মিথ্যে ভালোবাসা… (ছোটগল্প)

আজ অনেকদিন পর তপুর সাথে রানার দেখা। দীর্ঘ ৪০ বছর পর। সেই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে দেখা হয়েছে, তার পর আর দেখা হয়নি তাদের। আজ হঠাৎ রানা তপুর অফিসে গেলে তাদের কথা হয়। দীর্ঘ আলাপচারিতার পর তপু তার বাড়িতে রানাকে দাওয়াত দেয়। রানাও রাজি হয়। কথা দেয় রানার পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাবে।
.
রানা যখন তার স্ত্রীকে নিয়ে তপুর বাড়িতে যায় তখন রেনু তাদের চেনে নি। কিন্তু রানা রেনুকে চিনে ফেলে। তাই সে বলে
–আমি তপুর ক্লাসমেট। আমরা ২ জন একই ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছি।

আজ অনেকদিন পর তপুর সাথে রানার দেখা। দীর্ঘ ৪০ বছর পর। সেই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাসে দেখা হয়েছে, তার পর আর দেখা হয়নি তাদের। আজ হঠাৎ রানা তপুর অফিসে গেলে তাদের কথা হয়। দীর্ঘ আলাপচারিতার পর তপু তার বাড়িতে রানাকে দাওয়াত দেয়। রানাও রাজি হয়। কথা দেয় রানার পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাবে।
.
রানা যখন তার স্ত্রীকে নিয়ে তপুর বাড়িতে যায় তখন রেনু তাদের চেনে নি। কিন্তু রানা রেনুকে চিনে ফেলে। তাই সে বলে
–আমি তপুর ক্লাসমেট। আমরা ২ জন একই ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছি।
এই কথা শুনে রেনুতো অবাক। কারন রেনু এবং তপুও ক্লাসমিট ছিল। একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ত। সে হিসেবে তপুর বন্ধুকে তার চেনারই কথা। কারন তপুর বন্ধুই তার বন্ধু।
–কে তুমি?
–আমি রানা। আর তুই রেনু নাহ? এত মোটা ফ্রেমের চশমা পরার পরও তোকে আমার চিনতে ভুল হয় নি।
অনেকটা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে রেনু।
–কিরে ভিতরে আসতে বলবি নাহ?
–আরে ভিতরে আয়।
ঠিক সেই সময় তপুও এসে হাজির হয়।
.
আড্ডায় মেতে ওঠে পুরোনো বন্ধুরা। এক সময় তপু রানার স্ত্রীকে বলল
–বুঝলে রুহি ভার্সিটি ক্যম্পাসে আমি রানা রেনু আশিক অথৈই আরো কত বন্ধুরা যে একত্রে আড্ডা দিয়েছি। কত ঝগড়া কত দুষ্টমি মিশে আছে আমাদের ক্যম্পাসে তা বলেই শেষ করা যাবে না।
–আমি জানি। রানা আমাকে বলেছে। তবে আমি এও শুনেছি রেনু আপু নাকি সারাক্ষন রানার সাথেই লাইগা থাকত।
–সে আর বলতে হয়। তারপরও রেনুর মন কিন্তু আমি জয় করে নেই।
–রেনু আপুর সাথে আপনার বিয়ে হয় কিভাবে বলুন তো?
–হা হা হা, রেনু আর রানা অনেক ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল। তারপর কি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় জানি নাহ, রানা স্কলার শীপ নিয়ে কানাডা চলে যায়, তারপর আর রানার সাথে কথা হয়নি। প্রায় ২ থেকে ৩ বছর পর একদিন রেনুর সাথে দেখা হয়, কথা বলতে বলতে জানতে পারি, সে নাকি এখনো বিয়ে করেনি। তখন আমিই প্রথম রেনুকে বিয়ের প্রস্তাব দেই। ও নিঃসংকোচে সায় দেয়। তারপর অবশ্য দুই পরিবারই ধুমধামে আমাদের বিয়ে দেন।
.
রানা রেনু এতক্ষন পাশে বসে সব কথা শুনছিল। হঠাৎ দাড়াতে দাড়াতে রেনু বলল
–তোমরা কথা বল। আমি চা নিয়ে আসি।
.
রানার সাথেও রেনুর দীর্ঘ ৪০ বছর পর দেখা। রেনুর উঠে যাওয়ার কারন রানা ভালো ভাবেই বুঝেছিল।
–তপু রুহি তোমরা কথা বল। আমি একটু রেনুকে সাহায্য করি।
.
সোজা রান্নাঘরের দিকই গেল রানা। কিন্তু রেনু সেখানে ছিল না। একটু খুজতেই রেনুকে রানা পেল বারান্ধার মধ্যে।
–কিরে রেনু। বারান্দায় কি করিস?
চমকে ওঠে রেনু। পিছে ফেরে রানাকে দেখে চমকে ওঠে সে। কিন্তু রেনু থেকেও বেশি অবাক হয় রানা। যখন সে রেনুর চোখে পানি দেখে।
–এই তো দাড়িয়ে আছি।
–কিন্তু তুই কাদছিস কেন?
–না আসলে আমার মেয়ের কথা মনে পড়ছিলতো তাই।
–তাই বল। আমি তো ভাবছিলাম তুই আমার কথা ভাবছিস। তো, কি করে তোর মেয়ে?
–ও জার্মানীতে লেখাপড়া করছে। এই সব কথা বাদ দে তো এখন।
–আচ্ছা ঠিকাছে। কিন্তু বল তো, তুই ওখান থেকে উঠে এলি কেন?
–এমনি।
–নাহ। কিছুতে হয়েছে।
কিছুক্ষন নিরব থাকার পর রেনু একটা কথা বলে চলে গেল
–রানা, এই ৪০ বছর তুই আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিস।
রানা বুঝে কোথায় রেনুর কষ্ট। কিন্তু এই বুড়ো বয়সে যে তার আর কিছুই করার নেই।
.
.
রাত ঠিক ১টা
রাইরে ঝুমঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।
বারান্দায় দাড়িয়ে বৃষ্টির দৃশ্য দেখছে রেনু। তার আজ খুব বৃষ্টিতে ভিজতে মন চাচ্ছে। কিন্তু তার শরীর ভাল নেই। তপু তো তাদের মেয়ে প্রীতির সাথে কথা বলায় খুব ব্যস্ত। কথা শেষ করেই তপু সোজা বারান্দায় এলো
–রেনু একটা খুশির সংবাদ আছে।
–কি?
–তুমি নানি হয়েছ। প্রীতির ছেলে হয়েছে।
–ওহ খুব খুশির খবর তো।
–কালকে সবাইকে মিষ্টিমুখ করাতে হবে। তুমি কি কোন কারনে চিন্তিত রেনু?
–কই না তো। তপু!
–হুম?
–আজ তোমাকে আমার জীবনের লুকিয়ে রাখা একটা সত্য বলতে চাই।
–কি এমন লুকিয়ে রাখা কথা, বল তো?
–বলতো আজ আমাদের সংসার জীবনের কত বছর?
–প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ বছর তো হবেই।
–আচ্ছা বল তো, মা হিসেবে আমি কখনো আমার দায়িত্বে অবহেলা করেছি?
–অবশ্যই না।
–স্ত্রী হিসেবে আমি কখনো কোন দায়িত্বে অবহেলা করেছি?
–না। কিন্তু এই সব কথা কেন বলছ?
–তবে আজ একটা কথা শুনে রাখ।
–কি কথা?
–আমি এতদিন যা করেছি তা শুধু আমার দায়িত্ব থেকে করেছি। আমার এত দিনের সংসার জীবনে তুমি কখনোই আমার মনে ছিলে নাহ। সেই ভার্সিটি থেকে আমার মনে একজনই ছিল, সে ছিল শুধুই রানা। তুমি নও।
.
এই বলে শোবার ঘরে চলে যায় রেনু। আর তপুর মনের ভিতরে চলতে থাকে বজ্রপাত। জীবনের শেষ মূহুর্তে এসে এমন কথা শুনতে হবে তা কখনো কল্পনাই করে নি সে। তাহলে কি এতদিনের ভালবাসা সবই ছিল ছলনা? কোনদিন যদি প্রীতি জানতে পারে তার মায়ের মনে এতদিন তার বাবা ছিল না, ছিল অন্য একজন তখন সে কি ভাববে? সে কি করবে তখন? রানা কি বুঝে রেনুর তার প্রতি ভালোবাসা?
.
হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রনয়ের মনে। হঠাৎ প্রনয়ের মনে হল তার সকল চিন্তা উধাও। তার মনের মধ্যে যে আগুন রেনু লাগিয়ে দিয়েছে তার শেষ। চোখটা বন্ধ হয়ে আসছে তার। তপু বুঝতে পারছে যে সে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে নয়তো মরে যাচ্ছে। শেষ বারের মত একটি শব্দ উচ্চারন করেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল তপু।
–রেনু…………..

২০ thoughts on “মিথ্যে ভালোবাসা… (ছোটগল্প)

  1. আমি খুব নিষ্ঠুর সমালোচক।
    আমি খুব নিষ্ঠুর সমালোচক। গল্পটি প্রথম দুর্বলতা হলো এই গল্পের চরিত্রগুলো নিজেরাই মনে রাখতে পারেনি তারা ৬০ বছরের বুড়োবুড়ি! ৪০ বছর পর যখন দেখা তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় গড় ২০ বছর ধরলাম। এই বুড়ো বয়েসে পুরোনো প্রেমের বর্হিপ্রকাশ দেখে গল্পটিকে বালকসুলভ করে ফেলেছে। মেয়ের বাচ্চা হচ্ছে সেই খবরটা স্বামী স্ত্রীকে দিচ্ছে যেন বাজার থেকে তাদের মেয়ে একটা বাচ্চা কিনে এনেছে! প্রেমের গল্প লিখতে গিয়ে একদম চল্লিশ বছরের বুড়োবুড়োর কালে গিয়ে বড্ড রিস্ক নিয়ে ফেলেছেন। ভাল প্রেমের গল্প লিখতে হলে নিজের প্রেমের কাহিনীকে গল্পে রূপ দেন। নতুবা নিজে একটা প্রেম করে নিন। যারাই ভাল প্রেমের গল্প লিখেছে তারা সবাই-ই ভাল ব্যর্থ প্রেমিক ছিলেন!

    1. বিলিভ ইট অর নট… আমি প্রেম
      বিলিভ ইট অর নট… আমি প্রেম করার আগ পর্যন্ত যথেষ্ট লুলমান্তিক গল্প লিখছি… মানুষ ভাল না হোক খারাপ বলে নাই…

      এখন যখন প্রেম করা শুরু করছি, নিজের গল্প নিজেরই অখাদ্য লাগে… অন্যদের কি পড়তে দেব…

  2. প্রথমেই বলে নেই আপনার লেখার
    প্রথমেই বলে নেই আপনার লেখার হাত আছে । চর্চা করলে অনেক ভালো লিখতে পারবেন । কিছু জায়গা আরোপিত মনে হয়েছে । গল্পের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখলে পরিণতি নিয়ে বেশি ভাবতে হবেনা । বয়স একটা ফ্যাক্টর ছিল – বয়স্ক মনস্তত্ত্ব যেটুকু দেখিয়েছেন তা পারফেক্ট মনে হয়নি । আর শেষে একটা খুশীর খবরে রেনু নিজের ৪০ বছর ধরে পুশে রাখা ভালবাসা কে যেভাবে প্রকাশ করলো সেটি চরম অস্বাভাবিক লেগেছে আমার কাছে । কারণ এই গোপন বিষয়টি প্রকাশ করে রেনু কোন মুক্তির সন্ধান করলো ? আর একজন মানুষের সাথে ৪০ বছর থাকার পরও তার প্রতি ভালবাসা না জন্মালেও এক ধরণের অভ্যস্ততা, মায়া জন্মে – জীবনে বেঁচে থাকার জন্য এটা অন্যতম নিয়ামক । সো, বুঝতে পারছেন আশা করি ।
    আপনার প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *