বাংলা চলচ্চিত্রের পঞ্চপাণ্ডব ও তাঁদের সৃষ্টি …


– জীবন থেকে নেওয়া



– জীবন থেকে নেওয়া

হাটিহাটি পা পা করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আজ ৪৩ বছর বয়সী । প্রায় অর্ধ শতকের চলচ্চিত্র জীবনে বাংলাদেশ পেয়েছে জহির রায়হান, আলমগীর কবিরের মতো শক্তিমান নির্মাতা । নির্মিত হয়েছে জীবন থেকে নেওয়া, সীমানা পেরিয়ে, মাটির ময়না, লাল সালু ও আমার বন্ধু রাশেদ এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র । কিন্তু পেছনে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাবো মাত্র কয়েকজন পরিচালক সেলুলয়েডের পর্দায় এ দেশের মানুষ ও তাদের সংগ্রাম, যাপিত জীবনের নানা মাত্রিক সংকট , প্রেম – বিরহ তুলে ধরতে পেরেছেন । আমার এই লেখায় সেইসব চলচ্চিত্র দিকপালের কথা , তাদের সৃষ্টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে । এখানে প্রথমেই বলে নিতে চাই – এ লেখায় পাঁচজন চলচ্চিত্র দিকপালের কথা বলা হয়েছে । আমার বিচারে বাংলা চলচ্চিত্রে এখন পর্যন্ত এদেরকে অতিক্রম করে যেতে পারে বা ইনাদের সমকক্ষতা দাবী করতে পারেন এমন নির্মাতা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো আসেনি । তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশে নতুন দিনের চলচ্চিত্রকারদের আগমনী পদধ্বনি শুনতে পাওয়া যাচ্ছে । তবে আবারো বলতে চাই প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি ও নান্দনিকতার বিচারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পঞ্চপাণ্ডব হলেন –

১) জহির রায়হান
২) আলমগীর কবির
৩) তারেক মাসুদ
৪) তানভীর মোকাম্মেল
৫) মোরশেদুল ইসলাম

আসুন তবে জেনে নিই তাদের সৃষ্টি সম্পর্কে । সেই সাথে দেখতে হবে এই ফিল্মগুলো । কারণ আমরা যদি আমাদের নিজেদের ছবি না দেখি । সেই সম্পর্কে ইতিবাচক সমালোচনা না করি তবে কেমন করে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচবে ? কথায় আছে না ‘ যে দেশে জ্ঞানের সমাদর হয়না সে দেশে জ্ঞানী জন্মায় না ‘।

জহির রায়হান

জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার।

চলচ্চিত্র জীবন

চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে, জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। তিনি সালাউদ্দীনের ছবি যে নদী মরুপথেতেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে এ দেশ তোমার আমার এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান; জহির এ ছবির নামসঙ্গীত রচনা করেছিলেন। ১৯৬০ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কখনো আসেনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেন। জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার ছাপ দেখতে পাওয়া যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়াতে। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কলকাতায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়ার বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিত্রটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ ভূয়সী প্রশংসা করেন। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।


জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ হচ্ছেঃ

কখনো আসেনি (১৯৬১)।
সোনার কাজল (১৯৬২)। (কলিম শরাফীর সঙ্গে যৌথভাবে)
কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩)।
সঙ্গম (১৯৬৪)।
বাহানা (১৯৬৫)।
আনোয়ারা (১৯৬৭)।
বেহুলা (১৯৬৬)।
জ্বলতে সূরযকে নীচে।
জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০)।
স্টপ জেনোসাইড (চলচ্চিত্র) (১৯৭১)।
এ স্টেট ইজ বর্ন (১৯৭১)।
লেট দেয়ার বি লাইট (অসমাপ্ত) (১৯৭০)।

এই বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ নিখোঁজ হন ও মৃত্যু বরণ করেন ।

আলমগীর কবির

আলমগীর কবির (জন্ম – ডিসেম্বর ২৬, ১৯৩৮ রাঙামাটি জেলায় – মৃত্যু – জানুয়ারি ২০, ১৯৮৯) স্বনামধন্য বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বেশ কিছু প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তার তিনটি চলচ্চিত্র ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের “বাংলাদেশের সেরা ১০ চলচ্চিত্র” তালিকায় স্থান পেয়েছে।

চলচ্চিত্র জীবন

আলমগীর কবির ১৯৭৩ সালে নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ধীরে বহে মেঘনা। এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী বাংলাদেশে নির্মিত যেকোনো মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র থেকে আলাদা। এটিতে কবির যুক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ফুটেজ ও ফিকশন যেমন- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধযাত্রা, ১৬ ডিসেম্বর ট্রাকভর্তি মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি এবং ঘরে ফেরার দৃশ্য। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (বাচসাস) এবং জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এটি ছিল কবির পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

এরপর ১৯৭৫ সালে কবির নির্মাণ করেন তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সূর্য কন্যা। এই চলচ্চিত্রে কবির উপস্থাপন করেছেন ব্যক্তি, সমাজ ও ইতিহাসে নারীর অবস্থানের সাহসী ব্যাখ্যা। তাঁর সূর্যকন্যা’র একটি স্বপ্নের সাহসী চরিত্র ছিল ল্যানিন। এই চলচ্চিত্রের দক্ষ নির্মাণ শৈলীর জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও লাভ করেন জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার।

কবির ১৯৭৭ সালে নির্মাণ করেন তাঁর তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সীমানা পেরিয়ে। এটি নির্মাণ করা হয় মূলত ১৯৭০-এর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের একটি সত্যি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেই সময় এই জলোচ্ছ্বাসের ধ্বংসলীলার প্রায় তিন মাস পর একজোড়া মানব-মানবীকে বরিশালের দক্ষিণের একটি সামুদ্রিক চরে আদিম পরিস্থিতিতে কোনো রকমে বেঁচে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ঢাকার তত্কালীন সংবাদপত্রে ঘটনাটির বিবরণ কবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি এর বেশ কয়েক বছর পর সীমানা পেরিয়ে নামের এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। সুদক্ষতার সাথে এই চলচ্চিত্র নির্মানের জন্য স্বীকৃতি স্বরূপ শ্রেষ্ঠ সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

এরপর ১৯৭৯ সালে নির্মাণ করেন রূপালী সৈকতে এটি ছিল কবিরের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। রুপালি সৈকত চলচ্চিত্রটিও সেই সময় দারুন আলোচিত হয়, বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (বাচসাস) লাভ করেন।

১৯৮২ সালে কবির নির্মাণ করেন মোহনা চলচ্চিত্রটি, এটি তাঁর পরিচালিত পঞ্চম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য রচয়িতার হিসেবে একটি পুরস্কার লাভ করেন। এটি আন্তজার্তিকভাবেও বেশ প্রশংসিত হয়। ১৯৮২ সালের মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব-এ মোহনা চলচ্চিত্রের জন্য কবির ডিপ্লোমা অফ মেরিট লাভ করেন।

কবির তাঁর ষষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ১৯৮৬ সালে। পরিণীতা নামের এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ ভূষিত হয়। ১৯৮৫ সালে তিনি নির্মাণ করেন তাঁর সপ্তম ও সর্বশেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মহানায়ক। এটি প্রযোজনা করেছিলেন বুলবুল আহমেদ।

কবির তাঁর দেড় যুগের চলচ্চিত্র জীবনে সর্বমোট সাতটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও কবির নয়টি স্বল্প দৈর্ঘ চলচ্চিত্র / প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন, এগুলো হলো- লিবারেশন ফাইটার, প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ, কালচার ইন বাংলাদেশ, সুফিয়া, অমূল্য ধন, ভোর হলো দোর খোল, আমরা দুজন, এক সাগর রক্তের বিনিময, মনিকাঞ্চন ও চোরাস্রোত।

আলমগীর কবির পরিচালিত পূর্ণ ও স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসমূহ হচ্ছেঃ

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র –

ধীরে বহে মেঘনা – (১৯৭৩)
সূর্য কন্যা – (১৯৭৫)
সীমানা পেরিয়ে – (১৯৭৭)
রূপালী সৈকতে – (১৯৭৯)
মোহনা – (১৯৮২)
পরিনীতা – (১৯৮৪)
মহানায়ক – (১৯৮৫)

স্বল্প দৈর্ঘের চিত্র –

লিবারেশন ফাইটার
পোগ্রাম ইন বাংলাদেশ
কালচার ইন বাংলাদেশ
সুফিয়া, অমূল্য ধন
ভোর হলো দোর খোল
আমরা দুজন
এক সাগর রক্তের বিনিময
মনিকাঞ্চন
চোরাস্রোত

তারেক মাসুদ

১৯৫৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর মুক্তির গান ও মাটির ময়না সহ অনেক ছবি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে।

চলচ্চিত্র জীবন

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন এবং দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্র বিষয়ক অসংখ্য কর্মশালা এবং কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালের শেষ দিকে তিনি জীবনের প্রথম ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ডকুমেন্টারিটি ছিল প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিল্পী এস এম সুলতানের জীবনের উপর। এরপর থেকে তিনি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি, এনিমেশন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০০২ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মাটির ময়না মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং দেশে-বিদেশে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে। বাংলাদেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ১৯৮৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের কো-অডিঁনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি সাময়িকী ও পত্রিকায় চলচ্চিত্র বিষয়ে লেখালেখি করতেন।


নির্মিত চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারি –

০১ রানওয়ে
০২ আ কাইন্ড অফ চাইল্ডহুড
০৩ মাটির ময়না
০৪ নারীর কথা
০৫ মুক্তির কথা
০৬ ইন দ্য নেইম অফ সেফ্‌টি
০৭ ভয়েসেস অফ চিলড্রেন
০৮ মুক্তির গান
০৯ ইউনিসন
১০ সে
১১ আদম সুরত
১২ অন্তর্যাত্রা

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ‘ কাগজের ফুল ’ নামক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লোকেশন নির্বাচন শেষে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারেক মাসুদ সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়।

তানভীর মোকাম্মেল

তানভীর মোকাম্মেল ১৯৫৫ সালের ৮ মার্চ খুলনা শহরের খানজাহান আলী রোড সংলগ্ন এলাকায় এক মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করেন। কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের পরিচালক, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।

চলচ্চিত্র জীবন

তিনি এখন পর্যন্ত ১২টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তাঁর নিজস্ব একটা ফিল্ম-ইউনিট রয়েছে এবং সব ছবিতে তাঁরাই কাজ করেন। ক্যামেরায় কাজ করেন আনোয়ার হোসেন, আবহ সংগীতে সৈয়দ সাবাব আলী আরজু, সহকারী পরিচালক ও শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন উত্তম গুহ ।

তানভীর মোকাম্মেল দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিষয়ে অথিতি অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষা দিয়ে থাকেন ।

তার পরিচালিত বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট তরুণ চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান যেখানে চলচ্চিত্র বিষয়ক শিক্ষা দেওয়া হয় এবং নিয়মিত দেশ বিদেশের সুস্থ ধারার ক্লাসিকধর্মী চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয় ।

১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ এবং ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ২০১১ এর ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত তার মহাকাব্যিক প্রামাণ্যচিত্র ‘ ১৯৭১ ‘ । চার ঘণ্টা দৈর্ঘ্যর এ চলচ্চিত্রকে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক যথার্থ সংক্ষিপ্তসার বা প্রামাণ্য দলিল । তার পূর্ণ দৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘ নদীর নাম মধুমতী ‘ ( ১৯৯৫ ), ‘ চিত্রা নদীর পাড়ে ‘ এবং ‘ লাল সালু ( ২০০১ ) জাতীয় পুরষ্কার পায় ।

তার সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র ” জীবন ঢুলী ” বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় ।


জীবন ঢুলী

তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত স্বল্প দৈর্ঘ্য, পূর্ণ দৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ও প্রামাণ্য চিত্র –

১৯৮৪ সালে নির্মিত তার প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যর কাহিনীচিত্র ‘ হুলিয়া ‘ । নির্মলেন্দু গুণের ‘ হুলিয়া ‘ কবিতা অবলম্বনে এটি নির্মিত হয় । সম্ভবত কবিতা অবলম্বনে নির্মিত দেশের প্রথম ও একমাত্র কাহিনীচিত্র এটি ।

পূর্ণ দৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র –

নদীর নাম মধুমতী
চিত্রা নদীর পাড়ে
লাল সালু
লালন
জীবন ঢুলী

প্রামাণ্য চিত্র –

স্মৃতি ‘৭১
অচিন পাখি
অয়ি যমুনা
কর্ণফুলীর কান্না
বস্ত্র বালিকারা
তাজউদ্দীন আহমেদ : নিঃসঙ্গ সারথি এবং স্বপ্নভূমি

মোরশেদুল ইসলাম

মোরশেদুর ইসলাম ১৯৫৭ সালে পুরোনো ঢাকার লালবাগের উর্দূ রোডে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পরিচালিত ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন কোর্সে চলচ্চিত্র তৈরির প্রাথমিক ধারণা গ্রহণের পর সেই বছরই স্বল্প দৈর্ঘ্যর ‘ আগামী ‘ ছবিটি নির্মাণ শুরু করেন । মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে ।

নির্মিত চলচ্চিত্র –

আগামী (১৯৮৯)
চাকা (১৯৯৪)
দীপু নাম্বার টু (১৯৯৬)
দুখাই (১৯৯৭)
খেলাঘর: Dollhouse (২০০৬)
দূরত্ব (২০০৬)
আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১)

রবীন্দ্র-উত্তর পাঁচজন প্রধানতম আধুনিক কবি: জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসুকে পঞ্চপাণ্ডব কবি ধরা হয়ে থাকে। তাঁদের পর যেমন আধুনিক বাঙলা কবিতা তেমন প্রভাবশালী আধুনিক বা আধুনিকোত্তর কাউকে পায়নি ঠিক তেমনি এই পাঁচ মহান চলচ্চিত্র নির্মাতার পর মূলধারার তথা জীবনমুখী বাস্তব সম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে কেউ এগিয়ে আসে নি। হয় তারা নির্মাণ করেছেন বাণিজ্যিকধারার বাজারি চলচ্চিত্র অথবা চটকদার একশন ফিল্ম।

পরিশেষে বলতে চাই সকল দুর্দিন কাটিয়ে বাঙলা চলচ্চিত্র পাবে তার সঠিক দিশা । আর্ট ফিল্ম, বাণিজ্যিক ফিল্ম, বিকল্প ধারার ফিল্ম, মূলধারার ফিল্ম, এফডিসি কেন্দ্রিক ফিল্ম ইত্যাদি নানা ধারা উপধারার ক্যাচাল শেষে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচিত হোক আমাদের সবার চলচ্চিত্র । এবং সেই আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কেউ একজন নিজ মহিমায় আবির্ভূত হবেন এই আশায় থাকলাম…

৪৯ thoughts on “বাংলা চলচ্চিত্রের পঞ্চপাণ্ডব ও তাঁদের সৃষ্টি …

  1. চমৎকার তথ্যবহুল একটা পোস্ট।
    চমৎকার তথ্যবহুল একটা পোস্ট। ভালো লাগল। অনেক অজানা কিছু জানলাম পোস্ট এর মাধ্যমে। আন্তরিক ধন্যবাদ সে জন্য। শুভকামনা রইল। লিখতে থাকুন। :ফুল:

  2. চমৎকার, তথ্যবহুল এবং দরকারি
    চমৎকার, তথ্যবহুল এবং দরকারি একটি সময়োপযুগী পোস্ট…
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:
    তবে শেষে উপসংহারে কিছু লিখলে আরও চমৎকার হত।
    ডনের পর আরেকজন নিবেদিতপ্রান মুভিখোরকে পেল ইস্টিশন ব্লগ!!

  3. খুব ই ভালো লেখা হয়েছে । এই
    খুব ই ভালো লেখা হয়েছে । এই লেখা টি আপনার ভবিষ্যৎ বইয়ের প্রথম অধ্যায় হতে পারে । এর পরে, আপনার উচিত হবে, এই পরিচালকদের ছবির ধরন, তাঁদের নির্মাণ শৈলী, চলচ্চিত্রের ভাষার ব্যবহারের ভিন্নতা ও বিশিষ্টতা ইত্যাদি বিস্তারিত বিষয় নিয়ে লেখা …… পাঁচ টি আলাদা পর্ব হতে পারে ।

    ধন্যবাদ আপনাকে !

  4. চমৎকার, তথবহুল পোস্ট… আর
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    চমৎকার, তথবহুল পোস্ট… আর লিংকন ভাইয়ের সাথে সহমত… উপসংহার ঘরানার কিছু থাকলে ভাল হত…

  5. বেশীরভাগ চলচ্চিত্রই ছোটবেলায়
    বেশীরভাগ চলচ্চিত্রই ছোটবেলায় বিটভিতে দেখা। এখন আবারো নতুন করে দেখতে শুরু করেছি…
    আপনার পোস্ট নিয়ে আর কি বলবো? সোজা প্রিয়তে নিলাম

  6. আপনার পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে
    আপনার পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম । আসলেই কি তাদের বাইরে শক্তিমান কোন মেকার আছে কিনা । নাহ পেলাম না । আপনার সাথে সহমত না হয়ে আসলেই উপায় নেই । তবে চলচ্চিত্রকার ‘ মসিহউদ্দিন শাকের ‘ নাম কি এই তালিকায় আসতে পারতো না ?
    পোস্টটি প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম ।

    1. মসিউদ্দিন শাকের যে কোনও
      মসিউদ্দিন শাকের যে কোনও অর্থেই এই তালিকার উপরের দিকে থাকবেন । সূর্য দীঘল বাড়ী বাংলায় হওয়া বেস্ট ফিচার ফিল্ম গুলোর একটা। হয়ত পাঁচ জনের তালিকা করার ক্ষেত্রে ছবির সংখ্যা ও মিডিয়ার প্রচার টি অবচেতন ভাবে কাজ করেছে ।

    2. ‘ মসিহউদ্দিন শাকেরের ‘ নাম কি

      ‘ মসিহউদ্দিন শাকেরের ‘ নাম কি এই তালিকায় আসতে পারতো না ?

      এনসারটা গোলাম সারওয়ার ভাইয়া অনেকটাই দিয়েছেন । আন্ডাউটেডলি ‘ সূর্য দীঘল ‘ বাড়ি ইজ এ মাস্টার পিস অব বাংলাদেশি ফিল্ম । মুভিটি যতবার দেখি ততবার আমি মিগ্ধ হই , বাট আমি কনসিডারেশনে নিয়েছি –
      ১) গুনগত মান
      ২) প্রভাব
      ৩) সংখ্যা
      ৪) মিডিয়ার প্রচার
      ৫) দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
      ৬) নির্মাণ শৈলী
      ৭) আলোচনা – সমালোচনা

      উপরোক্ত বিষয়গুলো চিন্তা করেই আমি উপরোক্ত পাঁচজন তথা পঞ্চপাণ্ডব বেছে নিয়েছি । আমার মতের সাথে আপনার বা আপনাদের দ্বিমত থাকতেই পারে । ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য ।

      1. মান, পরিমাণ এবং প্রভাবের কথা
        মান, পরিমাণ এবং প্রভাবের কথা ভাবলে পোস্টকর্তার সাথে আমি একমত না হয়ে পারছি না… আপনাকে ধন্যবাদ উপসংহার যোগ করে দেয়ার জন্যে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :পার্টি: :পার্টি:

    1. সারওয়ার ভাইয়ের পরামর্শ শীরে
      সারওয়ার ভাইয়ের পরামর্শ শীরে ধার্য করে নিলাম :খুশি: । আই উইল ট্রাই উইথ হ্যাপিনেস ।
      আপনাকে থ্যাংকস !
      :ফুল:

  7. তালিয়া হয়ে যাক এমন পোস্টের
    তালিয়া হয়ে যাক এমন পোস্টের জন্য। :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    আফসোস এমন ছবি কেন এতো কম তৈরি হয় :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  8. অসাধারণ কাজ করেছেন। খুব ভাল
    অসাধারণ কাজ করেছেন। খুব ভাল লাগলো। ডন এর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন ঘটল ইষ্টিশনে। পোস্ট সোজা প্রিয়তে নিলাম। এই জাতীয় পোস্ট আরও বেশি আশা করছি আপনার কাছ থেকে। :তালিয়া:

    1. আই ডোন্ট থিঙ্ক হিম ( ডন ) এজ
      আই ডোন্ট থিঙ্ক হিম ( ডন ) এজ মাই কম্পিটিটর রাদার ফ্রেন্ড । থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর ইউর কমেন্ট ।
      :গোলাপ:

    1. ভেরি মাচ গ্লাড টু গট ইউর
      ভেরি মাচ গ্লাড টু গট ইউর কমেন্ট !
      ডোন্ট নো হাউ ক্যান আই এক্সপ্রেস মাই গ্রাটিচিউড !!!
      :ফুল: :ধইন্যাপাতা: :ফুল:

  9. অসাধারণ পোস্। এমন লেখা কেন আও
    অসাধারণ পোস্। এমন লেখা কেন আও আগে পড়িনি। মহানায়ক, সীমানা পেরিয়ে যে আলমগির কবিরের টা জনতাম না। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  10. সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক

    সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন

    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য তুলে ধরবার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা… :থাম্বসআপ: এই অকল্পনীয় এবং অসামান্য গ্রেট মানুষগুলোর মৃত্যু নেই। এরা আমাদের হৃদয়ের মাঝে বেঁচে থাকবেন এবং এদের কীর্তির মাঝে অম্লান থাকবেন অনন্তকাল… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    লেখা নিয়ে কি বলব বুঝতে পারছি না। যা বলতে চেয়েছিলাম, সবাই বলে দিয়েছেন। আমি বরং আমার মুগ্ধতা প্রকাশ করি টাটকা কিছু গোলাপ দিয়ে… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ:

    1. এত্ত গোলাপ কোন ছেলে আমাকে এর
      এত্ত গোলাপ কোন ছেলে আমাকে এর আগে দেয় নি :ভেংচি: :লইজ্জালাগে: :খুশি:
      আপনার জন্য এক ঝুড়ি :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *