অপরিচিতা

মেয়েটা পাশের ঘরে শুয়ে আছে এই কথা আমার কানে আসার পর আমি আর স্থির নেই। সত্যি সত্যি শালারা মেসে মেয়ে এনে তুলছে। এমনি এমনি সাদিরে বলছিলাম যে আমি কুনোদিন কোন মেয়ের সাথে শুইনাই এই কথা শুনার পরেই সাদি কইছিল এই শহরের সেরা মেয়েরে নিয়া আসবে। ঠিক তাই নিয়ে আসছে। বেয়াদব কোথাকার!

মন বলছে যাই আবার ভাবছি না থাক যামুনা। মেসে আরও কিছু পাবলিক উপস্থিত তারা দাত কিলবিলায়ে হাসতেছিল। আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।

“ওই পারুল এক গ্লাস পানি দে”

পারুল ব্যস্ত কাটাকুটিতে তাই নিজেই রান্নাঘরের দিকে গেলাম। পারুলও দাঁতের ফাঁকেফাঁকে পান চিবানো রশ নিয়ে হাসে।


মেয়েটা পাশের ঘরে শুয়ে আছে এই কথা আমার কানে আসার পর আমি আর স্থির নেই। সত্যি সত্যি শালারা মেসে মেয়ে এনে তুলছে। এমনি এমনি সাদিরে বলছিলাম যে আমি কুনোদিন কোন মেয়ের সাথে শুইনাই এই কথা শুনার পরেই সাদি কইছিল এই শহরের সেরা মেয়েরে নিয়া আসবে। ঠিক তাই নিয়ে আসছে। বেয়াদব কোথাকার!

মন বলছে যাই আবার ভাবছি না থাক যামুনা। মেসে আরও কিছু পাবলিক উপস্থিত তারা দাত কিলবিলায়ে হাসতেছিল। আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।

“ওই পারুল এক গ্লাস পানি দে”

পারুল ব্যস্ত কাটাকুটিতে তাই নিজেই রান্নাঘরের দিকে গেলাম। পারুলও দাঁতের ফাঁকেফাঁকে পান চিবানো রশ নিয়ে হাসে।

“হুনছুননি ভাইজান, ঐ রুমে ফাইন একটা মাইয়া আইছে? সাদি ভাই কইল ঐটা নাকি আপনার ভালোবাসা?”

পারুলের কথা শুনে আর বন্ধুদের একটা কাজের মেয়ের কাছে মিথ্যাবাদী বানাতে ইচ্ছা করলো না। আমি শুধু হ্যা বলে, পানি খেয়ে চলে এলাম।

রানা, খোকন, সাদি ওরা মুখচাওয়া চাওয়ি করে আমার হাতে এক প্যাকেট মুডস ধরিয়ে দিয়ে ইশারায় যেতে বলতে লাগলো অপরিচিত মেয়েটির কাছে। আমি বললাম ‘তোরা বের হ, তোরা মেসে থাকলে এই কাজ আমি করতে পারবো না’।

একরকম জোর করেই ওদের মেস থেকে বের করে দিলাম। নিজের হাতে মেসের দরজা চেক করলাম যে ভালোভাবে লাগানো হইছে কিনা! আরেকবার গেলাম রান্নাঘরে। পারুল নিজেই ফিল্টার থেকে পানি গ্লাসে ভরে দিল।

“ভাইজান, এই মাইয়াতো ভালো না। আপনি এই মাইয়ার সাথে প্রেম করেন বিশ্বাস হইল না। মেলা পুলার লগে টাউন দিয়া রিক্সায় আমি একে ঘুরতে দেখছি”

আমি পারুলের কথার জবাব না দিয়ে মেয়েটার কাছে চলে গেলাম। রুমের দরজা লাগালাম। বিছানায় মেয়েটি বসে সিগেরেট খাচ্ছিলো। প্রথম দেখাতে আমি চিনতে পারলাম যে অপরিচিতার নাম বন্যা। শহরের সেরা সুন্দরী।

সেবার সাথী সিনেমাহলে গিয়েছিলাম ঈদের ছবি দেখতে। বন্যাদের বাসার সামনেই সিনেমাহল। আমি দোতলা থেকে ওকে দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলাম। তারপর দীর্ঘ ছয়মাস এই মেয়েটিকে বুঝাতে চেয়েছিলাম আমি ওকে পছন্দ করি কিন্তু সে পাত্তা দেয়নি। একদিন বৃষ্টিতে সন্ধ্যায় কলেজমোড়ের স্টুডিওর সামনে ওকে দেখে আমি মাঝরাস্তায় নেমে যাই। ভিজতে ভিজতে ওর সামনে গিয়ে বলি ‘ভালোবাসি’, তখন ওর পাশে আমি জায়গা পাইনি। স্টুডিও মালিক রতনের সাথে ওর প্রেম ছিল।

“কেমন আছো?”
-তোমার কাছে এক্সট্রা সিগেরেট হবে?
“তুমি ইচ্ছা করে আমাকে এনেছো?’
-আগুনটা দাও
“আমি কিন্তু স্বপ্নেও ভাবিনি তুমি এই কাজ করবে”
-কাপড় খুলো
“আগে কথা শেষ করো, তাড়াহুড়োর কিছুই নেই”
-কাপড় খুলতে বলছি, খুলো
“আমি তোমার সামনে পারবো না”
-আমার হাতে সময় নেই
“তাহলে চুপ করে, স্থির হও। কাঁপছ কেন?”

আমি স্থির থাকতে পারছিলামনা। মনের ভেতরেই যার জন্য, যাকে পাবার জন্য প্রেম ছিল তার কথা লোকমুখে অনেক অনেকবার শুনেছি কিন্তু বিশ্বাস হয়নি। বিশ্বাস করতে হচ্ছিলো তাই আর সেখানে থাকা যায়না। আমি বের হয়ে এসে পড়ি। সে সময় আর বন্যাকে নিয়ে ভাবতে চাইনি।

আমি হালকা শীতের ভেতরেই ঘামছি, পারুল কখন এসে সামনে দাঁড়িয়েছে দেখিনি।

‘তোর বয়স কত?’
-তেইশ -চব্বিশ হবে, কেন রবিন ভাই এই কথা জিগাইলেন ক্যান। ভাবির লগে কি ঝগড়া হইছে?
‘তুই কি কিছু বলবি?’
-বলতাম গেইটটা লাগাই দ্যান, আমি চইলা যাইতেছি
‘আচ্ছা পারুল বলতো আমার বয়স কত?’
-কইবার পারুম না
‘আমার বয়সও চব্বিশ, আমি এখনও কোন মেয়েকে স্পর্শ করিনাই। তুই কি আমাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে দিবি তোকে?’
-আমারে ছুঁইয়েন না, সহ্য করতে পারবেন না

৩ thoughts on “অপরিচিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *