দূরত্ব


খুব বেশি দিন আগের কথা না এটা , টেনেটুনে বছর তিনেক হবে । নাট্যমঞ্চ এক শপিংমলের ফুডকোর্ট । মুখোমুখি দুই নবিন কলাকুশলী ।



খুব বেশি দিন আগের কথা না এটা , টেনেটুনে বছর তিনেক হবে । নাট্যমঞ্চ এক শপিংমলের ফুডকোর্ট । মুখোমুখি দুই নবিন কলাকুশলী ।

সদ্য কৈশোর পেরুনো ছেলেটার মুখে হাল্কা গোঁফের রেখা ,বেশ শুকনো । আর মেয়েটাকে দেখেও কিশোরী ছাড়া অন্যকোন কিছু ভাবা যাবে না ।ছেলেটার চেহারা বিশেষত্বহীন , শুধু ভারী চশমাঢাকা চোখ জোড়াতে অদ্ভুত একটা বুদ্ধির ঝিলিক খেলা করে । মেয়েটার মুখে আলগা একটা মায়া । সাধারনত এই বয়সের মেয়েরা এমনেতেই যথেষ্ট মায়াবতী হয় কিন্তু প্রকৃতি যেন এই মেয়েটার বেলায় একটু বেশি উদারতা দেখিয়েছে ।সিল্কি চুলগুলি অবলীলায় মুখটাকে ফ্রেম করে আছে । আর প্রথম দেখাতেই সবচেয়ে বেশি যেটা নজর কাড়ে সেটা হল মেয়েটার হাসি । উফফ সে হাসির বর্ণনা দিতে আজকালকার ডিজুস কবিরাও ব্যর্থ । যেতে হবে সেই রবি ঠাকুরের কাছেই,“লাগিলো বুকে সুখের মত ব্যথা”

দৃশ্য খুবই সিরিয়াস । অনেকদিন ফোনে কথা বলার পর আজকে প্রথম দেখা ।
Tension , tension in the air . Tension everywhere .

নিরবতা ভেঙ্গে মেয়েটার মুখেই প্রথম কথা,
– কি ব্যাপার ফোনে তো খুব বক বক করে মাথা ধরিয়ে দাও , এখন বাবুর মুখে কথা নেই ক্যান?
ছেলেটার চোখ মুখে আরেক পোঁচ লাল রঙ ।কোন মতে ঢোক গিলতে গিলতে সে উত্তর দিলো,
-না ইয়ে মানে মাত্রতো আসলাম । টা তুমি কেমন আছো ? গলা ব্যথা কমছে ?
“কঅঅব্বে” ঠোট দুটো কিছুটা বেঁকে গেলো । আর ছেলেটার বুকটাতে কে যেনো দশমনি একপাথর ছেড়ে দিলো ।
তারপর মিনিট পাচেক নিরবতা । আশপাশের শত আওয়াজের মাঝেও এই টেবিলটা যেন আলাদা , কেমন যেন থমকে যাওয়া সব কিছু ।
গলা খাকারি দিয়ে ছেলেটা এবার মিনমিনে গলায় শুরু করলো
-আচ্ছা কিছু দিতে বলি?
-কি দিবে?
– না মানে খাবারটাবার, ফ্রাইড চিকেন বা আইসক্রিম ?
-আমার চিকেন ভাল্লাগে না । আর মাত্র ঠাণ্ডা সারল আমি এখন খাব আইসক্রিম ?
-ও । আচ্ছা তোমার না একটা ছোট ভাই আছে ?
-হমম ।
-আচ্ছা ও কি আইসক্রিম খায়?
এইবার মেয়েটা অবাক দৃষ্টিতে ছেলেটার কিছুক্ষণ তাকিয়ে তারপর হঠাৎ বলে উঠল
-এই তুমি না বলে ছিলে তুমি হাত দেখতে পারো?
-একটু একটু ।
-আমারটা একটু দেখে দেবে?
বলে আর ওয়েট না করে দুই হাত বাড়িয়ে দেয়। ছেলেটা কথা না বাড়িয়ে হাতটা ধরে ।

হাতের দিকে তাকিয়ে আকাশ পাতাল ভাবতে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ ছেলেটা কিছুই বলতে পারছে না, হাত থেকেও চোখ সরাতে পারছে না । যদি একবার মুখটা তুলে মেয়েটার দিকে তাকাতো তাহলে দেখত ঐ মুখে কি অদ্ভুত মায়াবি একটা হাসি । যে হাসি মুনি-ঋষির ধ্যান ভেঙ্গে দেয়,আর এই ছেলেতো বাচ্চা ।

১৯ thoughts on “দূরত্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *