গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ পর্ব-২

গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ পর্ব-১ পড়েনেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি

একদিকে স্বপ্ন ভেঙ্গে বাস্তবে ফেরার হতাশা আর অন্যদিকে নদীর বুকে সূর্য রশ্মির জেগে ওঠার অপার সৌন্দর্য্য

এরপরের অংশ

উত্তেজনা শীতকে হার মানাল। লক্ষ্য করলাম বিরান পদ্মার বুকে কে যেন স্বগৌরবে ভেসে বেড়াচ্ছে। কাছে আসলে বুঝতে পারলাম আমাদের আগে আসা অভিযাত্রিদের ফেলে দেয়া জালের বোতল। মনটা খারাপ হয়ে গেল। যে নদীর অগভীর জলে প্রথম প্রণের উৎপত্তি; যে নদীর কাছে আমরা জন্ম থেকেই ঋণী, সে নদী ও প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে সভ্যতার ঋণ শোধ করার একটা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। সন্ধ্যায় ২০মিনিটের একটা



গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ পর্ব-১ পড়েনেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি

একদিকে স্বপ্ন ভেঙ্গে বাস্তবে ফেরার হতাশা আর অন্যদিকে নদীর বুকে সূর্য রশ্মির জেগে ওঠার অপার সৌন্দর্য্য

এরপরের অংশ

উত্তেজনা শীতকে হার মানাল। লক্ষ্য করলাম বিরান পদ্মার বুকে কে যেন স্বগৌরবে ভেসে বেড়াচ্ছে। কাছে আসলে বুঝতে পারলাম আমাদের আগে আসা অভিযাত্রিদের ফেলে দেয়া জালের বোতল। মনটা খারাপ হয়ে গেল। যে নদীর অগভীর জলে প্রথম প্রণের উৎপত্তি; যে নদীর কাছে আমরা জন্ম থেকেই ঋণী, সে নদী ও প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে সভ্যতার ঋণ শোধ করার একটা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। সন্ধ্যায় ২০মিনিটের একটা আলোচনা সভা হল ‘সভ্যতাকে বাঁচাতে, নদী বাঁচাও’ শিরোনামে। রাতে আবার ণক্ষত্রের অপার্থিব সৌন্দর্য্যরে হাতছানি। চোখের সামনে নাক্ষত্রিক অভিযাত্রার স্বপ্ন। কখন যে সময় কেটে গেল বুঝতেও পারলামনা। অবশ্য সুমনা দিদি তার এক প্রিয় শীর্ষাকে নিয়ে আরো এক ঘন্টা ধরে বৃহস্পতির দিকে তাকিয়ে ছিল। অবশ্য তার হাতে ছিল গ্যালিলিয়ান প্রতিসরণ টেলিস্কোপ। তিনি তার এ সময়ের অনুভূতি ব্যাক্ত করে বলেন, “জান? এ সময় আমার মনে হচ্ছিল আমরা শূণ্যে ভেসে বেরাচ্ছি আর মাঝে মধ্যে ভারি কুয়াশা গুলো যখন আমাদের ছুয়ে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল মেঘের ওপর দিয়ে যাচ্ছি আর টেলিস্কোপে তারা দেখছি। আর তাও বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর মৃত্যুবার্ষিকীতে একটা গ্যলিলিয়ান টেলিস্কোপ দিয়ে।”
আট জানুয়ারি, হাতে গ্যালিলিয়ান প্রতিসরণ টেলিস্কোপ, চোখে মুখে নতুন উত্তেজনা। কারন এ দিনটা মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। কেননা ১৬৪২ সালের এ দিনে মানব সভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম এক চরিত্রকে দীর্ঘ্য নয় বছরের কারা ও গৃহবন্দি জীবন শেষ করে জীবন থেকে চির বিদায় নেন। আর এর ঠিক ৩০০ বছর পরে আরেক আলোক অভিযাত্রি স্টিফেন হকিং এর জন্ম হয়। তিনি তাকে গ্যালিলিওর উত্তরসূরী মনে করেন। ভ্রমনের এ দিনের পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে কটকা-জামতলা বন পরিদর্শন ও সৈকত ভ্রমন এর সাথে যোগ হল গ্যালিলিয়ান প্রতিসরণ টেলিস্কোপের মধ্য দিয়ে ফিল্টার কাচ ব্যাবহার করে সূর্য দেখা। এ সময় ডিসকাশন প্রজেক্টের বিজ্ঞান কর্মীরা বনে পর্যটকদের ফেলে আসা পানির বোতল, চকোলেট, চিপস, বিস্কুট, চানাচুরের প্যাকেট কুড়িয়ে আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান অর্থাৎ ডাস্টবিনে ফেলে বন ও পরিবেশ রক্ষার কাজে অংশ গ্রহণ করে। সন্ধায় শিল্পী রেজোয়ান আলীর শস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় গ্যালিীলওর ৩৭০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান। ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ সাংস্কৃতিক ক্লাব নন্দন কাননের দলীয় পরিবেশনায় রবিন্দ্র সঙ্গীত “আকাশ ভরা সূর্য তারা” এর পরপর-ই জ্যাকব ব্রনোওস্কির তৈরি করা “চার্চের বিচার” ডকোমেন্টরীর প্রদর্শণী ও সুমনা বিশ্বাসের বিশেষ প্রবন্ধ পাঠ। এদিন সন্ধায় আরো একজনের কথা স্মরণ করা হয় আর তিনি হলেন জিওর্দানো ব্রনোকে। এর পর একমিনিট দাঁড়িয়ে এই তিন জন মহান সাধকদের সম্মানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অধ্যক্ষ ড. মাহফজুল হক বিজ্ঞানী গ্যলিলিওর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “গ্যালিলিও আমাদের জন্য আদর্শ। তার আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণা। তাদের আত্মত্যাগের কারনেই আমরা আকের সভ্যতাকে পেয়েছি। তাদের প্রতি আমাদের এ সভ্যতা ঋণী।” তিনি আট জানুয়রির সকল কার্যক্রমকে এ দুই বিজ্ঞানীর সম্মানে উৎসর্গ করেন। এর পর ডিসকাশন প্রজেক্ট ও এর বিজ্ঞান কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন ,“বিজ্ঞান প্রচার ও প্রসারে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে তারা অনেক বেশি কাজ করছে। এখন থেকে আমরা তাদের কার্যক্রমের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।” এর পর প্রতি রাতেই লঞ্চের ছাদে চলে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প আর দিনে ফিল্টার কাঁচে সূর্য পর্যবেক্ষণ।

*[এই দুই মহান বিজ্ঞানীকে নেয়ে বিশেষ প্রবন্ধ আগামী কল প্রকাশকরার আশা পোষণ করছি ]

৩ thoughts on “গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ পর্ব-২

Leave a Reply to অন্ধকারের যাত্রী Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *