বিএনপির অপরিনাম দর্শী রাজনীতি

২০১৩ সালটাকে বলা চলে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, রক্তপাত ও দুর্যোগের বছর। বিরোধীদল বিএনপি যাকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন বলে আসছিল। যে কথিত আন্দোলন বাস্তবায়নে বিএনপির একমাত্র হাতিয়ার ছিল জামাত শিবির।


২০১৩ সালটাকে বলা চলে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, রক্তপাত ও দুর্যোগের বছর। বিরোধীদল বিএনপি যাকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন বলে আসছিল। যে কথিত আন্দোলন বাস্তবায়নে বিএনপির একমাত্র হাতিয়ার ছিল জামাত শিবির।

বাঙালি জাতির ইতিহাস হল আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি।৫২’ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে,উনসত্তরের গনঅভুত্থান,৭১’এর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সর্বশেষ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল বিধায় এগুলো এখন বাঙ্গালি জাতির গর্বের বিষয়। ১৯৭০-’৭১ সালে বঙ্গবন্ধু এ রকম জেনেটিক্যালি গোলে একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন বিধায় আজ আমরা স্বাধীন।

গত পাঁচ বছরে একটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে বিএনপির বাহুতে রাজনৈতিক শক্তির চেয়ে গলার হুংকারের শক্তি বেশি। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনবরত ব্যর্থ হুংকার দিয়ে তিনি জনমনে ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করতে পেরেছেন, কিন্তু তাঁর দলের জন্য সমর্থন আদায় করতে পারেননি। বিএনপি যখন একটি গণতান্ত্রিক দলের চরিত্রে ফিরে গিয়ে জনগণের কাছে ভোট চায়, জনগণ তখন তাকে ভোট দেয়, এমনকি ক্ষমতাতেও বসায়। এবারও হয়তো বসাত। প্রমাণ, পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির অভাবিত বিশাল জয়লাভ। এই জয়লাভই বিএনপির নেতা-নেত্রীদের মাথা খারাপ করে দিয়েছে। তাঁরা ভেবেছেন, এটা তাঁদের প্রতি জনগণের শর্তহীন ও স্থায়ী সমর্থন। এই সমর্থনের জোরে তাঁরা দেশের যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির কভারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার ষড়যন্ত্র নামে।

একটা আন্দোলনের সফলতা ও গতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের উপর। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে বিএনপির নেত্রী সম্পূর্ণই ব্যর্থ। উনি শুধু সবাইকে অযোগ্য ও বেয়াদবই মনে করেন। অথচ নিজের যোগ্যতার দিকে উনি কখনো নজর দেবার সময় পেলেননা। যার কিনা সামান্য ভাষণের স্ক্রিপ্ট গোলাপের পাপড়ি আমীরে আস্তিক শফিক রেহমানের থেকে লিখে নিতে হয়।

হুমায়ন আজাদ যথার্থই বলেছিলেন; ““যার প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক হবার যোগ্যতা নাই, তিনি হয়ে আছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী””।

তবে, ২৯ তারিখের বক্তব্যে খালেদা যেভাবে নিজেকে উন্মোচন করেছেন তাতে তাঁর প্রতি আর রহস্য কারও থাকবে না। তাঁর প্রকৃতি কী, এটি স্পষ্ট। গোপালগঞ্জের প্রতি তাঁর আক্রোশ বাংলাদেশের প্রতি আক্রাশেরই প্রতিফলন। শুধু তাই নয়, প্রকৃতপক্ষে গোপালগঞ্জের প্রতি তাঁর মন্তব্য এটিই পরিষ্কার করল যে, রাজপথে এতদিন হয়েছে বা এখনো যা চলছে তার সঙ্গে নির্বাচন, সংবিধান, মৌলিক অধিকার কোন কিছুর সম্পর্ক ছিলনা। এখন লড়াইটা হচ্ছে দেশটা কারা চালাবে, পাকিস্তানীরা না বাংলাদেশীরা।

অনেক লাফালাফি শর্তেও নির্বাচন হয়ে গেলো, সরকারও গঠন হল।পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাষ্ট্র সরকারকে অভিবাদন দেয়াও শুরু করেছে। সুতরাং বিএনপির এখন একটা কাজই করা উচিত। আর সেটা হল যতদ্রুত সম্ভব ঘোষণা দেওয়া যে তারা জামাত ত্যাগ করেছে এবং তারা ক্ষমতায় গেলে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চালু রাখবে এবং কার্যকর করবে। আর কোন হরতাল অবরোধ দিলে হিতে বিপরীত হবে। এতে সরকারের কিছুই যায় আসে না। যা হয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির। আর আমাদের দেশের কোনো সরকারই প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কথা চিন্তা করে না। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে জিম্মি করে কোনো কিছুই আদায় করতে পারবে না বিএনপি। আর বিএনপি মাঠের দল না। তারা আন্দোলন কাকে বলে জানে না। তাই তাদের উচিত সরকারের সাথে নিগোসিয়েট করে উইন উইন সিচুয়েশনে যাওয়া। আখেরে তাতেই কিছুটা লাভ হতে পারে। এবং কিছুটা গণতন্ত্রের স্বার্থেও। অন্যথায় বিএনপির বিলুপ্তি কেউ ঠ্যাকাতে পারবে না। এই সরকার যেহেতু সাংবিধানিক সরকার, সেহেতু বাইরের কেউ কিছুই করবে না আইনগত দিক দিয়ে। শুধু মুখে ফরমায়েশ দিবে।

১২ thoughts on “বিএনপির অপরিনাম দর্শী রাজনীতি

  1. যেদিন বিএনপি জামাতের রাজাকার
    যেদিন বিএনপি জামাতের রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে দেশের পতাকা তুলে দিয়েছে সেদিনই বিএনপির কবর রচিত হয়ে গেছে। ৩০ লক্ষ শহীদের অভিশাপ…

  2. বিএনপির এখন একটা কাজই করা

    বিএনপির এখন একটা কাজই করা উচিত। আর সেটা হল যতদ্রুত সম্ভব ঘোষণা দেওয়া যে তারা জামাত ত্যাগ করেছে এবং তারা ক্ষমতায় গেলে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চালু রাখবে এবং কার্যকর করবে।

    ওয়েল সেইড ।

  3. সরকারের তীব্র ধরপাকড়াও এর
    সরকারের তীব্র ধরপাকড়াও এর মাঝে বিএনপি’র ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে মাত্র একজন নিবেদিত প্রাণ ছাত্রদল কর্মী মনের দুঃখে ১০ মিনিট নাচল পল্টনে…

    এদিকে জামাত-বিএনপি’র জ্বালাও-পোড়াও-নৃশংস মানুষ খুনের হুমকির মাঝেও মৃত্যুপরোয়ানা হাতে নিয়ে ভোট দিল প্রায় ৪০% ভোটার !!

    তবুও প্রামানিত হয় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন এবং তার দল কোন কূল হারায় নি, সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে তাই বিম্পি সফল !! ক্যামনে কি?
    আসলেই তারা আন্দোলন কাকে বলে জানে না। তাই তাদের উচিত সরকারের সাথে নিগোসিয়েট করে উইন উইন সিচুয়েশনে যাওয়া। আখেরে তাতেই কিছুটা লাভ হতে পারে। এবং কিছুটা গণতন্ত্রের স্বার্থেও। অন্যথায় বিএনপির বিলুপ্তি কেউ ঠ্যাকাতে পারবে না। এই সরকার যেহেতু সাংবিধানিক সরকার, সেহেতু বাইরের কেউ কিছুই করবে না আইনগত দিক দিয়ে। শুধু মুখে ফরমায়েশ দিবে। ভাল লিখেছেন…

  4. রকৃতপক্ষে গোপালগঞ্জের প্রতি

    রকৃতপক্ষে গোপালগঞ্জের প্রতি তাঁর মন্তব্য এটিই পরিষ্কার করল যে, রাজপথে এতদিন হয়েছে বা এখনো যা চলছে তার সঙ্গে নির্বাচন, সংবিধান, মৌলিক অধিকার কোন কিছুর সম্পর্ক ছিলনা। এখন লড়াইটা হচ্ছে দেশটা কারা চালাবে, পাকিস্তানীরা না বাংলাদেশীরা।

    এই ব্যাপারে একমত কারণ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আর যায় করুক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে উপহাস করবে এই ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা না ।। আর মুক্তিযুদ্ধ উপহাস মানেই হল দেশটা পাকিস্তান অথবা তালেবান হয়ে যাওয়া ……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *