দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে এইবার সামনে আসার পালা ………

সম্ভবত বছর দুয়েক আগে একটা পেপারে পেয়েছিলাম ভারতে লোকসভা শুরু করা হয় গীতা পাঠের মাধ্যমে যেহেতু ভারত হিন্দুস্থান বলে খ্যাত তাই গীতা পাঠ দিয়ে শুরু হবে এই ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক কিন্তু অস্বাভাবিক ব্যাপারটা হল ভারতের লোকসভার ঠিক আগ মুহূর্তে ( যেই মুহূর্তে গীতা পাঠ শুরু করা হবে সেই মুহূর্তে ) একজন মুসলমান মন্ত্রী লোকসভার বাইরে চলে যান !! পরবর্তীতে যখন উনাকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনি চলে এলেন কেনো উনার জবাব ছিলো উনাদের ধর্মে নাকি অন্য ধর্মের বাণী শোনা হারাম !! তাহলে চিন্তা করে দেখুন এই ব্যাপারটা আমাদের দেশে যদি হত কুরআন পাঠ করা হচ্ছে আর একজন হিন্দু মন্ত্রী সংসদ ছেড়ে চলে এলেন তাহলে আমার তো মনে হয় উনাকে রাজাকার, নাস্তিক কিন্তবা দেশদ্রোহী সবগুলো উপাধিতে ভূষিত করা হত কিন্তু আমাদের দেশের কোন হিন্দু কিংবা মুসলমান ব্যাতীত অন্যকোন ধর্মের মন্ত্রী এই কাজটা করবে না আমার যতটুকু বিশ্বাস কারণ আমাদের দেশে সেই কাজ করার সাহস কারো নাই ।।

সারাদেশে সংখ্যা লঘুর উপর হামলা হচ্ছে কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই হামলাকারীদের মাথায় আসছে না যদি ওরা সংখ্যালঘুদের পাশে দাড়ায় হামলা বন্ধ করে তাহলে সংখ্যা লঘূদের ভোট গুলো নিশ্চিত ওদের বাক্সে পর্বে যেই কাজটা ভারত করে থাকে কিন্তু আমাদের দেশে একদম এ উলটা ।। ভারতে মুসলমানদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে তাছাড়া ভারতে সংখ্যালঘূদের (মুসলমানদের) যে রকম আতিথেয়টা করা হয় তা সত্যি প্রশংসনীয় কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে সংখ্যালঘুদের আতিথেয়তা দূরের কথা দিনে দুপুরে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি, মায়ের সামনে মেয়েকে করা হচ্ছে ধর্ষণ আর মায়ের কান্নার শব্দে খুশি হয়ে তার মুখে পেশাব করে দিচ্ছে মানবতা !!

কিছু হইলেই মন্দির ভাঙ্গো কিছু হইলেই হিন্দুদের বাড়ি পুড়িয়ে দাও কিছু হইলেই হিন্দুদের দোষ হিন্দুরা মালাউনের বাচ্ছা ওদের এই দেশে থাকার অধিকার নাই ওদের দেশ ভারত ওখানে যা আরে কুত্তার বাচ্চারা হিন্দুরা কি তোগো পাছায় আগুন দিছে নাকি শুয়রের বাচ্চারা ।। সংখ্যালঘু হয়ছে বলে কি যা ইচ্ছা তাই করবি তাই মেনে নেবো নাকি আর আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা টক শো না করে ঘরে চুরি পড়ে বসে থাক তোরা খালি টক শো করতে পারবি জামাত শিবিরের বাল ও ছিঁড়তে পারবি না ।। হাসিনা কি ৫ তারিখ নির্বাচনের দিন টেলিভিশন দেখেনাই হিন্দুরা সবাই আনন্দের সাথে উৎসাহের সাথে ভোট দিয়েছে তার চোখে পরেনাই ?? তাহলে তাদের কেনো ভোট দেওয়ার কারণে এই খেসারত দিতে হচ্ছে তাদেরকে বাড়ি ছাড়া হতে হচ্ছে রাস্তায় ধরে পিটানো হচ্ছে আর সরকার নিন্দা করে আর দুঃখ ভারাক্রান্ত বিবৃতি দিয়ে তার মহৎ দায়িত্ব পালন করে ফেলেছে কেনো তাদের যথাযথ নিরাপত্তা দেইনি ?? আমাদের চাটগাইয়া ভাষায় একটা প্রবাদ আছেঃ সব রসুনের কোয়া আলাদা আলাদা কিন্তু পোদা একটাই আর সেই পোদাই বাড়ি না পড়া পর্যন্ত কেউ বুঝবেনা পোদার জ্বালানি কি জিনিস ।।

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার একটু আগে একটা স্বপ্ন দেখলাম হিন্দুদের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে আমি আমার এক হাতে মশাল হাতে এক হাতে খড়গ নিয়ে ছুটে যাচ্ছি মুসলমানদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার জন্য আর সামনে যারে পাবো কোপায় ফেলব !! কিছুদুর যাওয়ার আমার এক মুসলমান বন্ধুর ফোন আসলোঃ দোস্ত তুই কোথায় আজ আমার বোনের বিয়ে তোরে তাড়াতাড়ি আসতে বলছিলাম তুই দেরি করতেছস কেন ?? এতটুকুতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো আর ঘুমটা ভেঙ্গে যাওয়ার ই কথা কারণ এই রকম পরিস্থিতিতে ঘুম বাবাজি ভয়ে পগারপার হতে দ্বিধাবোধ করেনা ।। স্বপ্ন তো স্বপ্ন জানি তা সত্যি হবার নয় কিন্তু যদি কোনদিন এই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাহলে ??

এখন থেকে চিন্তা করছি যা থাকে কপালে এই সব শুয়রের বাচ্চাগুলোকে যেই সাপোর্ট দিবে তার বিপক্ষে বিদ্রোহ ঘোষনা করব কারণ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা যায় শূয়র কিংবা কুত্তার বাচ্চার সাথে না ।। আর মরণ যদি আসে চিন্তা নাই কথা দিলাম ৮/১০ জন সাথে নিয়ে মরব কারণ আমি একজনের সাথে যদি ১০ জন মরে তাহলে আমার মত ১০০ জনের সাথে মরবে ১০০০ জন এবং আসতে আসতে সব হয়ে যাবে নিঃশেষ ।।

( লিখাটি শুধুমাত্র সেইসব জানোয়ারদের উদ্দেশ্য যারা হিন্দুদের মানুষ বলে মনে করেনা !! মুসলমানদের প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে কিন্তু যারা অন্যধর্মের মানুষের বাড়িতে আগুন দেই তাদের পুড়িয়ে মারে তাদেরকে মানুষ ভাবা উচিত না তাই তাদের মুখে থুঃ থুঃ আর যারা এই সব কাজে সাপোর্ট দেই তাদের উদ্দেশ্য ছিঃ ছিঃ ।।)

১৫ thoughts on “দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে এইবার সামনে আসার পালা ………

  1. নিজ দেশে এমন লাঞ্ছনার শিকার
    নিজ দেশে এমন লাঞ্ছনার শিকার হওয়া যে কি ভয়াবহ অপমানের দুখের কষ্টের যন্ত্রণার , তা শুধু মাত্র ভুক্তভুগিরাই বুঝে।
    কতটা অসহায় তারা। নিজ মাতৃভূমিতে ভিটেহারা। এমন দেখলে সত্যি ইচ্ছে করে শালার কোন মুসলমানের ঘর বাড়ি জ্বালাই দেই। বুঝুক মজা তখন।
    সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, লীগ ক্ষমতায় থাকলেও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ হয়, ক্ষমতায় না থাকলেও হয়। কোন সরকারের আমলেই তারা নিরাপদ না। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    1. আমার মাথায় একটা ব্যাপার আসেনা
      আমার মাথায় একটা ব্যাপার আসেনা নির্বাচন করবি তোরা, জিতবি তোরা আবার ক্ষমতা গঠন করবি তোরা তাহলে কেনো সংখ্যা লঘূদের উপর এত হামলা ?? বাংলাদেশে ৪ ধর্মের মানুষ বাস করে কিন্তু সংখ্যালঘু শুধুমাত্র হিন্দুরাই কারণ হিন্দুদের মারলে কেউ তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত নাই ।। রামুতে যখন বৌদ্ধ ধর্মের লোকদের উপর হামলা করা হয় বৌদ্ধ মন্দির ভাঙ্গা হয় তখন চীন থেকে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করা হয় সুষ্ট বিচারের এবং মন্দির পূ্নঃনির্মাণের জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয় ।। ১১ মাসের মাথায় মন্দির গুলো আগের থেকে আরো ভালো ভাবে তৈরি করা হয় কিন্তু এখন পর্যন্ত হিন্দুদের অনেকগুলো মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে এবং অনেকের বাড়ি পুড়িয়ে দেইয়া হয়েছে কয়টা মন্দির পূ্নঃনির্মাণ করা হয়েছে আর কয়টা পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে ?? হাসিনারে ভোট দিয়ে আর তাহলে কি লাভ যদি সঠিক নিরাপত্তা দিতে না পারে ??

  2. যত দোষ নন্দ ঘোষ টাইপের একটা
    যত দোষ নন্দ ঘোষ টাইপের একটা ব্যাপার, বাংলাদেশে যাই ঘটুক না কেন হিন্দুরা মাইর খাবেই…… পুরাই সেলুকাস :ক্ষেপছি:

    1. হিন্দুরা সাতে ও নাই পাঁচে ও
      হিন্দুরা সাতে ও নাই পাঁচে ও নাই ভোট দিছে এইটা তাদের অপরাধ আর যারা ভোটের জন্য ভিক্ষা করে তাদের কোন অপরাধ নেই ।। নিরবাচনের আগে গিয়ে সবাই বলে আমাকে একটা ভোট দিয়েন আমি আপনাকে একটা সুন্দর রাষ্ট্র উপহার দেবো কিন্তু সেই স্বাধীন রাষ্টের সঠিক ব্যাখা কি কেউ জানেনা …… আজ আমি সংখ্যালঘু কিন্তু আমি তো নিজেকে সংখ্যালঘু বলে মনে করিনা আমি তো চাই সবার সাথে মিলে মিশে থাকতে তাহলে কেনো আমাকে বলা হচ্ছে ভারত চলে যাও এই দেশে আমার থাকার অধিকার নাই …… ??

    1. দাদা আপনার দেওয়া লিঙ্কটা ওপেন
      দাদা আপনার দেওয়া লিঙ্কটা ওপেন হচ্ছে না আবার দিন আমি দেখতে চাই আপনারা আমাদের পাশে আছেন থাকবেন আমাদের মতই সোচ্চার কন্ঠে বলে উঠবেন……

      হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, জামাত শিবিরের রক্ষা নাই

  3. যে কোন ধর্ম বা গোত্রের
    যে কোন ধর্ম বা গোত্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন ন্যাক্কারজনক ও প্রচন্ড ঘৃন্যতম। আমাদের সংবিধান এদের সুরক্ষা যেহেতু দিয়েছে, এদের রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই ধরনের অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি বিধান করাও রাস্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে রাস্ট্র চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আসুন আমরা সোচ্চার হই…..

    1. দুলাল দা আমার অনেক মুসলিম
      দুলাল দা আমার অনেক মুসলিম বন্ধু আমার সামনে মাথা নিচু করে কথা বলে আর রাষ্ট্রের কথা বলছেন স্বপ্নচারী দা অলরেডি বলে দিয়েছেন সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, লীগ ক্ষমতায় থাকলেও সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ হয়, ক্ষমতায় না থাকলেও হয়। কোন সরকারের আমলেই তারা নিরাপদ না। এখন আসলেই কি করা উচিত জানিনা কিন্তু একটা ব্যাপার আমার পক্ষ থেকে পরিষ্কার আমার ঘর বাড়ি জ্বালাতে আসলে আমি পুলিশকে ফোন দিবনা যা করার আমি করব এর জন্য যদি আমাকে পত্রিকায় পধান শিরোনাম হতে হয় আফসোস নাই ……

      1. একটা ব্যাপার আমার পক্ষ থেকে

        একটা ব্যাপার আমার পক্ষ থেকে পরিষ্কার আমার ঘর বাড়ি জ্বালাতে আসলে আমি পুলিশকে ফোন দিবনা যা করার আমি করব এর জন্য যদি আমাকে পত্রিকায় পধান শিরোনাম হতে হয় আফসোস নাই

        চমৎকার বলেছেন। এছাড়া অন্য কোন বিকল্পও দেখছিনা।

        1. আর কি বা করার আছে আমি তো আর
          আর কি বা করার আছে আমি তো আর আমার চোখের সামনে আমার মা বোনের উপর নির্যাতন দেখতে পারবোনা তাই আইন নিজের হাতেই তুলে নিতে হবে……..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *