ফিনিক্স


সাল ২০৪৭। নিকয় – তিন সাত দুই পাঁচ পৃথিবীর একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। এই জায়গাটার নাম ডিস্ট্রিক্ট – এক শূন্য পাঁচ পাঁচ। একসময় জায়গাটার নাম ছিল প্যারিস। হঠাৎ কন্ট্রোল মডিউলে একটা ছবি ভেসে উঠল।
– নিকয় তিন সাত দুই পাঁচ?
– কপি করছি।
– জরুরী ভিত্তিতে ডিসট্রিক্ট এক শূন্য সাত তিনে রিপোর্ট কর।
– কপি করছি। আমি কি বিষয় জানতে পারি?
– না। তবে হাতের কাছে যতজনকে পাওয়া যায় নিয়ে যাও। কোড শূন্য শূন্য শূন্য এক।



সাল ২০৪৭। নিকয় – তিন সাত দুই পাঁচ পৃথিবীর একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। এই জায়গাটার নাম ডিস্ট্রিক্ট – এক শূন্য পাঁচ পাঁচ। একসময় জায়গাটার নাম ছিল প্যারিস। হঠাৎ কন্ট্রোল মডিউলে একটা ছবি ভেসে উঠল।
– নিকয় তিন সাত দুই পাঁচ?
– কপি করছি।
– জরুরী ভিত্তিতে ডিসট্রিক্ট এক শূন্য সাত তিনে রিপোর্ট কর।
– কপি করছি। আমি কি বিষয় জানতে পারি?
– না। তবে হাতের কাছে যতজনকে পাওয়া যায় নিয়ে যাও। কোড শূন্য শূন্য শূন্য এক।

সর…্বোচ্চ মাত্রার সংকেত শুনে নিকয় বুঝতে পারল কিছু একটা ঘটতে চলেছে যা পৃথিবীর ইতিহাসের আরেকটি লাইন বদলে দিতে পারে।

নিজের জেট শু অন করে শূন্যে উঠল নিকয় – তিন সাত দুই পাঁচ। তার লম্বা চুলগুলো পেছনে উড়ছে। যেখানে যাচ্ছে তার পূর্ব নাম ছিল “এইস্নে” । কম্পাসে দিক বদল করতে করতে সে প্রটোকল অনুযায়ী আরো দশ জন নিকয়কে ডেকে নিল।

নিকয়-নামটি ছিল তাদের মেকার ডাক্তারের নাম। ডাক্তার মারা গেছেন। সব নিকয় দেখতে ডাক্তারের মতই। মানবিক ভাষায় “অসাধারণ সুন্দরী এক নারী”। সত্যি বলতে দু’বছর আগে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক যুদ্ধে আর কোন মানুষ বেঁচে থাকারও কথা নয়। কন্ট্রোল করবার আর কেউ না থাকায় রোবটরা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে তাদের বেঁচে থাকবার লড়াই।

নিকয় রোবটেরা ডিস্ট্রিক্ট এক শূন্য সাত তিনে পৌঁছে গেছে। এসময় তাদের সবার মডিউলে আবার ভেসে এল সর্বোচ্চ সংকেতের বাণী-
– একটা কো-অরডিনেশন দিচ্ছি। এই জায়গায় একজন মানবী পাওয়া গেছে। কেমিক্যাল রিএকশনে আক্রান্ত।
– কপি করছি।
– মানবীর স্ক্যানে গর্ভে নয় মাসের একটি শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মানবীকে বাঁচাও। রোবটদের শেষ আশা সে।
– কপি করছি।

একটা পাতাল হাসপাতালের বাইরে রোবটেরা খুঁজে পেল মানবীকে। মানবী রোবটদের দেখেই পালাতে চেষ্টা করল। নিকয় তিন সাত দুই পাঁচ তাকে অভয় দিল- “আমরা সাহায্যকারী”। কিন্ত তবুও সে পালাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ঘিরে ফেলা হল মানবীকে। তার গর্ভে আসলেই সন্তান। নিকয়রা অবাক হয়ে দেখছে ডায়াফ্রামের নিচে থেকে মানবীর বিশাল শরীর।
– দয়া করে আমার শিশুটিকে বাঁচতে দিও।

একজন নিকয় হাসপাতালটার ভেতরে গিয়ে দেখে আসলো। স্ট্যানডারড প্রসিডিওর অনুযায়ী কেমিক্যাল রিএকশনে আক্রান্ত সবাইকেই আলাদা করে ফেলবার চেষ্টা করা হোত। কিন্ত এই হাসপাতালে মানবী শুধু একলাই ছিল। কোন কম্যুনিকেশন নেই। তাই কেউ তাকে খুজেও পায়নি। ভেতরে শুধু খালি কিছু খাবারের ক্যান পরে আছে।
খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল দেখেই সে বের হয়ে এসেছে।

এতক্ষণ পরে রোবটেরা বুঝতে পারলো মানবী আসলে মারা যাচ্ছে। সে নিকয়দের আসল মানবী ভেবে ভুল করেছিল। তাই তাদের কাছে অনুরোধ করছে তার শিশুটিকে বাঁচতে দেবার জন্যে। অনুরোধ করতে করতেই মানবী অজ্ঞান হয়ে গেল।

নিকয় তিন সাত দুই পাঁচ মানবীর শরীর স্ক্যান করা শুরু করল। সর্বোচ্চ গতিতে সে তার মানব-মানবীর গর্ভধারণ বিষয়ে সব তথ্য আপডেট করছে। সে অনুযায়ী অন্যদের সে ব্যান্ডেজ, কাপড়, পানি আনবার নির্দেশ দিচ্ছে। সর্বোচ্চ রোবট কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে নির্দেশ পাঠালো। রাসায়নিক সকল অস্ত্রের এন্টিডোট চাইল সে। শিশুটিকে বাঁচাতেই হবে।

পৃথিবীর শেষ মানব-শিশুটিকে বাঁচানোর জন্যে যন্ত্রদের কি অসাধারণ চেষ্টা !

৭ thoughts on “ফিনিক্স

  1. এপোক্যেলিপ্টিক এবং
    এপোক্যেলিপ্টিক এবং পোস্ট-এপোক্যেলিপ্টিক পর্যায়ের সময়কার অনেক ইংরেজি মুভিই দেখেছি। আপনার ছোট গল্পে আরেকটা ভাল যন্ত্রের মানবিকতা দেখলাম! অনেক দিন পর ইস্টিশনে…পুনঃস্বাগতম :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: !! তবে আরও বেশী স্বাগতম নতুন বছরের আশাজাগানিয়া বিষয় নিয়ে লিখছেন বলে। ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  2. যদিও কম্পিউটার সায়ন্স ছাড়া
    যদিও কম্পিউটার সায়ন্স ছাড়া আমার মাথায় অন্য কোন সায়েন্স ঢুকে না কিন্তু আপনার লিখাটা খুব ভালো লাগলো…… :তালিয়া:

Leave a Reply to তারিক লিংকন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *