দ্বিখন্ডিত চাম্পা কলা…

‘আকামা মানে হইলো,যার কোনো কাম কাইজ নাই।আর আকামা লাগানির মানে হইলো হেই আকামাগোর কাছ থাইকা সিডগেনচার লওয়া।অহন জিগাইবা আকামা কেনু?হুনো,মরুর দেশে খোদার ফজিলতে কিছু মানুষের কাইজ কাম করন লাগেনা,হেরার লেবাসই হেইজাইত্তা,হেরার সুনজরে যে পরে তারও লাগেনা।বুঝলানি গনীর মা?তুমার ফুত্রদনেরে বছরে একবার কইরা আকামা লাগাইতে হইবে।’
বলেই মনে মনে নিজেরে থেনকু দিলেন শরাফত মোল্লা।তার নিজের জ্ঞান গরিমারে বাহবা দিলেন চার পাঁচবার।যদিও তিনি আকামা কি ভালোই জানেন।তবুও তিনি মনগড়া ব্যাখ্যা দেন।তার মতে”জ্ঞান হইলু খান্দানি বিষয়,ছুডলোকেরে বিলানি লাগে মাইপ্পা”

‘আকামা মানে হইলো,যার কোনো কাম কাইজ নাই।আর আকামা লাগানির মানে হইলো হেই আকামাগোর কাছ থাইকা সিডগেনচার লওয়া।অহন জিগাইবা আকামা কেনু?হুনো,মরুর দেশে খোদার ফজিলতে কিছু মানুষের কাইজ কাম করন লাগেনা,হেরার লেবাসই হেইজাইত্তা,হেরার সুনজরে যে পরে তারও লাগেনা।বুঝলানি গনীর মা?তুমার ফুত্রদনেরে বছরে একবার কইরা আকামা লাগাইতে হইবে।’
বলেই মনে মনে নিজেরে থেনকু দিলেন শরাফত মোল্লা।তার নিজের জ্ঞান গরিমারে বাহবা দিলেন চার পাঁচবার।যদিও তিনি আকামা কি ভালোই জানেন।তবুও তিনি মনগড়া ব্যাখ্যা দেন।তার মতে”জ্ঞান হইলু খান্দানি বিষয়,ছুডলোকেরে বিলানি লাগে মাইপ্পা”
শরাফত মোল্লা খাঁরপোড়ার চরের একমাত্র জ্ঞানি লোক,লোকে তাকে ভগবান মানে।পেশায় আদম ব্যাপারী।বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লোকজন আসে তার কাছে।কেউ কেউ সাহায্য চাইতে।
গনীর মা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে,
‘হেইডা না অয় বুঝলাম সাব,কিন্ত কাম না করলে ফুলায় টেহা দিবো কেমনে?আমার এলহা মাত্তর ফুত,হে তো কাম করনের লাইগাই গেলো’
গনীর মা’র কান্না থামেনা দেখে শরাফত মোল্লা ধমক দেন,
‘এ কি মুছিবত মওলা! চুপ থাকো তো,মাইয়া মাইনষের মতো এতো কান্দ কেরে?’
-‘এইডা কি কন,আমি তো মাইয়া মানুষই!!’
শরাফত মোল্লা পানের পিক ফেলেন,
‘আবার বাহাসে যায়।তুমাগের এইসব কান্ড দেখলে পাছার চুলকানি বাইড়া যায় গনীর মা।বয়স হইলে কেউ আর মাইয়া তাহেনা,বুইড়া হইয়া যায়,ঝুলা লাউদা কেউ মুড়িঘন্ট খায়না।বুঝতে অইবু!অহন বাইত যাও।তয় খারাও!যাইওনা!ভুইলা গেছিলাম! গনীর একটা চিডি আছে।’
-কি চিডি!কি কইসে ফুলায়???
গনীর মার মুখে হাসির ঝিলিক,শরাফত মোল্লা বিরক্ত হয়ে তাকান,
‘কি কইসে পুরাডা কইতে গেলে তো গাঙের পানি ফুগায়া আবার ভইরা উঠবো,সারমর্ম ভাইঙ্গা কই,হে কইসে হে ভালা আছে।সুখে আছে।শুধু ওই দেশের লু হাওয়া শইল্লের মইদ্দে অল্ফ অল্ফ বিখাউজের জন্ম দিছিলো ঠিগ হয়া গেছে।আগের ফেলাট ছাইড়া নতুন ফেলাটে উঠসে।এই ফেলাটের পার্টনার খুব ভালা।’
গনীর মা অবাক হয়ে তাকায়,
-মোল্লা সাব,ফেলাট নাহয় বুঝলাম কিন্ত ফাটনার জিনিসডা তো বুঝলাম না!
‘বেশী বুঝা ভালানা’শরাফত মোল্লা বিরক্ত হন।
-তাইলে আমি কি এহন বাইত যামু?
‘আমি তো তুমারে রাইতে খাওনের লাইগা দাবত দেইনাই!বাড়ি যাও!’
শরাফত মোল্লার ধমক খেয়ে গনীর মা প্রায় দৌঁড়ে সরে যায়।

ভিতর ঘরে শুয়ে শুয়ে শরাফত মোল্লা ভাবেন”রমনীর যৌবন জুয়ারের ফানি রে,আইজ আছে কাইল থাকতোনা..”
এই গনীর মা’র লাইগা তিনি দিল দিওয়ানা ছিলেন।এখন গনীর মা প্রায় থুড়থুড়ি বুড়া।একটা বিশাল দীর্ঘশ্বাস তার বুক চিরে বের হয়ে এসে চরাঞ্চল ফাক করে দেয়।

তিনি তার চার বিবিরে একসাথে ডাক দেন।চারজন তার সেবায় ব্যাস্ত হয়।কেউ পানি কেউ পান।কেউ হাত কেউ পা টিপে দেয়। তিনি নিঃসন্তান।যদিও সন্তানের আশায় নয়,চার চারটা নিকাহ করে তিনি সুন্নত পুরা করেছেন।
এর মইধ্যে ছোটটার বয়স কম,শরীর দিয়া চিপা দিয়া ধরে।মাঝে মাঝে শরাফত মোল্লা ভাবেন,বাকি তিনটার মইধ্যে তো এতো ত্যাজ আছিলোনা!
ভাবতে ভাবতে শরাফত মোল্লার শরীর গরম হয়।
তার নজর এখন একমাস আগে রাখা কাজের মেয়ের দিকে।মাঝে মাঝেই ওর দিকে তাকিয়ে ভাবেন,মাগীর ফিগারডা ভালা।ভাবগতিক সুবিধাই।ভিত্রে যেনো তুফাইন্না ফানি খলবল করতেছে।তার স্বাদ জাগে এরেও শাদী মুবারক করার।কিন্ত সুন্নতের অভারডোজ হবে বইলা করতে পারেন না।
একদিন আড়ালে ডাইকা জিজ্ঞেস করছিলেন,তোর ফুকুরে তো ফুডি মাছে ফাল পারে!আইশনা কদু ঝুলমুল ঝুলমুল করে,তোর মনে কি স্বাদ জাগেনা আমার মতো সুন্দর মুন্দর জাইল্লা তোর ফুশকুনিতে জাল ফালাক,সেই কদুরে ডইলা কেউ দুধ কদুর ফায়েশ খাউক?তোর কি খায়েশ জাগেনা?
কাজের মেয়ে বুঝেনা,মনে হয় বুঝেও বুঝেনা।অবাক হয়ে বলে,আমি গরিব মানুষ ফুশকুনি ফাইতাম কই?লাউগাছই ফাইতাম কই?
শরাফত মোল্লার বলতে ইচ্ছে করে,তুই গরিব না রে মোমেনা!তুই তোর শইল্লে রাজরানীর রুপ লইয়া আইছত!
শরাফত মোল্লা লুঙ্গির উপরে হাতখানা অনেক কষ্টে চেপে ধরেন।মোমেনা শুনাইয়া শুনাইয়া টিকটারি দেয়,মাইনষে কয় বুড়া তালগাছ তিতা রস ঝরায়।আমরা চুলে ফিতা বান্ধিনা।
শরাফত মোল্লা হজম করেন চোখের জ্বালা বাড়াইয়া মনে মনে বলেন,হাত দিলেই না টের ফাইতি ফিতা না চাম্পা কলা।
মেঝবউ অজুর পানি নিয়া আসলে তার খেয়াল হয় মাগরেবের আজান পরসে।অজু করতে করতেই তিনি স্বীদ্ধান্ত নেন আজ রাতেই কাজ সারবেন।মাগীর দেমাগ মাটিতে মিশায়া দিবেন।
***
রাত্রি গভীর, এশার আজানের পরই যে যার খায়া ঘুমায়া পড়ে।মোমেনা ঘুমায় রান্নাঘরের পাশে খুপরিতে।
অনেক গড়াগড়ি দিয়েও আজ আর তার ঘুম আসেনা।কে যেনো বলে,সাবধান!বুইড়ার মতলব ভালানা!
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে খুপড়ির দরজাটা নইড়া উঠে,ঘরে প্রবেশ করে শরাফত মোল্লা।চান্দের অল্প আলোয় দেখা যায় তার লালসার লাঙল ফুইলা কেমন তাম্বু হয়া আছে।
মোমেনা চুপচাপ অপেক্ষা করে,শরাফত মোল্লা তার বুকে হাত দেয়,তারপর পেটে,নাভিতে।
এই সময়ের অপেক্ষায় ছিলো মোমেনা,বুইড়া যখন বেসামাল,বালিশের নিচ থাইকা আম কাটার দাও দিয়া যায়গা মতো পোঁচ দেয় সে।তারপর পালিয়ে যায় সূর্যেচরার দিকে।
এদিকে পড়ে থাকে শুধু অন্ধকারের নিস্তবতা খান খান করে তড়পাতে থাকা শরাফত মোল্লার চিৎকার, চার অসহায় নারীর বিলাপ আর এক দ্বিখন্ডিত চাম্পা কলা।

৩ thoughts on “দ্বিখন্ডিত চাম্পা কলা…

    1. রাজু দার প্রতিটা লেখায় কেমন
      রাজু দার প্রতিটা লেখায় কেমন জানি হট হত ভাব থাকে :চোখমারা: এইটাও সেইরাম :লইজ্জালাগে: চরম হয়ছে রাজু দা :থাম্বসআপ: 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *