শিল্পের জগৎ

আমার কাছে মনে হয়, প্রতিটা মানুষের সবসময় দুইটা জগৎ থাকে। একটা বাস্তব জগৎ অন্যটি শিল্পের জগৎ। কেউ কেউ হয়তো শিল্পের জগৎ সম্পর্কে থাকে উদাসীন। কেউ কেউ হয়তো অনুভব করে তীব্রতর টান।এটা অবশ্য নির্ভর করে ব্যক্তি কতটুকু মানিয়ে চলতে পারছে বাস্তব সমাজের সাথে।আমার অভিজ্ঞতালব্ধ কিছু কথা বলি। বাস্তব জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছিলাম না। এবং তা প্রচন্ডভাবে। প্রতিনিয়ত অস্তিত্বহীনতায় ভুগতাম। একটু খানি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতাম দিনভর। একসময় আমি খুঁজে পেলাম স্বাধীনতার জগৎ। শিল্পের জগৎ। ইচ্ছে ছিল বুকের মধ্যে জমানো নিষিদ্ধ অনিষিদ্ধ শ্লীল অশ্লীল ভালো মন্দ সব কথা বলব।এখানে থাকবেনা বাস্তব জগতের মত কোন আইন, থাকবেনা কোন ট্রাফিক রুলস, থাকবেনা কোন আদালত, থাকবেনা কোন উপদেষ্টা। কিন্তু যখন দেখলাম শিল্পের জগৎ ও নিয়ন্ত্রণ করে একশ্রেণীর আমলা গোমস্তারা তখন আমি ভীষণ যন্ত্রণায় তুমুল বিদ্রোহ করে উঠি।আমি দেখি কবিতার দরজার পাশে অসংখ্য কবিতা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে।শিশু যুবক বৃদ্ধ কবিতারা একে অন্যের উপর। দেখি ছোট গল্প বড় গল্প নাম না জানা কত গল্প ঠুকঠুক করে কাপছে শীতার্তদের মত।কত উপন্যাস প্রবন্ধ নিজের সৃষ্টির বিরধীতা করছে লজ্জায় অপমানে ।কত বছর ধরে তারা পড়ে থাকবে এই ক্লান্তি আর লাঞ্চণা নিয়ে? এক শ্রেণীর আমলারা তাদের বঞ্চিত করেছে কিছু শর্তারোপ করে।তাদের শর্তাবলী না মানলে শিল্পকেও শিল্পের জগতে যেতে দেয়না।অথচ আপনি কে নির্ধারণ করে দেয়ার? কোনটা শিল্প আর কোনটা শিল্পনা তা বলার আপনি কে? আপনি কে যে নির্ধারণ করে দিবেন, এভাবে গল্প লিখতে হয়, এভাবে উপন্যাস, এভাবে প্রবন্ধ, এভাবে কবিতা লিখতে হয়? কেন আমরা শিল্পের জগৎকে সীমাবদ্ধ করছি? কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *