২০১৪ সনের প্রথম দিনে ইহুদী-মুসলিম শান্তিচুক্তি (৩য় পর্ব)

ফিলিস্তিনি এটোর্নীর প্রথম পর্বের বক্তব্য শেষে ইসরাইলী এটোর্নী ড. ইসরাইল ওয়েলফিন্সন ঝরঝরে অনাবিলতায় তার সূচনা বক্তব্যে বলেন- নবী ইয়াকুবের অপর নাম ছিল ইসরাইল এর অর্থ ‘আল্লাহর বান্দা’ ইয়াকুবের সস্তানরাই বনী-ইসরাইল। ইয়াহুদীরা তাওরাত পাঠের সময় দুলতে থাকে বিধায় এদের ‘ইয়াহুদ’ বলে। ইয়াকুব কেনান তথা ফিলিস্তিনে বসবাস করতেন। ইয়াকুবের ১২-ছেলের ১-ছেলের নাম ইয়াহুদা হিসেবে ‘ইহুদী’ শব্দটি আসে। ফেরাউন থেকে মুক্তিদাতা হিসেবে নবী মুসাকে বনী ইসরাইলীদের ভেতরে প্রেরণ করা হয় ও তাঁরা ফিলিস্তিনে ফিরে আসে।



ফিলিস্তিনি এটোর্নীর প্রথম পর্বের বক্তব্য শেষে ইসরাইলী এটোর্নী ড. ইসরাইল ওয়েলফিন্সন ঝরঝরে অনাবিলতায় তার সূচনা বক্তব্যে বলেন- নবী ইয়াকুবের অপর নাম ছিল ইসরাইল এর অর্থ ‘আল্লাহর বান্দা’ ইয়াকুবের সস্তানরাই বনী-ইসরাইল। ইয়াহুদীরা তাওরাত পাঠের সময় দুলতে থাকে বিধায় এদের ‘ইয়াহুদ’ বলে। ইয়াকুব কেনান তথা ফিলিস্তিনে বসবাস করতেন। ইয়াকুবের ১২-ছেলের ১-ছেলের নাম ইয়াহুদা হিসেবে ‘ইহুদী’ শব্দটি আসে। ফেরাউন থেকে মুক্তিদাতা হিসেবে নবী মুসাকে বনী ইসরাইলীদের ভেতরে প্রেরণ করা হয় ও তাঁরা ফিলিস্তিনে ফিরে আসে। ইহুদীরা বেহেস্তী খাবার পেতো ও সরাসরি ঈশ্বর থেকে বাণী পেয়েছে তারা। ‘তোরাহ’ মতে স্বয়ং যিহোভা এই দেশকে দান করেছেন ইহুদীদের জন্যে। কেনান ছিল ইহুদীদের আল্লাহ প্রতিশ্রুত দেশ। ১০৯৫-৯৭৫ খ্রী.পূর্বে ইহুদীরা এখানে তাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। নবী দাউদ ও সোলায়মানের আমলে ইহুদীরা হেবরন ও জেরুজালেম রাজধানী স্থাপন করেছিল। গড বা যিহোভা ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাওরাতে। নবীর নামে রাখা ‘ইসরাইল’ হচ্ছে ইহুদী ধর্মের ইতিহাস ও সভ্যতার সুতিকাগার। জেরুজালেমে মুসার আমলেই ইহুদী রাজত্ব ছিল। তা ছাড়া নাজারেথ ও বেথেলহামে মুসলমানদের অধিকার ছিল কি কখনো? আমাদের নবী মোজেস বনি ইসরাইলীদের মিশর থেকে ফিলিস্তিনে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যেই বের করেছিলেন। আধুনিক হিব্রু ও আরবি ইসরাইলী রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা। হিটলারের গণহত্যা কি সমর্থন যোগ্য? নিজ রাষ্ট্র না থাকাতে তারা আমাদেরকে হত্যা করেছিল। অধিকাংশ ইহুদী ফিলিস্তিনে এসে জমি কিনে ঘরবাড়ি বানাতে শুরু করেছিল। জলাভূমি ভরাট করে ইহুদীরা তেলআবিব শহর গড়ে তোলে। হাজার বছর পর পাওয়া জন্মভূমি আমরা ছাড়বো আবার?

বর্তমান ইহুদীদের অপরাধ কি? ইউরোপে হিটলার ও খ্রীস্টানরাও ইহুদীদের হাজার বছর ধরে নির্যাতন করে। মুসলমানরা শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে কি ইহুদী রাষ্ট্র বিদ্বেষী হবে? ১৮৭৮-সনে প্যালেস্টাইনে ৪,৬২,৪৬৫ জন মুসলমান, খ্রীস্টান ও ইহুদীরা একত্রে বসবাস করতো। তাহলে এখন সমস্যা কোথায়?

১৯৪৮ সনে হাজার বছর পর যিহোভা প্রতিশ্রুত দেশে ইহুদীরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলে মুসলমানরা তা মেনে না নিয়ে ১৫-মে মিশর, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্দান একত্রে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে নামে। ১৯৭২ সনে মিউনিখ অলিম্পিকে ফিলিস্তিনিরা ইহুদী প্রতিযোগিকে হত্যা করে। তারা ভূমধ্যসাগরে ‘আকিলে লারু’ জাহাজটি দখল করে মার্কিন ইহুদীদের হত্যা করে। ১৯৯৩ সনে ইয়াসির আরাফাত অসলো চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৮৭-তে ফিলিস্তিনিরা ‘ইন্তিফাদা’ আন্দোলন শুরু করে। ফিলিস্তিনিরা আত্মঘাতী গেরিলা আক্রমণ চালাতে থাকে ইহুদীদের উপর। ১৯৮১-মিশরের আনোয়ার সা’দাত শান্তিচুক্তি করে সিনাই ফিরে পান কিন্তু শান্তি চুক্তির কারণে তাকে হত্যা করা হয়। এখন আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপে ইহুদীদের শক্ত রাজনৈতিক শক্তি বিদ্যমান। বর্তমানে আমেরিকায় প্রায় আড়াই লাখ শক্তিশালী ইহুদীর বসবাস। বৃটিশ পার্লামেন্টেও কমপক্ষে দেড়শো ইহুদী সদস্য বর্তমান। আমেরিকার আইপ্যাক শক্তিশালী ইহুদী লবিং গ্রুপ। আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে্ বিচার, আইন ও শক্তিশালী নিবার্হী বিভাগ বর্তমান। ছোট্ট দেশটিতে ‘নেগেভ’ নামে মরুভূমি বিদ্যমান এখনও। লোহিত সাগরে যেতে আছে মাত্র এক চিলতে সরু পথ। ইসরাইল এখন পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশ। আমাদের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বখ্যাত। প্রায় সকল মুসলিম দেশগুলোতে প্রবল ইহুদী বিদ্বেষী মনোভাব বিদ্যমান। আমরা বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ, যদিও বাংলাদেশ তা প্রত্যাখান করে। আমরা জেরুজালেমে মুসলমানদের যাওয়া নিষিদ্ধ করিনি কিন্তু আমাদের প্রাক্তন পিতৃভূমি মদীনা নিজ জন্মভূমিতে ইহুদীরা কি যেতে পারে? তোরাহ-এর ভাষা হিব্রু। আমরা ‘এলিয়েজের বিন ইয়েহাদা’ নামক রুশ ইহুদীর প্রচেষ্টায় বিলুপ্ত হিব্রু ভাষাকে ইসরাইলে চালু করেছি, যদিও আমাদের অনেকের মুখের ভাষা তখন ছিল আরবী, রুশ, ইউরোপীয় নানা মিশ্র ভাষা। এভাবে তিনি মৃত হিব্রু ভাষাকে আবার জীবন্ত ভাষায় পরিণত করেছেন। ১৯২২-সনে হিব্রু বৃটিশ পার্লামেন্টের সরকারি ভাষার মর্যাদা পায়। ইসরাইলী সরকারি ভাষা হচ্ছে হিব্রু, আরবি ও ইংরেজি। সরকারি স্কুলগুলোতে হিব্রু বা আরবি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। আমরা পৃথিবীতে অনেক আবিস্কারের জনক ও মুসলমানদের তুলনায় অনেক বেশি নোবেল পুরস্কার জয় করেছি। আমাদের ১০০% ইহুদী শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের অবকাশ রাখে আমরা কি রকম পরিশ্রমী ও কার্যক্ষম জাতি!

[এর পর ৪র্থ পর্ব]

লেখকের ফেসবুক ঠিকানা [ধর্মান্ধতামুক্ত যুক্তিবাদিদের ফ্রেন্ডভুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই ] : https://www.facebook.com/logicalbengali

১৫ thoughts on “২০১৪ সনের প্রথম দিনে ইহুদী-মুসলিম শান্তিচুক্তি (৩য় পর্ব)

    1. যদিও মানুষ মানুষই, তার ধর্মের
      যদিও মানুষ মানুষই, তার ধর্মের কোন প্রয়োজন নেই কিন্তু প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে ধর্মকে মানুষ লালন করছে নানা অনুসঙ্গে, এবং মনে হচ্ছে “ধর্মের জন্যই মানুষ”

        1. অবশ্যই। তবে তথ্যের সাথে
          অবশ্যই। তবে তথ্যের সাথে রেফারেন্সটা উল্লেখ থাকলে (যদিও কষ্টসাধ্য) লেখার গুনগত মান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *