অসূচিত প্রেম কাহিনী

ক্লাস চলছে। পেছনের দিকে এক বেঞ্চে বসেছে ক্লাসের (অথবা পৃথিবীর) সবচেয়ে সুন্দরী এবং নিরহংকার মেয়েটি। ঠিক তার পেছনে আমি।
আমি ফিসফিসিয়ে ওর সাথে কথা বলছি।

-এ্যাঁই শোন।
-হুম বল।
-তোর সাথে কি কখনো রবীন্দ্রনাথের দেখা হইছিলো?
-রবীন্দ্রনাথ? কোন রবীন্দ্রনাথ? কবিগুরু?
-হুঁ।
-যাহ্! তুই কি পাগল?
-আরে না। ঐ বুইড়ার একটা লেখা দেইখা এইরকম মনে হইল।
-আচ্ছা, কোন লেখা?
-ঐ যে, “চোখের পানে চাহিনু অনিমেষ
লাগিল বুকে সুখের মতো ব্যথা।”
-ঐ টা চোখের পানে না, মুখের পানে।
-ও, আচ্ছা। তুইও তাইলে রবীন্দ্রনাথ পড়স?
-নাহ্, একদমই না।
-আচ্ছা বাদ দে। এইটা শোন,
“প্রহর শেষে আলোয়
রাঙ্গা সেদিন চৈত্রমাস,

ক্লাস চলছে। পেছনের দিকে এক বেঞ্চে বসেছে ক্লাসের (অথবা পৃথিবীর) সবচেয়ে সুন্দরী এবং নিরহংকার মেয়েটি। ঠিক তার পেছনে আমি।
আমি ফিসফিসিয়ে ওর সাথে কথা বলছি।

-এ্যাঁই শোন।
-হুম বল।
-তোর সাথে কি কখনো রবীন্দ্রনাথের দেখা হইছিলো?
-রবীন্দ্রনাথ? কোন রবীন্দ্রনাথ? কবিগুরু?
-হুঁ।
-যাহ্! তুই কি পাগল?
-আরে না। ঐ বুইড়ার একটা লেখা দেইখা এইরকম মনে হইল।
-আচ্ছা, কোন লেখা?
-ঐ যে, “চোখের পানে চাহিনু অনিমেষ
লাগিল বুকে সুখের মতো ব্যথা।”
-ঐ টা চোখের পানে না, মুখের পানে।
-ও, আচ্ছা। তুইও তাইলে রবীন্দ্রনাথ পড়স?
-নাহ্, একদমই না।
-আচ্ছা বাদ দে। এইটা শোন,
“প্রহর শেষে আলোয়
রাঙ্গা সেদিন চৈত্রমাস,
তোমার চোখে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ!”
-ওরে বাবা! তা আমার চোখ
নিয়ে এতো টানাটানি কেন?
-তোর চোখ দুইটা না, খুব সুন্দর! ইংরেজি সাহিত্যে যাকে বলে Liquied eyes!
-তাই নাকি? জানতাম না তো। তো আমার চোখ দেখে কি রবীন্দ্রনাথ হয়ে গেলি নাকি? নাকি Robert Frost?
-রবীন্দ্র রবার্ট কিছুই হই নাই। নজরুল হইছি।
-তো এখন নজরুলের কোন লাইন শোনাবি? শোনা।
-“তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সে কি মোর অপরাধ”
-তাই নাকি? তোরে চাইয়া থাকতে নিষেধ করছে কে? চাইয়া থাক। সারাদিন চাইয়া থাক। তুইও কিন্তু ভালোই কবিতা লেখস।
-তাই নাকি? তুই আমার কবিতা পড়ছস?
-হুম।
-তো কোন কবিতাটা সুন্দর?
-কোনটাই না। সবকটা পঁচা। হইছে? এইবার চুপ কর। স্যার দেখতেছে।
-আচ্ছা চুপ করব। তার আগে তোর হাতটা একবার পেছনে দে।
-কেন?
-আরে দে না।

মেয়েটা সন্তর্পনে বাম হাতটা পেছনে রাখল। আমি খুব সাবধানে হাতের উপর সুন্দর করে লিখলাম, I love you…

তারপর আচমকা উঠে দাঁড়িয়ে বললাম,”স্যার, বাইরে যাই?”
ছোট বড় যাই চাপুক এই স্যারের ক্লাসে কেউ বাইরে যাওয়ার সাহস পায় না। কিন্তু আমি যেতে চাইছি। পুরো ক্লাস হতবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

স্যার বোর্ডে কিছু একটা লিখছিলেন। হঠাৎ স্যারকে বিরক্ত করায় তার বিরক্তি কয়েকগুণ বেড়ে গেল।

“এই শয়তানের জ্বালায় আর বাঁচা গেল না। সারাক্ষণ পিছনে বইসা ফুসুরফাসুর আলাপ, এখন আবার ‘বাইরে যাই?’ যা যা। তোর আর ক্লাসে আসার দরকার নাই। গাধার বাচ্চা!”

আমি ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলাম। আমার ছোট বড় কিছুই চাপেনি। তবুও বাইরে এলাম। স্যার না বললেও আমি আর ক্লাসে ফিরে যেতাম না। আমার আসলে মেয়েটার সামনে যেতে লজ্জা লাগছে। লজ্জা? নাকি ভয়? ভয়ই হবে হয়ত।

৯ thoughts on “অসূচিত প্রেম কাহিনী

  1. -তোর সাথে কি কখনো

    -তোর সাথে কি কখনো রবীন্দ্রনাথের দেখা হইছিলো? -রবীন্দ্রনাথ? কোন রবীন্দ্রনাথ? কবিগুরু? -হুঁ। -যাহ্! তুই কি পাগল? -আরে না। ঐ বুইড়ার একটা লেখা দেইখা এইরকম মনে হইল

    খুবই অরুচিকর লাগলো।

    1. দুঃখিত। আসলে এটা ফান করে বলা।
      দুঃখিত। আসলে এটা ফান করে বলা। প্রিয় সেলিব্রেটিদের ব্যাপারে এরকম মন্তব্য কখনো কখনো ভালোবাসারই প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *