গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ পর্ব-১

[এই ঘটনাটা আজ থেকে একবছর আগের আর এ লেখাটাও তখনকার। দৈনিক সংবাদের বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিভাগে এক পৃষ্ঠা জুড়ে লেখাটা তখন ছাপাও হয়েছিল। অনলাইনে এর কোন আর্কাইভ না থাকায় লিংক দিতে পারলাম না।
আজ ৭জানুয়ারি । আগামী কাল ৮জানুয়ারি একজন বিজ্ঞানীর মৃত্যুবার্ষিকী আর একজনের জন্মদিন। এরা হলেন যথাক্রমে গ্যালিলিও গ্যালিলি আর অন্য জন হলেন স্টিফেন ডব্লিউ. হকিং। আমরা এই দিনে বিশেষ ভাবে স্মরণ করেছিলাম এই দুইজন বিজ্ঞানীকে, একটা অনারম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। দৈনিক সমকাল, যায়যায় দিন ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিশেষ সংবাদও ছাপা হয়েছিল।


[এই ঘটনাটা আজ থেকে একবছর আগের আর এ লেখাটাও তখনকার। দৈনিক সংবাদের বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিভাগে এক পৃষ্ঠা জুড়ে লেখাটা তখন ছাপাও হয়েছিল। অনলাইনে এর কোন আর্কাইভ না থাকায় লিংক দিতে পারলাম না।
আজ ৭জানুয়ারি । আগামী কাল ৮জানুয়ারি একজন বিজ্ঞানীর মৃত্যুবার্ষিকী আর একজনের জন্মদিন। এরা হলেন যথাক্রমে গ্যালিলিও গ্যালিলি আর অন্য জন হলেন স্টিফেন ডব্লিউ. হকিং। আমরা এই দিনে বিশেষ ভাবে স্মরণ করেছিলাম এই দুইজন বিজ্ঞানীকে, একটা অনারম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। দৈনিক সমকাল, যায়যায় দিন ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিশেষ সংবাদও ছাপা হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সালে যে কয়েকটা বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে এর মধ্যে একটা ছিল অন্যতম। (সূত্রঃ সমকাল) এই আয়োজনের একজন হতে পরে গর্ববোধ করছি।

মুল লেখাটা ছিল চিঠির অনুরুপ। ( লেখাটা আমি খুঁজে পাচ্ছি না 🙁 ) কিন্তু ছাপা হওয়া লেখাটা চিঠির মত না করে এই ভাবে করেছিল শিরোনাম ছিল
‘গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ.’ বর্তমানে লেখাটা ডিসকাশন প্রজেক্টের ওয়েবসাইটে এখনো রাখা হয়েছে]

সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে সদরঘাট হাইস্পিড ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করার পর চোখের সামনে জ্বলমল করছে প্রকৃতি মায়ের সবুজঘেড়া অপার সৌন্দর্য্য। ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের প্রকৃতির টানে ছুটে চলা এক দল তরুণ, আর সাথে আমার চার ইঞ্চি প্রতিফলণ টেলিস্কোপ। বুড়িগঙ্গা থেকে শীতলক্ষ্যা হয়ে আমাদের লঞ্চ ছুটে চলছে পদ্মার বুক চিরে। বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা দু‘পাড়ের শিল্প নগরীর নিয়ন ও সোডিয়ামের হলূদ আলো রাতের পরিবেশকে করে তুলেছে আরো শৈল্পিক। রাতে যখন পদ্মায় এসে পড়লাম বিশাল জলরাশির দু‘ধরের গ্রাম গুলো থেকে আসা দূর্বল আলোক রশ্মি কুয়াশার বাধা পারি দিয়ে আর আমাদের কাছে আসতে পারল না। এদিকে রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে বাতাসের তাপমাত্রাও কমে যাচ্ছে। ফলে কুয়াশায় রুপনেয়া বাতাসের জলীয় বাষ্প আরো ভারী হয়ে মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে আর বাতাসের চাপে নদী পৃষ্ঠের দিকে নেমে যাচ্ছে।
এখন এমন কোন প্রসঙ্গ কাঠামো আমাদের কাছে নাই যার মাধ্যমে প্রমান করা যাবে আমরা ছুটে চলছি। এপ্রসঙ্গ কাঠামোর সাথে প্রথম যিনি আমাদের পরিচয় করে দেন তার ৩৭০ তম মৃত্যু বার্ষিকী আর মাত্র ২৩ ঘণ্টা পর। আমি আমার সহযাত্রী সুমনা বিশ্বাসের সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ শেষে আরো জন পনের সহযাত্রী, যারা ডিসকাশন প্রজেক্ট-ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ শাখার বিজ্ঞান কর্মী। সবাই মিলে লঞ্চের ছাদে পৌছালাম টেলিস্কোপ নিয়ে। কুয়াশা কেটে পদ্মার জলরাশিকে পেছনে ফেলে ছুটে চলা আমাদের জলযান যেন সাধারণ কোন জলযান নয় মনে হল এটা
যেন আন্তঃনাক্ষত্রিক শূণ্যতার মধ্য দিয়ে গ্রহথেকে গ্রহান্তরে ছুটে চলা একটা মহাজাগতিক জলযান। সামনে ও পেছনে আসংখ্য আলোক বিন্দুর মধ্যে সবচেয়ে কাছে যাকে দেখা যাচ্ছিল তা কোন ণক্ষত্র নয়। সে আমাদের-ই এক প্রতিবেশী বৃহস্পতি। গন্তব্য সুন্দরবন হলেও ঐ মূহুর্তে আমার মনে হচ্ছিল আমরা বৃহস্পতির দিকেই যেন ছুটে চলছি। স্তব্ধ-নিরবতার মধ্যে একটা মাত্র শব্দ কানে ভেসে আসছে আর তা ইঞ্জিন রুম থেকে আসছে। এর বাইরে আমাদের আলোচনার শব্দ। কর্মীদের প্রশিক্ষণ পালা শেষ করলাম। মাঝেমধ্যে লঞ্চের তলা ডুবোচরে ঠেকে গেলে লঞ্চের গতির হেরফের হয়। আর আমরাও জড়তার কারনে সামনে পেছনে ঝুকে যাচ্ছিলাম।
মহাকর্ষীয় বলের আবিষ্কারক স্যার নিউটনের আগে এ ব্যাপার টার ব্যাখ্যা কেউই দিতে পরেন নাই। নানা আলোচনা আর ণক্ষত্র পর্যবেক্ষণের মধ্যদিয়ে প্রকৃতির সবুজের পরিবর্তে সকলের মন ছুটে চলেছে আন্তঃনাক্ষত্রিক শূণ্যতার পর ঐ ণক্ষত্রে যেখানে আমাদের গঠণকারী মৌল গুলো উৎপন্ন হয়। এই ণক্ষত্র গুলোই যে বার বার আমাদের ডাকে। আমাদের অবচেতন মন বার বার সেখানেই ছুটে যেতে চায়, যেখানে তার জন্ম হয়ে ছিল। আর আমরা যে ঐ নক্ষত্রের-ই সন্তান। কেমন একটা ঘোরের মধ্যদিয়ে বয়ে যচ্ছিল। মহাকালকে মনে হচ্ছিল থমকে দাড়িয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস ভাঙল হাতের রেডিয়ামে ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে। আবাক হবার পালা, আরে! চারটা, বাজল কখন? সকলকে বিদায় জানিয়ে সুমনা দিদির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শয়ন কক্ষে এসে কখন য়ে ঘুমিয়ে পড়লাম? টেরও পেলামনা।
ঘুম ভাঙল সবচেয়ে কাছের মহাজাগতিক আলোক পিণ্ড সূর্যের ডাকে। ঘুম ভাঙ্গার সাথে যেন রাতের সে স্বপ্নও ভেঙ্গে গেল। একদিকে স্বপ্ন ভেঙ্গে বাস্তবে ফেরার হতাশা আর অন্যদিকে নদীর বুকে সূর্য রশ্মির জেগে ওঠার অপার সৌন্দর্য্য।

(দুই পর্বর লেখার প্রথমটা)

লেখাটা মোবাইল থেকে পোষ্ট করা। লেখাটার পুরুটা এক সাথে পোষ্ট করা যাচ্ছে না বলে দুইভাগ করতে হল। এক্ষুণি দ্বিতীয়টাও পোষ্ট করছি।

৪ thoughts on “গন্তব্য সুন্দরবন নয়, নক্ষত্র আকাশ পর্ব-১

  1. লেখাটা মিস করেছিলাম। চমৎকার
    লেখাটা মিস করেছিলাম। চমৎকার লাগলো। দ্বিতীয় পর্ব এখনই এতো রাত হলেও পড়ার লোভ সামলাতে পারছি না। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *