তবুও আমরাই নাস্তিক … তবুও তারাই ধর্মের ধারক বাহক …

** ভারতীয় পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কয়েকদিন আগে রাজাকারের মানবতার জন্য বিবৃতি দেয়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন, “এই রায় ভারতকে মানবতার দিক দিয়ে আরও এক ধাপ পিছিয়ে দেবে।” তিনি এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। — জামাত এখনও এনার ফাঁসী চাচ্ছেনা কেন ? বাঙ্গালীর ধর্মানুভুতি কই ? বয়রা হয়েছে ?


** ভারতীয় পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কয়েকদিন আগে রাজাকারের মানবতার জন্য বিবৃতি দেয়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন, “এই রায় ভারতকে মানবতার দিক দিয়ে আরও এক ধাপ পিছিয়ে দেবে।” তিনি এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। — জামাত এখনও এনার ফাঁসী চাচ্ছেনা কেন ? বাঙ্গালীর ধর্মানুভুতি কই ? বয়রা হয়েছে ?

** সুদের কারবার করে কেউ শান্তিতে নোবেল পেতে পারে, এইটা দেখে মরতে পারাটাও বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার, ইউনুস সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। এই লোকটা হিলারির সাথে বসে রেড ওয়াইন খায়, দুই পাশে দুই আমেরিকান বেগানা নারীদের কাঁধ জড়িয়ে ধরে ছবি তোলে, সমকামিতা সমর্থন করে। — জামাত/শফি হুজুর এখনও এনার ফাঁসী চাচ্ছেনা কেন ? বাঙ্গালীর ধর্মানুভুতি কই ? ধর্মানুভুতি কানা হয়েছে ?

** বিবি খদিজা

বিবি খদিজার নামে আমি এই পদ্যটি লিখি:
বিসমিল্লাহ কহিব না, শুধু খদিজার নাম নেবো।
প্রভু, অনুমতি দাও। গোস্বা করিও না, একবার
শুধু তাঁর নামে এ পদ্যখানি লিখিব মাবুদ ।
নবীজীর নাম? উঁহু, তার নামও নেবোনা মালিক
শুধু খদিজার নাম- অপরূপ খদিজার নামে
একবার দুনিয়ায় আমি সব নাম ভুলে যাব
তোমাকেও ভুলে যাব ভুলে যাব নবীকে আমার।

উপরের কবিতাটির লেখক ফরহাদ মাযহার একজন স্বঘোষিত নাস্তিক, যিনি বিয়ে ছাড়াই বহু বছর লিভ টুগেদার করেছেন। তিনি জামাতের বুদ্ধিজীবি হয় কি করে ? শফি হুজুর এইসব দেখেনা ? বাঙ্গালীর ধর্মানুভুতি এই জায়গায় বেহুঁশ।

** ভোট/গনতন্ত্রের জন্য জীবন দিলে শহীদ হয়, এই হাদিস জামাত কই থেকে আমদানি করেছে আমি জানিনা। ইসলামে গনতন্ত্র হারাম। জামাত সত্যিকারের ইসলামি দল হলে খিলাফত এর জন্য কাজ করত।

** পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পাল্টানোর ছবি সাইদির জন্য মানব বন্ধন করার ছবি হিসেবে মাহামুদুর রহমান দিলেও শফি হুযুরেরা তার ব্যাপারে একটা বিবৃতি দেয়নি কেন ? শফি হুজুরের চিন্তা একটাই, মেয়েরা ভার্সিটিতে পড়লে আর গার্মেন্টসে কাজ করলেই ইসলাম ধ্বংস হয়ে যায়, বাকী সব জায়েজ।

** কাদের মোল্লা মরার আগে তার ছেলেকে বলেছে তার নাতিকে যেন লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পড়িয়ে আনা হয়। মাদ্রাসার ছেলেরা জীবন দিবে আর তার নাতি ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যাবে কেন ? তার নাতিকে শফি হুজুরের কাছে পাঠাতে বলে নাই কেন ? জামাতের কোন নেতার ছেলে ইসলামি আন্দোলনে রাস্তায় এক বেলার জন্য নেমেছে ?

** কাতারের ওয়াজ মাহফিলে সাহাবীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় কাতারে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাইদী। এই তথ্য গ্রামের কয়জন সাধারণ মানুষ জানে ?
ইসলামে নাম বিকৃত করা হারাম, সাইদি অনেক বার তার সমাবেশে জাহানারা ইমাম কে জাহান্নাম এর ইমাম বলেছেন। এই ধরনের লোক কিভাবে ইসলামি আন্দোলনের নেতা হয় ?
ইসলাম ধর্মমতে রাসুল (সাঃ) সর্বকালের সেরা মানব, তাকে পর্যন্ত চাঁদে দেখা যায়নাই, আর সাইদিকে দেখা গেল ? এইরকম একটা গুজব জামাত ছড়াল। শফি হুজুর এইটা নিয়া কোন বিবৃতি দেয় নাই কেন ? বয়সের সাথে সাথে কি তার ধর্মানুভুতিও ক্ষয় হয়ে গিয়েছে ?
——————————————————————-
যা লিখলাম, সব ফাও খাটনি, বাঙ্গালীর ধর্মানুভুতি অদ্ভুত, জামাত ধর্মের নামে অধর্ম করলেও কারও ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগেনা, এত এত কুকাজ করেও তারাই ধর্মের একমাত্র এজেন্ট। আর আমরা কিছু কইলেই নাস্তিক ট্যাগ খাই আর বোনাস হিসেবে চাপাতির কোপ খাই।

১৫ thoughts on “তবুও আমরাই নাস্তিক … তবুও তারাই ধর্মের ধারক বাহক …

  1. ইস্টিশনে আসার শুরুর দিকেই
    ইস্টিশনে আসার শুরুর দিকেই একটা ব্লগপোস্ট লিখছিলাম, “ধর্মানুভূতির সংজ্ঞা চাই” শিরোনামে। একই টপিকের ওপর।

    আসলে আপনার এই প্রশ্নগুলো যখন সামনে দাড়ায় তখন তাদের ধর্মানুভূতি মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। মামার বাড়ি খেয়ে দেয়ে বাকি সময় সাধারণ কিছুতেও তার হোদল কুতকুত চেহারা দেখা যায।

    এদের মাথায় কাঁঠাল পাতার সার ছাড়া কখনও কিছু ঢোকে নি। ঢুকবে বলেও আশা করা যায় না।

  2. “আমরা কিছু কইলেই নাস্তিক
    “আমরা কিছু কইলেই নাস্তিক ট্যাগ খাই আর বোনাস হিসেবে চাপাতির কোপ খাই।”

    এইটা ভালো বুলেছেন দাদা… তয় ককটেলটা বাদ পড়ছে! পরের বার ঐটাও এড করার জন্য শুপারিশ করা হইলো।
    😛

  3. এইসব বলে কোন লাভ নাই। এদের
    এইসব বলে কোন লাভ নাই। এদের ধর্মানুভুতি গোলাপি শিফন শাড়ির আঁচলে বাঁধা আছে। তাই অন্য কিছুই এদের মাথায় ঢুকবে না।

    1. ঐ মহিলার কোন কাজ করা লাগবো না
      ঐ মহিলার কোন কাজ করা লাগবো না জিকির তুইলাই ভোট পাইব আবার কইব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা। আমাদের তথকথিত শিক্ষিত মানুষের জন্য তাই এই ধরণের নির্বাচনই যথা…
      রাজাকার জন্ম দিতে এবং পালতে যদি বাঙালী ১৬ বছরের স্বৈরশাসন মানতে পারে তবে ঘটনা বুঝার পর রাজাকার নিধনে এইরকম একচেটিয়া গণতান্ত্রিক সরকারের দরকার ৩২ বছর।।

  4. পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ
    পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পাল্টানোর ছবি সাইদির জন্য মানব বন্ধন করার ছবি হিসেবে মাহামুদুর রহমান দিলেও শফি হুযুরেরা তার ব্যাপারে একটা বিবৃতি দেয়নি কেন ?

    :থাম্বসআপ:

  5. কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়
    কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। কিছু সমস্যা অমিমাংসীত। আমরা জানি সবউত্তরই। কিন্তু ঐযে, ধর্মের ব্যপারে সব জানে মসজিদের আষ্ট কেলাশ পাশ দেওয়া ইমাম সাপ। :/
    মাত্র ৩০০০টাকায় বিদ্বা আর বিপুল সংখ্যক টাকার বিনিময়ে ধর্মকে বিক্রিকরে তারা এখন নাস্তিকতা আর আস্তিকতার সার্টিফিকেট বিলিকরে। বাংলাদেশের ইউনিভাসির্টিগুলো বিদ্যার সার্টিফিকেট দেয় আর বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি দেয় ব্যাহেস্তের সার্টিফিকেট। প্রত্যেকটা মসজিদে তাদের শাখা খুলে বসেছে। প্রত্যেকটা শাখা থেকে আস্তিক আর নাস্তিকের সার্টিফিকে দেয়। আমরা এতটাই বোকা অন্ধকার আর গোধোলীকে আলাদা করতে পারি না। যেমনটা পারিনা বিকেল আর সন্ধ্যাকে আলাদা করতে। সত্য আর মিথ্যা বা ভাল আর মন্দ তো আরো দুরের ব্যপার।
    আমার অবাক লাগে এত অজ্ঞতার মাঝেও কিভাবে মানুষ ৭০ একমত হতে পেরেছিল? ৭১এ কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিল? তাহলে কি ৪২ বছর আগে অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষ গুলো আমাদের মত শহুরে শিক্ষিত মানুষ গুলোরচেযেও অধিক জ্ঞানী ছিল? শিক্ষিত ছিল? আমার তাই মনে হয়।
    চিন্তার দাসত্বের মধ্যদিয়ে যেতে যেতে আমরা মুক্ত চিন্তাকে বলি নাস্তিকতা আর দাসী মনোভাবকে বলি আস্তিকতা। আর আমাদের নিয়ে খেলছেন খেলেরামগন যারা কেউই বড় কোন সুজন নয়।
    অনেক বলে ফেল্লাম। দুঃখীত 🙁

  6. মৌলবাদকে পরাস্ত করতে যে সর্ব
    মৌলবাদকে পরাস্ত করতে যে সর্ব ব্যাপক একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলন দরকার তার আয়োজন না করা পর্যন্ত এরকম অসংখ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবেই।আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ ধর্ম পালন করে ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে।কিন্তু মগজে-মননে কট্টরতার সুস্পষ্ট ছাপ।সে ছাপ মুছবে কেমন করে?জ্ঞান ও যুক্তির আলোর যেখানে প্রসারণ দরকার সেখানে আমাদের শিক্ষানীতি মৌলবাদের সাথে আপস করে প্রি-প্রাইমারি এডুকেশনের নামে ধর্মীয় উপাসনালয় ভিত্তিক শিশুশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।তিন-চার বছর সময়কালের মধ্যেই শিশুর মনন কাঠামোর ভিতটা তৈরি হয়।অথচ এই স্পর্শকাতর সময়টাতেই শিশু মননে আমরা বিভেদের দেয়াল তুলে দিচ্ছি।ফলে আগামী দিনে জাতিকে পথ দেখাবে যে নাগরিক অঙ্কুরেই তাকে সমাজের মানুষ হতে না দিয়ে বানিয়ে দিচ্ছি নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের মানুষ।

  7. জী ভাই, এখানে মৌলবাদই
    জী ভাই, এখানে মৌলবাদই ধর্মানুভুতি , এর বিপক্ষে কিছু বলতে যাবেন নাস্তিক ট্যাগ খাবেন, চাপাতির কোপ খাবেন।
    ইহাই সহি ধর্মানুভুতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *