তাম্বু ডাউন

মোড়টা পার হলেই হাতের বায়ের তিন নম্বর দোকানটার নাম মদনা স্টোর। দোকানের নাম মদনা কেনো? কারন এটা মহন, দর্পন আর নান্নু নামের তিন যুবকের মালিকানার দোকান। সবার নামের অদ্যাক্ষর নিয়ে এর নামকরণ হয়েছে মদনা । মদনায় ফটোকপি, মোবাইলে কথা বলা, স্টেশনারিজ পাওয়া যায় বলে কলেজের ছাত্রছাত্রিদের নিয়মিত যাতায়াত আছে।


মোড়টা পার হলেই হাতের বায়ের তিন নম্বর দোকানটার নাম মদনা স্টোর। দোকানের নাম মদনা কেনো? কারন এটা মহন, দর্পন আর নান্নু নামের তিন যুবকের মালিকানার দোকান। সবার নামের অদ্যাক্ষর নিয়ে এর নামকরণ হয়েছে মদনা । মদনায় ফটোকপি, মোবাইলে কথা বলা, স্টেশনারিজ পাওয়া যায় বলে কলেজের ছাত্রছাত্রিদের নিয়মিত যাতায়াত আছে।

যাক সেটা বিষয় না বিষয় হলো এই দোকানের প্রসঙ্গটা কেনো? কারন হলো ইলাইজা। ইলাইজা বাড়ি থেকে বেশ পর্দা টর্দা করে বার হয়ে এসে এই মদনা স্টোরে তার পর্দাবস্ত্রটি খুলে রেখে কলেজে যায়। কলেজে ইলাইজা কি করে সেটা নিয়ে কিঞ্চিত ধারণা নেওয়া যাক। কলেজ আসলে চলে দুই বড়ভাইয়ের অঙ্গুলি হেলনে। এক বড়ভাইয়ের নাম ছালিক (উনি নিজের নামের বানানটাও ঠিক মত লিকতে পারে না সালিক কে ছালিক লেখে) আরেক বড়ভাইয়ের নাম ছাদ (উনারও একই অবস্থা সাদ কে ছাদ লেখে)। তবে বড়ভাইদ্বয়ের ক্ষমতা আছে বলতে হবে। দুজনের নেতৃত্বে প্রতিদিনই মিছিল টিছিল হয়। ছালিকের মিছিলে একহাজার উপস্থিতি তো ছাদের টাতেও তাই। কিন্তু ইলাইজা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আর সেরকমটা দেখা যায় না।

প্রতিনিয়ত মিছিলে কর্মীসংখ্যা কমতে থাকে। সবার ধারণা যে ইলাইজা কলেজে আসার পর সবাই তার পিছে গুরঘুর করছে বলে এ অবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো ব্যাপারখানা সেরকম না। বরঞ্চ ব্যাপারটা উল্টো। ছালিকভাই আর ছাদভাই-ই কর্মীদের মিছিলে আসতে দেন না। কেনো সেটা জানার আগে ইলাইজার রূপলাবন্য নিয়ে কিছু ধারণা পাওয়া দরকার। ইলাইজাকে তৈরী করার পর ইশ্বর যখন এ্যঞ্জেলদের বললেন একে দুনিয়াতে পাঠিয়ে দাও তখন এঞ্জেলরা কিছুটা আবদারের সুরে বললেনঃ ইশ্বর আপনি একে এত অপরূপ সৌন্দর্য দিয়ে গড়েছেন যে আমরা মুগ্ধ… থাকনা এ আমাদের ভিতরেই ঘোরাঘুরি করুক… দেখবেন আমাদের কাজে কেমন এক্সট্রা একটা স্পিড চলে আসে… ইশ্বর বললেনঃ না বৎস আগুনের পাশে মাটি পুড়ে ইটা হয়ে যাবে… তারে ইটা না বানায়া পিতার ভিটায় পাঠায়া দাও সোনারা… যার সৌন্দর্যে এঞ্জেলরাও মুগ্ধ হয়েছিলো মানুষতো কোন ছার। সে কারনেই ছালিকভাই এবং ছাদভাই একে অন্যের অগোচরে প্লেনক্রাশের চেয়েও ভয়াবহ ক্রাশ করে ফেললো ইলাইজার সৌন্দর্যের অবারিত ভুমিতে।

ইলাইজাও সুযোগে দুটোরেই ঝুলিয়ে দিলো একই শর্তে। শর্তটা হলোঃ যার মিছিলে যত কম কর্মী হবে আমার ভালোবাসার ভুমিতে কেবল তার প্লেনই ক্রাশের সুযোগ পাবে… আর যাই কোথায়। ছালিক ভাই আর ছাদভাই কর্মীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অনুরোধ করতে লাগলেন যেনো তারা মিছিলে না আসে। কর্মীরা ছাড়ার পাত্র না। তারাতো মিছিল করবেই। মিছিলে না গেলে তারা পকেট খরচ পাবে কোথায়? শেষমেস দুজনেই মিছিলে না আসার জন্যে বর্ধিত রেটে পকেটমানির প্রতিশ্রুতি দিলে কর্মীরা ক্ষান্ত হন। আগে মিছিল করে টাকা পেতো কর্মীরা এখন মিছিল না করার জন্যে টাকা পেতে শুরু করলো। ছালিকভাই এদিক ওদিক থেকে অনুদান সংগ্রহ করে মিছিলে কর্মী না আসার ব্যায় নির্বাহ করেন। আর ছাদভাই গ্রামের জমি বেচে চালিয়ে যান এই খরচ।

মিছিলে কর্মী কম আনার প্রতিযোগিতা শেষমেস এমন জায়গায় পৌছালো যে শুধুমাত্র ছালিকভাই একা তার মিছিলে আর ছাদভাইও একা তার মিছিলে। নিজের স্লোগানে নিজের উত্তর। সলিটারি প্রসেশন। ফলে ফলাফল ‘টাই’ হয়ে গেলো। প্লেনক্রাশ গেমে এরূপ একখানা ‘টাই’ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কারনে দুজনই ঝুলে গেলেন প্যানাল্টি শট বা সাডেন ডেথ এর দড়িতে। ইলাইজা বলেঃ টাই ভাঙ্গার তরিকাতো আমি বুঝতেছি না… কেমনে কি করা যায় দেখি.. টোটাল স্টলমেইট । এখন ছালিকভাই ছাদভাইকে অনুরোধ করেনঃ উহাকে ছাড়ো ব্রো.. উহা সর্বনাশী… শুনিয়া ছাদ ভাই কহেনঃ দোষতো আপনারই ব্রো… আপনি উহার প্রতি প্রথমে উইক হইছেন দেখেইতো আমিও লাইন দিছিলাম ব্রো…

এদিকে মদনা স্টোরের কি অবস্থা সেটা দেখা যাক। ইলাইজা এখানে তার পর্দাবস্ত্রটি গচ্ছিত রেখে কলেজে যায়। এর জন্যে মদনার মালিক যুবকত্রয় কে কিছু মাসোহারা দিতে চেয়েছিল ইলাইজা। কিন্তু এই মদনাত্রয় খুশী মনে বিনা মাসোহারাতে বস্ত্রটি রাখতে রাজি হয়েছে। কারন তাদের অন্তরে একখানা অভিনব ব্যাবসার সম্ভবনা তখনি উঁকি দিয়েছিলো। ইলাইজা দুই বড়ভাইয়েরই অতীব পছন্দের পাত্রী হওয়ার কারনে সাধারণ ছাত্রগণ তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পায়না। কিন্তু তাই বলে কি তারা ইলাইজার অপার রূপসৌন্দর্য দর্শন থেকে বঞ্চিত হবে। না তা হতে পারেনা।

বঞ্চিত তরুণেরা তখন মদনা স্টোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ইলাইজার পর্দাবস্ত্রটি দেখা শুরু করলো। বস্ত্র দর্শনেই বস্তু দর্শনের সুখাস্বদন করতে থাকলো তারা। আর এই সুখভোগের জন্যে প্রতিমিনিট অবলোকন পাঁচ টাকা রেট ধার্য করে দিয়েছে মদনাত্রয়। তরুণ বয়স পাঁচ মিনিটের কমে কারোরই অবলোকন শেষ হয় না। কারো কারো সতেরো আঠারো মিনিটও লেগে যায়। সাথে আবার স্পেশাল অফারও আছে। বস্ত্রটি স্পর্শ করতে চাইলে ‘এক ছোঁয়া’ ‘দশটাকা’ রেট। মিছিল না করার জন্যে অর্জিত বর্ধিত হারের পকেটমানি তরুণদিগের এখানেই ব্যায় হতে থাকলো। আর মদনাত্রয় প্রতি মিনিটে ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হতে থাকলো। সেই ফুলিত কলাগাছ থেকে ইলাইজাকে তারা কিছু কমিশনও দেয়া শুরু করলো অচিরেই।

এরই ভিতরে অনুপ্রেবেশ ঘটিলো আমার। মানে আমার মতন আবাল শিরোমনি’র। আজীবন যে বালকই রহিয়া গেলো সেই আবাল। যাক সে কথা। কলেজে দুই বড়ভাই ঝুলিয়া রহিয়াছেন ক্রাশের অপেক্ষায়। এই সুযোগে ফ্রেমে ইন করার সংকল্প নিয়ে মদনা স্টোর থেকে কিছুটা দুরে অবস্থান নিলাম একদিন। কলেজ থেকে বার হয়ে মদনা স্টোর থেকে পর্দাবস্ত্রটি পুণরায় পরিধান করে ইলাইজা এই পথেই বাড়ি ফেরে। হঠাৎই ইলাইজাকে আসতে দেখে বুকের কম্পন বাড়িতে লাগিলো। বাডুক তাতে ক্ষতি নাই বরঞ্চ তাতে নিজের তাকত আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। ঠিক যেই মুহুর্তে ইলাইজা আমার সম্মুখেআসিলো আমি কম্পিতহার্টে ও ধরা ভোকালে বলিলামঃ ক্যান আই হ্যাভ এ ওয়ার্ড উইথ ইউ মিস ইলাইজা… বস্ত্রটির ভেতর থেকে এক পুরুষ কন্ঠ আসেঃ রং জেন্ডার… ইহা ইলাইজা নহে.. আমি ততক্ষনাৎ ছুটলাম মদনা স্টোরে।

সেখানে যেয়ে জানলাম মদনাত্রয় নতুন একটা প্যাকেজ চালু করেছে তা হলো ইলাইজার পর্দাবস্ত্রটি পরিধানপুর্বক পাঁচমিনিট ভ্রমন সুবিধা। এই প্যাকেজের রেট বেশ উচ্চ। এই প্যাকেজের প্রতি সবচেয়ে ইন্টারেস্টেডরা হলো শহরের একটি আদর্শবাদি ছাত্র সংগঠনের ছেলেরা। যাদের ফেসবুকে সানি লিওন বা চটিকাব্য ও পেট্রলবোমা বানানোর পদ্ধতির পেজে লাইক দেওয়া থাকে কিন্তু এইভাবে প্রকাশ্যে ইলাইজার পর্দাবস্ত্রটি অবলোকন তাদের জন্যে নিষিদ্ধ।

যাইহোক পরেরদিন আর জেন্ডারে ভুল হলোনা। ইলাইজাকেই পাওয়া গেলো বস্ত্রাভ্যন্তরে। বললামঃ ইউ আর এ প্রিটি ওম্যান.. সরি.. প্রিটি গার্ল.. জুলিয়া রবার্টস… ইলাইজার পাল্টা প্রশ্নঃ নিজেকে কি রিচার্ড গেরে মনে হয়? রাস্তায় এভাবে মেয়েদেরকে ডিস্টার্ব করার কি কারন? উত্তরে বললামঃ ডিস্টার্ব বলছেন কেনো.. বলেন সঙ্কট উত্তরণ.. কলেজেতো একটা স্টলমেইট চলছে.. দুই বড়ভাইয়ের কারোরই আর উইন উইন সিচুয়েশন নাই.. তাই আমি আপনার অনাঘাতিত ভুমিতে প্লেনক্রাশের দায়িত্ব নিতে চাই… ইলাইজা মৃদু হাসেঃ মেনি এলিফেন্ট মেনি হর্স ওয়েন্ট আন্ডার, মসকুইটোস আস্ক হাউ মাচ ওয়াটার? আপনি কে শুনি? তড়িৎ জবাব দিতে গিয়ে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলোঃ জ্বি আমি তৃতীয় শক্তি… ইলাইজা এবার হাসির মাত্রা বাড়িয়ে প্রায় হো হো পর্যায়ে নিয়ে যেয়ে বলেঃ তৃতীয় শক্তির বেইল নাই… বেশীক্ষণ লাস্ট করে না… বলেই দ্রুত বাড়ির পথ ধরলো।

আমি ভাবতে শুরু করলাম আমার উত্তর নিয়ে। তৃতীয় শক্তি বলতে গেলাম কেনো? সুবিধা বঞ্চিত পদ বঞ্চিত রাজনীতিবিদেরা হন তৃতীয় শক্তি। কোনো কারন ছাড়াই যুক্তিহীনভাবে আমার মান্নাভাই, ডঃ কামাল, কাদের সিদ্দিকী, এবিএম মুসা অলি আহমেদ, ডাক্তার বদরুদ্দোজা উনাদের কথা মনে পড়লো। তা মনে পড়ুক সমস্যা নাই কিন্তু আমি কি তৃতীয় শক্তি? হ্যা তাতো বটেই তৃতীয় শক্তিইতো আমি। ওরে আবাল শিরোমনি তোর কি মনে নাই ছালিকভাই আর তুই একই মিছিল করতিস। একদিন তুই ছালিকভাইকে বললি কলেজের ক্যান্টিনটা তুই ইজারা নিতে চাস। ছালিকভাই তাতে রাজি না হওয়াতে তুই ছালিকভাইকে গুডভাই দিয়ে চলে এসে এখন তার পেছনে গ্যাডফ্লাইয়ের মতন লেগে আছিস। নিজেকে তৃতীয় শক্তি বলার একটা জোরালো যুক্তি পেয়ে বেশ সুখানুভতি হলো। আর সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম ইলাইজার বাপের কাছে যেয়ে সরাসরি বৈবাহিক সন্মন্ধের প্রস্তাব পেশ করবো। কারন মিস্টার মকর আলি একজন আদর্শবাদি রাজনীতির সাহসী পুরুষ। মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী দলের নেতা। নিশ্চয় নিজের পছন্দেই মেয়ের বিবাহ দেবেন।

পরেরদিনই সালাম দিয়ে উনার সামনে দাঁড়ালাম। হলকম থেকে উচ্চারিত সালামে অধিক দরদ এবং ভক্তি অনুভব করে মিস্টার মকর আমাকে বসার ঘরে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে নাম জানতে চাইলেন। বললামঃ জ্বি আমার নাম ইমরান খান নিয়াজি…. এক ডোজেই যে মিস্টার মকর আলি ধরাশায়ী হবেন আশা করিনিঃ মাশাল্লা মাশাল্লা.. কেয়া নাম… বলেই উনি আমাকে প্রায় জোর পুর্বক তুলে সিনায় সিনা লাগালেন। আমি সেই সুযোগে কানে কানে বললাম ইমরান খান তার নিয়াজি পদবীটা ব্যাবহার করে না তাই উনার নিয়াজিটা আমি নিয়ে নিয়েছি… ইমরানের পদবী যে নিয়াজি তা মিস্টার মকরের জানা ছিলো না । তাই বিহ্ববল খুশীতে জিজ্ঞেস করলেনঃ ইমরান খানকি নিয়াজি বংশের? আমি মাথা নাড়লাম। উনি মারহাবা মারহাবা বলে মাতম তুললেন আর আমার বাবার নাম জানতে চাইলেন। আমি বললামঃ বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই তাই উনার নাম না শুনলেও চলবে… আমার বড়ভাইয়ের নাম নিসার আলি খান… বহুত খুব বহুত খুব… নিসার আলি খান…. আহ!.. ইমরান আর নিসার… দুজনেই আমাদের পিয়ারা বান্দা… কলিজার বাসিন্দা…

কাদের ভাইয়ের জুডিশিয়াল হত্যাকান্ডে উনারা যে প্রতিবাদ আর উদ্বেগ দেখিয়েছেন তাতে উনাদের নাম আমরা সোনায় লিখে রাখবো… সোনায়!! আমি একটু ভড়কে গিয়ে জানতে চাইলামঃ কোন সোনায় লিখে রাখবেন আঙ্কল? উনি বললেন চব্বিশ ক্যারেট সোনায়… এরপর তিনি আমার আগমনের হেতু জানতে চায়েলেন। আমি কোন ধরণের সংশয় না রেখে সামান্য শঙ্কা ও শরম সহযোগে বললামঃ আই ওয়ান্ট ইওর ডটার’স হ্যান্ড আঙ্কল… মিস্টার মকর যারপর নাই খুশী হলেন আমার প্রস্তাবে। বাকুম বাকুম কন্ঠে হাঁক ছাড়লেন ভিতরের উদ্দেশ্যেঃ ইলাইজা চা দিয়ে যাও… মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে সব বাবারাই তাহলে খুশী হয়। আই মিন ইলাইজার মতন সুন্দরীদের বাবারাও। চা চলে আসলো। ইলাইজার ঠোটে সেই মৃদু হাসি। পর্দা টর্দা নাই। বেশ খোলামেলা। বাবার উদ্দেশ্যে বলেঃ আপনার সুইটেনার কোথায়? কোথাও তো দেখলাম না… মিস্টার মকর মনে করার চেষ্টা করলেন তার জিরো ক্যাল কোথায় রেখেছেনঃ সুইটেনারতো বাইরের বারান্দায় রেখে এসেছি… আমি নিয়ে আসছি… বলে মিস্টার মকর নিজেই উঠে গেলেন। বুঝলাম আমাদের গল্প করার সুযোগ দিয়ে গেলেন কিছুক্ষণ।

ইলাইজা আমার চায়ে দুধ চিনি মেশাতে শুরু করলো। চোখে মুখে বেশ হাসি হাসি ভাব। তারমানে আমার প্রস্তাব তার কানেও গেছে এবং সে এই প্রস্তাবে রাজি সেটা বোঝানোর জন্যেই এরকম হাসি হাসি এক্সপোজার। তাহলে তৃতীয় শক্তির জয় হতে যাচ্ছে। এরই ভিতরে ইলাইজা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আমার দুই থাইয়ের সংযোগস্থলে তার তর্জনী দিয়ে নির্দেশ করতে লাগলো। এরপরেও যদি ইশারা হি কাফি না হয় তবে আর কিসে হবে। আমার বেপরোয়া হতে ইচ্ছা করলো কিন্তু মিস্টার মকর যখন তখন চলে আসবে তাই বললামঃ আপনার আব্বাজান চলে আসবেন তো… শুনে ইলাইজা আগের মতই আমার প্যান্টের জিপারের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলেঃ আপনার তৃতীয় শক্তি উঁকি মারিতেছে… আমি বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে প্যান্টের জিপারের দিকে তাকালাম দেখি হ্যা ঘটনা যা হওয়ার তাই। জিপারের নিচে ছোটওস্তাদ নড়েচড়ে ওঠার কারনে জিপার খুলে গেছে। এই প্যান্টের যে এই সমস্যা আছে সেটা আমার মনে রাখা উচিৎ ছিলো। যাইহোক দ্রুত জিপার উঠাতে গিয়ে ঘটলো আরেক অঘটন। জিপারের চিমটি জায়গামত লেগে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কোনরকমে ব্যাথা সামলে চেপেচুপে জিপার লাগানো গেলো। কিন্তু জায়গাটা বেদুঈন তাবুর মত পিরামিড হয়ে থাকলো। ইলাইজার দিকে তাকাবো কি করে।

এরই ভিতরে মিস্টার মকর আসেন। ইলাইজা তার চায়ে সুইটেনার মিশিয়ে ভদ্র মেয়ের মতন চলে যায়। আমরা চা পাণে মত্ত হই। এরই মধ্যে কানে ভেসে আসে মকর আলির প্রশ্নঃ বল তেরা আব্বিকা নাম.. সমস্যা হলো আমার পিতার নামতো মজিব… কিন্তু মজিব বললেতো এতক্ষণে যা অর্জন করেছি সবই বিসর্জন দিতে হবে। কি করা যায়। আরো একটা সিওর শট মারার আশায় বলে ফেললামঃ মেরা আব্বিকা নাম মকর আলি হায়… যেইনা বলেছি মকর আলি অমনি মিস্টার মকর আলি ত্রাহি ত্রাহি রব তুলে বললেনঃ বরবাদ কর দিয়া.. তুঝে সবকুছ বরবাদ কর দিয়া… উনার এই চিৎকারে আমি কিছুটা বিচলিত। ইমরান খানের নাম নিসার আলি খানের নাম অব্যার্থভাবে কাজ দিলেও উনার নিজের নামে এরকম ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা কেনো? জিজ্ঞেস করলামঃ আপনার নামও মকর আলি… আমার পিতার নামও মকর আলি… শুনে আপনি ওরকম বরবাদ বরবাদ করে চিৎকার করে উঠলেন কেনো আঙ্কল?

উনি কষ্ট চেপে কোনরকমে উত্তর করলেনঃ ওরে বেওকুফ মকর আলিদের কোন লিগাল চাইল্ড নাই… আমরা মকর আলিরা সকলি জারজ সন্তানের পিতা… তাহারা রাস্তাঘাটে বোমাবাজি করে… মানুষ পোড়ায়… বিস্ময় সহকারে জিজ্ঞেস করলাম… আপনি কি বলতে চান? ইলাইজা আপনার ইললিগাল মেয়ে? উনি এবার তাল লয় সুর সবকিছুর সর্বাচ্চোগ্রামে উঠে হুঙ্কার দিলেনঃ কৌন বলা ইলাইজা মেরা বেটি!? ওতো মেরা বেগাম হায়… !!!!!!!!!! বিস্ময় আনলিমিটেড। ইলাইজা উনকা বেগাম হায়!! আমি তাহলে উনার কোন মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি বলে উনি মনে করেছেন?

আমার বিড়বিড় শুনে উনি পাল্টা জবাব দিলেনঃ সেটাতো তোরই জানার কথা উল্লুক… মাঝে মাঝেই আমার জারজ সন্তানদের দু’ একজনের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যায়… যেমন কয়দিন আগেই এক এমপি’র পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলো.. সে ছুপা রুস্তম হয়ে সরকারে লুকিয়ে ছিলো… আমি ভেবেছি তুই হয়তো সেরকমভাবে আমার কোন ইললিগাল মেয়ের খোঁজ পেয়ে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিস… নালায়েক কামিনা কাহেকা.. মেরা বেগামকো বেটি সামঝা তু… বাহার যা ইয়াছে… বলতে বলতে রাগের সাথে নিজেই ঘরের দিকে চলে যান মিস্টার মকর।

চায়েরকাপ গুলো নিতে ইলাইজা আন্টি আসেন। মিটিমিটি হাসির ভিতরে আবার সেই জিপারে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। আমি চকিতে জিপারের দিকে তাকায়। না জিপারতো ঠিকই আছে এবং তাম্বু প্রবলেমটাও আর নাই। সমতল। ইলাইজা আন্টি তাচ্ছিল্যের সর্বনিম্ন লেভেলে নেমে বলেনঃ আপনার তাম্বু ডাউন… তৃতীয় শক্তি চিরতরে শুইয়া পড়িয়াছে… ইন্নাল ইল্লাহে ওয়া ইন্নাল ইল্লাহে রাজেউন… আমার আর কি বলার থাকে এরপর? এখন যা বলার আপনারাই বলবেন..

ইঞ্জিন কবিরাজ

১৮ thoughts on “তাম্বু ডাউন

  1. ছোদনা স্টোর, ছোদনাত্রয়, ছাদ,
    ছোদনা স্টোর, ছোদনাত্রয়, ছাদ, ছালিক…….. :মাথানষ্ট:
    …..আপনার কি ছ-তে মুদ্রাদোষ আছে নাকি??? :মাথানষ্ট:

    ……ইস্টিশনে স্বাগতম। :বুখেআয়বাবুল:

    1. ধন্যবাদ খাজা বাবা.. স্টোরের
      ধন্যবাদ খাজা বাবা.. স্টোরের নামটা চেঞ্জ করে দিলাম.. তবে ছাদ এবং ছালিকের নাম চেঞ্জ করা সম্ভব না কারন এদুটো অন্য দুটো নামের সংক্ষিপ্ত রূপ..

  2. চমৎকার একটি রাজনৈতিক গল্প
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার একটি রাজনৈতিক গল্প পড়লাম।

    অঃটঃ গল্পের প্যারাগুলো ছোট হলে পড়তে আরাম লাগত।

    1. প্যারা করে দেওয়াতে এখন দেখতে
      প্যারা করে দেওয়াতে এখন দেখতে ভাল লাগতেছে। ধন্যবাদ আপনাকে। আর হ্যাঁ, ইস্টিশনে আপনাকে স্বাগতম। :গোলাপ:

  3. বিশাল বক্ষা মেয়েরা একটু ঝুকে

    বিশাল বক্ষা মেয়েরা একটু ঝুকে কোন কাজ করলে যা হয়, ইলাইজারও তাই হলো। এক্সপোজড হাফ ওয়ে। উইথ ওয়ার্ল্ড বেস্ট ক্লিভেজ। শালা মৃত মানুষেরও ক্ষমতা নেই সেদিক থেকে চোখ ফেরায়। কিন্তু ইলাইজারতো এটা জানার কথা যে ঝুকে কাজ করলে এরকম হয়। তারপরেও কেনো? f

    কিছু মনে করবেন না আমার কেনো জানি মনে হ্ল এই লাইনগুলো অপ্রয়োজনীয় ছিলো না দিলে ও পারতেন সুন্দর লিখেছেন ……

  4. দারুণ… দারুণ… রাজনৈতিক
    দারুণ… দারুণ… রাজনৈতিক স্যাটায়ার গল্প লেখক খুব কম। আপনারে ইস্টিশনে পাইয়া যার পর নাই খুশ হুয়া। ইস্টিশনে স্বাগতম। প্রথম লেখাতেই বাজিমাৎ কিয়া 😀

  5. এই প্রথম আমি রাজনৈতিক
    এই প্রথম আমি রাজনৈতিক স্যাটায়ার লিখেছি ফলে কোন কোন জায়গায় কিছু মাত্রাজ্ঞানে খামতি থেকে গেছে.. আপনাদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি সেগুলো সংশোধন করার চেষ্টা করছি ততক্ষনাৎ.. আশা করি বিষয়টা আপনাদের নজরে এসেছে.. ‘একেলা পথের পথিক’ আপনার মন্তব্যটিও বিবেচনায় নিয়ে সংশোধন করেছি ঐ জায়গাটুকু.. অনুগ্রহ করে একবার দেখে নেবেন..

  6. পুরাই অস্থির একটা গল্প।
    পুরাই অস্থির একটা গল্প। স্বাগতম ভ্রাত। আপনেরে দিয়া হপে। :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *