ভালোবাসার ঘ্রাণ # ৩য় পর্ব

এইবারও ফোনটা কেউ ধরল না। সৈকতের মেজাজটা পুরাই খারাপ হয়ে গেল। এটা কোন কথা? আরে বাবা কথাই যদি না বলবি তাহলে ফোন নাম্বার দিবি কেন। নিজের উপর সৈকতের রাগ হচ্ছে বেশি। একটা নাম্বার পেয়েই সে কি না কি ভেবে বসেছিল। রাগের চোটে মোবাইলটা ছুড়ে ফেলতে যাবে ঠিক এই মুহূর্তেই একটা মেসেজ আসল মোবাইলে। আছাড় দেওয়ার জন্য মোবাইলটাকে উপরে তুলছিল সৈকত। হাতটা নামিয়ে এনে সে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। আরে এ তো নিশাতের নাম্বার। মেসেজটা অন করল সে।

“আপনি কি সৈকত?”

রিপ্লাই না দিলে খারাপ দেখা যায়। অতএব সৈকত রিপ্লাই দিল-

“ইয়েস, আমি সৈকত। আপনি নিশাত তো?”

কিছুক্ষণ পরেই আবারো মেসেজ আসল-


এইবারও ফোনটা কেউ ধরল না। সৈকতের মেজাজটা পুরাই খারাপ হয়ে গেল। এটা কোন কথা? আরে বাবা কথাই যদি না বলবি তাহলে ফোন নাম্বার দিবি কেন। নিজের উপর সৈকতের রাগ হচ্ছে বেশি। একটা নাম্বার পেয়েই সে কি না কি ভেবে বসেছিল। রাগের চোটে মোবাইলটা ছুড়ে ফেলতে যাবে ঠিক এই মুহূর্তেই একটা মেসেজ আসল মোবাইলে। আছাড় দেওয়ার জন্য মোবাইলটাকে উপরে তুলছিল সৈকত। হাতটা নামিয়ে এনে সে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। আরে এ তো নিশাতের নাম্বার। মেসেজটা অন করল সে।

“আপনি কি সৈকত?”

রিপ্লাই না দিলে খারাপ দেখা যায়। অতএব সৈকত রিপ্লাই দিল-

“ইয়েস, আমি সৈকত। আপনি নিশাত তো?”

কিছুক্ষণ পরেই আবারো মেসেজ আসল-

“হ্যাঁ, আমিই নিশাত। কিছু মনে করবেন না। আব্বু-আম্মুর সাথে বসে খেতে খেতে টিভি দেখছি। ১ ঘন্টা পর কল দিতে পারবেন?”

“পারব।“

যাক, মেজাজ কিছুটা ঠাণ্ডা হয়েছে। বাবা-মায়ের সামনে কথা বলাটা তো আসলেও ঝামেলা। ঠিক আছে, ১ ঘন্টা পরেই সে কল দিবে। মোবাইলে টাকা নেই। রিচার্জ করানো দরকার। মোবাইলে আই-টপ করানোর জন্য বাসা থেকে সে বের হয়ে গেল। কিছুটা এক্সাইটেড। পুরো ব্যাপারটাতেই সে খুব মজা পাচ্ছে।

*****
প্রথমবার যখন ফোনটা বাজল তখনই নিশাত বুঝতে পেরেছিল যে এটা সৈকতের ফোন না হয়ে যায়ই না। তাঁর বুকটা কেন জানি কেঁপে উঠেছিলো। ভয়ে নয়, ভালোলাগা আর উত্তেজনার মিথস্ক্রিয়ায়। কিন্তু ফোন রিসিভ করার উপায় ছিল না। তাই মেসেজ পাঠাতে বাধ্য হয়েছে সে। বাবাকে সে খুব ভয় পায়। পুলিশে চাকরি করে বলে খুবই সন্দেহপ্রবণ। তাই খুব সাবধানে এগুতে হবে। বাবা পুলিশে চাকরি করার একটা সুবিধাও আছে। ইভটিজিং নামক বস্তুটির সাথে তাঁর পরিচয় ঘটেনি এখন পর্যন্ত। হাই স্কুলে থাকাকালীন একটা ছেলে একবার টিজ করেছিল। তাঁর বাবা সেই ছেলেকে থানায় তিন ঘন্টা শুধু বসিয়ে রেখেছিল। আর কিছুই করতে হয় নি। ঘটনাটা ছড়িয়ে পড়বার পর থেকে আর কখনোই কোন ছেলে তাঁকে ডিস্টার্ব করার সাহস পায় নি। আর কেন জানি তারও কারো সাথে প্রেম করার ইচ্ছে জাগে নি মনে। তবে এখনকার ব্যাপারটা ভিন্ন। সৈকত ছেলেটাকে কেন জানি তাঁর ভাল লেগে গেছে। একটু বাজিয়ে দেখে যদি মনে হয় সব ঠিক আছে, তাহলে সে এই ছেলের সাথেই প্রেম করবে, এই ছেলেকেই বিয়ে করবে, এই ছেলেকেই তাঁর বাচ্চার বাবা বানাবে বলে সে ঠিক করে ফেলেছে।
ভেবেচিন্তে সে ঠিক করল মেসেজ পাঠিয়ে রাতে কথা বলতে বলবে। আগে জানা দরকার ফোনটা কি আসলেও সৈকতের নাকি অন্য কারো। সবার অলক্ষ্যে একটা মেসেজ টাইপ করে সে অচেনা নাম্বারটাতে পাঠিয়ে দিল।

“আপনি কি সৈকত?”

*****
“সৈকত বলছি। নিশাত বলছেন?”

“হ্যাঁ, কেমন আছেন?”

“ভাল; আপনি ভাল আছেন?”

“হুম।“

“আপনি আমার জ্যাকেটে চিরকুট রেখেছিলেন কেন জানতে পারি?”

“অবশ্যই জানতে পারেন। আপনার সাথে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছিল, তাই।“

“কথা বলতে চাইলে তো সরাসরিই বলতে পারতেন। এত নাটক করার কি দরকার ছিল?”

“আমি নাটক করতে পছন্দ করি, আপনার কোন সমস্যা?”

“হ্যাঁ, আমি নাটক দেখতে পছন্দ করি কিন্তু আমার সাথেই কেউ নাটক করবে সেটা পছন্দ করি না।“

“দেখুন আপনার সাথে আমার প্রথম কথা হচ্ছে আজ। শুরুতেই ঝগড়া করাটা কি ঠিক হচ্ছে আমাদের?”

“একদমই না। সরি। আচ্ছা বলুন, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি। আপনি সংসদীয় বিতর্কের Point of personal privilege এর বিষয়ে জানতে চাইছিলেন মনে হয়।“

“সেটা নিয়ে পরে কথা বলব। তাঁর আগে বলুন, আপনি মেয়েদের ব্যাপারে এত জানেন কিভাবে? প্রেম করেন?”

“তা করি না। কেন, প্রেম না করলে কি মেয়েদের ব্যাপারে কিছু জানা যায় না? পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ি। না চাইলেও অনেক কিছুই শেখা হয়ে যায় ম্যাডাম।“

“প্রেম না করেই এতদূর। করলে যে কি করতেন। আপনার কবিতার কথাগুলো যদিও ভুল, তারপরেও শুনতে ভাল লেগেছে। অনেকদিন হয়ে গেল দেবদাস মার্কা কবিতা শুনি না।“

“আচ্ছা, আমার সাথে আপনি এত খুঁচাখুঁচি করছেন কেন?”

“আপনার তাই মনে হচ্ছে? আমার যে ভাল লাগছে।“

“আচ্ছা, আপনি কিসে পড়েন?”

“ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছি। সাইন্সে।“

“ও, তুমি একটা পিচ্চি মেয়ে? আমার আগেই বোঝা উচিৎ ছিল। তোমার কথাবার্তাতে ম্যাচুরিটির কোন ছাপ নেই। বয়সের দোষ। আর শোন, আমি জুনিওরদের আপনি করে বলা পছন্দ করি না। তাই এখন থেকে কথা বললে তোমাকে তুমি করে বলব। ভাল লাগলে কথা বলবে, ভাল না লাগলে বলবে না।“

“কিইইই? আমি পিচ্চি মেয়ে? আপনি জানেন আমার বিয়ে হয়ে গেলে এতদিনে আপনার মত একটা ছেলের জন্ম দিতে পারতাম? আপনি, আপনি চরম বেয়াদব একটা ছেলে। ভদ্রতা কাকে বলে সেটা আপনি জানেন না। আপনাকে ফোন দেওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। আপনি একটা অসভ্য, ফাজিল। মেয়েদের সন্মান করতে জানেন না। আপনার সাথে আমি কোনদিনও কথা বলব না। গুড বাই, আলবিদা।“

*****
নিশাতের চোখে পানি চলে এসেছে। এতবড় অপমান তাঁকে কেউ কোনদিন করে নি, করার সাহস পায় নি। আর কোথাকার কোন এক বিতার্কিক এসে তাঁকে অপমান করল? দোষ তো তারই। সে নিজেই তো নিজের ঘাড়ে সব অপমান নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। নাহ, আর কক্ষনো সে সৈকতকে ফোন দিবে না। কখনোই না।

*****
ফোনটা কেটে গেল। সৈকত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এই টিনেজ মেয়েগুলোকে নিয়ে যত জ্বালা। এদেরকে ঠান্ডা করার একটাই রাস্তা। খেপিয়ে দেওয়া। যাক বাবা, বড় বাঁচা বেঁচে গেল সে। এই মেয়েগুলো অনেক ইমোশনাল হয়, এদের ইমোশন নিয়ে চাইলেই খেলা করা যায় কিন্তু নিজেকে এতটা নিচু কখনোই ভাবে না সৈকত। তাঁদের গ্রুপে অনেকেই আছে যারা নিজেদের ট্যালেন্ট কাজে লাগিয়ে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে, ইচ্ছেমত বান্ধবি বানাচ্ছে আর ছাড়ছে। সৈকত এমনটা কখনোই ভাবে না। তাঁর সব ভালোবাসা বিতর্ককে ঘিরে। সাথে আছে প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস আর আছে সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়াবার অভ্যাস। প্রেম করার সময় তাঁর কোথায়? আর মেয়েরা সবসময় একটু ধীরস্থির ছেলে খুঁজে। তাঁর মত অস্থির ছেলের সাথে কে আসবে সম্পর্কে জড়াতে?

*****
অদ্ভুত সুন্দর ঘ্রাণটা চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছিল। সৈকত কিছুটা অবাক। এতক্ষণ তো এই ঘ্রাণ ছিল না। এই সুবাসের উৎস কোথায়? যদি নিশাতই এই সুবাসের উৎস হয় থাকে তাহলে এখন কেন সে ঘ্রাণটা পাচ্ছে। ভুল বলা হল, পাচ্ছিল। সৈকত অবাক হয়ে লক্ষ্য করল ঘ্রাণটা মিলিয়ে যাচ্ছে। যতক্ষণ সে নিশাতের সাথে কথা বলছিল ততক্ষণই ঘ্রাণটা ছিল। এখন সেটা অনেকাংশেই মিলিয়ে গেছে। What’s the reason behind this reason? নাহ, এর রহস্য তাঁকে ভেদ করতেই হবে। তা নাহলে সে শান্তি পাবে না।

*****
প্রকৃতি মাঝে মাঝে খুব অদ্ভুত কিছু খেলা খেলে যার উপর কারো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সৈকত নিজেও জানে না অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই অদ্ভুত সুন্দর ঘ্রাণটা তাঁর অস্তিত্তের অংশ হয়ে দাঁড়াবে যার হাত থেকে কোনদিনই সে নিস্তার পাবে না। …….(চলবে)

ভালোবাসার ঘ্রাণ # ১ম পর্ব

ভালোবাসার ঘ্রাণ # ২য় পর্ব

১২ thoughts on “ভালোবাসার ঘ্রাণ # ৩য় পর্ব

  1. বাকিটা কই? হা হা ইন্টার
    বাকিটা কই? হা হা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার কে পিচ্চি বললে কেউ এত ক্ষেপে নাকি!!! গপ্প ভালই হ​য়েছে, চালিয়ে যান।

    1. কি করব বলুন? এই পর্ব লেখার পর
      কি করব বলুন? এই পর্ব লেখার পর অধমের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রোম্যান্টিক গল্প লেখার মুড সেই যে চলে গেল আর ফিরে আসল না। ৩ মাস ধরে মুড আসার প্রতীক্ষায় আছি। জোর করে আমি কিছুই লিখতে পারি না। যেদিন মুড আসবে সেদিন আবার শুরু করব ইনশাল্লাহ। আপাতত সাইকো গল্প লেখার মুড চলছে। মুড থাকতে থাকতেই উত্তরাধিকার শেষ করার সুযোগ দিন। পরে না হয় আবার এই গল্পে ব্যাক করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *