‘অবাধ’ , ‘সুষ্ঠু’ ও ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন, ৫ই জানুয়ারি, ২০১৪

আওয়ামীলীগ এর দাবি আজকের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে…

শব্দ তিনটি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করি।

প্রথমে আসি অবাধ নির্বাচন নিয়ে।
অবাধ অর্থাৎ বাধাহীন। মানে ভোটারদের ভোট দিতে কেউকে কোন বাধা পেতে হয় নি।
এখন, বিএনপিসহ ১৮ দল ভোট বর্জন করেছে। সো তারা এই ভোট দিতে আসে নি বিধায় গোনার বাইরে। কিন্তু বিএনপিসহ আঠারো ভোট প্রতিহত করার লক্ষ্যে হরতাল-অবরোধ ডেকেছিল।
৭১ চ্যানেল এ যশোরের মণিরামপুর এর খবর দেখছিলাম। ভোট কেন্দ্রে হামলা তো হয়েছেই তার সাথে ওই এলাকার আওয়ামীপন্থিদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসা হয়েছে। ফলে অনেকে ভোট কেন্দ্রে এসে উঁকিঝুঁকি মেরে গেলেও ভোট দেবার সাহস পান নি।

আওয়ামীলীগ এর দাবি আজকের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে…

শব্দ তিনটি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করি।

প্রথমে আসি অবাধ নির্বাচন নিয়ে।
অবাধ অর্থাৎ বাধাহীন। মানে ভোটারদের ভোট দিতে কেউকে কোন বাধা পেতে হয় নি।
এখন, বিএনপিসহ ১৮ দল ভোট বর্জন করেছে। সো তারা এই ভোট দিতে আসে নি বিধায় গোনার বাইরে। কিন্তু বিএনপিসহ আঠারো ভোট প্রতিহত করার লক্ষ্যে হরতাল-অবরোধ ডেকেছিল।
৭১ চ্যানেল এ যশোরের মণিরামপুর এর খবর দেখছিলাম। ভোট কেন্দ্রে হামলা তো হয়েছেই তার সাথে ওই এলাকার আওয়ামীপন্থিদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসা হয়েছে। ফলে অনেকে ভোট কেন্দ্রে এসে উঁকিঝুঁকি মেরে গেলেও ভোট দেবার সাহস পান নি।
অর্থাৎ খোদ আওয়ামীলীগার রাই বাধার মুখে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেনি।
এইতো গেল এক দিক।
ওইদিকে আবার বরিশাল ২ আসনে (উজিরপুর – বানারীপাড়া) লীগের সন্ত্রাসীরা সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ধারেকাছেই ঘেষতে দেননি, পাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতে যান।

তবুও নির্বাচন অবাধ হয়েছে।

এরপরের ট্যাগলাইন সুষ্ঠু নির্বাচন ।
সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে আমি আমার স্বল্প জ্ঞানে যেটুকু বুঝি তা হলো, সঠিকভাবে যার যার ভোট সে সে ই দিয়েছেন।
এখন কথা হলো সারাদিন ই বিভিন্ন চ্যানেল মারফত ভোটকেন্দ্রগুলোর দিকে চোখ রাখছিলাম। বলাই বাহুল্য উপস্থিতি।খুবই কম ছিল। এমনকি ঝাঁকাঝাঁকি তত্ত্বের জনক বিশিষ্ট মখা সাহেব তো বলেই ফেলছিলেন শীতের জন্য মানুষ ভোট দিতে আসে নি।
দুপুরের পরও তেমন লোক সমাগম চোখে পড়ল না।
কিন্তু ভোট কাস্টিং এর সময় হঠাৎ দেখা গেল প্রতি কেন্দ্রেই মিনিমাম ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ছে। এমনকি কয়েক স্থানে তারও অনেক বেশি।
আর যাই বলেন এই ভোটগুলা সব সুষ্ঠু ভাবে আসছে মানে স্ব স্ব ভোটার নিজেরা দিয়ে কাস্ট হইছে তা বইলেন না।
দৈনিক কালের কন্ঠের একটা খবরের কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি

//তখন সকাল ৯টা। ১০০ গজ
দূরে আউলিয়াপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানা গেছে ওই
ভোটকেন্দ্রে এক হাজার ৯৮৭ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র তিনটি। সর্বশেষ বিকেল ৪টায় ওই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২৫৯টি। দুর্বল প্রচারণা এবং সব দলের
অংশগ্রহণ না থাকায় পটুয়াখালী-১ ও ৩ আসনের কম ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ
সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে পটুয়াখালী-১ আসনের
কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারশূন্য দৃশ্য দেখা গেছে। কোনো কেন্দ্রেই ভোটারদের
লাইন ছিল না। দু-একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজনকে এসে ভোট দিতে দেখা গেছে। সকাল
৮টা ৩০ মিনিটে শহরের পশ্চিম কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই
হাজার ৭৪৪ ভোটারের মধ্যে ভোট
পড়েছে মাত্র চারটি। সকাল ১০টায় আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভোটকেন্দ্রে দুই হাজার ২২৭
ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৫০টি।
সেহকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
ভোটকেন্দ্রে চার হাজার ১২২ ভোটের মধ্যে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ভোট পড়েছে ২৬০টি।
পটুয়াখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে দুই হাজার ৭৮ ভোটের মধ্যে ২৮৯টি ভোট
পড়েছে। দুপুর ১২টা ১মিনিটে পাওয়ার হাউস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা দুই হাজার ৫৩৫ ভোটের মধ্যে ২০৩টি ভোট দিয়েছেন।
১২টা ১৭ মিনিটে উত্তর কালিকাপুর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ভোটকেন্দ্রে তিন হাজার ৬৩৩ ভোটারের মধ্যে ১৭৩ ভোট দিয়েছেন ভোটার।
দুপুর ১২টা ৪২ মিনিটে কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই হাজার ২১৬ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৬৫০টি। এদিকে,
দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে পটুয়াখালী-১ আসনের
দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির চিত্রও
একই রকম। জানা গেছে ওই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন
হাওলাদার। //
(http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2014/01/05/38450)

এবার দেখুন, পটুয়াখালী-১ আসনের ১৪৪টি কেন্দ্রের ১১৪টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন
হাওলাদার। তিনি পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৫৮৯ ভোট।
তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৯২ ভোট।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মো. হাবিবুর রহমান শওকত পেয়েছেন ১১ হাজার হাজার ৯৩ ভোট ।
(http://www.banglanews24.com/m/detailnews2.php?nid=254386&cid=15)

হঠাৎ এতো ভোট কে দিয়ে গেল !!
যাক, নির্বাচন কিন্তু সুষ্ঠু হইছে।

তবে সর্বশেষ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এব্যাপারে আমার কোনই দ্বিমত নাই। আরে ভাই, দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই আগেই ১৫৩টা আসন পাইয়া আছেন। বাকি আসনও নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হবে। পক্ষপাতিত্ব এর কি আছে? আমরা আমরাইতো…

২ thoughts on “‘অবাধ’ , ‘সুষ্ঠু’ ও ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন, ৫ই জানুয়ারি, ২০১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *