম। দারুণ
    লেখাটা মিস করছিলাম। দারুণ লিখছেন। তিন্নির মৃত্যু আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিলো। খারাপ কিছু ভাইব্বেন না। তিন্নির সেকেন্ড টাইপ পোস্ট মর্টেম ঢামেকে হুইছিল। ঐ সময়ে আমি ছাত্র। শুধু মনে হইতেছিল, মানুষ কতো তুচ্ছ। এতো বড় তারকা মডেল, অথচ তার লাশ দাফন হইছিল বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে। ওর লাশ কবর থেকে উঠায়ে ঢামেকে আনা হইছিল পোস্ট মর্টেম করার জন্য। আমাদের যেই স্যার পোস্ট মর্টেম করছিলেন উনার কাছে শুনছিলাম, শরীরের অনেক অংশের চামড়া ছিলোনা। দেখতে ভয়ংকর ছিল। অথচ এই চেহারা নিয়েই মানুষের কতো অহংকার।

    1. অথচ এই চেহারা নিয়েই মানুষের

      অথচ এই চেহারা নিয়েই মানুষের কতো অহংকার।

      চরম সত্য একটি কথা , আতিক ভাই

      তিন্নিকে আমারও ভালো লাগতো । খুন হল আজ রায় ১২ বছর । কোন কিছুই হল না । খুনি গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরছে ! অথচ জীবিত তিন্নিকে নিয়ে কতো হইচই ছিল । সব শেষ !!

      অবাক লাগে

  3. কিছু কিছু মডেল তাদের নিজেদের
    কিছু কিছু মডেল তাদের নিজেদের দোষের কারণে হারিয়ে যায় কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ ওদের দোষ তা বলা যাবেনা মিডিয়া এমন একটা মাধ্যম আপনি রাতারাতি স্টার হয়ে যেতে পারবেন আবার অনেকদিনের পুরোনো স্টারকে মাটিতে ফেলতে বিন্দুমাত্র সময় নিবেনা ।। সুন্দর লিখেছেন সিফাত ভাই :তালিয়া:

  4. সিফাত ভাই ভালো লিখেছেন
    সিফাত ভাই ভালো লিখেছেন :ধইন্যাপাতা:

    আসলে মিডিয়ার কিছু সেলেব্রিটিরা নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে পারেনা। পাবলিক যখন তাদের সেলেব বানায় তখন আসলে ওরা অনেকটাই পাবলিক আইকন হয়ে যায়। ওদের পার্সোনাল, প্রফেশনাল সবকিছুই ভক্তদের মধ্যে নাড়া দেয়। চাইলে তারা সবকিছু ইচ্ছামত করতে পারেনা। কারণ তাদের কাজের পাবলিক রিয়েকশান নিয়ে ভাবতে হয়। কিন্তু দুঃখের কথা, তারা বরং এটার উলটোটাই করে।

    আর স্কেন্ডাল নিয়ে কি বলবো… আপনার দাবির সাথে আমিও একমত :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *