শতাব্দীর সেরা কৌতুক: বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র

আমি একজন কৌতুকপ্রিয় মানুষ। ইদানিং দেশে কৌতুকের পরিমান এমন হারে বাইড়া গেছে যে, আর হাসি আসেনা। আয়নার সামনে দাড়াইয়া অনেকবার আঙ্গুল দিয়া ঠোট চেগাইয়া হাসার চেষ্টা করছি। বরাবরই ফেইল মারছি। প্রতিদিন গরুর গোস্ত দিয়া ভাত খাইলে যেমন- গরুর গোস্ত মজা লাগেনা; তেমনি, প্রতিদিনের খবরের শিরোনাম যদি হয়-কৌতুক তাইলে কি আর কৌতুকের মজা থাকে?

দেশে যদি এমন কৌতুক আর কয়দিন চলতে থাকে, তয় আমরা হাসতেই ভুইল্লা যামু; এইডা গ্যারান্টি দিয়া কওয়া যায়। ঠাট্রা-মশকরা, ফাইজলামি আর বাইচলামির একটা সীমা আছে।


আমি একজন কৌতুকপ্রিয় মানুষ। ইদানিং দেশে কৌতুকের পরিমান এমন হারে বাইড়া গেছে যে, আর হাসি আসেনা। আয়নার সামনে দাড়াইয়া অনেকবার আঙ্গুল দিয়া ঠোট চেগাইয়া হাসার চেষ্টা করছি। বরাবরই ফেইল মারছি। প্রতিদিন গরুর গোস্ত দিয়া ভাত খাইলে যেমন- গরুর গোস্ত মজা লাগেনা; তেমনি, প্রতিদিনের খবরের শিরোনাম যদি হয়-কৌতুক তাইলে কি আর কৌতুকের মজা থাকে?

দেশে যদি এমন কৌতুক আর কয়দিন চলতে থাকে, তয় আমরা হাসতেই ভুইল্লা যামু; এইডা গ্যারান্টি দিয়া কওয়া যায়। ঠাট্রা-মশকরা, ফাইজলামি আর বাইচলামির একটা সীমা আছে।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় এক পিস কথা আছে- ‘কানা গরুর গুতাগুতি-মইরচের সর্বনাশ’। কথাটারে তর্জমা কইরা বলা যায়- দুই নেত্রীর জাতীয় বাইচলামি আর তামাশার কবলে পইড়া আমজনতার জীবন মোটামুটি সর্বনাশের দিকেই আগাইতেছে। একের পর এক সারপ্রাইজ খাইয়া খাইয়া পেট ভরতেছে ঠিকই, মন আর ভরেনা।

এক টেলিফোন কল দিয়া কৌতুকের উদ্ভোধন করলেন প্রধান-মন্ত্রী। পরথম পরথম সিরিয়াস মনে হইলেও পরে তা কৌতুকে পরিনত হয়। আর খালেদা বানুর ঝগড়াটে গলাকে তার সমর্থকরা শেখ হাসিনার টেকনিক বলে প্রচার করলেও ২৯ ডিসেম্বরেই গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের ঘোষণার সময় যেই মেজাজ কইরা খালেদা বানু প্রমাণ করলেন যে, টেলিফোনের ঝগড়াটা মশকরা ছিলনা। ওনার মেজাজ সবসময়ই এইরকম খিটখটে থাকে। আর থাকবনাইবা ক্যান? শত চেষ্টা কইরাও ঘর থেইক্যা বাইর হইতে না পারলে কার মেজাজ ঠিক থাকে?
সবশেষ, সরকার নির্বাচন কইরা গদিতে বসতে যাইতেছে। শত চেষ্টা কইরাও বাকশালী সরকারকে দমাইতে পারলনা খালেদা। নির্বাচনে ৫-১০% ভোট পাইয়া সরকার সেইটারে ৪০-৪২% দেখাইয়া জনগনরে মুলা দেখাইছে। বুঝাইয়া দিছে দেশে আওয়ামিলীগের চেয়ে শক্তিশালী আর কোন দল নাই।

দাত কেলানো হাসি দিয়া সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা জনগনরে ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য ধান্যবাদ দেন। অন্যদিকে খালেদার বক্তব্য- জনগন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছে। আমি ভদ্র মানুষ, ধইরা নিলাম- দুই জনেই সত্য কথা শুনাইছে। তাই যদি হয়- বি এন পির কোন নেতা কর্মী পুলিশি বাধা উপেক্ষা কইরা রাস্তায় নামে না ক্যান? অথবা- ভোট কেন্দ্রে কুকুর/বিড়াল দেখা গেল; মানুষ দেখা গেলনা ক্যান? দুই দলেরই এক উত্তর। প্রতিপক্ষের দমন-নীতি আর ভয়-ভীতি।

ইলেকশন হোক আর সিলেকশন হোক- হইসে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল হিসাবে- আমি নৌকাতেই ভোট দিতাম। তাই আমার মাথা-ব্যাথা নাই।

সরকার নির্বাচনী ওয়াদা জলাঞ্জলি দিয়া সরকার গঠন নিয়া ব্যাস্ত আছে। ইস্তেহারের প্রধান প্রলোভনঃ ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’। কিন্তু, নির্বাচন পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মৃত, ভীত ও আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও সরকারের মাথা ব্যাথা দেখতেছিনা।

দরকার ছিল গদি, গদি পাইছেন। এখন দয়া কইরা ওয়াদার দিকে নজর দেন। কারণ- ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ শতব্দীর সেরা কৌতুকে পরিনত হতে চলছে। জামাত-শিবির, ধর্মান্ধ ও দল-কানাদের রুখতে না পারলে গদি ছাইড়া সহিংসতা বন্ধ করেন। বঙ্গতে শান্তি প্রতিষ্ঠা না কইরা কঙ্গোতে সেনা পাঠাইলে লাভ হইবে না…

১ thought on “শতাব্দীর সেরা কৌতুক: বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *