বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী vs সংখ্যালঘু , একটি বাইঞ্চোদ খেলার ইতিকথা


বিশাল বড় স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। কোটি কোটি দর্শক শ্বাসরুদ্ধ উত্তেজনাপূর্ণ “বাইঞ্চোদ খেলা” দেখতে আজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত। ঐতিহাসিক এই খেলা দেখার দুর্লভ সুযোগ হারাতে কেউ রাজি নয়। তার উপর উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলা দেখার জন্য আগ্রহী দর্শকদের কোন মাল্টি ন্যাশনাল ব্যাংকসমুহু টিকেটের জন্য সুবেহ সাদিকের আগ থেকে লম্বা লাইন দিতে হয়নি। প্রতিটি দর্শককের ঘরের দুয়ারে আজকের খেলার টিকেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। একদম বিনামূল্যে। সুযোগসন্ধানী দর্শকরা তাই পুটলা পুটলিসহ উপস্থিত। প্রায় প্রত্যেকের হাতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন উক্তি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ,ব্যানার। কেউ আবার সারা মুখে রঙ চড়িয়ে এসেছে। কারও হাতে দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত সব ফ্ল্যাগ। এই ফ্ল্যাগের মাজেজা খোদ ফ্ল্যাগধারণকারী সেই ধর্ষকও বোধ হয় জানেন না।

স্টেডিয়ামের উত্তর ও দক্ষিন পার্শ্বে প্রমান সাইজের ইয়া বড় বড় দুটি জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে। বিরতির সুযোগে দেশীয় এবং বৈদেশিক দালালদের বিভিন্ন পণ্যের রকমারি বিজ্ঞাপন সেখানে দেখানো হচ্ছে। দর্শকদের মগজে কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে তাঁবেদারি মনোভাব। আমাদের পণ্য ছাড়া তুমি অচল। কারণ তারা জানে দর্শকরা বরাবর হুজুগে মাতাল হতে ভালোবাসে।
স্টেডিয়ামে এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গ্যালারী ভর্তি দর্শক আনন্দে হই-চই জুড়ে দিয়েছে, সিটি বাজাচ্ছে, বাদাম চিপস খাচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের হাতে রাষ্ট্রীয় খরচে তুলে দেয়া হয়েছে এক শিশি এনার্জি ড্রিঙ্কস। রিলাক্স মুডে অল্প কিছুসময় পরপর তারা এনার্জি ড্রিঙ্কসের শিশিতে চুমুক লাগাচ্ছে আর গলার রগ ভাসিয়ে চিৎকার করছে– আমগর এতো আনন্দ ক্যারে!

ইতিমধ্যে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছেন একটি ঘাড়ের দুইটি মাথা। ভিভিআইপি গ্যালারীতে পাশাপাশি বসা সরকার ও বিরোধী দলের প্রধান। তারাও আজ তাদের সকল মহার্ঘ রাজকর্ম ফেলে “খেলা” দেখতে উপস্থিত। অদ্ভুত বিষয় হল আজ উনাদের ভিতরে নেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে মনোমালিন্য। নেই নিষিদ্ধপল্লীখ্যাত কটুকথা, কার পরিবার কতো দেশপ্রেমী সেই বিষয়ে নেই বাহাস! আজকের এই ঐতিহাসিক খেলা দেখতে উনারা এক কাতারে শামিল। দুজনার হাতে এক শিশি এনার্জি ড্রিঙ্কস। ভাগাভাগি করে শিশি ভর্তি এনার্জি ড্রিঙ্কস গিলছেন। শুধু তাই না মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে একজন আরেকজনের মুখে আদর করে ড্রিঙ্কস তুলে দিচ্ছেন। গড়িয়ে পড়া ড্রিঙ্কসের ফোঁটা আঁচল দিয়ে মুছে দিচ্ছেন। আশ্চর্য এই দৃশ্য জায়ান্ট স্ক্রিনে বারবার টেনে টেনে স্লো মোশনে দেখানো হচ্ছে! দর্শকগণ হাত তালির সাথে পা তালি বাজাচ্ছে। এতে সাউন্ড বেশি হয়।
যে খেলা আজ এতো কিছু সম্ভব করেছে তা আর অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হবে। চরম উত্তেজনার সেই খেলা দেখতে সবার অধীরঅপেক্ষা।

শক্তিশালী ফ্লাডলাইটের আলোয় গাঢ় সবুজ মাঠে প্রবেশ করলো খেলায় অংশগ্রহনকারী দলদুটি। প্রথমেই প্রবেশ করলো যে দল তার নাম বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী । এই দলের সদস্য সংখ্যা ঠিক কতো সে সঠিক হিসাব মাঠের আঠারোটি ক্যামেরার সাহায্যেও সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠের ষোল কোটি দর্শক বেশুমার হাততালির আর ভুভুজেলার আর্তনাতে স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী খেলোয়াড়দের স্বাগতম জানালো। দল কিছুক্ষন পর মাঠে প্রবেশ করলো প্রতিপক্ষ দল।

আরে, এটা কি হল?

প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় কেবলমাত্র একজন। অসম্ভব ভীত, অসহায় চেহারার এই খেলোয়াড় সদ্য কৈশোরে পা দেয়া একটি ছেলে।

আরও অবাক করা বিষয় প্রতিপক্ষের মাঠে প্রবেশের ফলে স্টেডিয়ামের কোথায়ও কোন সাড়া শব্দ নেই। ওয়েলকাম চিয়ার্স নেই। হাততালি দূরে থাক, ফেরিওয়ালার এই বাদাম, এই বাদাম ডাকটাও কোথায় শুনা যাচ্ছে না। বিশাল স্টেডিয়ামে পিনপতন নিরবতা।

দর্শকদের অনেকেই বলছে এইটা ফেয়ার খেলা হচ্ছে নয়। খেলা হতে হয় সমানে সমান। আবার গুটিকয়েকজন দর্শক (যাদের চেহারা দেখা যায় না মুখোশের আড়ালে) ফোঁড়ন কেটে বলছে কিশোর একজন সংখ্যালঘু খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করছে। যেহেতু দলের নামই সংখ্যালঘু তাই দলের সদস্য সংখ্যা লঘু। সুতরাং একজন খেলোয়াড় ঠিকই আছে!

লজিক পাল্টা লজিকে দর্শকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের দ্বিধাভাব কাটানোর মতো কেউ নেই। কেউ বলছে কোনটা শুদ্ধ। কোনটা সঠিক। কনফিউজড মাইন্ড নিয়ে তারা আরেকবার উপলব্ধি করলো– তাদের একজন নেতার বড় অভাব।

সে যাই হোক। এখন সময় খেলা উপভোগের। চরম উত্তেজনাকর প্রানবন্ত এই বাইঞ্চোদ খেলায় মাঠে যেহেতু উপস্থিত হয়ে গেছে দুই শক্তিশালী দল(!!) তাই এখন উপভোগই শ্রেষ্ঠ অপশন। দর্শকরা নিজেকে নিজে বুঝ দিয়ে খেলা দেখা শুরু করে।

বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী vs সংখ্যালঘু। রেফারীর ফুড়ুৎ বাঁশির শব্দে মধ্যমাঠ থেকে বাইঞ্চোদ খেলা শুরু হয়।

দৌড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষ সংখ্যালঘু দলের একমাত্র খেলোয়াড়টি দৌড়াচ্ছে। তার পিছনে “হারে রে রে রে” সূর তুলে দৌড়াচ্ছে বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দল। খেলার নিয়ম মেনেই বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদলের প্রত্যেক সদস্যদের হাতে শোভা পাচ্ছে দাউ দাউ করে জ্বলা মশাল, চাপাতি, সুচালু ধারালো হরেক অস্ত্র। কারণ এই খেলার নিয়ম হচ্ছে প্রতিপক্ষকে মেরে ফেলা। ভয়ঙ্করভাবে জানে মেরে ফেলা।

বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী জশিলা উৎসাহে দল ছুটছে কিশোরটির পিছনে। গ্যালারীর এক অংশের অল্প কিছুদর্শক (যাদের চেহারা দেখা যায়না মুখোশের আড়ালে) বাহারি প্ল্যাকার্ড, ড্রাম, ভুভুজেলা বাজিয়ে বিভিন্ন রক্তগরম করা উক্তি ছুঁড়ে চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছে- ধর ধর ধর হালারে; ছাড়িস না কইলাম।
রক্ত গরম উক্তি রক্ত গরম করে দেয় স্টেডিয়ামে দ্বিধা বিভক্ত দর্শকদের। তারাও চিৎকার করে উঠে- এতক্ষন লাগে ক্যা একটারে ধরতে? ছিল্লা ফালা!

বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী দলের একেকজন একেকটা করে চাপাতির কোপ বসাচ্ছে। আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে ছেলেটির গা, আর উত্তাল দর্শক চিৎকার করে বলছে– “সাব্বাস, ছিঁড়া ফেলা হারামজাদারে; পুড়াইয়া দে।
চিৎকার করতে করতে গলা শুকিয়ে আসলে দর্শকরা রাষ্ট্রীয় খরচে বিনামূল্যেপাওয়া এনার্জি ডিংক্স্বে চুমুক লাগিয়ে আবার সজোরে স্লোগান তুলে। বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের উৎসাহ দেয়।
কিন্তু হায়, দর্শকদের কেউ একটিবারের জন্যও লক্ষ্য করছে না তাদের হাতে ধরা সেই এক শিশি এনার্জি ড্রিঙ্কস এখন তাজা রক্তে ভরপুর। তারা সবাই সেই তাজা রক্তে চুমুক লাগাচ্ছে আর বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের উৎসাহ দিয়ে চলছে– কাইটালা চুতমারানিরে, কাইট্টালা।

কিশোরের উপর আনিত আঘাতের প্রতিটি এক্সক্লুসিভ দৃশ্য বার বার জায়ান্ট স্ক্রিনে রিপ্লে করে দেখানো হচ্ছে। প্রতিটি কোপের পুঙ্খানুপুঙ্খ খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ ধারাভাষ্যকার বর্ণনা করছে। আরও ভালভাবে শরীর জ্বালিয়ে দেবার জন্য বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদলের ভিনদেশি কোচ মাঠের পাশ থেকে নেচে নেচে বিভিন্ন রসালো সাজেশন দিয়ে যায়।
বিপুল দর্শক উৎসাহ এবং ভিনদেশী কোচের সাজেশন পেয়ে বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদল আরও দিগুন উত্তেজনায় খিঁচে দৌড় লাগায় নিঃস্ব সেই কিশোরের পিছন পিছন।

এই বাইঞ্চোদ খেলার এই পজিশনে কি করছে বা ভাবছে সেই সংখ্যালঘু কিশোরটি? সেই অসহায় কিশোর জীবনবাজী রেখে সারা মাঠ ছুটে চলছে। তার সারা দেহ রক্ত আর ঘামে চুপচুপে ভিজা। এখানে সেখানে পুড়ে যাওয়া ক্ষত দগদগ করছে। জলজ্যান্ত ঘা থেকে টপটপ করে লাল রক্ত সবুজ মাঠে গড়িয়ে পড়ছে। সে ঘুরেফিরে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে গ্যালারীর কোটি দর্শকদের। কিশোরের চোখ ভেসে উঠে জায়ান্ট স্ক্রিনে। ক্ষনিক সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের পক্ষে গ্যালারী কাঁপানো দর্শকদের উল্লাস! তারা স্থির তাকিয়ে রয় কিশোরের চোখে। তারা বুঝতে চেষ্টা করে– ঐ চোখে কি আছে? খেলায় অংশগ্রহনের আনন্দ নাকি ঘৃণা? এই ঘৃণা কার প্রতি? তাদের প্রতি নয় তো?

ঠিক যখন দর্শকরা ভাবতে শুরু করে কিশোরটির অবস্থান থেকে বর্তমান খেলার পরিস্থিতি, ঠিক সেই সময়ে স্ক্রিনে ভেসে উঠে- কিশোরের পিঠে বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী আরও একটি তরতাজা কোপ। মুখোশের আড়ালে অল্পসংখ্যক সেই লোকগুলো উল্লাসধ্বনি গেয়ে উঠে। আবারো ঢাকা পড়ে যায় কিশোরের চোখ। গ্যালারীর দর্শকরা ভুলে যায় অতীত। তারা আবারো দর্শক থেকে ধর্ষক হয়ে যায়।

কিশোরের মনে ভর করে বিষাদ, শরীর জুড়ে অবসন্নতা। যখন সে নেতিয়ে পড়তে চায় পিছনে ফিরে চায় আর দেখে বিশাল সেই বাহিনীটাকে নির্মমভাবে হত্যা করছে, দাঁত কেলিয়ে ধেয়ে আসছে। তাদের চোখে খুনের মাতাল নেশা। কিশোরটি আবছা আবছা দেখতে পারে দর্শকদের মাতাল উৎসাহ। ভীত ছেলেটি দুর্বল শরীর টেনে হিঁচড়ে ছুটে চলে। ছুটে চলে বেঁচে থাকার দূর্বার তাগিদে। সে ছুটে চলছে একটুখানি নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়।

===================================================================

এই বাইঞ্চোদ খেলা কোন নির্দিষ্ট দেশের লোকজ খেলা নয়। এই খেলা সারা বিশ্বের খেলা। সারা দুনিয়ায় এই হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। অদ্ভুত তথ্য, তুমুল জনপ্রিয় এই খেলায় সবসময় পরাজয় ঘটে সংখ্যালঘুদের। তারপরও এই খেলা চলছে। কারণ গ্যালারী ভর্তি সেইসব দ্বিধাগ্রস্ত দর্শক আজ পর্যন্ত ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য ধরতে পারেনা। তারা নিজেদের অভিশাপ দেয় নেতাহীনতার, অথচ তারা নিজেরা নেতা হয়ে সত্য-মিথ্যা, সঠিক-ভুল আলাদা করে না। এইসব দর্শকদের দোদুল্যমান মানসিকতার সুযোগ নিয়ে মুখোশের আড়ালে নিজ চেহারা লুকানো সেইসব মুষ্টিমেয় দর্শকরা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যমে আঘাতের পর আঘাতের মুক্ত অধিকার দিয়ে যায় বিকৃত রুচির সেইসব ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের । ওরা সংখ্যায় কম, কিন্তু আমরা দর্শকরা কনফিউজড। এই কারণেই হয়তো আজও বাইঞ্চোদ খেলায় আমরা না বুঝেই হাততালি দিয়ে যাই । উৎসাহিত করে যাই নোংরামিতে

আরও একটি প্রশ্ন আপনাদের মনে থেকে যাচ্ছে আমি জানি । কথা হচ্ছে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও কেন সেই একলা কিশোর এই “মরন খেলায়” অংশগ্রহণ করে?
গ্রহণযোগ্য একটি উত্তর হতে পারে– তাদের বাধ্য করা হয়। সবসময় সংখ্যালঘুদের কাঁধে পা রেখে নষ্ট রাজনীতি আসমান পর্যন্ত নিজেদের ক্ষমতা বিস্তার করতে চায় । ঘোলা জলে উনারা মাছ শিকার করেন। আর ধ্বংস হয় মানবতা। কে অস্বীকার করবে ?

কিন্তু আমার মনে হয় সেই কিশোর এই “খেলায়” অংশগ্রহণ করে আরও একটি কারণে। আমার ধারনা সেই কিশোর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সে একদিন পারবে । হ্যাঁ একদিন সে পারবে নিশ্চিত পরাজয়কে রুখে দিতে। আর ওদের বিজয়কে রুখে দেয়া মানেই অসুস্থ এই খেলার চির পরিসমাপ্তি। অসাম্প্রদায়িক পারস্পরিক ভালোবাসার পরিবর্তিত একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে কিশোরটি যুগের পর যুগ এই খেলা খেলে যাচ্ছে ।

আমিও মনে প্রানে বিশ্বাস করি কিশোরটি একদিন অবশ্যই পারবে। তাকে যে পারতেই হবে ।

৪১ thoughts on “বিকৃত ধর্মীয় উগ্রপন্থী vs সংখ্যালঘু , একটি বাইঞ্চোদ খেলার ইতিকথা

    1. আতিক ভাই , আমার মনে হয় এর
      আতিক ভাই , আমার মনে হয় এর বাস্তবয়ায়ন আমাদের সবাইকে করতে হবে । দর্শকদের মতো কনফিউশন মুডে আমরা আর বসে থাকতে চাই না ।

    1. অতি শিগ্রী , আরেকটা ঘটনার
      অতি শিগ্রী , আরেকটা ঘটনার জন্য অপেক্ষা করে না । এইসব সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করতে হবে এই মুহূর্তে । যে ভাবেই হোক

  1. একটা সুদূরপ্রসারী এবং
    একটা সুদূরপ্রসারী এবং প্ল্যানড প্রবল সাংস্কৃতিক আন্দোলন দরকার…
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. একটা সুদূরপ্রসারী এবং
      একটা সুদূরপ্রসারী এবং প্ল্যানড প্রবল সাংস্কৃতিক আন্দোলন দরকার

      তারিক ভাই , পূর্ণসহমত এবং তা অতি শিগ্রী

    1. শঙ্খচিলের ডানা , ধন্যবাদ
      শঙ্খচিলের ডানা , ধন্যবাদ

      একেবারে নির্মূল হোক , সকল ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা । তারচেয়েও বড় কথা — আমরা বিচার দেখতে চাই সেসব অপরাধীর । কঠিন বিচার

  2. এমন চমৎকার রূপকের মাধ্যমে এমন
    এমন চমৎকার রূপকের মাধ্যমে এমন নির্মম বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন …।।
    লেখা অসাধারণ…
    কিন্তু বাস্তবে এর ফল পাব বলে মনে হয় না। কিশোরটি সবসময় পদদলিত হয়েই যাবে। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠরা মানুষ শুধু আকারেই।

    1. একদিন না একদিন রাত কাটবেই ।
      একদিন না একদিন রাত কাটবেই । অন্তত সেই বিশ্বাস রেখে আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে ।

      একেবারে নির্মূল হোক , সকল ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা । তারচেয়েও বড় কথা — আমরা বিচার দেখতে চাই সেসব অপরাধীর । কঠিন বিচার

  3. এদেশে আমরা মুলত সংখ্যাগুরু
    এদেশে আমরা মুলত সংখ্যাগুরু নাকি বোধবুদ্ধিহীন সংখ্যা-গরু? গরুই হব নিশ্চয়। নাতো এতো নির্বিকার থাকি কি করে?

    1. বোধবুদ্ধিহীন সংখ্যা-গরু
      বোধবুদ্ধিহীন সংখ্যা-গরু

      কথাটি এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । বোধশক্তি থাকা কোন মানুষ এমন হামলা সহ্য করতে পারে না । আমরা বিচার দেখতে চাই । এই পর্যন্ত সকল হামলার বিচার চাই

  4. সাম্প্রদায়িকতা উস্কানীর দায়ে
    সাম্প্রদায়িকতা উস্কানীর দায়ে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।

    1. উস্কানিদাতা সে যেই হোক , হোক
      উস্কানিদাতা সে যেই হোক , হোক যতো বড় পত্রিকার মালিক , বিচার তার প্রাপ্য ।

      সেই সাথে বিচার চাই এই পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক হামলার সাথে জড়িত সকল অপরাধীর । অনেক ফাঁকি দেয়া হয়েছে । আর কতো ? হামলার কঠিন বিচার হোক , হামলা কমে যাবে ।

  5. তারা নিজেদের অভিশাপ দেয়

    তারা নিজেদের অভিশাপ দেয় নেতাহীনতার, অথচ তারা নিজেরা নেতা হয়ে সত্য-মিথ্যা, সঠিক-ভুল আলাদা করে না।

    এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা!

    1. কিন্তু তারপরও আমরা দর্শকরা
      কিন্তু তারপরও আমরা দর্শকরা খুঁজেই যাচ্ছি ।

      এর কারণ হতে পারে , আমরা নতুন কিছু গ্রহনে প্রস্তুত নই । অথবা আমাদের নতুন মাথা গজানোর আগেই কেটে দেয়া হয় । কারণ যাই হোক – সময় এখন ভিন্ন কিছু বলার ।

  6. আজকের এই পরিস্থিতির জন্য
    আজকের এই পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী। জামায়াত-শিবিরকে লালন করার ফল আমরা পেতে শুরু করেছি।

    1. দায় কেউ এড়াতে পারবে না
      দায় কেউ এড়াতে পারবে না ।
      একেবারে নির্মূল হোক , সকল ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা । তারচেয়েও বড় কথা — আমরা বিচার দেখতে চাই সেসব অপরাধীর । কঠিন বিচার

  7. সেই কিশোর
    দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস

    সেই কিশোর
    দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সে একদিন পারবে ।
    হ্যাঁ একদিন সে পারবে নিশ্চিত
    পরাজয়কে রুখে দিতে। আর ওদের
    বিজয়কে রুখে দেয়া মানেই অসুস্থ এই খেলার
    চির পরিসমাপ্তি। অসাম্প্রদায়িক পারস্পরিক
    ভালোবাসার পরিবর্তিত একটি রাষ্ট্রের
    স্বপ্ন নিয়ে কিশোরটি যুগের পর যুগ এই
    খেলা খেলে যাচ্ছে ।

    1. সেই বিশ্বাস আমাদের রাখতেই হবে
      সেই বিশ্বাস আমাদের রাখতেই হবে । বিশ্বাস বিজয় আনবে । সেই কিশোরের । আমাদের

      ধন্যবাদ জয় সাব । কেমন আছেন ?

  8. খুব কট্টর ভাবে আমি হিন্দু
    খুব কট্টর ভাবে আমি হিন্দু ধর্ম মানিনা কিন্তু নিজেকে সঙ্খ্যা লঘু ভাবতে আমার জাস্ট লজ্জা লাগে! লেখাটা খুব ভাল হয়েছে সিফাত । ছবিটা ফেসবুক কভার করেছি ।

        1. মূলত বাঙ্গালী বাংলাদেশী এই
          মূলত বাঙ্গালী বাংলাদেশী এই বিভেদেই আমি যেতে চাই না । এই বিভেদের দরকার কি ? আগে পরে কোন কিছু না । আমরা বাঙ্গালী এইটা সত্য , আমরা বাংলাদেশী এইটাও সত্য । :গোলাপ:

  9. সিফাত ভাই আসল কথাটি কি
    সিফাত ভাই আসল কথাটি কি জানেন????

    …..আমরা দর্শক হয়ে খেলা দেখতেই বেশি ভালবাসি।আমরা দুর্বলকে মার খেতে দেখলেই বেশি মজা পাই।

    …..দেখুন রাস্তায় একটা খুন হলে দেখলে আমরা ১০০জন নিশ্চুপ দর্শক হয়ে দাড়িয়ে দেখতে ভালবাসি!!!!কেউ প্রতিবাদ করতে চাই না। অথচ আমরা যদি মাত্র ৫০ জন প্রতিবাদ করতে এগিয়ে যেতাম তবে ওই খুনের ঘটনাটি নাও ঘটতে পারত!!!!!কিন্তু আমরা তা করবো না কারন আমরা বানঞ্চোদ খেলা দেখতেই ভালবাসি…….

    1. ৫০ জনও এগিয়ে আসতে হবে না ।
      ৫০ জনও এগিয়ে আসতে হবে না । জাস্ট ৫ জন তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করলেই অপরাধ কমে যেত । আমরা প্রতিবাদ করি না সমস্যা এইখানেই ।

      আমি বিচার দেখতে চাই সকল সাম্প্রদায়িক হামলাকারীর । আমাদের দাবী হোক এইটাই

      ধন্যবাদ খাজা বাবা

      1. আমি বিচার দেখতে চাই সকল

        আমি বিচার দেখতে চাই সকল সাম্প্রদায়িক হামলাকারীর।আমাদের দাবি হোক এইটাই

        সহমত আমাদের দাবী হোক এইটাই……….

    1. ধন্যবাদ , ড. লজিক্যাল বাঙালি
      ধন্যবাদ , ড. লজিক্যাল বাঙালি

      আমি বিচার দেখতে চাই সকল সাম্প্রদায়িক হামলাকারীর । আমাদের দাবী হোক এইটাই

  10. অসাধারণ ।
    বুঝতে পারছি না কি

    অসাধারণ ।
    বুঝতে পারছি না কি বলবো। আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন একদিন আমাকে খুব আক্ষেপ করে বলছিল – দোস্ত, আমরা তো এই দেশে ডায়নোসর হয়ে গেলাম।
    মুখ বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। ওকে কেবল এইটুকু ভরসা দিতে পেরেছিলাম যে দোস্ত, তোর কিছু হলে সেটা প্রথমে আমার ওপর দিয়ে যাবে।
    কিন্তু এইসব ফালতু ইমোশনাল কথা বলে কি লাভ?

    সংখ্যা লঘু কথাটা শালার ডিকশনারি থেকে উড়ায় দিতে হবে।

    1. বন্ধ হোক সকল প্রকার আঘাত
      বন্ধ হোক সকল প্রকার আঘাত অত্যাচার । বাংলাদেশ আমাদের সবার । সব ধর্মের ।

      ধন্যবাদ নাভিদ কায়সার রায়ান ভাই

  11. আমিও মনে প্রানে বিশ্বাস করি

    আমিও মনে প্রানে বিশ্বাস করি কিশোরটি একদিন অবশ্যই পারবে। তাকে যে পারতেই হবে ।

    কেন পারতেই হবে ? কাদের জন্য সে পারবে ? কেন খামাখা দুরাশার বানী কপচান ? তাই কোন দিন হয় ? নাকি হয়েছে ?

    http://istishon.blog/node/6495 মতামত আশা করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *