গনজাগরণ মঞ্চের ১০ মাসঃ কি পেলাম আর কি-বা পাব?

দেখতে দেখতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের ১০ মাস পূর্ণ হয়ে গেছে কিছুদিন আগেই । ১০ মাসে একটি শিশু মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম লাভ করে। আশুন দেখি এই ১০ মাসে তাদের আন্দোলন থেকে আমরা কি-বা পেলাম, আর কি-বা পাবো। বুঝতে চেষ্টা করি, আসলে এটা কি ছিল , আর এর স্বরূপই বা কি?
(১)

দেখতে দেখতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের ১০ মাস পূর্ণ হয়ে গেছে কিছুদিন আগেই । ১০ মাসে একটি শিশু মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম লাভ করে। আশুন দেখি এই ১০ মাসে তাদের আন্দোলন থেকে আমরা কি-বা পেলাম, আর কি-বা পাবো। বুঝতে চেষ্টা করি, আসলে এটা কি ছিল , আর এর স্বরূপই বা কি?
(১)
শাহবাগ আন্দোলনকে যদি আমরা ইতিবাচকভাবে দেখতে যাই, তাহোলে প্রথমেই আমাদের চোখে ভাসে সেই অসাধারন, আভাবনিয় দৃশ্য — লক্ষাধিক লোকের হাতে মোমবাতি ; মোমবাতি নিয়ে তারা নিসচুপ দাঁড়ীয়ে আছে। পুরো এলাকা জুড়ে নিচ্ছিদ্র নিরবতা, কিন্তু তারপরও সেই নিরবতার আওয়াজ ছিল লক্ষ বজ্রধনির সমতুল্ল, যা বাংলাদেশের ধর্ম ব্যবসায়িদের ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেইদিন আলোর বন্যায় চারিদিক ভেসে গিয়েছিল। সেই আলোর ঝলকানিতে চোখ ধাধিয়ে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল গোঁড়া ধর্মভিত্তিক দলগুলো।
কিন্তু, প্রদীপের নিচেই থাকে অন্ধকার, সেটা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেকেই মনে হয় খুব ভাল বোঝা যায়। শাহবাগ আন্দোলনের পটভূমির দিকে তাকালেই বিষয়টা একটু একটু করে পরিস্কার হবে। আমরা যারা মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলি, তাদের কাছে তাদের আন্দোলন এক অর্থে ছিল অপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়। কারণ, মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যাবজ্জীবন বা ২০ বছরের সাজাই সরবচ্চ শাস্তি। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই যেখানে মৃত্যুদণ্ড অমানবিক আর নিষ্ঠুর কাজ বলে পরিত্যাজ্য হচ্ছে, সেখানে ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ স্লোগানে চারিদিক মুখর করে তোলা ‘অমানবিক ও চরমপন্থি আন্দোলন’ বলে কার কাছে মনে হলে সেটার জন্য কাউকে দোষ দেয়া যাবেনা। কারণ, গনজাগরণের আন্দোলনকারি ও এর সমর্থকরা মৃত্যুদন্ড ছাড়া অন্য কিছু মানতে কখনই রাজি ছিলোনা এবং এখনও রাজি নয়। যাবজ্জিবন ও মৃত্যুদন্ড মধ্যে তাদের চোখে আকাশ-পাতাল তফাৎ । কিন্তু, মৃত্যুদন্ড, আর যাই হক, মানবাধিকার ও সভ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে একপ্রকার ‘কিলিং’ ছাড়া আর কিছু নয়। শাহবাগের আন্দোলনকারী ও এর সমর্থকেরা ফাটিয়ে বলতেই পারেন যে, তাদের আন্দোলনের কারণেই কাদের মোল্লা ও অন্যান্য রাজাকারদের ফাঁসির রায় হচ্ছে; বিশেষ করে বিএনপির অত্যন্ত প্রভাবশালি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরও একি পরিনতি হয়েছে, কিন্তু, ‘রাজাকারদের গুরু’ গোলাম আযম (১৯৯২ সালে শহিদ জননী যাহানারা ইমামের গণআদালতে যার ফাসির রায় হয়েছিলো) ও আব্দুল আলীমের হল যাবজ্জিবন। এটা করা হয়েছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। কিন্তু, গণজাগরন মঞ্চ এই রায়গুলো না মেনে প্রতিবাদ মিছিল বের করে ও এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার ঘোষণাও করেছিল। মোটকথা, মৃত্তুদন্ড বা ‘হত্যার বদলে হত্যা’র রায় তাদের চাই-ই চাই।
নাহ, কোথায় যেন মনে হয় এক্কি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আছে। একেবারে নিরদয় বা আমানবিক রায়ের জন্য উঠেপড়ে লাগাটাকে অনেকেই ‘চরমপন্থা’ বলে বিবেচনা করতে পারেন। মানুষের চোখে তারাই হিরো, নিয়মনিস্ঠার প্রতি অটলতার পাশাপাশি যারা শত্রুর প্রতিও দয়াদ্র হয়ার দুঃসাহস দেখায়। শাহবাগের আন্দোলনকারী ও গণজাগরণ মঞ্চ নিঃসন্দেহে এই শ্রেণিতে পড়েন না।

(২)
শাহবাগের আন্দোলন কিছু মানুষকে এমন পরিমাণ প্রচার ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে, যা অন্য মানুষেরা হয়তো সারাজিবনেও পান না। ২রা ফেব্রুয়ারী, ২০১৩-এর আগে ইমরান এইচ সরকার ও লাকী আক্তারের মত মানুষেরা ছিলেন আমজনতা। আর আট- দশটা মানুষের মতই রাজনৈতিক বা সামাজিক সচেতনতার জন্য প্রচেষ্টা চালাতেন তারা। কিন্তু, শাহবাগের আন্দোলন তাদের জীবনটাকেই পরিবর্তন করে দিলো। সারা দেশ তাদের এক নামে চিনতে শুরু করল। কিন্তু, ইমরান যেমন আওয়ামী লিগের কর্মী ও সমর্থক হিসেবে পরিছিত, লাকী যেমন ছাত্র উনিওন-এর সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক, তেমনি শাহবাগের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আর বামপন্থী দলগুলোর পরিচালিত আন্দোলনই ছিল (যদিও প্রথম দিকে অনেক দল নিরপেক্ষ মানুষ শাহবাগে এসেছিলেন)। রাজাকার ও জামাত-শিবির বিরোধি আন্দোলন না হয়ে এটা যদি কোন সরকার বিরোধি আন্দলন হত, তাহলে সরকার এটাকে একদিনের বেশি দুইদিনও টিকতে দিতোনা। পুলিশ বা র্যানব দিয়ে তাদের শাহবাগ থেকে উঠিয়ে দেয়া হত।

(৩)
অথচ, শাহবাগ আন্দোলন অনেক মানুষকেই আশান্বিত করেছিল। আওয়ামী লিগ ও বিএনপি জোটের প্রচলিত নোংরা, লজ্জাহীন ও হানাহানির রাজনিতিতে অতিষ্ট মানুষ, যারা কিনা এখন বিশ্বাস করেন যে তরুণ সমাজই দেশের রাজনিতিতে ইতিবাচক পরিবরতন আনবে, তারা অনেকেই আশান্বিত হয়েছিলেন এই ভেবে যে ‘এই গনজাগরনের তরুণরা’ নতুন একটা শক্তি হিসেবে আভিরভূত হবে। কিন্তু তাদের আশায় গুড়েবালি পড়তে বেশি সময় লাগেনি। যখন আওয়ামী সমর্থক লোকজন এবং ১৪ দলীয় জোটের সাথে যুক্ত ছাত্র সংগঠনের ছেলেমেয়েরা এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করে, তখন আওয়ামী লিগের আর কট্টর বাম রাজনীতির সমর্থকরা ছাড়া বাকি সবাই এই আন্দোলনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। বর্তমানে এমনকি অনেক বাম রাজনিতির সমর্থকও এটিকে ‘আওয়ামী মঞ্চ’ বলতে ছাড়েন না।

কাজেই, আচমকা সাড়া জাগানো এই মঞ্চের আগমণে যারা, ভিক্ষুখের পাতে পয়সা পড়ার শব্দে ভিক্ষুক যেমন চমকিত হইয়া উঠে, ঠিক তেমনি পুলকিত হইয়া উঠিয়াছিলেন, তারা পরবর্তীতে যারপরনাই হতাশ হলেন। হতাশ হননি কেবল আওয়ামী লিগ, বাম দলগুলোর কট্টর কিছু সমর্থক এবং যারা কিনা ‘রাজাকার’ বিরধিতাকে একমাত্র প্রতিবাদ এবং ‘পাকিস্তান বিরধিতা’কে একমাত্র আদর্শ মনে করেন, সেই তারা। সন্দেহ নেই , রাজাকারদের শাস্তি বাংলার মাটিতেই হতে হবে, কিন্তু’ ‘এ কোন তরুণ প্রজন্ম’ যারা দেশের অন্য কোন সমস্যা নিয়ে মাঠে নামা তো দূরের কথা, এসব ব্যাপারে চিন্তাই করে না? ‘এ কোন তরুণ প্রজন্ম’ যারা দুর্নীতি, সরকার কতৃক গনতান্ত্রিক অধিকার হরন, সাম্রাজ্যবাদের অগ্রাসন –এসব ব্যাপারে যাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই? ‘এ কোন তরুণ প্রজন্ম’ যারা পাকিস্তান কতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরিণ বিষয়ে নাক গলানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হয়, কিন্তু সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্যাতন বা ভারতের দালালি করা নিয়ে কোন কথাই বলেনা…?
সন্দেহ নেই, এই ‘তথাকথিত গনজাগরণ মঞ্চ’ ১৪ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই কাজ করে চলেছে। এদের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি বলা মানে, দেশের সত্যিকারের তরুণ সমাজ, যারা কিনা আওয়ামী লীগ , বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি বেষ্টিত নোংরা ও সহিংস রাজনিতি থেকে মুক্ত হতে চায়, সেই মুক্তি প্রত্যাশী তরুণদের অপমাণ করা হয়। এদের আন্দোলনকে ‘গনজাগরণ’ বললে ‘সত্তিকারের গনজাগরণ’কে অপমাণ করা হয়। কারণ, দালালী করে আর ভ্রষ্ট নিতি নিয়ে, আর যাই হোক জাগরণ হয়না। একটা খারাপ কাজ করে আপনি আরেকটা খারাপ কাজকে রুখতে পারেন না।

(৪)
উগ্র জাতীয়তাবাদ যুগে যুগে সব দেশেই মানুষের উপকারের বদলে অপকারই করে এসেছে। হিটলার ১৯৪০-এর দশকে এতা দেখিয়েছেন। রাজাকার ও আলবদররা ১৯৭১-এ সেতা দেখিয়েছে। উগ্র জাতীয়তাবাদ মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেয়না, যেটার প্রমান আমরা দেখি ১৯৭১-এ। রাজাকার ও আলবদররা বাংলাদেশের বদলে পাকিস্তানকেই নিজের দেশ বলে মনে করেছিল এবং সেই দেশের অখন্ডতা রক্ষা করা তাদের ‘পবিত্র দায়িত্ত’ বলে মনে করেছিলো।
পাকিস্তানিরা ক্যামন, সেটা আমরা সবাই মোটামুটি জানি। পাকিস্তানীরা অসভ্য হলে যে আমাদেরও এই দিক দিয়ে তাদের সাথে পাল্লা দিতে হবে — তার কোনও মানে আছে? আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাংলাদেশিরা প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে পারি। কিন্তু, অন্য দেশের দূতাবাসের সামনে গিয়ে জুতা দেখানো, জুতা আর ঢিল নিক্ষেপ কি আমাদের মানায়? এতে করে কি সেই দেশের সব মানুষকেই কি আমাদের অপমান করা হয়না?
এসব বিষয় বুঝতে গনজাগরণ মঞ্চের বয়েই গ্যাছে! যখন হাতে বড় বড় রাজনৈতিক দলের পয়সা আর ব্যাকিং হাতে থাকে, তখন অনেকের চিন্তাভাবনাই ঠিকমত কাজ করেনা। ইমরান সরকার ও তাদের অনুসারীদের অবস্থা কি এই রকম কিছু?

(৫)
চিন্তা-ভাবনা ঠিকমত কাজ না করার উদাহরণ গনজাগরণ মঞ্চ আরও দেখিয়েছে। ২০১৩-এর মাঝামাঝি যখন বিসিএস পরীক্ষায় কোটা বিরধি আন্দোলন যখন তুঙ্গে, গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সম্পরকে বলা হল অনেক নেতিবাচক কথাবারতা। এমনকি তাদের ‘ফকিন্নির পোলা’ বলেও সম্মধন করা হল এক জায়গায়। বলা হল, এই আন্দোলন জামাত-শিবিরের আন্দোলন। আসলেই কি এটা তাই ছিলো?
দৈনিক সমকাল ও দৈনিক প্রথম আলো কখনই জামাত-শিবিরকে সমর্থন করে কোন রিপোর্ট বা প্রতিবেদন লিখেছে বলে কেউ দাবি করতে পারবেনা। জামাত-শিবিরের বিপক্ষে তাদের নীতিগত অবস্থান সবাই জানে। তারাও কিন্তু, এই কোটা বিরধি আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল তাদের বিভিন্ন লেখায়। কিন্তু, গনজাগরন মঞ্চ থেকে এদের জামাত-শিবিরের সমর্থক বলে উল্লেখ করা হল।
সন্দেহ নেই এই আন্দোলনকে জামাত-শিবির নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চেয়েছিল । এই আন্দোলনে কিছু শিবিরের ছেলে-পেলেও ছিলো। কিন্তু, এই আন্দলনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল সাধারণ ছাত্ররা। তাদের ন্যায্য দাবিকে ব্যঙ্গ করে গনজাগরন মঞ্চ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিল।
তাইতো, যখন বিভিন্ন টিভি মিডিয়ায় শাহবাগের আন্দোলনকারীদের ‘তরুন প্রজন্ম’ বলা হয়, তখন দেশের তরুণ সমাজকে আসলেই কি লজ্জা দেয়া হয়না…?
(৬)
জামায়াতে ইসলামি যেমন ইসলাম ধর্মকে টিস্যু পেপারের মত ব্যবহার করে, ঠিক তেমনি অনেকের ধারনা যে, আওয়ামী লীগও মুক্তিযুদ্ধকে একিভাবে ব্যবহার করে। এখন পর্যন্ত অনেকেরি দৃঢ় বিশ্বাস, গনজাগরণ মঞ্চের তরুণরা এমন কিছু করেনা। কিন্তু, এই অভিযোগ যদি তাদের বিরুদ্ধে উঠে ভবিষ্যতে যে, তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই ‘ব্যবহার’ই করেন, তাহলে সেটা কি তাদের জন্য ভাল কিছু হবে? দুঃখজনক হলেও সত্যি, গনজাগরণ মঞ্চ মনে হয় সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

(৭)
যখন শাহরিয়ার কবির, নাসিরুদ্দিন বাচ্চুর মতো চিহ্নিত আওয়ামী লিগের অন্ধ সমর্থক গনজাগরণ মঞ্চের সভায় গিয়ে আওয়ামী সরকারের গুনগান করে, তখন গণজাগরণ মঞ্চের নিজস্ব স্বকীয়তা বলে কিছু থাকেনা। তেমনি, ইমরান সরকার যখন বলে যে, পাকিস্তানি দূতাবাস ঘেরাওয়ের সময় তাদেরকে জামাতপন্থি পুলিসই পিটিয়েছে, তখন মনে হয় যেন, যা খুশি তাই করার স্বাধীনতা কেবল তাদেরই রয়েছে – কূটনৈতিক পাড়ায় গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি আর গন্ডগোল সৃষ্টির ‘অসাধারণ অধিকার’তো বটেই – সেটা দেশের অন্য কারও থাকুক আর না থাকুক।

(৮)
যদিও গনজাগরণ মঞ্চ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় মরিচিকার নাম, তারপরও বলতে হয়, গণজাগরণ মঞ্চ একটা সংগঠিত শক্তি যাদের নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক যথেষ্ট শক্তিশালি। তারা যদি নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পেরে, দালালি করা আর অন্যের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ছেড়ে তরুণ সমাজের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, তবেই দেশের জন্য সত্যিকারের মঙ্গলজনক কিছু তারা করতে পারবে। এজন্য তাদের তরুন সমাজের কণ্ঠস্বর শুনতে আর সেটাকে অনুধাবন করার সামর্থ্য রাখতে হবে।
তাহলেই, কেউ বলবেনা যে, তারা ছিল স্রেফ ‘ঝরে বক’। তবেই, তাদেরকে সাথে নিয়ে বাংলার তরুণ সমাজ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

৩৪ thoughts on “গনজাগরণ মঞ্চের ১০ মাসঃ কি পেলাম আর কি-বা পাব?

  1. ৫নং পর্যন্ত পড়বার পর আর পড়ার
    ৫নং পর্যন্ত পড়বার পর আর পড়ার প্রয়োজন অনুভব করলাম না।

    আমি ছাগু ধরায় ইস্টিশনে খ্যাতনামা। সব ছাগু আমার চোখেই পড়ে। কথার স্টাইল দেখেই বোঝা যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধি।

    আমি , আমার মত হাজারো যুবক আজও গনজাগরনের পক্ষে যারা বাম কিংবা আওয়ামিলীগ নই ।
    আর শোনেন মিয়া এইগুলা নিয়া ত্যানা প্যচানি ছাগুর বৈশিষ্ট্য। কথার স্টাইলও এক আপনাদের কারণ ঐ যে মুখস্ত বুলি আউরান।

    “”মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ
    থেকে দেখলে যাবজ্জীবন বা ২০ বছরের সাজাই
    সরবচ্চ শাস্তি। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই
    যেখানে মৃত্যুদণ্ড অমানবিক আর নিষ্ঠুর কাজ
    বলে পরিত্যাজ্য হচ্ছে, সেখানে ‘ফাঁসি চাই,
    ফাঁসি চাই’ স্লোগানে চারিদিক মুখর
    করে তোলা ‘অমানবিক ও””‘

    মানুষের জন্য মানবতা পশুর জন্য নহে।

    1. আসলেই তোমার ধৈর্যের প্রশংসা
      আসলেই তোমার ধৈর্যের প্রশংসা করছি… আমি ১২ লাইন পরেই ক্ষেমা দিয়েছি!!
      i hv no time 4 reading this!!
      opppsss !! sorry! :দেখুমনা: :দেখুমনা:

      1. জয় তোর এই প্রশ্নটা খুব যুক্তি
        জয় তোর এই প্রশ্নটা খুব যুক্তি সংগত তবে এর উপযুক্ত আমার কাছে নেই কিন্তু একটা ব্যাপার হল এইসব দেখলেই ইচ্ছে করে কুট্টুস করে একটা কামড় দিয়ে দেই আর ওদের সামনেই চিৎকার করে বলে উঠি …… জয় বাংলা :রকঅন:

  2. এই পশুগুলোর প্রতি ঘৃণায় আজ

    এই পশুগুলোর প্রতি ঘৃণায় আজ আমি
    পশুরও অধম।
    যদি একবার ওদের হাতের কাছে পেতাম!
    যদি শুধু একবার!
    আমি নিজহাতে ওদের খুন করতাম।
    এই হাতে আমি রক্ত মাখতাম।
    কুৎসিত, হায়েনার রক্ত।
    যার প্রতিটি কণায় মিশে আছে বিশ্বাসঘাতকতা।
    আমি ওদের বুক থেকে কলজেটা ছিঁড়ে আনতাম।
    দীর্ণ-বিদীর্ণ করে দেখতাম,
    তার মাঝে এক ফোটা ভালবাসা আছে কি’না?
    … … … …
    না! আমি তো খুনি নই।
    আমি তো পশু হত্যা করব।

  3. প্রথমেই আমি ধন্যবাদ দেব এই
    প্রথমেই আমি ধন্যবাদ দেব এই ব্লগের এডমিনকে, কারন তারা আমার এই লেখাটা এখন পর্যন্ত এখানে রেখেছেন।
    দেখেন ভাই, কিছু বললেই “নাস্তিক”, অথবা কিছু বললেই “ছাগু” – এই মনমানসিকতা থেকে মনে হয় আমাদের সবারি বের হয়ে আসা উচিত।
    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাথে যুক্ত একজন মানুষ হিসেবে আমি মানবাধিকারের কথা বলতেই পারি। মানবাধিকারের কথা বললেই সবাই ছাগু হলে, যারা এটা নিয়ে কাজ করে, তারা ত সবাই-ই ছাগু, তাই কি আপনারা বঝাতে চাচ্ছেন?
    মানবাধিকার কি ভাল-মন্দ সব মানুষের জন্যই প্রজয্য নয়? তাহলে আপনারা র্যাতবের ক্রস-ফায়ারকে অগ্রহনযগ্য বলেন কেন?

    1. মানবাধিকার কি ভাল-মন্দ সব

      মানবাধিকার কি ভাল-মন্দ সব মানুষের জন্যই প্রজয্য নয়?

      মানবাধিকার মানুষের জন্য প্রযোজ্য। পশুর জন্যে নয়।

    2. আহা, এরকম একজন মানবতার
      আহা, এরকম একজন মানবতার সৈনিককে পেয়ে আজ ইষ্টিশন ধন্য… তা মনিরকে চেনেন তো জনাব? নাকি বিশ্বজিতের মৃত্য আর শহিদ কাদের মোল্লার বিচারের মধ্যে আপনাদের সব মানবাধিকার শেষ হয়ে গেছে… :ভাবতেছি:

      1. ধুর! কিসের মানবতা কিসের
        ধুর! কিসের মানবতা কিসের কি??
        মানবতা চুশীল সমাজের একটা কিটি পার্টি আজ!
        মানবতা মনিরের সাথে ঝলসে কাবাব হয়েছে…..

        1. From one of my facebook
          From one of my facebook statuses: হরতাল হয়তো অনিবার্য , হয়তো প্রয়জনিয়। কিন্তু, হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা, বোমা বিস্ফরণ, অগ্নিসংযোগ কখনই কাম্য নয়। কয়েকদিন আগে মনির নামে যে কিশোরটিকে হরতাল্কারিরা পুড়িয়ে মারল, জায়মা্ রহমান নামে সেই বয়সি একটি নাতিতো খালেদা জিয়ারও আছে। আওয়ামী লিগও তো কোনও অংশে কম নয়। গতবার বিরধি দলে থাকাকালীন তারা একটি ডাবল ডেকার বাস পুড়িয়ে ৯ জন মানুষ মেরেছিল। হরতালে যে শিশুটি কক্টেল বিস্ফরণে আহত হয়, সোফিয়া নামে সেই বয়সি একটি নাতিতো শেখ হাসিনারও রয়েছে …।
          দেশের মানুষকে এই দুই নেত্রী কি আপনজন ভাবতে পারেন না…?

      2. From one of my facebook
        From one of my facebook statuses: হরতাল হয়তো অনিবার্য , হয়তো প্রয়জনিয়। কিন্তু, হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা, বোমা বিস্ফরণ, অগ্নিসংযোগ কখনই কাম্য নয়। কয়েকদিন আগে মনির নামে যে কিশোরটিকে হরতাল্কারিরা পুড়িয়ে মারল, জায়মা্ রহমান নামে সেই বয়সি একটি নাতিতো খালেদা জিয়ারও আছে। আওয়ামী লিগও তো কোনও অংশে কম নয়। গতবার বিরধি দলে থাকাকালীন তারা একটি ডাবল ডেকার বাস পুড়িয়ে ৯ জন মানুষ মেরেছিল। হরতালে যে শিশুটি কক্টেল বিস্ফরণে আহত হয়, সোফিয়া নামে সেই বয়সি একটি নাতিতো শেখ হাসিনারও রয়েছে …।
        দেশের মানুষকে এই দুই নেত্রী কি আপনজন ভাবতে পারেন না…?

  4. প্রথমের ভুল!! ৫ ফেব্রুয়ারি
    প্রথমের ভুল!! ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ জানুয়ারি ১১ মাস। ওকে ছাগুদের জন্মই ভুল দিয়ে এই দেশে আবারও প্রমাণিত হল। ওকে এইবার বাকি তালিকায় আসি-
    ১) কবে কখন কোন পরিস্থিতিতে উন্নত বিশ্ব ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বন্ধ করে? আর আমাদের সেই প্রেক্ষাপট আসতে আর কত বছর লাগবে? আর অ্যামেরিকাসহ অনেক উন্নত দেশেই এখনও এই চরম শাস্তির বিধান আছে। শুভঙ্করের ফাকি কোথায় বুঝতে পারছেন? ত্যানা কি আজও শেষ হয় নাই? আরেকটা কথা ‘মানুষের চোখে তারাই হিরো, নিয়মনিস্ঠার প্রতি অটলতার পাশাপাশি যারা শত্রুর প্রতিও দয়াদ্র হয়ার দুঃসাহস দেখায়’। আসলে মানুষের চোখে তারাই ক্ষমার যোগ্য যারা ক্ষমা পাওয়ার পর আর অপরাধ করে না।
    আর আগানোর রুচি হল না। আপনে ভাই কোন জমানায় আছেন? জয় একটু খেলতে দে!! নতুন নতুন ছাগুদের একটু লেদায়তে দিতে হয়, তাতে মজা বাড়ে…

    1. যারা ফাকিস্তানি মারখোরগুলারে
      যারা ফাকিস্তানি মারখোরগুলারে মানুষ হিসেবে গণ্য করে মানবীয় আচরণ আশা করে, তারাই হইল আধুনিক যুগের আধুনিক আবাল… :ভেংচি: :হাহাপগে: 😀

  5. আপনার পোস্ট মর্টাম হইতে বহু
    আপনার পোস্ট মর্টাম হইতে বহু দেরি চিন্তা কইরেন না।

    আচ্ছা মানবতা!!

    একটা কথা কন যখন ত্রিশ লাখ শহীদ হয়েছিল, দুই লাখ মা বোন ধর্ষিত হয়েছিল মানবতা কোথায় ছিল।

    আপনাদের মত মানুষের জন্যে একটাই কথা “আপনার মা আর বোনেরে রেপ কইরা আপনার বাবারে খুন করার পর আপনি কি আমার জন্যে মানবতা দেখাবেন?”

    আমি আগেই বলেছি মানুষের জন্য মানবতা পশুর জন্যে নহে । ((মুখস্থ করেন ))

    1. হুদাই কান্দেন কিয়েল্লাই? আমি
      হুদাই কান্দেন কিয়েল্লাই? আমি তো হাস্তেই আছি… :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি:

  6. প্রদীপের নিচেই থাকে অন্ধকার,

    প্রদীপের নিচেই থাকে অন্ধকার, সেটা শাহবাগ আন্দোলন থেকেই মনে হয় খুব ভাল বোঝা যায়।

    এটুকু পইড়া ঘুম আইচে… :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:

  7. মানবাধিকার জিনিসটা মানুষের
    মানবাধিকার জিনিসটা মানুষের জন্য। শুয়োরের জন্য নিশ্চয় মানবাধিকার না। যারা শুয়োরের জন্য মানবাধিকারের জন্য গলা ফাটায় তাদের উদ্দেশ্য অবশ্যই সৎ না।

    বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ফাঁসি হচ্ছে সর্বোচ্চ শাস্তি। বাংলাদেশে বসবাস করে বাংলাদেশের সংবিধান, আদালত ও প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা করা এবং আস্থা রাখা যে কোন নাগরিকের কর্তব্য বলেই মনে করি। আর যারা মার্কিনী দালাল মানবাধিকার সংগঠনের সাথে গলা মিলিয়ে কথা বলে তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে অমান্য করে বলেই আমি মনে করি। মানবাধিকারের সোল এজেন্ট যেসব দেশ তাদের দ্বারা বিশ্বে যে হারে মানবাধিকার লঙিত হচ্ছে, তখন এসব সংগঠনের অবস্থান কি থাকে? …. এটা আমাদের জানা আছে।

    মানবাধিকারের নাম ভাঙিয়ে আপনাদের উদ্দেশ্য দেশের শত্রুদের রক্ষা করা।

  8. @ দূরন্ত জয় ঃ আপনাকে ফাঁশি
    @ দূরন্ত জয় ঃ আপনাকে ফাঁশি দিয়ে যদি আমার বাবা-মায়ের জীবন আর আমার বনের ইজ্জত ফিরে পেতাম, তাহলে অবশ্যই আপনার মৃত্যুদন্ড চাইতাম। কিন্তু, সেটা যখন হবার নয়, তখন আপনার মৃত্যুদণ্ড আমি অবশ্যই চাইতাম না। এটা বাদে অন্য কঠোর শাস্তি দাবি করতাম।

    আর জেনে রাখেন, আপনারাও কিন্তু ছাগু। ছাগু দুই প্রকার – ১) জামাতী ছাগু ২) শাহবাগি ছাগু ।
    আপনাদের উগ্র কথাবার্তা আর তীব্র প্রতিক্রিয়াশিলতাই বলে দেয় আপনারা আসলে কোন ক্যাটাগরীতে পরেন…!

    1. আমার বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের আমি
      আমার বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের আমি একটা কথায় বিশ্বাসী।

      when u play with a bustured make sure u r playing like a bigger bustured. কি বুঝলেন???

      শোনেন ভাই তাইলে আপনার নাম তো ভবিষত মনিষীদের মধ্যে একটা। শীঘ্রই আসতেছে পাঠ্য বইয়ে নতুন জীবনি

      “”” শেহজাদ আমান “

    2. একটু সংশোধন, আরেকপ্রকারের
      একটু সংশোধন, আরেকপ্রকারের মারখোর ছাগপাল আছে আমাদের মাঝে… সেইটা হইল আপনার মত শুষিল মারখোর… যারা লেদায় গুপনে… তবে গন্ধের চোটেই একসময় প্রকাশ হয়ে যায় যে তারা গুপনে গুপনে লেদায়ে পরিবেশ দূষিত করে ফেলছে… :মাথাঠুকি:

  9. @ দূরন্ত জয়ঃ ভাই, আপনি কিন্তু
    @ দূরন্ত জয়ঃ ভাই, আপনি কিন্তু মজা লইতেছেন… 

    যাই হোক, আমার লেখাতে শুধু মানবাধিকার ইস্যূতে কিন্তু জাগরন মঞ্চের সমালচনা করিনি। আপনারা শুধু ‘মানবাধিকার ইস্যূ বিষয়টা নিয়ে লেগেছেন। তাহলে, আমি ধরে নিতে পারি, আমার অন্য পয়েন্টগুলোর সাথে আপনারা একমত… 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *