কালবৈশাখী ঝড় এর সুলিখিত পোস্ট “ময়মনসিংহের দুই রাজাকার হলো এমপি…!!!” ও আমার মন্তব্য

একজন অতিসাধারন, নগন্য কিন্তু খাঁটি বাঙ্গালী হিসেবে কালবৈশাখী ঝড় এর সুলিখিত পোস্ট “ময়মনসিংহের দুই রাজাকার হলো এমপি…!!!” (http://istishon.blog/node/6319#sthash.dBlz2apA.dpbs) পড়ে যার পর নাই বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছি। অবশ্য এই মর্মাহতের তালিকায় আমি একা নই। ইস্টিশনের অনেক নিয়মিত এবং বিদগ্ধ ব্লগার যেমন শঙ্খচিলের ডানা, একেলা পথের পথিক, ক্লান্ত কালবৈশাখী, ডাঃ আতিক, নুর নবী দুলাল, খাজা বাবা প্রমুখ আছেন। আমার সীমিত জ্ঞানে যা বুঝি তা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি আওয়ামীলিগে “ফাকিস্তানপন্থী অভিযোগে অভিযুক্ত” ব্যাক্তিদের (মোসলেম উদ্দিন এবং এম.এ. হান্নান) যোগদান অনেকেই ভালো চোখে দেখে নি। কারন কি? কারন সম্ভবত একটাই, আমরা অনেকেই আওয়ামীলিগের শুভাকাঙ্ক্ষী। এ বিষয়ে আমার প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ডাঃ আতিক ভাইয়ের মন্তব্য হচ্ছে,

ইকরাম ভাই অধিক উত্তেজনায় আসলেই একটু বেশী রিয়াক্ট করে ফেলছেন। আশা করি উনার উত্তেজনা প্রশমিত হলে নিজেই ব্যাপারটা ধরতে পারবেন।

কিরন শেখর ভাইও আমাদের কুল হবার পরামর্শ দিয়েছেন।

এসজিএস শাহিন ভাই ও তারিক লিংকন ভাই নিজস্ব যুক্তি দিয়ে আওয়ামীলিগে ফাকিস্তানপন্থীর অন্তর্ভুক্তিকে সাপোর্ট করেছেন। আমার দূর্ভাগ্য জ্ঞানের স্বল্পতা বা অন্য যেকোন কারনেই হোক ওনাদের দুজনের যুক্তি আমার দূর্বল মস্তিস্কের উপর দিয়ে গেছে। অবশ্য অন্য পাঠকরা বুঝতে পেরেছেন কিনা আমি জানি না। তবে সবচেয়ে দূর্দান্ত মন্তব্য করেছেন মনে হয় শঙ্খনীল কারাগার। তিনি সরাসরি মন্তব্যকারীদের দুভাগে ভাগ করে ফেলেছেন। আওয়ামী-বিরোধী ও আওয়ামী-পক্ষীয়। ওনার বক্তব্য ছিল এরকম,

আওয়ামী বিরোধীরা কিছু সমালচনার সুজোগ পেয়েছে।আওয়ামী পক্ষীয়রা আরো বেশী সুজোগ পেয়েছে তাদের যুক্তিসম্পন্ন মন্তব্য প্রদানে।

আমার অনুজ প্রতিম প্রিয় ব্লগার ডন মাইকেল কর্লিওনি আবার শঙ্খনীল কারাগার ভাইকে “সুপার-ডুপার এন্ডোর্সমেন্ট” করেছে।

অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সবাইকে জানাতে চাই যে আমি উত্তেজনার বসে বা আওয়ামী-বিরোধী মানসিকতা নিয়ে উল্লিখিত পোস্টে কিছু কিছু লিখিনি। কারো প্রতি আমার ব্যাক্তিগত আক্রোশ থাকারও প্রশ্ন ওঠে না। যা লিখেছি তা আমার আদর্শগত অবস্থান থেকে, বাংলাদেশের প্রতি আমার ভালবাসা থেকে, হিপোক্রেসির প্রতি আমার ঘৃণা থেকে। “যদ্যাপি আমার গুরু শুরিবাড়ী যায়, তদ্যাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়” এই অন্ধ নীতির অনুসারী আমি না। আমি দলীয় চশমা পড়ে দেশ দেখি না, আমি খালি চোখে, আমার বাঙ্গালীত্বের চেতনায় দেশ দেখি। রাজাকারের বিচার চাই বলে চিৎকার করতে করতে গলা শুকিয়ে গেলে তেষ্টা মেটানোর অজুহাতে ঠান্ডা “সেজান” জুসে গলা ভিজিয়ে চাঙ্গা হওয়ার দলে আমি নেই। আমি একটা কথা বুঝি না, ফাকিস্তানের দোসরের আবার ছোট-বড় কি? কিভাবে, কোন যুক্তিতে, কোন বিবেকের তাড়নায় একজন ফাকিস্তানপন্থীকে আওয়ামীলিগে নেওয়াটা সমর্থন করা যায়? যারা সমর্থন করছেন তারা কি বাংলাদেশের ইতিহাস জানেন না? তাদের পরিবার কি এই মহান যুদ্ধের সাথে কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না? তাদের বাবা-মা কি কোনদিন তাদের শোনান নি সে দুঃসহ সময়ের কথা? তারা কি জানেন না কি পাতি-ছোট-মাঝারী-বড় রাজাকারেরা কি নিদারুনভাবে আমাদের জাতিস্বত্তাকে হেয় করেছিল? নাকি ১৯৭১ সালে যে মুক্তিবাহিনীর খোঁজ দিয়েছে কিন্তু নিজ হাতে খুন করে নি সে ফাকিস্তানের দালাল না। অথবা যে মনে প্রানে ফাকিস্তানের জয় আর বাংলাদেশের পতন চেয়েছিল সে বাংলাদেশের শত্রু না? আমাদের কি বিবেক-বুদ্ধি নেই? আমাদের কি কোন নির্দিষ্ট দলের কাছে শিখতে হবে কে রাজাকার আর কে রাজাকার না? নিশ্চয়ই না। আমার কাছে রাজাকারের সংজ্ঞা খুব সহজ।

আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার বিপরীতে যারা আছে তারা সকলেই ফাকিস্তানীদের জারজ সন্তান রাজাকার।

এই সংজ্ঞার ব্যাপ্তি সৃষ্টির আদিকাল থেকে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত। এই মানসিকতার ধারণকারীর জন্ম ১৯৩০ সালে হোক বা ১৯৯৬ সালেই হোক তাতে কিছু যায় আসে না। কারণটা খুব সহজ। ১৯৭১ হচ্ছে আমাদের কষ্টিপাথর। শত্রু-মিত্র চেনার এর চেয়ে সহজ উপায় আর নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এই অপ-চেতনার ধারক ও বাহকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি এদের সবাইকে গুলি করে মেরে ফেলবো?

এসজিএস শাহিন ভাইয়ের ভাষায় বলতে গেলে,

যাইহোক, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ১১০০০ হাজারের বাইরের সবাইকে কি আমরা খুন করব? আমার কথা হচ্ছে এই রাজাকার বা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে রাজাকারের দায়ে শাস্তি দেয়ার মত কোন গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ কি আছে?

কিংবা তারিক লিংকন ভাইয়ের ভাষায়,

ভুল না এইটা তো বলি নাই… প্রশ্ন ছিল সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বাইরের সবাইকেও কি আমরা ফাঁসি দিব?

আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে এই জারজগুলোকে গুলি করে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরে ফেলতে পারলে খুবই ভালো হত। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এটা করা খুব দরকার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এসব করা সম্ভব নয়। “মানবাধিকার” লঙ্ঘিত হবে। তো এখন মানবাধিকার শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য কি করতে হবে? জামাত-শিবিরের পাতি কিংবা “সুনির্দিষ্ট অভিযোগহীন” রাজাকারগুলোকে ফুলের মালা দিয়ে বরন করে সংসদে বসিয়ে শোভা বর্ধন করতে হবে। গ্র্যান্ড মাস্টার স্থপতি লুই আই কান যে ডিজাইন করেছেন, ফাকিস্তানপন্থীদের সেখানে স্থান না দিলে তা অপূর্ণ থেকে যায় বুঝি!

আমি দুঃখিত, আমি অনেকের মত এত “উদারমনা-সংস্কারবাদী” না। কিংবা আমি কোন দলীয় নেত্রী বা ম্যাডামের নির্দেশে স্বেচ্ছা-অন্ধত্ব বরন করে নেই নি। আমার স্মৃতি বড়ই বেয়াড়া। আমাকে আমার জন্মপরিচয় ভুলতে দেয় না। আমার নাক খুব উঁচু, কারন আমি ১০০% বাঙ্গালী, আমার জাত্যাভিমান খুব বেশী। পারিবারিকভাবেই আমি জানি আমার এই পরিচয় পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা না। আমি এরকমই থাকবো সারজীবন। আমার ১০ বছরের ছোট্ট মেয়েকেও এভাবেই গড়ে তুলছি। ০.০০১% ফাকিস্তানের উপস্থিতি দেখলেই আমরা থুতু দেই, মালা দিয়ে বরন করে নেওয়ার প্রশ্নতো উঠেই না। আমার কাছে আওয়ামীলিগের চেয়ে বাংলাদেশ বড়। আওয়ামীলিগ যদি ফাকিস্তানের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চায় তাহলে আমার কিছু যায় আসে না। আর যারা অন্ধভক্তির স্তাবকতার দ্বারা আওয়ামীলিগের ভেতর জামাতী সংক্রমন ত্বরান্বিত করতে চান তাদের জন্য দুঃক্ষ প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই। ওনারা বুঝতেই পারছেন না যে একসময় বি.এন.পি’র উপর ভর করে ১৯৭১ এর পর জামাত নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্টা করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরা আওয়ামীলিগে নিজেদের জীবানু ঢুকিয়ে ক্ষতিকর পরজীবির মত নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা নিশ্চিত অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সব শেষে প্রার্থনা করি, অন্ধদের যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয়। জামাতীকরনের হাত থেকে আওয়ামী লিগকে যেন পরম করুনাময় রক্ষা করেন।

৩০ thoughts on “কালবৈশাখী ঝড় এর সুলিখিত পোস্ট “ময়মনসিংহের দুই রাজাকার হলো এমপি…!!!” ও আমার মন্তব্য

  1. ওনারা বুঝতেই পারছেন না যে

    ওনারা বুঝতেই পারছেন না যে একসময় বি.এন.পি’র উপর ভর করে ১৯৭১ এর পর জামাত নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্টা করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরা আওয়ামীলিগে নিজেদের জীবানু ঢুকিয়ে ক্ষতিকর পরজীবির মত নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা নিশ্চিত অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

    সহমত :থাম্বসআপ:

  2. আমার কাছে আওয়ামীলিগের চেয়ে

    আমার কাছে আওয়ামীলিগের চেয়ে বাংলাদেশ বড়। আওয়ামীলিগ যদি ফাকিস্তানের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চায় তাহলে আমার কিছু যায় আসে না। আর যারা অন্ধভক্তির স্তাবকতার দ্বারা আওয়ামীলিগের ভেতর জামাতী সংক্রমন ত্বরান্বিত করতে চান তাদের জন্য দুঃক্ষ প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই। ওনারা বুঝতেই পারছেন না যে একসময় বি.এন.পি’র উপর ভর করে ১৯৭১ এর পর জামাত নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্টা করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরা আওয়ামীলিগে নিজেদের জীবানু ঢুকিয়ে ক্ষতিকর পরজীবির মত নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা নিশ্চিত অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সব শেষে প্রার্থনা করি, অন্ধদের যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয়। জামাতীকরনের হাত থেকে আওয়ামী লিগকে যেন পরম করুনাময় রক্ষা করেন।

    একদম মনের কথাগুলো বলেছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  3. ওনারা বুঝতেই পারছেন না যে

    ওনারা বুঝতেই পারছেন না যে একসময় বি.এন.পি’র উপর ভর করে ১৯৭১ এর পর জামাত নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্টা করেছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরা আওয়ামীলিগে নিজেদের জীবানু ঢুকিয়ে ক্ষতিকর পরজীবির মত নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা নিশ্চিত অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

    শতভাগ সহমত। আর যখন বুঝতে পারবে তখন কিছুই করার থাকবেনা।

  4. আমার প্রথম থেকেই ভয় ছিলো এখনো
    আমার প্রথম থেকেই ভয় ছিলো এখনো আছে ।। জামাতের নেতা যেদিন আওয়ামীলীগ এ যোগদান করল সেদিন বাবা আমাকে বলল খুব খারাপ কিছুর অপেক্ষার পালা হয়তো শুরু হয়ে গেলো !! আমি জানিনা উনার কথা ঠিক হবে কিনা কিন্তু এটা জানি আওয়ামীলীগ এর উদ্দেশ্য অনেকটা ঘোলাটে হয়ে আছে এর পর থেকে ।। আর এই সুযোগে বিএনপি উছিলা পেয়ে গেলো একটা ……

    1. পড়ার জন্য ধন্যবাদ। দেখা যাক
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ। দেখা যাক ভবিষ্যতে কি হয়। আশা করি আওয়ামীলিগ নিজের ভুল বুঝতে পারবে এবং এই ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

  5. আমার একটা মন্তব্য কোট করেছেন
    আমার একটা মন্তব্য কোট করেছেন দেখলাম ইকরাম ভাই। “উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে” রিয়াক্ট করা বলতে আমি কিন্তু আপনার বক্তব্যকে ইংগিত করি নাই। আপনার ভাষার ব্যবহারকে ইংগিত করেছিলাম। আগে কখনও এইভাবে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করতে দেখি নাই আপনাকে। আপনার রাগ হওয়াটা অন্যায় মনে করিনি। কিন্তু সহব্লগারকে হুট করে ছাগু বলাটাও মেনে নিতে পারিনি (প্রমাণিত ছাগু হইলে মেনে নিতাম)।

    আপনার এই পোস্টের বক্তব্যের সাথে সহমত।

    1. আপনি যে আমার বক্তব্যকে ইংগিত
      আপনি যে আমার বক্তব্যকে ইংগিত করেন নাই সেটা আমি জানি। কিন্তু দলীয়স্বার্থে এতটা অন্ধ হয়ে যাওয়াটা খুব আজব একটা ব্যাপার। রাম, সাম, যদু, মধু এসব বললে গায়ে লাগে না। কিন্তু যখন দেখি একজন প্রতিভাবান ব্লগার এ ব্যাপারটাকে সমর্থন করছে তখন বিষয়টা দুঃক্ষজনকের চেয়ে আতংকজনক বেশী হয়ে দাড়ায়। এসব ক্ষেত্রে সামান্য ধাক্কা দেয়াটা মনে হয় জরুরি।এছাড়া ফাকিস্তান ইস্যুতে আমার আবার জিরো টলারেন্স। তাই মাথাটা সত্যিই গরম হয়ে গিয়েছিল। কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম প্রতিমন্তব্য না লিখে একটা গোটা পোস্ট নামিয়ে দেই। দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাক।

      কষ্ট করে পড়ার জন্য এবং আপনার মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  6. পচাত্তরে একবার ঘাঁড়ে চেপে
    পচাত্তরে একবার ঘাঁড়ে চেপে বসার পর বি.এন.পি. আর কখনই জামাতকে ঘাঁড় থেকে নামাতে পারে নি।

    ছিয়ানব্বই একদলীয় নির্বাচন করার পর বি.এন.পি. যেভাবে সমালোচিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ তাদের গৃহপালিত বিরোধী দল নিয়ে নির্বাচন করে তার সিকি ভাগও হয় নি। কারণ ওই জামাতই। জামাতের জন্য যুদ্ধাপরাধী ইশ্যুতে বি.এন.পি.র নগ্ন বিরোধীতা আর সাম্প্রতিক সময়ে জামাত শিবিরের তাণ্ডব। এত শোচনীয় পরিস্থিতিতেও বি.এন.পি. জামাতকে ঘাঁড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে নি। জামাত এমনই এক জোঁকের নাম।

    যারা ভাবছেন, শুভবুদ্ধির উদয় হলেই আওয়ামী লীগ জামাত এবং তাদের নেতাকর্মী (সাবেক বা বর্তমান) দের থেকে বেরিয়ে আসবে, তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। জামাতকে এখনই ঝেড়ে না ফেললে জামাতই আওয়ামী লীগকে গ্রাস করবে। যেমনটা করেছে বি.এন.পি. কে। দেশের শীর্ষ দুই দলেই জামাতের অবাধ বিচরণ আর বাংলা মায়ের মৃত্যুর মধ্যে আমি কোন পার্থক্য দেখি না।

    তাই চাই, এখনই আওয়ামী লীগের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক…

    তবে ইকরাম ভাই, সেদিন আপনার মন্তব্যও বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে গিয়েছিল। এভাবে সহব্লগারকে আক্রমণ করা অনুচিত বলেই মনে করি…

    আর আমার নামের বানান কালবৈশাখি :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

      1. একটা জিনিস না বললে নয় জামাত
        একটা জিনিস না বললে নয় জামাত কিন্তু সুবিধাবাদি একটা দল আর ওরা যেকোন সময় নিজের সুবিধার জন্ন যেকারো বুকে ছুরি মারতে এক্টৈ বারের জন্ন ও চিন্তা করবে না

  7. ইকরাম ভাই, এর থেকে জটিল
    ইকরাম ভাই, এর থেকে জটিল বিতর্কে আত্মপক্ষ সমর্থন করার মত যুক্তি এবং প্রেক্ষাপট আমার জানা আছে। কিন্তু কিছুই করব না। তার সবচে বড় কারন অনিচ্ছা, আপনার (এবং আপনাদের অনেকের) যুক্তির স্টাইল যথেষ্ট বিচার-বিবেচনাবর্জিত।। কোন পাঠকই মূলপোস্টে আমার/আমাদের আলোচনা পড়লে বুঝতে পারবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এবং কিঞ্চিৎ ঘৃণাগত কারণে আমি আর গন্ধ ছড়াইতে চাই না…

    ধন্যবাদ… ভাল থাকবেন! আর হ্যাঁ… আপনারা কেউ জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারবেন না আওয়ামীলীগকে জামাত-শিবির গ্রাস করেছে বা করে ফেলছে!! কেননা না আপনারা হচ্ছেন সেইসব সুশীলগোষ্ঠী যারা বলবেন আওয়ামীলীগও জামাতের সাথে ঐক্য বা রাজনীতি করেছে অথবা সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু কখনই বলবেন না বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ ৭২ এর সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধই রেখেছিল এবং ১৯৭৮ সালে মহান জেনারেল জিয়া তার হীন রাজনৈতিক স্বার্থচরিতার্থ করার জন্যে এই আফিম পান করে বাঙলায় বিষবৃক্ষটির বপন এবং লালন করেছিলেন যে বিষবৃক্ষের নিধনে আওয়ামীলীগকে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে ১৯৯৬ সালের আন্দোলন করতে হয়েছিল। সবচে মজা লাগে যখন আপনারাই শেখের বেটিড় দিকে তাকায় থাকবেন। আমিও এই ব্যাপারটি নিয়ে বিব্রত তবে এখনই আপনাদেরমত লঙ্কাকাণ্ড বাধাতে রাজী নই কারণ আমার আওয়ামীলীগে আস্থা আছে…
    আপনাদের জন্যে শুভ কামনা। সুযোগে এক হাত ক্যান সব হাত-পা নিয়ে রেডি থাকেন আওয়ামীলীগের পিছনে লেগে থাকতে। কিছু বিএনপি-জামাত আর সুশীলের বাহবা ঝুটবে মন্দ কি? ভাল তো ভাল না! আদর্শহীন – অতিআদর্শিক সবার বাহবা একই সাথে পাওয়ার মত ডায়নামিক কয়জনেই বা হতে পারে…

    1. লিংকন ভাই, আপনি ধান ভানতে
      লিংকন ভাই, আপনি ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে ফেললেন না? আচ্ছা এসব বাদ দিয়া আমার একটা প্রশ্নের সরাসরি “ইয়েস” “নো” টাইপ উত্তর দেন তো। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এই যে সন্দেহভাজন রাজাকাররা এমপি হইতেছে আপনি কি এটা সমর্থন করেন? আমি ব্যাখ্যা শুনতে ইচ্ছুক না। শুধু ইয়েস নো…

      1. আমার মন্তব্য বোধহয় আতিক ভাই
        আমার মন্তব্য বোধহয় আতিক ভাই সম্পূর্ণ পড়েন নি!! আমি বলেছিলামঃ
        “আমিও এই ব্যাপারটি নিয়ে বিব্রত তবে এখনই আপনাদেরমত লঙ্কাকাণ্ড বাধাতে রাজী নই কারণ আমার আওয়ামীলীগে আস্থা আছে…”
        কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর ইয়েস-নো’র বাইরে গিয়ে দিতে হয়।

    2. লিংকন ভাই, আপনার ঘৃনা সাদরে
      লিংকন ভাই, আপনার ঘৃনা সাদরে গ্রহণ করলাম, যদিও যুক্তি আশা করেছিলাম| অবশ্য যেখানে যুক্তির মৃত্যু সেখানেই অন্ধ আক্রোশ আর ঘৃণার জন্ম| সেই বিচারে আপনার “কিঞ্চিত ঘৃণার” বহিঃপ্রকাশ আমাকে অবাক করেনি| এক জীবনে অনেক ভালবাসা পেয়েছি, কিঞ্চিত ঘৃণায় জীবনের ছন্দে পতনের শংকা আনবে না, তবে কিছুটা বৈচিত্রের স্বাদ নিশ্চয়ই দেবে| সেটাই বা কম কি? তবে আপনার সদয় অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি আমি “চুশীল” যেমন না তেমনি অন্ধও না| আবার কাউকে চেতনার সোল এজেন্ট ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি না| চেতনার মর্ম বোঝার বা বোঝানোর জন্য আমাকে কপালে দলীয় স্টিকার লাগাতে হয় না| কারণ আমি চেতনা ব্যবসায়ী না| আমার চেতনার দায়ভার আমি নিতে জানি, সাদাকে সাদা আর কালকে কালো বলার সততা এবং দৃষ্টির স্বচ্ছতা আমার মধ্যে আছে| সেই স্বচ্ছতা অন্ধদের মাঝেও ছড়িয়ে পরুক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আবার আওয়ামী লীগের মাঝে জেগে উঠুক, এই প্রার্থনা অন্তর থেকে করি|

      আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সবসময়ের মত আপনার সুলেখনি দ্বারা ব্লগকে সমৃদ্ধ করতে থাকুন এই কামনা করি|

      1. যে মানদণ্ডে আপনার এই পোস্টের
        যে মানদণ্ডে আপনার এই পোস্টের আলোচনার পোস্টটি সুলিখিত সেই মানদণ্ডে সুলিখিত পোস্ট মনে হয় আমি লিখতে পারি না। আমি ভাই অন্ধ মানুষ…
        আমরা কি আর আদর্শহীন – অতিআদর্শিক সবার বাহবা পাওয়ার মত সর্বজনগ্রাহ্য ডায়নামিক সুলিখিত পোস্ট দিতে পারব? সর‍্যি!
        আর হ্যাঁ! ঘৃণার শুরু আপনার আলচ্য পোস্টে আপনিই শুরু করেছিলেন তাই নিজের কথা আগে নিজেকে দিয়ে যাচায় করতে হয়। আগেও বলেছি আজও বলছি ‘তীর অন্যের দিকে ছুড়লেই কেবল নিজের দিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না…’

        1. লিংকন ভাই, কথা ঠিক যে আমি
          লিংকন ভাই, কথা ঠিক যে আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেছিলাম, যা আমার স্বাভাবিক স্বভাব বিরুদ্ধ| তবে সেটা ছিল হতাশার বহিঃপ্রকাশ| আমার একটা মন্তব্যে আমি ইতিমধ্যে বলেছি যে কিছু কথা রাম, সাম, যদু, মধু বললে গায়ে সয়, আপনার মতদের কাছ থেকে না| যাই হোক, ডা: আতিক ভাই আর ক্লান্ত কালবৈশাখি (বানান ঠিক আছে তো ভাই?) ভাই ঠিক বলেছেন, আমরা আমরাই তো, নিজেদের মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি কোনো কাজের কথা না| সব ভুল বোঝাবুঝির দায়ভার আমি নিচ্ছি, ঠিক আছে? কখনো কোথাও যদি কোনদিন দেখা হয় তাহলে আমিই আগে হাত বাড়িয়ে দেব, OK? এবার :বুখেআয়বাবুল:

  8. আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের

    আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার বিপরীতে যারা আছে তারা সকলেই ফাকিস্তানীদের জারজ সন্তান রাজাকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *