নারীত্বের দিনকাল…একজন অধরার গল্প….

অনিক সাহেব তার নতুন সহকর্মীর দিকে বারকয়েক চোখ বুলিয়ে বললেন,আসেন মিলিত হই।
অধরা চমকে উঠলো!মিলিত হই শব্দটা তার কাছে যথেষ্ট শ্লীল বলে মনে হলনা,তার বস শব্দ চয়নে আসলেই আনাড়ি নাকি ইচ্ছে করেই এমন ইংগিত দিলেন সেটা সে বুঝতে পারলোনা।
জানলার বাঁ পাশে রাখা টবে কি একটা অচেনা ফুল ফুটে আছে।কাঁচ বেয়ে আসা সূর্যালোকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে ফুলটাকে। অধরা সেদিকে তাকিয়েই জবাব দিলো,আমি অধরা রহমান…।

অনিক সাহেব তার নতুন সহকর্মীর দিকে বারকয়েক চোখ বুলিয়ে বললেন,আসেন মিলিত হই।
অধরা চমকে উঠলো!মিলিত হই শব্দটা তার কাছে যথেষ্ট শ্লীল বলে মনে হলনা,তার বস শব্দ চয়নে আসলেই আনাড়ি নাকি ইচ্ছে করেই এমন ইংগিত দিলেন সেটা সে বুঝতে পারলোনা।
জানলার বাঁ পাশে রাখা টবে কি একটা অচেনা ফুল ফুটে আছে।কাঁচ বেয়ে আসা সূর্যালোকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে ফুলটাকে। অধরা সেদিকে তাকিয়েই জবাব দিলো,আমি অধরা রহমান…।
থাক থাক, বাকিটা সিভিতে লেখাই আছে মিস অধরা।মুখে অদ্ভুত হাসি এনে অধরাকে থামিয়ে দিলেন অনিক সাহেব।
অধরা কপট হাসলো,একটু মিসটেক আছে স্যার।মিস না মিসেস অধরা।
অনিক সাহেব বিকট ভঙ্গিমায় হেসে উঠলেন,অধরার মনে হলো সেই অচেনা ফুলটা একটু যেনো কেঁপে উঠলো সেই হাসির শব্দে।এতে হাসির কি আছে অধরা বুঝতে পারলোনা।
অনিক সাহেব বললেন,মিস অথবা মিসেসে কি আসে যায় মিস অধরা।একটা মানুষকে তার বৈবাহিক অবস্থায় বিবেচনা করা হলে সেটা কেমন যুগের সাথে বেমানান মনে হয়।আফসোস এ দেশের মানুষ এখনো তাদের চিন্তাধারা বদলাতে পারলোনা।
কিছুক্ষনের জন্য অনিক সাহেবকে এ দেশের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে বেশ চিন্তিত দেখালো।
তারপর হাতে ধরা কলমটা বারকয়েক আঙুলের ফাঁকে ঢুকিয়ে ও বের করে অধরার দিকে ঝুকে এসে জিজ্ঞেস করলেন,ঠান্ডা না গরম?
অধরা অপ্রস্তুত বোধ করছিলো,সাথে সাথে জানতে চাইলো ঠান্ডা গরম মানে?
অনিক সাহেব আবারো শব্দ করে হেসে উঠে বললেন একজন এডাল্ট লেডি ঠান্ডা গরমের মানে বোঝেনা।
অনিক সাহেবের হাসির সাথে সাথে অধরা খেয়াল করলো অনিক সাহেবের ডান পাটির কয়েকটা দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো,এবারো তার কাছে মনে হলো হাসির শব্দে যেনো ফুলটা আবারো কেঁপে উঠলো।এডাল্ট শব্দটা কি কোনো ইংগিত বহন করছে?
অনিক সাহেব হাসি থামিয়ে বললেন,ঠান্ডা না গরম মানে, কি খাবেন?কোল্ড ড্রিংক্স নাকি কফি?আমার অফিসে চা হয়না।

অধরা বাসায় ফিরলো অসহ্য মাথা ব্যাথা নিয়ে,রাস্তায় সেটা এমন হলো যে সে পাশের একটা ফার্মেসীতে গিয়ে দুইটা পেইন কিলার খেয়ে নিল।
সফিকের আজ অফিস ছিলোনা,দরজা খুলে দিয়েই জানতে চাইলো,তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো?কি হয়েছে?
সফিকের উদ্বিগ্ন মুখের দিকে তাকিয়ে অধরার আবারো মনে হলো,এই মানুষটা এতো ভালো কেনো?
সে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, তেমন কিছুনা।নতুন অফিস তো তাই একটু নার্ভাস ছিলাম।যদিও একটু মাথা ধরা ছিলো এখন আর নেই।
সফিক বললো খাবার গরম করবো?আমি খেয়ে নিয়েছি।ক্ষুধা লেগেছিলো খুব।
অধরা হাসলো,ভালো করেছ।আমার এখন খেতে ইচ্ছে করছেনা।তোমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক্ষন শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে।কটা বাজে বলতো?
আটটা কুড়ি।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে জবাব দিলো সফিক।
অধরা উঠে এসে সফিকের বুকে মাথা রেখে বললো চলো ঘুমাই,জানি এতো তারাতারি কেনো জানতে চাইবে,জানতে চাইবে শরীর খারাপ কিনা,এসবের কিছুইনা।এই দেখো কপাল একদম ঠান্ডা।
অধরা সফিকের হাত এনে তার কপালে ছুঁয়ালো।অধরার কাছে মনে হলো এই স্পর্শের চেয়ে সুখের কিছু এই পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নাই।
রাতে শুয়ে শুয়ে তারা অনেক্ষন গল্প করলো।
অফিসে বসের সাথে আলাপচারিতার অনেকাংশ ইচ্ছে করেই সফিককে বললোনা অধরা।

পরের দিন অধরা অফিসে গেলো আধা ঘন্টা দেরীতে।সে ধরেই নিয়েছিলো তার বস কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দিবেন।কিন্ত সেরকম কিছু হলোনা।অনিক সাহেব অধরাকে তার রুমে ঢেকে নিয়ে বললেন,একটু উত্তরা অফিসে যেতে হবে।আপনি আমার সাথে যাচ্ছেন।সন্ধ্যার আগে আগেই আমরা ফিরবো।আপনি বাসায় ফোন করে বলে দিন আপনার ফিরতে দেরী হবে।আশা করি রাত দশটার দিকে বাসায় যেতে পারবেন।
অধরা অবাক হলো।
কালকের লোকের সাথে আজকের লোকটাকে মেলাতে পারছিলোনা অধরা, কেমন একটা আলগা সিরিয়াস ভাব দেখলো অনিক সাহেবের মধ্যে যা সহজেই বোঝা যায়।
অধরা সফিকের অফিসে ফোন দিতে যেয়ে তার মনে পড়লো আজো ওদের অফিস নেই।বাসায় ফোন করে সে জানিয়ে দিল,তার ফিরতে রাত হবে।সফিক যেনো খেয়ে নেয়।সে হয়তো বাইরে খেয়ে আসবে।
সফিক জিজ্ঞেস করলো, কটা বাজবে ফিরতে?
অধরা বললো,দশ সারে দশ!
বসের রুম থেকে যেতে যেতে অধরা দেখলো সেই ফুলটি আর নেই,টবের পাশে চুপসে পড়ে আছে।
গাড়ি করে যেতে যেতে অধরা লক্ষ্য করলো ঝাঁকুনির ছুতোয় বস তার হাত ছুঁতে চেষ্টা করছেন।ব্যাপারটা অধরার খারাপ লাগলো।
সাত নম্বর সেক্টরে যে বাসার সামনে এসে গাড়ি থামলো ভেতরে ঢুকার পর অধরা বুঝতে পারলো এটা কোন অফিস নয় একটা সুসজ্জিত বিলাশবহুল ফ্ল্যাট।অধরার মনে হলো সে ফাঁদে আটকা পড়েছে।যেকোনো উপায়ে তাকে এই ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে হবে।
অনিক সাহেব কোট খুলে সোফায় রেখে অধরার সামনে এসে দাঁড়ালেন,গলার টাইটা ঢিলে করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন,কেমন লাগছে তোমার?
অধরা চমকে উঠে সরাসরি জিজ্ঞেস করলো,আমরা এখানে কেনো?
অনিক সাহেব কোনো সুযোগ না দিয়ে অধরার উপর ঝাপিয়ে পড়ে বললেন,ভালো পজিশন পেতে এসব একটু আধটু ফান করতেই হয় বেইবি।
অধরা টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গিয়েছিলো, সোফার কোনা লেগে তার ঠোঁট টনটন করে উঠলো।
অনিক সাহেব হ্যাচকা টানে তাকে কাছে টেনে বললেন,ফেলতে তো কেটে!তোমরা মেয়েরা সবসময় অনেক প্যাথেটিক।
অধরা হাল ছেড়ে দিলোনা,সে লক্ষ্যস্থির করলো তাকে এখান থেকে বেরুতে হবে।যেভাবেই হোক।
অনিক সাহেব তার ঘাঁড়ে ঠোঁট ছোঁয়ালেন,অধরার নিজেকে অবশ মনে হলো।আর তখনি এক মুহূর্ত দেরী না করে ঘুড়ে দাঁড়ালো অধরা।প্রাণপন লাথি বসালো অনিক সাহেবের অন্ডকোষ বরাবর।যন্ত্রনায় নীল হয়ে যাওয়া অনিককে পেছনে ফেলে অধরে বের হয়ে আসলো।
এসেই ট্যাক্সিতে উঠে বললো,ড্রাইভার নিকেতন!জলদি।
অধরা অস্থিরতা দুর করতে পারছিলোনা,ফ্ল্যাটে এসে নক করার কথা ভুলে গেলো।তার কাছে থাকা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে তরিঘরি করে বেডরুমে ঢুকলো অধরা।
অপ্রস্তুত সফিক দাঁড়িয়েছিলো বিছানার পাশে,তার পাশে পাশের ফ্ল্যাটের কলেজ পড়ুয়া মেয়েটা।দুজনেই নগ্ন।

অধরা ছুটে বের হয়ে গেলো,তার কাছে মনে হলো বাকি জীবন তাকে একা কাটাতে হবে।সে স্বীদ্ধান্ত নিল সে আত্মহত্যা করবেনা।

২১ thoughts on “নারীত্বের দিনকাল…একজন অধরার গল্প….

  1. তেঁতুল হুজুর মেয়েদের ঘরের
    তেঁতুল হুজুর মেয়েদের ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেছেন। আপনার গল্পে নারী চাকরী করতে গিয়েই যৌন হয়রানীর শিকার হলো। এমন ঘটনা দুনিয়ায় ঘটেনি তা না, কিন্তু গল্পে ঘটনাটা আনার উদ্দেশ্য মনে হবে নারী চাকরী করতে যাওয়ার এই হচ্ছে বিপদ। শেষের যেটা দেখালেন এটা গল্পে নাটক ঢুকিয়ে দিয়েছে। কাজেই গল্প গল্পই থেকে গেছে পরিপক্ক হয়ে উঠেনি। আমি দুঃখিত ভাই, গল্পটা দুর্বল হয়েছে। জমে উঠেনি।

    1. গল্পে ঘটনাটা আনার উদ্দেশ্য

      গল্পে ঘটনাটা আনার উদ্দেশ্য মনে হবে নারী চাকরী করতে যাওয়ার এই হচ্ছে বিপদ

      মানতে পারলাম না। গল্পে এই ঘটনা আনার উদ্দেশ্য এটাও হতে পারে যে এর মাধ্যমে সমাজের কিছু বদমাইশের সরূপ সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এটাও একটা পারস্পেক্টিভ হতে পারে, পারে না?

      আর গল্প তো গল্পই। খানিকটা টুইস্ট না থাকলে তো সেটাকে “ডায়রি” বলে মনে হবে। আমার কাছে কিন্তু এতো খারাপ লাগে নাই।

      1. চাকরির প্রথমদিনে টার্গেট করে
        চাকরির প্রথমদিনে টার্গেট করে পরের দিনেই বদমাশী করতে যাওয়া গল্পকে দুর্বল করেছে। এখানটায় এফডিসির সিনেমার ফ্লেভার এনে দিয়েছে। গল্পে বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে কাহিনীকে সাজাতে সতর্ক থাকা জরুরী। আর ভাল লাগা তো আপেক্ষিক। আপনার লেখেছে, আমার লাগেনি। তবে গল্প লেখক আশা করি মনোক্ষুন্ন হবেন না আমার কথায় কারণ সমালোচনা লেখাকে শানিত করে।

        1. চাকরির প্রথমদিনে টার্গেট করে
          চাকরির প্রথমদিনে টার্গেট করে পরের দিনেই বদমাশী করতে যাওয়া গল্পকে দুর্বল করেছে। – এই ব্যাপারে অবশ্য সহমত

      2. ধন্যবাদ যাত্রী ভাই,রায়ান
        ধন্যবাদ যাত্রী ভাই,রায়ান ভাই,পাঠক ভাই, একটু আধটু ভুল থাকুকনা 😛 তাছাড়া লুচ্চারা প্রথম দিনেই টার্গেট করে 😉

  2. অসাধারণ একটি গল্প। সমাজের
    অসাধারণ একটি গল্প। সমাজের কিছু অধরারা দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মায়।গল্পটিতে তাদের চিত্রটি খুব সুন্দর-সাবলিল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।যদিও তাদের সংখ্যাটা কম বলেই আমি বিশ্বাস করি।

  3. প্রথমটুকু কষ্ট হলেও হজম করে
    প্রথমটুকু কষ্ট হলেও হজম করে ফেলেছিলাম… কিন্তু একদম শেষে এসে রিতিমত কাঁচের দেয়ালে ধাক্কা খেলাম!
    অসাধারণ এবং অপ্রিয় কিন্তু চরম একটা বাস্তবতা… তবে শিরোনামে “প্রাপ্তবয়েসী নারীদের জন্য গল্প…” কথাটার স্বার্থকতা বুঝলাম না। ইদানিং অনেকেই দেখি পোস্টের শিরোনামে “১৮+” টাইপ বিশেষণ জুড়ে দেয়! এটা কি পোস্টে পাঠক আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য?

    শেষ কথা- মিয়া, দিলেন তো “সফিক” নামটারেই পঁচাইয়া!!!
    জাতির উদ্দেশ্যে বলতে চাই- দন্ত “স”-তে সফিক নামটা আমার কপিরাইটেড…! নেক্সট টাইম কাইন্ডলী “শফিক” ব্যাবহার করবেন। অন্যাথায় বিনা উকিল নোটিসে আমি উচ্চ আদালতের স্মরাপন্ন হব… 😛

    বিনীত নিবেদক
    সফিক© এহসান
    😀

    1. অশেষ ধন্যবাদ আমার অনেক প্রিয়
      অশেষ ধন্যবাদ আমার অনেক প্রিয় কারাগার ভাই এবং সফিক ভাইকে ♥♥♥ সফিক ভাই স্যরি ফর ইওর নেম 😉 মাথায় আসেনাই 😛

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *