শিল্পের সাতকাহন- মৃৎ শিল্প ……


মৃৎ শিল্প কি ?



মৃৎ শিল্প কি ?

বিশ্বজুড়ে প্রত্যেকটি দেশের রয়েছে নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতি। এই শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয়েই পরিচিত হয় সেই দেশ বা জাতি । একেকটি শিল্পের বিস্তারের পিছনে রয়েছে একেকটি দেশ বা জাতির অবদান। তেমনই একটি শিল্প হচ্ছে মৃৎ শিল্প। মৃৎশিল্প” শব্দটি “মৃৎ” এবং “শিল্প” এই দুই শব্দের মিলত রূপ । “মৃৎ”শব্দের অর্থ মৃত্তিকা বা মাটি আর “শিল্প” বলেত এখানে সুন্দর ও সৃষ্টিশীল বস্তুকে বোঝানো হয়েছে ।। এজন্য মাটি দিয়ে দিয়ে তৈরি সব শিল্পকে কর্মকেই মৃৎ শিল্পবলা যায়। এই ধরণের কাজের সাথে জড়িত তাদেরকে কুমার বলী।। প্রাচীনকাল থেকে বংশনুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। অতীতে গ্রামের সুনিপন কারিগরের হাতে তৈরী মাটির জিনিসের কদর ছিলো অনেকাংশ বেশী। পরিবেশ বান্ধব এ শিল্প শোভা পেত গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে। গ্রীষ্মকালে মাটির কলসির এক গ্লাস পানি যেন দুর করে দিত সব ক্লান্তিকে। আধুনিকতার ছোয়া লেগে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। মাটির তৈরী হাড়ীঁ-পাতিল, কলসী, ফুলের টব, সরা, বাসন, দইয়ের মালসা, সাজের হাড়ি, মাটির ব্যাংক, শিশুদের বিভিন্ন খেলনা সমগ্রী নানা ধরনের তৈজসপত্র তৈরি করত অত্র এলাকার কুমারেরা । এ শিল্পের প্রধান উপকরণ এটেল মাটি, জ্বালানী কাঠ, শুকনো ঘাষ, খড় ও বালি।

মৃৎ শিল্পের ইতিহাস

ইতিহাস অনুযায়ী চীনের বিখ্যাত শহর থাংশান এ মৃৎশিল্পের জন্ম হয়েছিল। আর এ কারণেই এ শহরটিকে মৃৎশিল্পের শহর বলা হয়। চীনের অন্যতম প্রাচীন শহর পেইচিং থেকে ১৫০ কি.মি. উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই শহরটি। এই শহরের পথে-প্রান্তরে, বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক গুলোতে মৃৎ শিল্পের বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখতে পাওয়া যায়। থাংশানের মৃৎশিল্পের উৎপত্তি ও বিকাশের সূত্রপাত মিং রাজবংশের ইয়ুং লে এর সময়কালে। এ শহরের রয়েছে প্রায় ৬০০ বছরের ইতিহাস। এখানে নানা ধরনের চীনা মাটির ৫০০টিরও বেশি মৃৎশিল্প রয়েছে। এখানকার বিভিন্ন রকম মাটির মধ্যে প্রাচীন স্থাপত্য চীনামাটি, স্বাস্থ্যসম্মত চীনামাটি, শিল্পায়ন চীনামাটি, হাইটেক চীনামাটি, শিল্পকলা চীনামাটি ইত্যাদি অন্যতম। আবার শিয়া মহাদেশের মৃৎশিল্পের ইতিহাসে দেখা যায়, খ্রিস্টীয় ১৩ শতকে সং রাজবংশের সময় চীনে তৈরি হতো মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও শো-পিস। এগুলোকে বলা হতো ‘সেলাডন’। এশিয়ানদের মধ্যে চীনারাই সর্বপ্রথম সেলাডন প্রস্তুত করেছিল। এগুলো প্রস্তুতির পর দেশজুড়ে তো বটেই আশপাশের বিভিন্ন দেশেও ব্যাপক সাড়া পড়ে। ফলে চীনারা এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় সেলাডন রপ্তানি শুরু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সেলাডনগুলো তুরস্কের শাসকসহ অন্যান্য শাসক এবং রাজাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অবশ্য এর পেছনে ছিল এর মৌলিক সৌন্দর্যগুণ।

মৃৎ শিল্পের তৈরি জিনিসপত্র

আমাদের দেশে এই শিল্পের ব্যবহার সেই আদিকাল থেকে ।। পোড়া মাটির নানাবিধি কাজ, গৃহস্থালির নিত্যব্যবহার্ দ্রব্যাদি, পুতুল, খেলনা, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, টপ, শোপিসসহ অসংখ্য জিনিস আজও কুমারশালায় তৈরি হয়ে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। একসময় কাউকে মাটির তৈরি হাঁড়ি কিংবা গণেশের মূর্তি দিলে বিনিময়ে ওই পাত্রে বা মূর্তির পেটে যত চাল ধরে ততটাই দেওয়া হতো শিল্পীকে। মাটির তৈরি বিভিন্ন রকমারি আসবাবপত্র চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি আজ প্রচুর চাহিদা লক্ষ্যনীয় ।। তাছাড়া মেয়েদের বিভিন্ন মাটির তৈরি গয়না সহজেই চোখে পড়ে দেশের মেলাগুলোতে এছাড়া বিভিন্ন দোকানে ।।

মৃৎ শিল্প ধ্বংসের কারণ

কিছু বিশেষ কারণের জন্য মৃৎ শিল্পের আজ ধ্বংসের পথে কারণগুলো হলঃ
১। বাজারে এর পর্যাপ্ত চাহিদা সম্পর্কে অবগত না হওয়া ।।
২। পরিবর্তিত অবস্থায় নিজেদের কাজের পরিধি পরিবর্তন না করা ।।
৩। শিল্পের কাঠামো এবং নকশায় নতুনত্বের অভাব ।।
৪। সনাতনি রঙের ব্যবহার ।।
৫। প্রচারের অভাব ।।
৬। সনাতনি পদ্ধতি অনুসরণ ।।
৭। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব ।।

প্রযুক্তির ব্যবহার

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি প্লাষ্টিক, অ্যলোমিনিয়াম, মেলামাইন ও স্টিলের জিনিসপত্র তৈরী হওয়ায় এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে টিকতে পারছে না মৃৎ শিল্পের আসবাবপত্র। বর্তমানে এ ব্যবসায় মন্দাভাব থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের চলছে দুর্দিন । অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে ঝুকছে বিভিন্ন পেশার দিকে। বাজারজাত করণের অভাবে ও ঊৎপাদন খরচের তুলনায় সঠিক মুল্য না পাওয়ায় এ পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেকেই। এদের মধ্যে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে কৃষি, মৎস্য চাষ, রিক্সা, ভ্যান নির্মান ও চালানো সহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে তাদের সংসার চালাচ্ছে। বাপ দাদার এ পেশায় এখনও যারা রয়েছে তারা অনেকে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

মৃৎ শিল্পের প্রাপ্তি স্থান

বিলুপ্তির পথে চলে যাওয়া কুমার শিল্প আবার যেন ফিরে আসছে তাঁদের নিখুঁত কাজের মাধ্যমে। দেশ ছেড়ে বিদেশেও এখন ছড়িয়ে পড়ছে কুমারদের হাতে তৈরি সুন্দর সুন্দর জিনিস। ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকার সাভার, কুমিল্লা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কুমারদের তৈরি জিনিস পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর শাহবাগ, কলাবাগান, মালিবাগ, উত্তরার ফুটপাতসহ দেশের বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে। শৌখিন মানুষরা ঘর সাজাতে ব্যবহার করছেন মাটির তৈরি এসব জিনিস। কুমাররা নিজ প্রচেষ্টায় খুব অল্প দামে এই জিনিসগুলো সরবরাহ করে থাকে। চাহিদার কথা বিবেচনা করে দিন দিন বেড়েই চলেছে কুমারদের তৈরি এসব জিনিসের আইটেম সংখ্যা।

উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপ

সরকার এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কিছু পদক্ষেপ পারে মৃৎ শিল্পের হারিয়ে যাওয়া জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এর জন্য দরকার কিছু কার্যকরী পদক্ষেপের যেমনঃ
১। অন্যান্য শিল্পের ন্যায় মৃৎ শিল্পকে বাজারে চাহিদার ন্যায় পর্যাপ্ত যোগান করতে হবে ।।
২। বৈচিত্রপূর্ণ বিভিন্ন ডিজাইনের পন্য বাজারে সরবরাহ করতে হবে ।।
৩। এক রঙের কাজ না করে বিভিন্ন রঙ দিয়ে কাজ করতে হবে ।।
৪। প্রত্যেক জেলায় জেলায় মৃৎ শিল্পের বাজার তৈরি করা যেতে পারে ।।
৫। উৎপাদনের নিখুঁত ফলাফলের জন্য সনাতন চাকার পদ্ধতির পরিবর্তে “কিক হুইলঃ ব্যবহার করতে হবে ।।
৬। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী ।।
৭। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে ।।
৮। এই শিল্পে আগ্রহীদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে ।।

আশার বাণী

বর্তমানে মৃৎ শিল্পের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে মানুষ শৌখিনতার জন্য মাটির তৈরি জিনিসপত্র ঘরের বিভিন্ন জায়গায় সাজিয়ে ঘরের শোভা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে ।। এছাড়া বিভিন্ন অফিসে এর ব্যবহার ভালোয় লক্ষ্যনীয় বর্তমান সময়ে ।। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্টান যেমনঃ ইনফ্যাক্টস-ডু-ম্যান, আড়ং, ব্রাক, হ্যান্ডিক্রাফটস, কুমুদিনী, কারিকা, আইডিয়াস সহ অনেক প্রতিষ্টান তাদের নিজস্ব কামার দ্বারা নিত্যনতুন ডিজাইনের মাটির জিনিস বাজারে বিক্র্যের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করছে যা আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে ।।

২৭ thoughts on “শিল্পের সাতকাহন- মৃৎ শিল্প ……

  1. একমাত্র সরকারের পৃষ্টপোষকতার
    একমাত্র সরকারের পৃষ্টপোষকতার অভাবে এই শিল্পটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আর জাতি হিসাবে আমাদের নাগরিকদের পৃষ্টপোষকতার চরম অভাব অমার্জনীয়। সরকারের পৃষ্টপোষকতা পেলে এখনও মৃৎশিল্প আমাদের অন্যতম রপ্তানী পণ্য হিসাবে বিশ্বে একটা স্থান নিতে পারবে।

    গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটার মন্তব্য ও পাঠক খরা দেখে আমি হতাশ। আমাদের অনলাইন পাঠক আর এক্টিভিস্টরা শুধু রাজনৈতিক চুলকানী নিয়েই ব্যস্ত। সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটা স্টিকি করার জন্য ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্ট আকর্ষন করছি।

    1. ধন্যবাদ চন্দ দা আপনার
      ধন্যবাদ চন্দ দা আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যর জন্য ।। :বুখেআয়বাবুল: আমাদের অনলাইন পাঠক আর এক্টিভিস্টরা শুধু রাজনৈতিক চুলকানী নিয়েই ব্যস্ত। এই লাইনটা পড়ে হাসতে হাসতে 😀 কাইন্দালাইচি :কানতেছি:

  2. ভালো একটা টপিক নিয়ে লিখেছেন।
    ভালো একটা টপিক নিয়ে লিখেছেন। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প হতে পারে দেশের গুরুত্বপুর্ন শিল্প।

  3. চমৎকার একটি পোস্ট একই সাথে
    চমৎকার একটি পোস্ট একই সাথে আমাদের কৃষ্টি এবং ঐতিহ্য নিয়ে দারুণ একখান কাজ করেছেন। :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow:
    মাস্টার সাব-কে এক্সপ্রেসে দেয়ার জন্যেও অফুরন্ত ধইন্যা!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    প্রিয়তে নিলাম শেয়ার দিলাম!! এইসব সবার জানা উচিৎ…
    সাথে সাথে যাদের সুযোগ আছে তাদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানাইলাম!

    1. তারিক ভাই এত্ত সুন্দর করে
      তারিক ভাই এত্ত সুন্দর করে ধন্যবাদ দিছেন :লইজ্জালাগে: অনেক অনেক ধন্যবাদ ।। এটা আমার দ্বিতীয় লেখা শিল্প নিয়ে এর আগে একটা দিয়েছি তাঁত শিল্প নিয়ে ।। আসতে আসতে বাংলাদেশের সোনালী কিন্তু বিলুপ্ত প্রায় শিল্প নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে …… :বুখেআয়বাবুল: :ভালুবাশি:

  4. চমৎকার শিল্প এই মৃৎ শিল্প।
    চমৎকার শিল্প এই মৃৎ শিল্প। দারুণ লাগে আমার কাছে …
    এর বিলুপ্তির প্রধান কারণ মনে হয় প্রচারের অভাব। জোরালো ভাবে প্রচার করলে এর বিকাশ খুব সহজেই করা যেতো। কারণ কম বেশি সবারই এই সমস্ত জিনিশের প্রতি আগ্রহ আছে। কিন্তু আমারা আমাদের তৈরি জিনিশের উপর খুব বেশি নজর দেই না। নিজেদের জিনিসের উপর আমাদের এতো বেশি অনাস্থা!!!
    যা হোক, আপনাকে ধন্যবাদ …

    1. ঠিক বলেছেন জনাব মেলা খেলা
      ঠিক বলেছেন জনাব মেলা খেলা ছাড়া আমরা সাধারণত খুব একটা এই শিল্পের সাথে জড়িত নয় আর সত্যিকার অর্থে অনেকেই জানেনা মৃৎ শিল্প কি ?? আপনাকে অনেক অনেক :ভালুবাশি: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ২০০৮ সালে কামার পাড়াতে
      ২০০৮ সালে কামার পাড়াতে গিয়েছিলাম একবার আমাদের এখানেই আর সেখানেই আমারও দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো 😀 হাতে কাঁদা মেখে চাকা ও ঘুরিয়েছিলাম :ভেংচি: কিন্তু ঠিকমত বানাতে পারিনাই কি যে বানাইছি আমি নিজেও জানিনা :হাসি: আপনাকে অনেক অনেক :ধইন্যাপাতা: আর :বুখেআয়বাবুল:

  5. শালার চাইনিজরা মাটি দিয়ে
    শালার চাইনিজরা মাটি দিয়ে খেলাটাও আগে শুরু করলো? আফসোস!
    এই সব ছোট ছোট শিল্প রক্ষায় আসলেই কি কোন ঋণের ব্যাবস্থা নাই? আমি ঠিক জানি না, just asking.

    1. মেইড ইন চায়না, বেশিদিন যায়না
      মেইড ইন চায়না, বেশিদিন যায়না কিন্তু যা বানায় তাই সুপার হিট হয়ে যায় ওদের আর ঋণের ব্যাপারটা তখনি কার্যকর হবে যখন সরকার সরাসরি এই শিল্পের গুরুত্ব বুঝতে সক্ষম হবে কিন্তু আফসুস সরকার এই শিল্পের দরকার অনুভব করতে অক্ষম …… ধন্যবাদ নাভিদ ভাই :বুখেআয়বাবুল: :ভালাপাইছি:

  6. সুন্দর একটি বিষয় আমাদের মাঝে
    সুন্দর একটি বিষয় আমাদের মাঝে তুলে এনেছে। ইস্টিশন মাস্টারকে স্টিক করার জন্যে ধন্যবাদ।

    দাদা কিছু কথা ,

    এই ধরণের কাজের
    সাথে জড়িত তাদেরকে কামার বলী।।

    আমার জানা মতে তাদের কুমার বলে, লোহার কাজ যারা করে তাদের কামার বলা হয়।

    আর এই শিল্পের কমার পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ আছে। তার মধ্য অন্যতম হিন্দুদের জাতি প্রথা, পাল সম্প্রদায় এ শিল্পের সাথে জড়িত। প্রাচীন পাল বংশের লোকেরা বংশ পরম্পরায় এ কাজ করলেও বর্তমানে এ কাজকে ছোট মনে করে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে তারা। আবার যেহেতু হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পালেরা এ শিল্পের মুলে ছিল দেশান্তরের ফলে এ শিল্প এত কমে গিয়েছে। আমি বর্তমানে যে এলাকায় থাকি এখানে আগে প্রচুর পাল থাকত তারা এ কাজ করতো কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই এখন করে না , এ কাজকে ছোট মনে করে। কারণ এটি যে শিল্প, তার কদর নেই অনেকের কাছেই। আবার অনেকে এদেশ ত্যাগ করেছে। বিশেষ করে বাবরি মসজিদ নিয়ে ঝামেলা পর।

    সর্বপ্রথম আমাদের যা করণীয় তা হল এটি একটি শিল্প তা সকলকে বোঝানো । এখনও যারা এ কাজে জড়িত আছে তাদের বেশির ভাগই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত। তাদের উৎসাহ প্রদান। প্রতিযোগিতার মধ্যমে পুরষ্কৃত করা।

    আফসোস এখানেই যে, যত দিনে আমরা এ মৃৎশিল্পের কদর দিতে শিখবো ততদিনে প্রতিভাবান এ সকল মৃৎশিল্পিরা আর থাকবে না। তখন আফসোস করবো আর মৃৎশিল্প পরিনত হবে প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে বইয়ের গল্পে।

    1. জয় অনেক ধন্যবাদ তোকে এত
      জয় অনেক ধন্যবাদ তোকে এত সুন্দর করে বলার জন্য এবং ভুলটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য ।। :বুখেআয়বাবুল: আমি তোর সাথে ১০০ % সহমত আর একটি ব্যাপার বলতে চাই এই শিল্পটা অনেকটা সৌখিন শিল্পের পর্যায়ে পড়ে আর মানুষের বর্তমানে যে অবস্থা তাতে করে শখ পূরণ করা অনেক কষ্ট ।। কিন্তু তারপরেও তোর সাজেস করা সর্বপ্রথম আমাদের যা করণীয় তা হল এটি একটি শিল্প তা সকলকে বোঝানো । এখনও যারা এ কাজে জড়িত আছে তাদের বেশির ভাগই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত। তাদের উৎসাহ প্রদান। প্রতিযোগিতার মধ্যমে পুরষ্কৃত করা। কাজটা করা গেলে হয়তো অনেকাংশে এই শিল্পের বিকাশ করা সম্ভব এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব …… :ভালুবাশি: অনেক অনেক অনেক :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *