মৃত্যু সুন্দর বিষাদে…রহস্য অনুগল্প …

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো,আপনার শেষ ইচ্ছা কি?
তিনি জবাব দিলেন,মানুষের ইচ্ছার কোনো শেষ নেই!
তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো,আপনার শেষ ইচ্ছা কি?
তিনি জবাব দিলেন,আমার সামনে রবীন্দ্রনাথকে উপস্থিত করা হোক।আমি তার অধর চুম্বন করতে চাই।কারন তিনি ভাগ্যবান ছিলেন,তিনি লিখেছেন কিন্ত তাকে শাস্তি পেতে হয়নি।

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো,আপনার শেষ ইচ্ছা কি?
তিনি জবাব দিলেন,মানুষের ইচ্ছার কোনো শেষ নেই!
তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো,আপনার শেষ ইচ্ছা কি?
তিনি জবাব দিলেন,আমার সামনে রবীন্দ্রনাথকে উপস্থিত করা হোক।আমি তার অধর চুম্বন করতে চাই।কারন তিনি ভাগ্যবান ছিলেন,তিনি লিখেছেন কিন্ত তাকে শাস্তি পেতে হয়নি।
কারারক্ষীদের উর্ধতন কর্মকর্তারা এবার হাল ছেড়ে দিলেন,চুপচাপ তাকে নিয়ে যাওয়া হলো ফাঁসীর মঞ্চের দিকে।শেষ মুহূর্তে ফাঁসীর আসামীদের পাগলামির সাথে তারা পরিচিত। কিন্ত এটা আলাদা,যেনো এর ভেতর থেকেই কিসের একটা ইংগিত ভেসে আসে।

তার শীতল দৃষ্টির সামনে জল্লাদকে বিভ্রান্ত দেখা গেলো,একটা দিশেহারা ভাব নিয়ে সে সবকিছু গুলিয়ে ফেলছিলো।একটা থমথমে ভাব বিরাজ করছিলো ফাঁসীর মঞ্চের চারপাশে।সামনে দাঁড়ানো প্রতিভাবান এবং চমৎকার ব্যাক্তিত্বের অধিকারী এই লেখককে দেখে সবার মনে নিজের অজান্তেই যেনো নাড়া দিয়ে গেলেন স্বয়ং সক্রেটিস। প্রফেসর আবেদ মৃত্যু সুধা পান করবেন,যদিও তার কোনো শিষ্য এখানে উপস্থিত নেই।তিনি এই শতাব্দির সব’চে ঘৃনিত মানুষ।কিন্ত নিজেকে তিনি প্রচন্ড ভালোবাসেন।

প্রফেসর আবেদ পদার্থবিদ্যার শিক্ষক,এদেশের প্রথম শ্রেণীর লেখক।প্রতিবছর তার বই বেস্ট সেলার হয়।
মেলায় তার নামে স্বতন্ত্র স্টল খুলে তাকে সম্মান জানান প্রকাশকেরা।এখানে শুধু তার বইয়ের মোড়ক প্রদর্শন করা হয়।ব্যাক্তিগত জীবনে চীরকুমার এই লেখককে গ্রেফতার করে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো তার লেখা উপন্যাস”মৃত্যু সুন্দর বিষাদে”র জন্য…
তার প্রতি অভিযোগ আনা হয় তিনি আত্মহত্যাকে উৎসাহ দিয়েছেন তার বইয়ে। জোড়ালো যে ব্যাপারটা কাজ করে তিনি তার উপন্যাসের নায়ককে দিয়ে তিনটি অনবদ্য পদ্ধতিতে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন।

(ক.)সুক্ষ সুই দিয়ে জুগুলার ভেইন(ঘাড়ের পেছনে মাঝামাঝি জায়গায়)ছিদ্র করে দেয়া।
(খ)একটা বিশেষ অস্ত্রের নির্মান কৌশল যা দিয়ে দুর থেকে পটাশিয়াম সায়ানাইডের একটা সুক্ষ ও শক্তিশালী ধারা মানুষের বুক বরাবর ছুড়ে মারা।
(গ)শাওয়ারের নীচে স্নানরত প্রতিপক্ষের পানির ট্যাংকে শক্তিশালী বিদ্যুত প্রবাহিত করে দেয়া।

তার তৃতীয় পদ্ধতিটা মারাত্মকরূপে ছড়িয়ে যায়,বই প্রকাশের দ্বিতীয় দিনেই এই পদ্ধতিতে সারাদেশে খুন হন প্রায় ১৭ জন লোক।তৃতীয় দিনেই বইটি নিষিদ্ধ করে এর সকল কপি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়।তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় হাজতে।চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ৩ জন ও তৃতীয় পদ্ধতিতে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়।
সপ্তাহ পরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৪টি তে।মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ে খুনের এই প্রক্রিয়া।

ফাঁসী কার্যকরের যখ দশ মিনিট বাকি,প্রফেসর আবেদ অনুরোধ করলেন তাকে যেনো জমটুপি পড়ানো না হয়।তার ক্ষনিকের চোখ আলোর বন্যায় ভেসে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিতে চায়।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয় কিছু বলতে চান কি না?
তিনি মুচকি হেসে জবাব দেন,মানুষ বলতে চাইবে এটাই মানুষের জন্য স্বাভাবিক স্বভাব।আমিও বলতে চাইবো এটাও স্বাভাবিক।
আমি কোনো অপরাধ করিনি,না আমি কিছু আবিস্কার করেছি।আপনারা কি আমাকে বলতে পারেন?যিনি ফাঁসীর প্রক্রিয়া আবিস্কার করেন তাকে কি ফাঁসীতে ঝুলানো হয়েছিলো? এ পৃথিবীতেই বিষ আবিস্কৃত হয়েছে,ড্রোন,বোমা,গ্রেনেড,পারমানবিক অস্ত্র,ডিনামাইট। তাদের কজনকে ফাঁসীতে ঝুলানো হয়েছে?
আলফ্রেড নোবেল কি ভুল করেছিলেন ডিনামাইট আবিস্কার করে?
আমি জানি আমার নামে আবেদ প্রাইজ দেয়া হবেনা।এটাও জানি আমি ভুল করিনি।আমি লিখেছি মাত্র।

কারারক্ষীর একজন বলেন,প্রফেসর আপনার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
তার অনিচ্ছায় তাকে জমটুপি পড়িয়ে দেয়া হয়।
তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় ভোর রাতে।মৃত্যুর আগে তিনি বলে যান,আমি শেষ সুত্র রেখে গেলাম”মৃত্যু সুন্দর বিষাদে “….
দুই সপ্তাহ পরেই ওই পদ্ধতিতে খুন করা খুনিদের যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো যাদের হয়নি তাদের প্রায় সবাই মারা যায় বিষাদগ্রস্থতায় আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যা করে।

অতঃপর মানুষ ভুলে যায়।ভুলে গিয়ে মানুষ সুখে থাকে।ভুলে না থেকে মানুষেরা পারেনা।এই ভুলে থাকাই যেনো প্রতিটি মানুষের প্রতিদিনের শেষ ইচ্ছা।
যদিও মানুষের ইচ্ছার কোনো শেষ নেই।

২৪ thoughts on “মৃত্যু সুন্দর বিষাদে…রহস্য অনুগল্প …

  1. রাজু ভাই আপনার প্রচুর কবিতা
    রাজু ভাই আপনার প্রচুর কবিতা পড়েছি, এই প্রথম অনবদ্য একখান গদ্য পড়লাম! অন্যরকম লাগল… চমৎকার!! :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: আরও পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  2. দারুন একটা অনুগল্প! কবিতার মত
    দারুন একটা অনুগল্প! কবিতার মত কিছুটা দুর্বোধ্য হলেও থিমটা বেশ ইউনিক লাগলো…
    ক্যারি অন ব্রো!
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      1. ব্যাপক……
        :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:
        ব্যাপক…… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. রাজু দা আপনার কবিতার মতই
    রাজু দা আপনার কবিতার মতই সেইরাম একটা জিনিস লিখছেন সত্যি বলছি দাদা অসম্ভব ভাল লাগলো :বুখেআয়বাবুল: আর চাই :অপেক্ষায়আছি:

  4. আপনার লেখার স্টাইলের ফ্যান
    আপনার লেখার স্টাইলের ফ্যান হয়ে গেলাম ।
    আপনার কবিতা অতো ভাল না লাগ্লেও স্টোরি রাইটিং ইজ এক্সেলেন্ট !!!
    স্ট্রং রাইটার হবার সব কোয়ালিটি আপনার গদ্য লেখার ভেতর ইনহেরেন্টলি আছে ।
    অনেক অনেক থ্যাংকস !!!
    :ফুল: :ফুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *