খোশগল্প! জামাত-শিবির নিষিদ্ধ হলো! তারপর……???

জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের দল! ধর্মকে পুঁজি করে রমরমা ব্যবসা তাদের। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে, ভিন্ন ধর্ম ও মতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে, পাকি মওদুদীর নীতি কপচিয়ে, বিরুদ্ধ মত ও শক্তিকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিত বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েও তারা বাংলার মাটিতে এখনও ছহি-সালামতে দিন গুজরান করছে। এই জামাত-শিবিরকে আওয়ামী লীগের মহাজোট সরকার এখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। কি জালাতন বলেন দেখি??
কেন ৪২ বছর পরে এসে জামাত-শিবিরের উপর এত চটেছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ?

জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের দল! ধর্মকে পুঁজি করে রমরমা ব্যবসা তাদের। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে, ভিন্ন ধর্ম ও মতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে, পাকি মওদুদীর নীতি কপচিয়ে, বিরুদ্ধ মত ও শক্তিকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিত বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েও তারা বাংলার মাটিতে এখনও ছহি-সালামতে দিন গুজরান করছে। এই জামাত-শিবিরকে আওয়ামী লীগের মহাজোট সরকার এখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। কি জালাতন বলেন দেখি??
কেন ৪২ বছর পরে এসে জামাত-শিবিরের উপর এত চটেছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ?
এতকিছু বোঝেন, আর এটা বোঝেন না? কারণ জামাত-শিবির যুদ্ধাপরাধী। ৭১ সালে তারা ৩০ লক্ষ মানুষ খুন করেছে, দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছে, বাড়ি-ঘর পুড়িয়েছে, লুটতরাজ করেছে পাকি নরপশুদের সাথে মিলে। তাই অবশ্যই জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে।
আর কিছু???
হ্যা, জামাত-শিবির ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, তারা রগ কাটে। আর এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে, সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা করছে- তাই তাদের নিষিদ্ধ করতেই হবে?
আরো কিছু আছে না কি??
আছে মানে? ম্যালা আছে! এই জামাত্তে হালারাই তো বিম্পির গলে মিল্যা দেশটারে পাকিস্তান বানাইতে চায়।
ও…. এই কথা? তা জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করলেই কি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে? পাকিস্তান বানানো বন্ধ হবে?
অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে! জামাত-শিবির নিষিদ্ধ হলে আর কিছু হোক আর না হোক অন্তত আমলীগের আর ভোটের কোন চিন্তা থাকবে না। জামাত হলো বিম্পির বাম হাত, আর শিবির হলো বিম্পির ডান হাত। দোনো হাতই যদি না থাকে, বিম্পির কি আর অস্তিত্ব থাকবে না কি মিয়া?
বাব্বা? আপনি তো দেখছি একেবারে পাক্কা রাজনীতিবিদ?
হে..হে.. রাজনীতির বয়স তো কম হলো না? কত এমপি-মন্ত্রী বানাইলাম এই হাত দিয়া!
আচ্ছা বলেন তো? নিষিদ্ধ করার পর জামাত-শিবিরের ওই রাজাকার আর রাজাকারের বাচ্চাগুলানই যদি অন্য নামে দল গঠন করে রাজনীতি শুরু করে? ধরেন জামাত আর শিবিরের নতুন নাম হলো ‘গণতান্ত্রিক ইসলামী পার্টি’ আর ‘গণতান্ত্রিক ইসলামী ছাত্র দল’! কি করবেন আপনারা? নতুন দল দুইটারেও আবার নিষিদ্ধ করবেন?
আরে আপনি এত ত্যানা প্যাচান ক্যান? ওগো নেতাগোরে তো ঝুলাইয়া দিবে! বাকীগুলারে তো যৌথবাহিনীর ক্রসফায়ার হবে? পথে-ঘাটে যেহানেই রাজাকার ওইহানেই প্যাদানী। প্যাদানীর চোটে হালারা তো পাকিস্তানে পলাইবো। দল গড়েবো আবার ক্যামনে?
শুনেন! মাত্র হালি চারেক রাজাকারের বিচার হচ্ছে! ফাঁসি হয়েছে এক জনের। আবার পালের গোদার ফাঁসি মওকুফ। বিদেশে আছে দুজন! বাচ্চু রাজাকার পলাতক। ধরেন আরো এক ডর্জন রাজাকারের ফাঁসি হলো! দেশে তো লক্ষাধীক চিহ্নিত রাজাকার এখনও বেঁচেবর্তে আছে। তারা কি বসে বসে তামাক খাবে??
হ্যারা ব্যানসন খাউক আর গাঞ্জা খাউক হেইডা হ্যাগো ব্যাপার। আমি দেখমু হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আছে কি না? আর রাজাকারগো ফাঁসি হইছে কি না?
আচ্ছা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেই তো সব চুকে যায়! তখন তো জামাত-শিবিরকেও আর আলাদা করে নিষিদ্ধ করার দরকার হয় না। আর সত্যি সত্যি ৭২’এর সংবিধানেও ফিরে যাওয়া যায়। কিন্তু আপনাগো আমলীগ সেইটা না করে শুধু জামাত-শিবির নিষিদ্ধ নিয়ে কেন এত প্রেশান? ৭২’এর সংবিধান বলে এত চিল্লা-পাল্লা করেও তো সেই ধর্মগাধাদের কথাই রাখলো হাসিনা সরকার! আবার হেফাজতরে আমলীগে ঢুকানোর জন্য যার পর নাই ব্যস্ত? আসল খবর বলেন তো?
হে..হে..হে! আমরা তো ভাই আমলীগ হইলেও মুসলমান! হেফাজত যদি ওলামা লীগে যোগ দিতো তাইলে কত সুন্দরই না হইতো? বিএনপি নির্বাচনে যোগ দিলেও আমলীগের জেতার সম্ভাবনা প্রবল হইতো। কিন্তু হালারা বড়ই বেয়াড়া! তবে ওগো ভোট আছে সারাদেশে এটা মানি। জামাতের মতো রাজাকারী সীলও লাগেনাই ওগো গায়। একটু তেঁতুলের ছিল লাগছে মাত্র! যে নামেই আসুক আমলীগের পক্ষে হেফাজত আইলে নৌকার ভোট ও ক্ষমতা দুইটাই অনেক বাড়তো। হের লাইগাই তো এহনও আশা ছাড়ি নাই। কিছু লোকসান দিয়া হইলেও হেফাজতরে আমলীগের লগে আনতে হইবো। আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে ৭২’এর সংবিধানে ফিরে যাওনের কথা জিগাইলেন? খুব খেয়াল কইরা শোনেন! শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ কোন ধর্ম বিরুদ্ধ দল না! সুন্দর করে বললে বলতে পারেন ‘ধর্মভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক ডিজিটাল আওয়ামী লীগ’। বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্র এটাই এখনকার বাস্তবতায় ৭২’এর সংবিধান। বিসমিল্লা দিয়েই শুরু করতে হবে সবকিছু- এটাই বাংলাদেশের, এটাই আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক চেতনা।পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ বানানোর ঘোষণা আমলীগের এই অসাম্প্রদায়িক চেতনারই অংশ।এখন হচ্ছে ডিজিটাল যুগ। আমাদের সংবিধানটাও হচ্ছে ডিজিটাল সংবিধান! বিসমিল্লাও থাকবে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও থাকবে আবার অসাম্প্রদায়িকতা ধর্মনিরপেক্ষতাও থাকবে। আর এগুলোর সাথে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই তো আছেই! আপনি ডিজিটাল বিষয়টাও বোঝেন না? আবার রাজনীতিও করেন? আমাগো দলের এখন অন্যতম লক্ষ হচ্ছে, জামাত-শিবির বাদে বাংলাদেশে যেখানে যত ধর্মভিত্তিক দল আছে সবগুলোরে আওয়ামী লীগের লগে নিয়ে আসা। কোন ইসলামিক দল যদি ওলামা লীগে যোগ দিতে চায়, কোন কথা নেই। দরজা খোলা। এমনকি আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাইলেও ওজন বুইঝা দুই একটা এমপি সিট দিয়া হইলেও দলে ঢোকার সুযোগ করে দেয়া হইবো। শুধু জামাত-শিবির নিয়ে একটু সমস্যা।
কিন্তু আওয়ামী লীগ বিএনপিকে বার বার বলছে জামাত ছাড়তে। আবার জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার কথা বলেও এই আমলীগের নেতারই মুখে ফেনা তুলছে। এই দুইটার মাজেজাটা একটু যদি বুঝাইয়া বলেন? মানে নিষিদ্ধ করলে তো বিএনপিকে জামাত ত্যাগ করতে বলার কোন মানে থাকে না। আবার জামাত যদি বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে আমলীগের সঙ্গ ধরে তাহলে তাদের একটু ধোয়া-মোছা করে বরণ করে নেয়া হবে কি না, সেটাও কিন্তু পরিষ্কার করা হচ্ছে না। তবে মাহবুবুল আলম হানিফ সাহেবের পদক্ষেপ দেখে অনেকে কিন্ত এটাই আচ করছেন!
এত বেশি বুঝলে রাজনৈতিক আলাপ করা তো মুশকিল! আর জামাত-শিবির মানেই তো যুদ্ধাপরাধী নয়? জামাতের এখন হাজার হাজার রোকন সদস্য! এদের মধ্যে অনেকেরই জন্ম আবার ৭১’এর পরে। তারা তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেই নি? অসংখ্য রোকন তখন ৭১’-এ নাবালোক ছিলো। তাদের তো আর যুদ্ধাপরাধী বলা যাবে না। আর এরা যেমন শিক্ষিত, রাজনৈতিক কৌশলী তেমনি নেতৃত্বের প্রতি খুবই অনুগত। জামাত-শিবিরের নেতারা আগেও আমলীগে এসেছে, এখনও আসছে, ভবিষ্যতেও আসবে। যেমন আসছে বামপন্থিরা। হানিফ সাহেবের উদ্যোগ এরই ধারাবাহিকতা ছাড়া কিছু নয়।
আর একটা বিষয় বলেন? জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার পর মৌলবাদের অর্থনীতির কি হবে? ঐ যে তাদের বছরে দুই হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফা? সেটা কি বন্ধ হবে? তাদের যে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অসংখ্য মাদ্রাসা নামক জঙ্গি বানানোর কারখানা? এগুলো কি বন্ধ হবে? না কি শুধু সাইনবোর্ড বদলানো হবে? বা মালিকানার বদল বা ভাগাভাগি হবে?
খুবই কঠিন প্রশ্ন করলেন একটা!মুহিত সাহেবের মতো দুই শব্দে উত্তর দেয়া যায়, ‘রাবিস’ ‘বোগাস’! কিন্তু যথাযথ উত্তর দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। আর এসব ব্যাপারে ম্যাডামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে যদি আমার মতামত জানতে চান তাহলে বলি, জামাত-শিবিরের প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংস করা আমলীগের মোটেও উদ্দেশ্য না। বরং ওদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা কাজে লাগায়ে আমলীগ যদি ওই ধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। মালিকানা বদল, সাইনবোর্ড বদল এগুলো হবে কি না সময়ই তা বলে দেবে।
আপনি যেভাবে বললেন, তাতে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করলে তো আমলীগের চতুমূখী লাভ হবে দেখা যায়!
হে… হে… হে…! দুনিয়াটাই তো লাভ-ক্ষতির! হিসাব তো করতেই হবে!

পাঠক লাল গোলদার
১০ জানুয়ারী ২০১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *