‘বুদ্ধিবেশ্যা’ প্রথম আলো -০১

প্রথম আলোতে কি ইংরেজি জানা মানুষের সংখ্যা কম? তারা কি গণঅভ্যুত্থান আর গৃহযুদ্ধ শব্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝে না? এটা অন্তত কেউ বিশ্বাস করবে না। আর যদি প্রথম আলোতে ইংরেজি জানা লোক না থাকে তাহলে শিগগির সেখানে কিছু ইংরেজি জানা শিক্ষিত মানুষকে নিয়োগ দেয়া উচিত।

তবে বিষয়টি একদমই তা নয়। সেখানে খটমট ইংরেজি জানা লোকের সংখ্যাও কম নয়। মূল বিষয়টি হলো প্রথম আলোর একটি রাজনীতি আছে। তা হলো দেশের অস্থিতিশীল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশীদের ডেকে এনে দেশটাকে সিকিম-বায়াফ্রা বানানো। সর্বশেষ নজির ফরেন পলিসির পত্রিকাটির খবর নিজেদের মত করে অনুবাদ করে সেই পুরানো রাজনীতির পথেই হেটেছে তারা।

প্রথম আলোতে কি ইংরেজি জানা মানুষের সংখ্যা কম? তারা কি গণঅভ্যুত্থান আর গৃহযুদ্ধ শব্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝে না? এটা অন্তত কেউ বিশ্বাস করবে না। আর যদি প্রথম আলোতে ইংরেজি জানা লোক না থাকে তাহলে শিগগির সেখানে কিছু ইংরেজি জানা শিক্ষিত মানুষকে নিয়োগ দেয়া উচিত।

তবে বিষয়টি একদমই তা নয়। সেখানে খটমট ইংরেজি জানা লোকের সংখ্যাও কম নয়। মূল বিষয়টি হলো প্রথম আলোর একটি রাজনীতি আছে। তা হলো দেশের অস্থিতিশীল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশীদের ডেকে এনে দেশটাকে সিকিম-বায়াফ্রা বানানো। সর্বশেষ নজির ফরেন পলিসির পত্রিকাটির খবর নিজেদের মত করে অনুবাদ করে সেই পুরানো রাজনীতির পথেই হেটেছে তারা।
প্রথম আলোর হাতে যদি থাকে দেশ, পথ খুঁজে পাবে না বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী “ ফরেন পলিসি” গত ৩০ ডিসেম্বর ‘নেক্সট ইয়ার্স ওয়ারর্স/ ফ্রম সোচি টু সুদান, টেন কনফ্লিক্টস দ্যাট উইল থ্রেটেন গ্লোবাল স্ট্যাবিলিটি ইন ২০১৪’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে যে সকল দেশ বা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে- সিরিয়া এবং লেবানন, ইরাক, লিবিয়া, হন্ডুরাস, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, সুদান, সাহেল এবং উত্তর নাইজেরিয়া, বাংলাদেশ, সেন্ট্রাল এশিয়া, সচি।
এই রিপোর্টে বাংলাদেশ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার একটি তালিকা দিচ্ছিঃ

১।প্রতিবেদনটির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে দেখানো হয়েছে যে,এই তালিকায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, হন্ডুরাস, লিবিয়া, উত্তর ককেশাসের মত বাংলাদেশের নামও প্রথম এসেছে।

২। প্রতিবেদনটির নবম অনুচ্ছেদে দেখানো হয়েছে ঠিক কোন কারণগুলো এই অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী। সেখানে মধ্য আমেরিকায় সুসংগঠিত অপরাধ, উত্তর ককেশাসে অভ্যুত্থানের সমূহ সম্ভাবনা, লেবানন বা সাহেলে আঞ্চলিক সংঘাতের দামামার সাথে বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কঠিন চাপের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

৩। এই প্রতিবেদনের বাংলাদেশ নামক অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে-
বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে প্রবেশ করছে। বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসন এবং তামাশার নির্বাচনের অভিযোগ এনে জানুয়ারীর নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। এই বয়কট সমস্যাকে আরো ঘনীভূত করবে এবং রাজনৈতিক সংঘাত বাড়াবে। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের রূপরেখা ছাড়া শুধুমাত্র নির্বাচন স্থগিতই সমস্যার সমাধান হতে পারে না বলে মত দিয়েছেন অনেকেই। গত দুই বছর ধরে সরকার কর্তৃক ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ভুল(!) বিচার করে আসছে। এখন পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের নাগরিকদেরই বিচার করা হয়েছে , পাকিস্তানি মিলিটারির কেউ নেই। বি এন পি এবং ইসলামপন্থী জামাতে ইসলামের ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড মৌলবাদী বনাম ধর্মনিরপেক্ষ দুই ভাগ তৈরি করেছে এবং প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের গজিয়ে ওঠার বাপারে উস্কানী দিয়েছে। সামরিক বাহিনী ৩০ বারের মত সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে এবং প্রায় এক- পঞ্চমাংশবার সফল হয়েছে। সেই সেনাবাহিনী আজও ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যায়।

প্রথম আলোর অনলাইন ডেস্ক এই রিপোর্টের বরাত দিয়ে শিরোনাম করেছে “গৃহযুদ্ধের মুখে বাংলাদেশ।”
মূল প্রতিবেদনে কোথাও গৃহযুদ্ধের কথা বলা হয়নি। তাহলে কি প্রথম আলো ভুল করেছে? না, প্রথম আলো এটা করেছে ইচ্ছাকৃতভাবেই। যদিও প্রতিবেদনের শিরোনাম “ নেক্সট ইয়ার’স ওয়্যার” তবুও প্রতিবেদনের কোথাও বাংলাদেশে কোন যুদ্ধের কথা আসেনি। তবে কি প্রথম আলো শুধুমাত্র শিরোনাম দেখে তাদের শিরোনাম করেছে, বিষয়টি কিন্তু একেবারেই তা নয়। প্রথম আলো এটি করেছে সচেতনভাবেই।
এটা বুঝতে গেলে আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে প্রথম আলোর ইতিহাস ও রাজনীতি(!)। প্রথম আলো প্রকাশ করে ট্রান্সক্রাফট লিমিটেড( ট্রান্সকম)। এই কোম্পানির কাজই হচ্ছে বাংলাদেশে বিদেশি পণ্যের বাজার তৈরির মাধ্যমে বিদেশি পুঁজির অনুপ্রবেশ ঘটানো। শুধু পণ্যেরই নয়, সাম্রাজ্যবাদী চিন্তা ও মতাদর্শের একচেটিয়া বাজার তৈরিতেও এই ট্রান্সকম প্রথম আলোকে ব্যবহার করে চলেছে। আর তাইতো আমেরিকার প্রেসক্রিপশনে যখন সেনা বাহিনীর ছত্র ছায়ায় অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় বসে তখন তাদের পক্ষেই কথা বলেছে প্রথম আলো। তাদের সব কাজই ডিফেন্ড করেছে ধরে ধরে। ডঃ ইউনুসের নাগরিক শক্তি, সামাজিক ব্যবসার পক্ষে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়েছে প্রথম আলো। জরুরী অবস্থার সময় যখন ঘরোয়া রাজনীতিও নিষিদ্ধ ছিল, তখন ডঃ ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী “কিংস পার্টি” গঠন করে ঐ সময়ের সরকারের সকল কাজের বৈধতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। সেই কিংস পার্টির পক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দিয়েছে প্রথম আলো।
হাওয়া বদলের কারণে বাংলাদেশ যখন একটি নির্বাচিত সরকারের মুখ দেখে, প্রথম আলোর গলার স্বরও পরিবর্তিন হতে শুরু করে। এমনকি সেনা শাসনের সময়কার কপি গুলো হাওয়া হতেও শুরু করে। প্রথম আলোর আর্কাইভ ঘাঁটলে সে কপিগুলো আর পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তার পক্ষে গণমাধ্যমগুলো। “ফরেন পলিসি” সেই সাম্রাজ্যবাদী গণমাধ্যমের একটি। সেখানে ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধকে ভুল বলা হয়েছে। কিন্তু প্রথম আলো তারও এক ডিগ্রি উপরে উঠে এসে বাংলাদেশের গৃহযুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে।
কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এর এক ধরনের সমালোচনা করেছে সাম্রাজ্যবাদী গণমাধ্যমগুলো। প্রথম আলো তার “ সুবিধাবাদী” অবস্থানের কারণে সেই সময় “ধরি মাছ, না ছুঁই পানি”। যখনই শাহবাগ আন্দোলনের বিপরীতে ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলাম দাঁড়ায় তখনই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উস্কানি শুরু হয়ে যায়, মুখে খই ফুটে প্রথম আলোর। ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীদের দ্বারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের কাজটি করে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো।
আসলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আই এম এফ , এ ডি বি প্রথম আলোর মুখ দিয়ে জি ডি পি, রেমিটেন্স, প্রবৃদ্ধি এ সকল ‘সুশীল’ মার্কা কথার ধোয়া তুলে তাদের বাজারের স্থায়ীকরণ চায় বাংলাদেশে এবং তাদের পুতুল রাষ্ট্র কাঠামো দিয়ে তাদের স্বার্থ সিদ্ধি করাতে চায়।
আর তাইতো সাম্রাজ্যবাদের পা- চাটা কুকুর, বুদ্ধিবৃত্তিক বেশ্যা মতিউর রহমান তার ‘ প্রতিচিন্তা’ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যমান সকল রাজনৈতিক দর্শন ও শক্তিকে এক বাক্যে খারিজ করেন এবং ‘ তৃতীয় শক্তির’ উত্থান আবশ্যক মনে করেন। কিশোর পত্রিকা “কিশোর আলো” এর মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাজার প্রসারের স্বার্থে একটি রাজনীতি বিমুখ ও উন্নাসিকতায় মগ্ন ভবিষ্যৎ গঠনের দিকে পা বাড়িয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়,প্রথম আলো বন্ধুসভা নামক নামের দিক দিয়ে অরাজনৈতিক কিন্তু চরিত্রগতভাবে ভয়ংকরভাবে রাজনৈতিক একটি সংগঠন দাড় করিয়েছে প্রথম আলো বাংলাদেশের তরুণদের রাজনীতি থেকে ১০০ মাইল দূরে রাখার জন্য।
প্রথম আলোর নতুন স্লোগান “যতদিন তোমাদের হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ” এর মধ্যেও রয়েছে ভয়ংকর রকমের শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রথম আলো বলতে চাইছে, তোমাকে কম বেতনেও কাজ করতে হবে কারণ তুমি কাজ না করলে দেশ জি ডিপি হারাবে, রপ্তানি কমবে। তাই, মালিক শ্রেণীর লাথি গুঁতা খেয়েও তোমাকে কাজ করতেই হবে। প্রতিবাদ করা যাবে না। তুমি কৃষক, তুমি উৎপাদন না করলে দেশ না খেয়ে মরবে। তাই নিজের রক্ত পানি করা ফসল তোমাকে কম দামে মুনাফাখোরী আড়তদারের হাতে তুলে দিতেই হবে, প্রতিবাদ করা যাবে না। বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন কর, প্রতিবাদ কর,কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতা বা রাজনীতির কথা চিন্তাও কর না। লিভ ইন ইউর ফ্যাটাসি। বিন্দাস লাইফ লিড কর।
এভাবে, প্রকারান্তরে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বাজারকে পাকাপোক্ত করাতেই রত প্রথম আলো।
(চলবে)

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় মুক্তকথায়

৮ thoughts on “‘বুদ্ধিবেশ্যা’ প্রথম আলো -০১

  1. প্রথমআলো কে নিয়ে এত বলেছি যে
    প্রথমআলো কে নিয়ে এত বলেছি যে আর বলতে ইচ্ছা হয় না। নিজেরা অসৎ থেকে সারা দুনিয়ার মানুষকে এরা উপদেশ দিয়ে বেড়ায়। আমেরিকার দালাল, পাচাটা পত্রিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *