শুধু নিতে নয়, আমরা দিতেও জানি…

বাঙালী নাকি ভিক্ষুকের জাতি! আমার বাবা দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী ছিলেন। তার মুখে শুনেছি “ওরা” নাকি বাঙালীদের সব সময় ভিক্ষুক হিসেবেই ট্রীট করতো। ওদের দেশের একটা পোষা কুকুরকে যতটা মূল্যায়ন করতো ততটা মূল্যায়ন বাঙালী (তথা দক্ষিণ এশীয়)দের করতো না! পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের চোখেই বাঙালীরা ভিক্ষুক সমতুল্য…


বাঙালী নাকি ভিক্ষুকের জাতি! আমার বাবা দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী ছিলেন। তার মুখে শুনেছি “ওরা” নাকি বাঙালীদের সব সময় ভিক্ষুক হিসেবেই ট্রীট করতো। ওদের দেশের একটা পোষা কুকুরকে যতটা মূল্যায়ন করতো ততটা মূল্যায়ন বাঙালী (তথা দক্ষিণ এশীয়)দের করতো না! পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের চোখেই বাঙালীরা ভিক্ষুক সমতুল্য…

কথাটা তিক্ত শোনালেও অনেকাংশেই সত্য। বিদেশী সাহায্য ছাড়া আমাদের দেশের বড় কোন উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হয় না। সেই অর্থে আমরা ভিক্ষুকই বটে! এরচেয়েও দুঃখজনক হলো আমাদের এয়ারপোর্ট… সেখানে বিদেশ থেকে এসে কেউ ল্যান্ড করে গাড়িতে ওঠা পর্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে যায় ভিক্ষুকের যন্ত্রণায়! ইংরেজি ভাষায় তারা ডলার ভিক্ষা করে! একটা দেশে প্রবেশের সাথে সাথে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের এমন বিশ্রী অবস্থা দেখে যে কারো পক্ষেই এমন মন্তব্য করা অযৌক্তিক হবে না। তারপরে শহরের প্রতিটি রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে ফুটপাত, ওভার ব্রীজ, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট, পার্ক… কোথায় নেই ভিক্ষুক? এমনকি মুসলিম প্রধান এই দেশের সবগুলো মসজিদ-মাদ্রাসা পর্যন্ত চলে জনগণের দানের টাকায়! এতোসব দেখে দেখে আর অস্বীকার করার উপায় থাকে না আমরা ভিক্ষুক নই!

এদের কেউ কেউ ভিক্ষা করে পেটের দায়ে, কারো জন্য রিতিমত ব্যবসা! তবে একেবারেই অন্যের জন্যেও করে কেউ কেউ…
যেমন আজকে স্যুটেড-বুটেড হয়ে আমরা কয়েকজন “হ্যান্ডস টুগেদার”(https://www.facebook.com/Handstogetherbd)-এর পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করে এলাম! ফ্ল্যাট বাসার দরজায় নক করে করে সবাইকে বলে এলাম- আমরা কিছু দরিদ্র-শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমাদেরকে সাহায্য করুন নগদ অর্থ কিংবা পুরনো কাপড় দিয়ে…
https://www.facebook.com/events/629553967083364/
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- তারা কেউই নেহাত খালি হাতে ফেরায়নি আমাদের! পথে-ঘাটে ভিক্ষুক দেখে দেখে চোখ পঁচে যাওয়া এই শহুরে লোকগুলো তবুও দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের… কেউ কেউ জানিয়েছে অভিনন্দন, করেছে দোয়াও! নেহাতই যার দেবার কিছু ছিল না, কিংবা দিয়ে ফেলেছে অন্য কাউকে আগেই- তারাও আমাদের সাথে করেছে বিনীত ব্যবহার।

ভিক্ষুকের দেশের বাসিন্দা হয়ে ভিক্ষা করেও আজ তাই বুকে আনন্দ নিয়ে বলতে পারি- আমরা শুধু ভিক্ষা করতে শিখিনি, প্রয়োজনে দিতেও শিখেছি! জাতিসংঘ মিশনে গিয়ে আমাদের সেনা বাহিনী প্রমাণ করেছে- আর্ত মানবতার সেবায় এই বাঙ্গালীরাই সেরা! ভিক্ষুক বলে আমাদের কেউ গাল দেয় দিক, কোন দুঃখ নেই। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত এই দেশটাতে আমরাই প্রমান করবো- এই ভিখারি জাতির মনে যতটুকু মমতা আছে মানবতার জন্য, ততটা আর কারো নেই…

আমি বাঙালী, এন্ড আই এম প্রাউড টু বি এ “বাঙালী”!!!

৯ thoughts on “শুধু নিতে নয়, আমরা দিতেও জানি…

  1. চমৎকার। এই একটা শব্দ আর
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: চমৎকার। এই একটা শব্দ আর কয়েকটি ইমো ছাড়া কিছু বলতে পারছি নাহ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *