বদি ভাই!!

মিনুচাচার দোকান…

মিনুচাচা ছোট বড় সবার কাছেই চাচা। স্পেশালি আমার মত যুবকদের আর্কষণ মিনুচাচার দোকান। কারণ ওখানে বদি ভাই বসেন। বদি ভাই আমাদের এলাকারই ছেলে। বদি ভাইয়ের আরেকটা নাম দেয়া যেতে পারে এবং তা হলো ” আদুভাই ” ! বদি আর আদু নাম দুটো কাছাকাছি, দুটি নামের শেষেই ‘দ’ আছে। যেহেতু আদু নামের একজন ইতিহাসে রয়ে গেছে, বদি ভাইয়েরও ইচ্ছে ইতিহাসের খাতায় নিজের নামটা তোলানো। যাতে ফেল করা বালকদের আদু ভাইয়ের পাশাপাশি বদি ভাইও ডাকা যায়। কারণ তিনি কলেজ পাশ করতে পারেন নাই এখনো! বাংলার ইতিহাসে (!) যুক্ত হবে আরেকটি নাম – বদি ভাই। এখন অবশ্য কলেজে যান না তিনি, তবে কলেজের হাজিরাপত্রে তার নাম এখন অবধি আছে!


মিনুচাচার দোকান…

মিনুচাচা ছোট বড় সবার কাছেই চাচা। স্পেশালি আমার মত যুবকদের আর্কষণ মিনুচাচার দোকান। কারণ ওখানে বদি ভাই বসেন। বদি ভাই আমাদের এলাকারই ছেলে। বদি ভাইয়ের আরেকটা নাম দেয়া যেতে পারে এবং তা হলো ” আদুভাই ” ! বদি আর আদু নাম দুটো কাছাকাছি, দুটি নামের শেষেই ‘দ’ আছে। যেহেতু আদু নামের একজন ইতিহাসে রয়ে গেছে, বদি ভাইয়েরও ইচ্ছে ইতিহাসের খাতায় নিজের নামটা তোলানো। যাতে ফেল করা বালকদের আদু ভাইয়ের পাশাপাশি বদি ভাইও ডাকা যায়। কারণ তিনি কলেজ পাশ করতে পারেন নাই এখনো! বাংলার ইতিহাসে (!) যুক্ত হবে আরেকটি নাম – বদি ভাই। এখন অবশ্য কলেজে যান না তিনি, তবে কলেজের হাজিরাপত্রে তার নাম এখন অবধি আছে!

আমাদের এই বদি ভাই বিকালে মিনুচাচার দোকানে বসবেন। এতে তার কোনোদিনও ভুল হয় নাই। বদি ভাই নানা ধরনের কাজকর্ম করে বেড়ান। আয় অনেক। ফলে চায়ের দোকানটিতে দরাজ হাতেই খরচ করেন, গল্প করে সময় কাটিয়ে দেন বদি ভাই।

আপততঃ আমরা সবাই মিনুচাচার দোকানে বসে আছি। মধ্যমণি বদি ভাই এ কথা বলাই বাহুল্য! অন্যদিন সমস্বরে হাসি ঠাট্টা চলে। কিন্তু আজ,এখন সবাই চুপ। কেহই কোনো কথা বলছে না। গুরুতর ব্যাপার।
ব্যাপারটি বদি ভাইকে ঘিরেই।
সবাই ভাবছে। বদি ভাইয়ের সমস্যার একটা সমাধান বের করে দিতেই হবে! নাইলে কারোরই মুখরক্ষা হয় না!

সমস্যাটি আর কিছুই নয়! প্রেম। প্রেমে পড়েছে বদি ভাই, ফারহানা আপুর প্রেমে। ফারহানা হচ্ছে আমার প্রতিবেশিনী আপু! ভার্সিটিপড়ুয়া আপু মিস্টভাষী, বুদ্ধিমতী! আমার সাথে খানিকটা পরিচয়ও আছে। এই ফারহানা আপুর প্রেমেই পড়েছে বদি ভাই। অনেক আগে থেকেই আপুকে বদি ভাই পছন্দ করে। কিন্তু কখনোই বলেন নাই। আজ সকালে ফারহানা আপুর সাথে কোনো একটা ছেলেকে কথা বলতে দেখেছেন এবং তাতেই ভয় পেয়েছেন। ভীষণ ভয়! ফারহানা আপুকে যদি কেউ প্রপোজ করে এবং তিনি যদি রাজি হন তাহলে বদি ভাইয়ের কি হবে? না না , আর মোটেও বসে থাকা যায় না! একটা কিছু করতেই হবে শীঘ্রই !

আর তাই এই গুরুতর বৈঠক!

কিছু একটা সমাধান বের করতেই হবে। বদি ভাইকে নতুন নিয়মের প্রপোজ বাতলিয়ে দিতে হবে। এমন এক চমকপ্রদ ঊপায় বের করতে হবে যাতে ফারহানা আপু প্রথমবারেই ” হ্যাঁ ” বলে দেয় !

বন্ধুরা সবাই মিলে নানা উপায় বললাম। কিন্তু সবগুলোই এককথায় নাকচ করে দিলেন বদি ভাই। এগুলো সব চিরাচরিত! ফুলের তোড়া, চিঠি, হাঁটু গেড়ে ফুল দেয়া, বেনামী পত্র ইত্যাদি সব বাদ। নতুন উপায় চান তিনি। তাই ফের ভাবনায় ডুবে যাওয়া!
অবশেষে রায়হান কি এক বুদ্ধি বের করলো। কিন্তু আমাদের কারো সাথেই শেয়ার করলো না। শুধু বদি ভাইয়ের কানে কানে ফিসফিসিয়ে বললো। আমি দেখতে পেলাম, বদি ভাই ইতস্তত করেও রাজি হয়ে গেল। হাসি ফুটলো সবার মুখেই! বদি ভাইয়ের খুশি স্বরূপ সবাইকে নিয়েই দ্বিতীয় দফা চা পর্ব চললো!

তিনদিন পর…

আজ বদি ভাইয়ের সাথে সবাই জেদ ধরেছি , আজ বলতেই হবে। গত তিনদিন যাবৎ ফারহানা আপুর পিছনে পিছনে রিকশা স্ট্যান্ড পর্যন্ত গিয়েই শেষ, কিছুই বলতে পারে না! ফারহানা আপু লক্ষ করেন কিনা তাও জানি না। হয়তো করেন কারণ শুনেছি, মেয়েরা এব্যাপারগুলো সহজেই বুঝতে পারে!

দূর থেকেই দেখতে পেলাম আপু বের হচ্ছে। বদি ভাইয়ের দিকে তাকালাম, “ বের হয়েছে আপু ˝

বদি ভাইকে দেখে মনে হলো, রক্ত শূন্যতায় ভুগছেন উনি। রায়হান বললো, ” আজ আপনাকে বলতেই হবে বদি ভাই, না পারলে আমরা আর আপনার আশেপাশে নাই! ”

ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে ওর দিকে তাকালাম, ” কি বলবে সেটা তো আমাদের সাথে শেয়ারই করলি না! ”
– দেখতেই পাবি!

মৃদু হাসলো রায়হান।

বদি ভাই বের হয়ে গেল। ফারহানা আপুর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো বদি ভাই, কাঁদো কাঁদো দেখাচ্ছে চেহারা! হাতে ভর রেখে দেখতে লাগলাম বহমান ঘটনা, কি শিখিয়ে দিয়েছে রায়হান?

– হাই!
: কে আপনি?
– বদি, ভালো নাম আব্দুল বদি

ফারহানা আপু ভালো করেই চেনেন বদি ভাইকে। তাও ফের জিজ্ঞাসা।
: কিছু বলবেন?
– হু
: বলুন।
– তোমার ক্লাস আছে না একটু পর?

তুমি করে বললেন, ফারহানা আপু কিছুই বললেন না তাতে, ‘ হু ‘
– তাহলে হাঁটতে হাঁটতেই বলি।
: ঠিক আছে।
– আসলে আমি গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
: হু

আমি কিছুটা বিস্মিত হয়ে দেখছিলাম কান্ড কারখানা! কারণ প্রথম পরিচয়ে অচেনা কারো সাথে এরকম করা সাজে না বটে! তার মানে?
তার মানে , আপুও বদি ভাইকে পছন্দ করেন! বদি ভাইয়ের নিকট হতে শুনতে চাইছেন.!! ক্লিয়ার হয়ে গেল সব! আনন্দে নাচতে ইচ্ছা করলো। কিন্তু কিছু না বলে শুনতে লাগলাম।

– ইয়ে তুমি কি রাত্রে ঘুমাও না??
: হুঁ, ঘুমাই। কেন?
– ইয়ে, ঘুমালে আমার স্বপ্নে আসো কি করে?

ফারহানা আপু দাঁড়িয়ে পড়লেন। ঘুরে সোজা তাকালেন বদি ভাইয়ের দিকে! বদি ভাই তো চুপ করে গেলেনই , হয়তো সে দৃষ্টি সহ্য করতে পারলেন না, ঘুরেই দৌড় লাগালেন অন্যত্র!

ফারহানা আপু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন সেদিকে। স্পষ্ট দেখতে পেলাম, মুগ্ধতার সাথে বিস্ময়! হয়তো কিছু বলতেন তিনি …

পিছনে থেকে সবাই চেঁচিয়ে উঠলাম, ” বদি ভাইইইই!!! ….!! ”

ছুটন্ত বদি ভাই ছুটছেনই…!!

১১ thoughts on “বদি ভাই!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *