দ্য স্টোরী অফ সারাহ পেন

তেরো বছর পুরোনো একটা গল্প ।
সারাহ পেন নামের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে হারিয়ে যায় তার ভাইবোনের সাথে খেলার সময় । ইংল্যান্ডের কিংসটন গোর্স থেকে । বড় ভাই লি আর ছোট বোন শার্লোটের সাথে খেলছিলো সে । এরপরে হঠাত্‍ হারিয়ে যায় । সেদিন ছিলো ১ জুলাই ২০০০ । সে সময় ব্রিটিশ মিডিয়ায় সর্বাধিক গুরুত্ব পায় সংবাদটি । পুলিশ কেসটাকে হাই প্রোফাইল কেস হিসেবে চিহ্নিত করে ।


তেরো বছর পুরোনো একটা গল্প ।
সারাহ পেন নামের সাত বছর বয়সী এক মেয়ে হারিয়ে যায় তার ভাইবোনের সাথে খেলার সময় । ইংল্যান্ডের কিংসটন গোর্স থেকে । বড় ভাই লি আর ছোট বোন শার্লোটের সাথে খেলছিলো সে । এরপরে হঠাত্‍ হারিয়ে যায় । সেদিন ছিলো ১ জুলাই ২০০০ । সে সময় ব্রিটিশ মিডিয়ায় সর্বাধিক গুরুত্ব পায় সংবাদটি । পুলিশ কেসটাকে হাই প্রোফাইল কেস হিসেবে চিহ্নিত করে ।

সারাহ নিখোজ হওয়ার পরদিন ২ জুলাই প্রায় ৫০ জন অফিসার এবং ৮০ জন ভলান্টিয়ার আশেপাশে খোজ করে । রয় হুইটিং নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় । পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় । পরদিন প্রথমবার সারাহর বাবা মাইকেল এবং মা সারা টেলিভিশনে সাক্ষাতকার দেন । তাদের মর্মস্পর্শী আবেদন পুরো ব্রিটেন জুড়ে আলোরণ সৃষ্টি হয় ।

ব্রিটিশ পুলিশ ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দেশের প্রতিটি পুলিশ ফোর্সকে কাজে লাগায় সারাহ কে খুজে পাওয়ার জন্যে । শনিবারের মধ্যে পুলিশ প্রায় সারে তিন হাজার ফোনকল পায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে । সারাহর ভাই লি পেন একটি সাদা ভ্যানের কথা বলেছিলো । পুরো ব্রিটেন জুড়ে সাদা ভ্যানগাড়ির মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ।
Resim hosting: UploadEdit.com
পুলিশের অনুসন্ধান আরো বেগবান হয় যখন সারাহর প্রিয় পপ গ্রুপ স্টেপস সারাহর সেফ রিটার্নের জন্যে টিভি প্রোগ্রাম করে ।
সময় গড়াতে থাকে । সারাহর নিখোজ হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হয়ে যায় । মাইকেল এবং সারা পেন ভয়ংকর বাস্তবতা মেনে নেয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে । সারাহকে ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমেই স্তিমিত হতে থাকে ।
সারাহর নিখোজ হওয়ার ১৭ দিন পর পুলিশ সারাহর ডেডবডি উদ্ধার করে ।
সারাহর ডেডবডি পাওয়া যায় পালবরোর একটা পরিত্যাক্ত জমিতে । তার নিখোজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ২৫কিমি দূরে । লুক কোলম্যান নামের এক কৃষক , তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেনঃ
. . . আমি প্রথমে ভেবেছিলাম একটা মৃত হরিণ দেখছি হয়তো . . . . কিন্তু কাছে যেয়ে যা দেখলাম তাতে একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হলো . . . আমার জীবনের ভয়ংকরতম অভিজ্ঞতা . . .একটা বাচ্চা মেয়ের লাশ . . . যাকে কেউ ঝলসে দিয়েছে . . . গ্রিল চিকেনের মতো…
জুলাই মাসের শেষ দিনে রয় হুইটিংকে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার করা হয় । উপযুক্ত প্রমানের অভাবে তাকে আবারো ছেড়ে দেয়া হয় ।
ফরেনসিক রিপোর্ট নিশ্চিত করে ধর্ষনের পরে সারাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় । এরপর তাকে পুরিয়ে ফেলায় হয় । সারাহর ডেডবডির এতটাই খারাপ অবস্থা ছিলো যে তা থেকে ডিএনএ স্যাম্পল কালেক্ট করা সম্ভব হয় নি ।
সারাহর গল্পের প্রথমাংশ এখানেই শেষ । আদরের মেয়েকে হারিয়ে সারাহর মা সারা পেন পাগলের মতো হয়ে যান । ক্রমেই স্তিমিত হতে থাকে দ্য ট্র্যাজিক কেস অফ সারাহ পেন ।
Resim hosting: UploadEdit.com
[ছোটবোনের সাথে সারাহ]


সারাহ পেনের কেস গতি পায় ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে । রয় হুইটিংকে তৃতীয়বার গ্রেপ্তার করা হয় তার সাদা কাভার্ড ভ্যান সহ । সেই ভ্যানে পুলিশ উদ্ধার করে সারাহ পেনের চুল । ডিএনএ ম্যাচিং এর পর হুইটিং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয় ।
যদি প্রথমবারই আমরা হুইটিংকে আটকাতে পারতাম , সারাহ হয়তো আজ জীবিত থাকতো , আফসোস করেন অফিসার হেনরী জেন জনসন । একে একে বেরিয়ে আসে রয় হুইটিং নামের এই নরপিশাচের কর্মকান্ড । ১৯৯৫ সালের মার্চে এক নয় বছরের মেয়েকে ধর্ষনের চেষ্টা করে হুইটিং । সাজা ভোগের পর ১৯৯৭ সালে সে মুক্ত হয় ।

৬ ফেব্রুয়ারী ২০০১ এ তৃতীয়বার গ্রেপ্তার হয় রয় হুইটিং । প্রায় ২২ মাসের দীর্ঘ মামলা চলার পর ২৪ নভেম্বর ২০০২ রয় হুইটিংকে ৫০ বছরের অজামিনযোগ্য কারাদন্ড দেয় আদালত । দুই দিন পরে তা কমিয়ে ৪০ বছর করা হয় । সে সময় রয় হুইটিং এর বয়স হবে ৮২ ।

এ প্রসঙ্গে ডিটেক্টিভ মার্টিন আন্ডারহিল বলেনঃ Deep down, I always thought it was Roy Whiting

হুইটিং এর রায় দেয়ার সময় বিচারপতি কার্টিস বলেন হুইটিংকে উদ্দেশ্য করে বলেন ,
“You’re every parent’s and grandparent’s nightmare come true. You are and will remain an absolute menace to any little girl. ”
রয় হুইটিংকে কারাগারে রেজর দিয়ে আক্রমন করে তার চোখ গেলে দেয় গ্যারী নামে এক জোড়া খুনের আসামী । গ্যারীর ভাষ্য , রয় কোনো মানুষই না ।

শেষ করছি একটা ভিডিও দিয়ে ।
স্লিপ গুড লিটল এঞ্জেল ।

১৬ thoughts on “দ্য স্টোরী অফ সারাহ পেন

  1. ভিডিওটি সরাসরি এইখানে
    ভিডিওটি সরাসরি এইখানে দেখুনঃ

    অর্ফিয়াস এই অমানুষদের যে খুনিদের থেকেও নিকৃষ্ট তা শেষের কাহিনীতে প্রমাণ কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে এইসব অমানুষরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় আর মিশে থাকে স্বাভাবিক সাধারণ মানুষের সাথে…
    সারাহ প্যান-এর জন্যে অকৃত্রিম ভালবাসা! ‘অর্ফিয়াস’- ধন্যাবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: জানা ছিল না কিছুই…

  2. সিরিয়াল কিলিং নিয়ে দেখা সেরা
    সিরিয়াল কিলিং নিয়ে দেখা সেরা মুভি হ্যানিবাল সিরিজ এবং “দ্যা গার্ল উইদ স্যা ড্রাগন ট্যাট্টু” বইটা পড়ার পর মনে হয়েছিল এরকম নৃশংসতা শুধু মুভিতেই সম্ভব। আসলে মুভি তো বাস্তবেরই প্রতিচ্ছবি। ভয়ংকর অপরাধ বোধ কাজ করে মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষকে এরকম কাজ করতে দেখলে।
    পোস্টের জন্য ধন্যবাদ অর্ফিয়াস ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *