একটি সুইসাইড নোটের আত্নকাহিনী

আমি সুইসাইড নোট। আমার আলাদা কোন নাম নেই। সবাই এই নামেই ডাকে। যারা আত্নহত্যা করে তারা মরে যাবার ঠিক আগ মুহূর্তে আমাকে লিখে যায়। এজন্যই আমার নাম ‘সুইসাইড নোট’। এভাবে সাধারণ একটি কাগজের
পাতা থেকে আমার জন্ম। আজ আমার জন্ম এক যুবতী মেয়ের হাত থেকে। মেয়েটির নাম লতা। কাগজের শেষে লিখেছে, সেখান থেকে জেনেছি।
মেয়েটি সম্পর্কে আগে একটু বলে নিই।
মেয়েটি দেখতে সুন্দর। চেহারায় মায়াচ্ছন্ন ভাব। চোঁখে ভাসা ভাসা। তবে কান্না করার কারনে ফুলে লাল হয়ে গেছে। আমার উপরেই টুপটুপ
করে চোঁখের পানি ফেলেছে। কান্না করার কারনটা প্রথমে বুঝিনি তবে পরে ধরতে পেরেছি।


আমি সুইসাইড নোট। আমার আলাদা কোন নাম নেই। সবাই এই নামেই ডাকে। যারা আত্নহত্যা করে তারা মরে যাবার ঠিক আগ মুহূর্তে আমাকে লিখে যায়। এজন্যই আমার নাম ‘সুইসাইড নোট’। এভাবে সাধারণ একটি কাগজের
পাতা থেকে আমার জন্ম। আজ আমার জন্ম এক যুবতী মেয়ের হাত থেকে। মেয়েটির নাম লতা। কাগজের শেষে লিখেছে, সেখান থেকে জেনেছি।
মেয়েটি সম্পর্কে আগে একটু বলে নিই।
মেয়েটি দেখতে সুন্দর। চেহারায় মায়াচ্ছন্ন ভাব। চোঁখে ভাসা ভাসা। তবে কান্না করার কারনে ফুলে লাল হয়ে গেছে। আমার উপরেই টুপটুপ
করে চোঁখের পানি ফেলেছে। কান্না করার কারনটা প্রথমে বুঝিনি তবে পরে ধরতে পেরেছি।

মেয়েটা ধোঁকা খেয়েছে। তার প্রিয়তমোর কাছ থেকে। প্রিয়তম’র প্রেমের হিঃস্র
ফাঁদে পা দিয়ে ভুল করেছে। নিজেকে পুরোপুরি বিসর্জিত করেছে। প্রেমের
কালো থাবায় এতোই উন্মত্ত হয়ে গেছে যে রাতের আধারেও গুপ্তপ্রেমের নৈসর্গিক তেঁতো অভিজ্ঞতা নিতে দ্বিধা করে নি। ঐ তোঁতো প্রেমই আজ কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মাঝে ধ্বংসকারী যুবকের বংশধর। এখন যুবক
মেয়েকে গ্রহন করতে নারাজ। তার শিকার খাদ্যে পরিনত হয়ে গেছে।ফুর্তি করা শেষ, এখন আবার কিসের প্রেম। হয়তো পরিবার মানবে না,
সমাজ গ্রহন করবে না, কলঙ্ক নিয়েই
বেঁচে থাকতো হতো সারাটা জীবন ভর। পিতৃহীন সন্তান বড় হয়ে জারজ নামে পরিচিতি পাবে। লতা এতো কলঙ্ক নিয়ে বাঁচতে চাইনি, নিজের
কুকর্মের ফল অন্যরা ভোগ করবে কেন। এর থেকে সহজ পন্থা বেছে নেয়াই শ্রেয়। সেই পন্থা, যেখান থেকে ফেরত আসা যায় না। সেই পন্থা যার শুরু থেকে শেষ যন্ত্রনা কষ্টে ভরা। মৃত্যু….খুব
ধীরে নিজেকে শেষ করে দেয়া। একদম ঠান্ডা মাথায় আত্নহত্যা। যার দায় কেউ থাকবে না, যার দায়
কেউ নিবে না। মেয়েটি সব লিখে রাখলো। যুবকের ধোঁকার কথা, নিজের বোকামীর কথা, জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়ার কথা। আমার মাঝে এর সব
লেখা। শুরু থেকে শেষ।

মেয়েটি আমাকে বন্ধ করে ভাজ করে দিলো। আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না। চারপাশ অন্ধকার। আচ্ছা মেয়েটা কি করছে? সে কি সত্যিই আত্নহত্যা করবে? আমার জানতে ইচ্ছে করছে…খুব জানতে ইচ্ছে করছে।

আমাকে খোলা হলো। চারদিকে মানুষের শোরগোল। আশেপাশে কত মানুষ। লতাকে দেখছি না। হঠাত কেউ
একজন আমাকে ধরলো। হয়তো লতার পরিবারেরই কেউ। লোকটি লতার বাবা হতে পারে। লোকটাক মুখ
কাঁদো কাঁদো। চারদিকে কান্নার রোল। খানিক বাদে পুলিশ আসলো। চারদিকে কত মিডিয়া, কত লাইট, কত মাইক। আমাকে একটি প্লাস্টিকের
ব্যাগে ঢুকানো হলো। আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে, লতার নিঃসর দেহ যাবে ডিএমসিতে। এটুকু বুঝি আমি এখন মোটিভ। লতার আত্নহত্যার মোটিভ !

১০ thoughts on “একটি সুইসাইড নোটের আত্নকাহিনী

  1. লেখনীর ধরণটা চমৎকার। তবে
    লেখনীর ধরণটা চমৎকার। তবে ‘প্রিয়তমো’ কিংবা ‘উন্মোত্ত’ এর মত বানান ভুলগুলো চোখে লাগে। আশা করি ঠিক করে নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *