দশম জাতীয় নির্বাচন : একটি পর্যবেক্ষন ও আগাম কিছু দাবী

যখন হাইস্কুলে পড়তাম তখন বিভিন্ন পত্রিকার রম্য ম্যাগাজিন পড়ার বেশ আগ্রহ ছিল ।নিজে পত্রিকা কিনে তো পড়তামই, বন্ধুদের বাড়ী থেকেও খোজ করে রম্য ম্যাগাজিন এনে খুটিয়ে খুটিয়ে পড়তাম ।বিশেষ করে কার্টুন অঙ্কিত পরিচিত রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন কোটেশন বেশ মজা লাগতো ।তেমনি একদিন যুগান্তর পত্রিকার রম্য ম্যাগাজিনে একটা অঙ্কিত কার্টুন দেখেছিলাম ।যেখানে একটি চিত্রে মুখোমুখি চেয়ারে বসা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া ।দুজনের মাঝখানে একটি টেবিল, টেবিলের উপর একটি পানির গ্লাস রাখা এবং গ্লাসটির অর্ধেক পানিতে ভরা ।তো মন্তব্য অংশে দুজনের মধ্যে একজন বলছেন গ্লাসটি সম্পূর্ণ পানি ভর্তি এবং আরেকজন বলছেন গ্লাসটি সম্পূর্ণ খালি!

যখন হাইস্কুলে পড়তাম তখন বিভিন্ন পত্রিকার রম্য ম্যাগাজিন পড়ার বেশ আগ্রহ ছিল ।নিজে পত্রিকা কিনে তো পড়তামই, বন্ধুদের বাড়ী থেকেও খোজ করে রম্য ম্যাগাজিন এনে খুটিয়ে খুটিয়ে পড়তাম ।বিশেষ করে কার্টুন অঙ্কিত পরিচিত রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন কোটেশন বেশ মজা লাগতো ।তেমনি একদিন যুগান্তর পত্রিকার রম্য ম্যাগাজিনে একটা অঙ্কিত কার্টুন দেখেছিলাম ।যেখানে একটি চিত্রে মুখোমুখি চেয়ারে বসা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া ।দুজনের মাঝখানে একটি টেবিল, টেবিলের উপর একটি পানির গ্লাস রাখা এবং গ্লাসটির অর্ধেক পানিতে ভরা ।তো মন্তব্য অংশে দুজনের মধ্যে একজন বলছেন গ্লাসটি সম্পূর্ণ পানি ভর্তি এবং আরেকজন বলছেন গ্লাসটি সম্পূর্ণ খালি!
যেখানে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে গ্লাসটিতে অর্ধেক পানি ভরা কিন্তু দুজনের মধ্যে কেউই প্রকৃত সত্যটি অর্থ্যাৎ গ্লাসটি অর্ধেক পানিভর্তি বলতে রাজি নন ।তারা কেউ বলছেন সম্পূর্ণ খালি আবার কেউ বলছেন সম্পূর্ণ ভরা!

অনেক চড়াই-উৎরাই, অনিশ্চয়তা ও সহিংসতার পর অনুষ্টিত হয়েছে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ।প্রধান বিরুধীদল সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ না নেয়া, এরশাদের বেঈমানী, জামাত-শিবিরের হামলার ভয় ইত্যাদি কারনে নির্বাচনের আগেই প্রার্থী সংকট দেখা দেয়ায় বিনা ভোটেই ১৫৩টি আসনের ফলাফল নির্বাচনের পূর্বেই নির্দিষ্ট হয়ে যায় ।ফলে নামে জাতীয় নির্বাচন হলেও সারা দেশে কোন নির্বাচনী আমেজ ছিল না ।যে কয়টি এলাকায় নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে সেসব এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, বোমাবাজির কারনে নির্বাচনী আমেজ কিছুটা থাকলেও ভোট কেন্দ্রে ভোটারের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্বীপনা লক্ষ করা যায়নি, ভোটার উপস্থিতিও কাঙ্খিত পরিমানে ঘটেনি ।কিছু কিছু কেন্দ্রে(যেসব কেন্দ্রে বোমাবাজি বা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি)আবার যতেষ্ট ভোটার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে ।
৫ই জানুয়ারী এই পোষ্টটি যখন লিখছি তখন পর্যন্ত সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত বাদে মোট ২১জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং প্রায় ৫৪০টি কেন্দ্রের ভোটাভুটি স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে ।১৪৭টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে ।

নির্বাচন শেষে সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, পর্যবেক্ষকগন সাংবাদিকদের সামনে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন ।যেখানে দেখা যাচ্ছে…
>সরকার বলছে, “নির্বাচন সুষ্টু ও সুন্দর হয়েছে”!
>আওয়ামীলীগ বলছে, “নির্বাচন সুষ্টুভাবে অনুষ্টিত হয়েছে ।জনগণ স্বতস্ফুর্ত অংশ নিয়েছে”!
>নির্বাচন কমিশন বলছে, “দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্টু ও সুন্দর হয়েছে ।কোথাও কোন কারচুপি হয়নি, ৯৭শতাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ”!
>বিদেশী পর্যবেক্ষক বলছে, “নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হয়েছে, দু একটি কেন্দ্র ছাড়া ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি”!
>বিরুধী পক্ষ(জামাত-বিএনপি সহ নির্বাচন বর্জনকারী সকল দল)বলছে, “জনগণ নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে”!

পাঠক, প্রথমে বলা রম্য গল্পটি, পরে উল্লেখিত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের মন্তব্য অংশটি পড়ে থাকলে নিশ্চই অনুমান করতে পেরেছেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি?

আমরা কেউই বোকা নই ।ডিজিটাল যুগ ও মিডিয়ার কল্যানে এখন ঘরে বসেই সারা দেশের বাস্তব চিত্র মোটামুটি অবলোকন করা যায় ।তাছাড়া সত্য কখনো চাপা থাকে না ।সত্যকে মিথ্যা দিয়ে যতই চাপা দেয়া হোক না কেন সত্য তার আলো ছড়াবেই।
নির্বাচন শতভাগ সুষ্টু হয়েছে এই দাবী যেমন গ্রহণযোগ্য নয় তেমনি ব্যাপক কারচুপি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এই দাবীও সত্য নয় ।অন্যদিকে জনতার স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল এই দাবী যেমন সত্য নয় তেমনি জনগণ নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে এই দাবীও সবৈর্ব মিথ্যা ।
স্বাভাবিক পর্যবেক্ষনে যে বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে তা হল, দেশের মানুষ নির্বাচন চায় ।আওয়ামীলীগ তথা সরকারের উপর মানুষ অনেকটা নাখোশ হলেও হরতাল-অবরোধ ডেকে, বোমাবাজি করে এবং ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা করে জনগনের নির্বাচনে অংশগ্রহনকে বাধাগ্রস্ত না করলে জামাত-বিএনপি বিহীন নির্বাচনেও জনগণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকতো এবং মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গমন করতো ।
একথা ঠিক যে, ১০ম জাতীয় নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্খার পুরো বাস্তবায়ন ঘটেনি ।তবে যারা মনে প্রাণে বাংলাদেশকে চায় তাদের সবারই প্রত্যাশা ছিল যেভাবেই হোক নির্বাচনটা হয়ে যাক ।কেননা সাংবিধানিক সংকট কাটাতে নির্বাচন অপরিহার্য ছিল ।তাছাড়া এই নির্বাচন সংগঠিত না হলে পরবর্তী নির্বাচন নিয়েও একটা ধোয়াশার সৃষ্টি হত ।দেশে সামরিক সরকারের আবির্ভাবও অসম্ভব ছিল না ।

আইন ও সাংবিধানিকভাবে ১০ম জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা থাকলেও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যতেষ্ট প্রশ্নের উদ্রেক করে ।বিশেষ করে বিনা ভোটে অর্ধেকেরও বেশী আসনের ফল নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় এই নির্বাচন বস্তুত গ্রহণযোগ্যতাকে অনেকাংশে দূর্বল করে দিয়েছে ।
তবুও আইন ও সংবিধানের উপর সম্মান রেখে ১০ম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানাই ।
নবনির্বাচিত সরকারের কাছে আগাম কয়েকটি দাবীও জানাইলাম…
>সব পক্ষের লোকদের নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করুন ।মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদে সৎ ও যোগ্যদের নিয়োগ দিন ।
>কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন ।
>যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ দ্রুত সম্পাদনের ব্যবস্থা নিন ।
>জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করুন ।
>আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার একটা স্থায়ী সমাধান করুন ।
>ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ।
>নির্বাচনপূর্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া কথা অনুসারে বিরুধী পক্ষের সাথে আলোচনায় বসুন এবং যত দ্রুত সম্ভব সহিংসতা বিহীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্টান আয়োজনের ব্যবস্থা নিন।
জামাত ছাড়া বিএনপি আলোচনায় না এলে বিএনপি ছাড়াও অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতঃ ১১তম নির্বাচন অনুষ্টানের আয়োজন করুন ।
>সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন ।

বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।
জয় বাংলা ।

১০ thoughts on “দশম জাতীয় নির্বাচন : একটি পর্যবেক্ষন ও আগাম কিছু দাবী

    1. এই মুহূর্তে প্রভাবশালী প্রায়
      এই মুহূর্তে প্রভাবশালী প্রায় সবগুলো দেশ বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়েছে… নির্বাচনের পর্যবেক্ষণের জন্য পরিদর্শক কিংবা পর্যবেক্ষক কি এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু?? :চিন্তায়আছি:

  1. মাত্র পাঁচ ভাগ ভোটার ভোট
    মাত্র পাঁচ ভাগ ভোটার ভোট দিছে। তারপরও এই নির্বাচনের এই জারজ সরকারের সাফাই গান কেমনে!? পোস্টে সুশীলতা দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু ঠিকঠাক পারেন নাই। পরবর্তীতে আরো ভালোমত লিখবেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ডেসটিনি ভাই।

    1. কিন্তু আপনি আপনার শুষিল পুটুঁ
      কিন্তু আপনি আপনার শুষিল পুটুঁ উন্মুক্ত করে চমেতকার নৃত্য করতে গিয়া আপ্নের পিছে থাকা লেঞ্জাখানা বের করে ফেলছেন যে… এখন তো কিচ্ছু করার নাই… পুটুঁ মারা খেতে হবে… :এখানেআয়: :ক্ষেপছি:

  2. পৃথিবীর বহুদেশের নির্বাচনে
    পৃথিবীর বহুদেশের নির্বাচনে কোনও পর্যবেক্ষক দরকার হয় না, তারা আমন্ত্রন ও জানান না ! আর বাংলাদেশের নির্বাচনে যদি শতকরা পাঁচ ভাগ কিম্বা পচানব্বই ভাই ভোট পড়ুক খুব বেশী কিছু যায় আসে কি ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *