সিরাজ সিকদারের সহযোদ্ধা কমরেড আয়শা মেহেরের সাক্ষাৎকার

[ সিরাজ সিকদার একজন মাওবাদী বিপ্লবী নেতা। পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম কোন ক্রসফায়ার নাটক। সেই সময় তারই পার্টির একজন সহযোদ্ধা ছিলেন কমরেড আয়শা মেহের।


[ সিরাজ সিকদার একজন মাওবাদী বিপ্লবী নেতা। পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম কোন ক্রসফায়ার নাটক। সেই সময় তারই পার্টির একজন সহযোদ্ধা ছিলেন কমরেড আয়শা মেহের।

আয়শা মেহের জন্মগ্রহন করেন বাংলাদেশের যশোরে। শৈশব কেটেছে ঢাকায়। স্কুলে পড়াবস্থাতেই তিনি কমিউনিষ্ট রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি হয়ে উঠেন সর্বহারা পার্টির একজন নেত্রী। কাজ করতেন পার্টির প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগে। সিরাজ শিকদারের মৃত্যুর সময়ও তিনি পার্টির সার্বক্ষনিক কমরেড ছিলেন। ১৯৭৯ সালে কানাডা প্রবাসী হবার আগ পর্যন্ত সর্বহারা পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

সে সময়ের নানা অজানা কথা উঠে এসেছে তার সঙ্গে আলাপচারিতায়। তিনি। পার্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। অনলাইনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিয়াম সারোয়ার জামিল। পাঠকদের সামনে তা তুলে ধরা হলো।]

সিয়াম: আপনি কবে সর্বহারা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন? কিভাবে?

আয়শা মেহের: ১৯৬৮ সালের ৮ই জানুয়ারি সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা কারনে জনগনের মাঝে আলোচনায় ছিল দলটি। আমি খিলগাঁও সরকারি স্কুলে পড়তাম তখন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সর্বহারা পার্টির এক স্থানীয় সংগঠকের সাথে আমার সাথে যোগাযোগ ছিল। আমাকে বলেছিল আমি যোগ দেবো কিনা। পার্টি তখন আন্ডারগ্রাউন্ড রিক্রুট করছিল। প্রতি সপ্তাহে ক্লাস হতো। স্কুলের মত। চৌধুরী পাড়ার বিভিন্ন বাসাতে হত। কোন দিন এক বাসাতে ক্লাস হতোনা। আমার বয়সি কেউ ছিলনা সেই ক্লাসে। সবাই বড়। শুধু বড় না অনেক বড়। আমি বই পড়তে পছন্দ করতাম। আমাদের বাসার দুইজন বোন ছাত্র ইউনিয়ন করতো। একজন কমিউনিষ্ট পার্টি। আমার কাজ ছিল লিফলেট কপি করা। পার্টির কাগজপত্র প্রেসে যেতে পারতোনা। খিলগাও চৌধুরী পাড়াতে বামপন্থীদের যেমন ভীড় ছিল তেমনি আওয়ামীলীগের; আর রক্ষীবাহিনীর। রক্ষী বাহিনীর তান্ডবে সাধারণ মানুষজন অতিষ্ঠ ছিল।

সিয়াম: বামপন্থী প্রবীণ রাজনীতিক ও দল থাকার পরও রোমান্টিক বিপ্লবী চরিত্রের কারণেই কি সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা পার্টি কিছুদিনের মধ্যে দেশব্যাপী একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়?

আয়শা মেহের: না। এই মন্তব্যের সাথে আমি একমত নই। আমি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে শ্রদ্ধা করি ও ভালবাসি। মাওলানা ভাসানী ছিলেন একজন আপোষহীন নেতা (সত্যিকার অর্থে)। মাওলানা ভাসানী চেয়েছিলেন তরুনরা উনার পথের অনুসারী হবে। মাওলানা ভাসানী বাংলাদেশের ভৌগলিক (চারিদিকে ভারতের বন্ধন)-আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় বিশ্বাস-জীবনযাপনের স্টাইল ইত্যাদির উপরে অনেক বেশী গুরুত্ব দিতেন। মাওলানা ভাসানীকে দেখেছি মঞ্চেই নামাজ পড়তেন।

আমি তার এক জনসভায় গিয়েছিলাম। তখন জোহরের নামাযের সময় ছিল। উনি হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে নিজের বক্তব্য শেষ হলে একপাশে যেয়ে নামাজ পড়ে নিলেন। একজন মার্কসবাদী হয়তো বলবেন যে তিনি কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না, কারন কার্ল মার্কস ধর্মকে “আফিম” বলে অভিহিত করেছেন (এই আফিম প্রসংগে আমরা যাচ্ছিনা)তবুও আমি বলবো ভাসানী ন্যাপের এমন কেউই ছিলনা যিনি মাওলানা ভাসানীর পথের অনুসারী হতে পারেন। ইমানদার অর্থাৎ যিনি আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস রাখেন – মাওলানার সেটা ছিল – কাউকে দেখাবার জন্য নয় । নিজেই বিশ্বাস করতেন বলেই ছিল। সৎ থাকতে – সব সময় নিজের নীতিতে অটল ছিলেন। দেশকে ভালবাসতেন তাই বিদেশের দালালী করেননি।

মাওলানার আন্দোলনের ধারা থেকে আমরা জানি শেখ মুজিবের সাথে দ্বন্দ থাকলেও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবের মুক্তির দাবীতে মাওলানা হরতাল ডাকেন মিছিল করেন । মাওলানার ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া আর দেশ স্বাধীন হবার পর স্বৈরাচারী শেখ মুজিবের জুলুমে অতিষ্ট পূর্ব বাংলার মানুষ যখন প্রতারিত তখন কমরেড সিরাজ সিকদার ও পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি ছিল গভীর অন্ধকারে এক প্রখর সূর্যের মত । বেহাত হয়ে যাওয়া স্বাধীনতাকে ফিরে পেতে সেদিন নতুন এক সংগ্রামের শুরু হয়েছিল।

স্বৈরাচারী মুজিব সরকারের ব্যর্থতাই ছিল এই দলের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারন। কমরেড সিরাজ সিকদার ছিলেন শিক্ষিত, সাহসী, নীতিবান, আপোষহীন আর এমন এক ব্যক্তিত্ব যার সাথে আর কারু তুলনা হয়না। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির জনপ্রিয়তা ছিল মুজিবের দুঃস্বপ্ন। ১৯৭০ সালের জনপ্রিয়তার ঘোর তখনও মুজিব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নিজেকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে, চুরুট টেনে ফিদেল বা চে গুয়েভারা হবার স্বপ্নে বিভোর কিন্তু পকেটে দালালির সিকি বারে বারে খোঁচা দিতো অহর্নিশি । ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালের জনপ্রিয়তা বা জানুয়ারী, ১৯৭২ সালে মুজিবকে আনার জন্য এক উত্তাল সমুদ্রের মতো জনগন গেছিল তেজগাঁ বিমান বন্দরে ।

হঠাৎ আসা উড়ো ঝরে মুজিবের সেই জনপ্রিয়তা যেন এক ফুঁৎকারে দপ করে নিভে গেছিল সেদিন। সেটা মুজিবের পক্ষে হজম করা অসম্বব ছিল। ৭ই মার্চ ১৯৭৩ এর নির্বাচনে সাড়া বাংলাদেশের ভোট কেন্দ্রেই মুজিবের আওয়ামীলীগ পরাজিত হতে থাকে। সবগুলো ভোট কেন্দ্রেই মুজিবের গুন্ডারা আর রক্ষীবাহিনী ব্যালট বাক্স উঠিয়ে নিয়ে আসে । আর কোন রকম গননা ছাড়াই সেদিন মুজিবের আওয়ামীলীগের জয় বলে ঘোষনা করা হয়। সেদিনের সেই নির্বাচনী পরাজয় মুজিবকে বিস্মিত ও সঙ্কিত করে তোলে । তখন জনগন জেগে গেছিল। তখন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। মুজিবের জনপ্রিয়তা যেন আত্মহত্যা করেছিল ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে। সেই সময়ের পত্রিকা থেকে জানা যায় একবার এক ক্ষুধার্ত মানুষ মুজিবের ছবি ছিড়ে ফ্যালে ফলে মুজিবের গুন্ডারা তার কান কেটে নেয়। এই সময় ছিনতাই, পিটিয়ে হত্যা, ঘরে ঘরে ডাকাতি, সন্ধ্যার পরে কেউ বাইরে যেতোনা, রেশনের দোকানে লম্বা লাইন, চাল, ডাল, কেরোসিন, কম্বল, ইত্যাতি রেশনে পাওয়া যেতো । সারাদিন দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও দেখা যেতো খাবার শেষ হয়ে গেছে। পরের দিন আবার লাইনে দাঁড়াতে হতো । এক এক মানুষের দশ বিশটা রেশন কার্ড থাকতো। চাল, ডাল, কেরোসিন রেশন থেকে তুলে নিয়ে ব্ল্যাক মার্কেটে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হতো। যাদের চুরির টাকা আছে তারা কিনতো । অন্যান্য প্রবীণ বামপন্থি দলের নেতৃত্বের ভেতরে জনগন শেখ মুজিবের প্রতিবিম্ব দেখতে পায় ।

পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি তখন ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ভূমী বন্টনের সিদ্ধান্ত নেয় । লাঙ্গল যার জমি তাঁর এই ভিত্তিতে। জোতদারের তালিকা প্রস্তুত করা হয় । কোন ভূমির মালিক বা জোতদারই স্বেচ্ছায় তাদের জমি ছেড়ে দেবেনা। কৃষক ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছিল। সংঘাত হয়েছিল। অধিকাংশ ভূমির মালিকই সম্পদশালি তাই শ্রমিক ভাড়া করার ক্ষমতা রাখেন। শহরে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করতে পাঠান বা শহরেই থাকেন । তখনকার সময়ে অনেকেই হিন্দুদের ফেলে যাওয়া জমি দখল করে ফকীর থেকে জোতদারের ভূমিকা পালন করছিলেন। তারা অবশ্যই আওয়ামীলিগের লোকজন। সেখানে প্রচন্ড সংঘাত হয়েছে।

তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিপ্লবের পদধবনি শোনা গেছিল সেদিন। সেই সময়ে পূর্ব বাংলার দিশেহারা মানুষের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে কমরেড সিরাজ সিকদার ও পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। মুজিব ভয় পেয়ে সংবিধান সংশোধন করে। সেইসময়ে পূর্ব বাংলার ডাক নাম রাখা হয় “তলাবিহিন ঝুড়ি” বা Bottomless basket । কমরেড সিরাজ সিকদারকে হত্যা করার ২৪ দিনের মাথায়ই মুজিব পার্লামেন্টারী সিস্টেম বদল করে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিজেই বরন করে নেয়।

সিয়াম: আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে আপনারা ব্যাংক ডাকাতি করেছিলেন। লুটপাট করতেন। এর মধ্য দিয়ে কি বিপ্লবী তৎপরতা বাড়ানো সম্ভব ছিল?

আয়শা মেহের: আমি এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির বিরুদ্ধে কারা অভিযোগ করেছিল? যারা আদেশ দিয়েছিল “দেখা মাত্র নক্সালদের গুলি করো”? ভারতে যারা বামপন্থি নিধন করছিল? যারা ভয় পেয়েছিল যে এই ন্যায় নীতিবান আর শিক্ষিত পাবলিক মীরজাফরদের মুখোশ ছিড়ে ফেলে আসল চেহারা দেখিয়ে দেবে ? কারা ছিল এইসব ভিতু ইঁদুরেরা ? যারা ফকীর থেকে নব্য জোতদার হয়েছিল ১৯৭২ সালে ? বা ১৯৪৭ সালে? যারা আদমজী, ইসপাহানী, বাওয়ানীদের ফেলে যাওয়া সম্পদ যা পূর্ব বাংলার মানুষের সম্পদ ছিল তা পুনরায় দখল করে ফকীর থেকে বা ছোটখাটো পকেটমার থেকে নব্য ধনী হয়েছিল ? যাদের রাজকুমার নিজেই ব্যংক ডাকাতি করতে যেয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিল ? যে বলেছিল – এ্যাতদিন তোরা খাইছস, অহন আমার পোলারা খাইবো ? এরা কারা যারা এই কথা বলতে পারে? ব্যাংক ডাকাতি বা ঘরে ঘরে প্রচুর ডাকাতি করতে যারা ঢুকতো তারা ঢুকেছে আওয়ামীলীগের ঝান্ডা উড়িয়ে আর ডাকাতি শেষে সর্বহারা পার্টির নাম রেখে এসেছে ব্যাংকের লকারে বা প্রতিবেশীর চৌকাঠে ।

এখন যেমন কোন রকম অনুসন্ধান না করেই শ্রমিকের ঝলসানো মাংসের গন্ধ শুকেই শত মাইল দূর থেকে সংসদে বসে প্রধানমন্ত্রী নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারেন কে বা কাহারা এই ফ্যাক্টরীতে আগুন লাগিয়েছে তেমনি তখন উনার বাপও একজন গনক ছিলেন। লাইসেন্স দিয়ে রেখেছিলেন নিজের পোলাদের — “অহন আমার পোলারা খাইবো” বলে। লাইসেন্স, পারমিট, রিলিফের কম্বল, বাংলার মানুষের নামে বিদেশ থেকে আসা খাদ্য ও অর্থসাহায্য কার কার গুদামে যাবে তার তালিকা তখন যেমন গনভবনে প্রস্তুত হতো তেমনি ডাকাতি করার জন্য ব্যাংকের তালিকাও গনভবনেই প্রস্তুত হতো । সর্বহারা পার্টির জন্য শেখ মুজিব ব্যাংক ডাকাতি করার লাইসেন্স ইস্যু করেননি। তাই আমরা ডাকাতি করিনি।

ঐযে বললাম মেহনতী মানুষের অধিকার প্রতিষ্টা করতে গেলে যারা এই অধিকার নিজেদের মুষ্টির মধ্যে ধরে ছিল বা আছে আর অগুনিত মানুষের মৌলিক অধিকার একাকী ভোগ করছিল বা করছে তারা এ্যাত সহজেই তো মুঠি খুলবেনা। তাই মুঠি খোলানোর জন্য বল প্রয়োগ করতে হবে। মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিপ্লবের প্রথম পদক্ষেপ হলো যারা দরকারের বেশী সম্পদ নিজেদের কাছে জমা করে রেখেছে তারা তা জনগনের স্বার্থেই স্বেচ্ছায় যদি পুনর্বন্টনের কাজে সহযোগিতা না করে তাহলে অবৈধভাবে জনগনের অধিকার মুষ্টির মধ্যে ধরে রাখার অপরাধে শাস্তি বিধান করা হবে। জনগনের সম্পদ জনগনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এক মুঠি থেকে অনেক মুঠিতে এই সম্পদ পুনর্বন্টন করার জন্য রক্তপাত হবে। আর সেই রক্তপাতের জন্য যারা অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় ধরে রেখেছে তারাই দায়ী। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির কাজই হলো জনগনের সম্পদ জনগনের কাছে পৌছে দেবার ও জনগনের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্টা করার কাজ।

সিয়াম: আপনারা শ্রেণীশত্রু খতমের নামে প্রতিবিপ্লবের কাজ করেছেন।

আয়শা মেহের: এখানে একটা সমস্যার কথা বলা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। আবার আমি প্রথম প্রশ্নের উত্তরে চলে যাচ্ছি । সমস্যাটা হলো রাশিয়াতে যেসব শ্রমিকেরা বিপ্লব করেছিল বাংলাদেশের শ্রমিকরা সেইভাবে বিপ্লব করেনি। যারা বিপ্লব করতে নেমেছিলেন তারা কেউই সর্বহারা নন। তারা বুর্জোয়া বা পাতি বুর্জোয়া। হাইপোথেটিক্যালী বলি। ধরে নিলাম আমি একজন বিপ্লবী । বিক্রমপুরে আমার বাপের বিশাল সম্পত্তি আছে। ধানী জমি আছে। আর অনেক ভুমিহীন বর্গাচাষী আছে যারা আমার বাপের কর্মচারী। আমার বাপে খালি জমির মালিক বা পুজির মালিক। আমার বাপে একজন সরকারী আমলা। ঘুষের টাকাতে নির্মিত গুলশানের বিশাল ভবনে আমাদের জন্ম। একদিন আমি চিন্তা করলাম বিপ্লবী হবো। ব্যাস যেই বলা সেই কাজ। নেমে এলাম পথে। চলে গেলাম অন্য জোতদারদের জমি ছিনিয়ে নিয়ে ভুমিহীন কৃষকদের মধ্যে তা বন্টন করতে । একদিন বিক্রমপুরে এসে যখন আমাকে বলা হলো যে তোমার বাপের সব জমি ছিনিয়ে নাও তখন আমার সামনে আমার বাপের স্নেহময় মুখখানি ভেসে উঠলে আমি স্তব্ধ হয়ে রইলাম। আমি নিজেই তো জন্ম নিয়েছি সেই তোষকের উপরে যেই তোষক কেনা হয়েছিল ঘুষের টাকাতে। আজ আমি থেমে গেছি আমার চৌকাঠে। একদিকে আমার স্নেহময় পিতা দাঁড়িয়ে আছেন অন্যদিকে কোটি কোটি সর্বহারা যাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে হাজার বছর ধরে। তখন হয়তো আমার বাপ বিজয়ী হয়। কারন আমার মনে পড়ে সেইসব পালিয়ে বেড়ানোর দিনগুলোর কথা। একদিকে রক্ষীবাহিনীর ভয় অন্যদিকে মুজিবের গুন্ডাদের ভয় আর আছে সেইসব জোতদারদের পোষা কুত্তাদের ভয়। আমি যদি এক মুহুর্তের জন্যেও স্তব্ধ হয়ে থাকি তাহলে আমি আপোষ করেছি। আমি একজন বিপ্লবী নই। আমি একজন বিপ্লবী হতে পারিনি। আমি আমার বুর্জোয়া বা পাতি বুর্জোয়া খোলস থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। এইভাবে দেখা যায় মেহনতী জনগন বা সর্বহারারা বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়না। যারা কর্মি বা নেতা তারা অন্য সমাজ থেকে আসে। তারা শোষক । এইখানে দেখা যায় কমরেড সিরাজ সিকদার নিজেও বুর্জোয়া পরিবার থেকে এসেছেন কিন্তু তিনি কোনদিন ঘরে ফিরে যাননি। তবে যারা সেটা পারেনা তারা পারেনা। এইভাবে দেখা যায় যারা বিপ্লবের কথা বলে যাদের আমরা তথাকথিত প্রবীন বাম রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব বলি তারা মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের দাবি করে গেছেন যা নিজেরা অন্তর থেকে কোনদিন বিশ্বাস করেননি তাই আপোষ করেছেন নিজেদের অজান্তেই বা জেনে শুনেই। এইসব প্রবীন বামপন্থীদের অনেকেই এখন জীবিত আছেন এবং নানা রকমের বদনাম নিয়ে মুখ দেখাতে লজ্বাবোধও করছেননা ।

শ্রেনীশত্রু নিধনের নামে আমরা প্রতিবিপ্লব করেছি এই ধরনের একটা সুনির্দিষ্ট প্রমান আমি চাইবো। কারো কোন কথা নয়। আমি প্রমান চাই। মৌখিক যুক্তিসঙ্গত প্রমান হলেই হবে। ২৩ বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে এ্যাত দূরে থেকে সেই কৈশরকে স্মরন করতে আজ আমার মোটেই কষ্ট হয়নি তবে যেহেতু পত্রিকাগুলো আমার কাছে নেই । যেহেতু বইপত্র কিছুই আমার কাছে নেই। সেইসব লেখা আর সেইসব লিফলেট কিছুই আমি রাখতে পারিনি। আমার দুর্ভাগ্য আমি কোন স্মৃতিই রাখতে পারিনি। তাই বলা মুসকিল।

সিয়াম: ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কিভাবে পালন করলেন?

নিঃশব্দে দেওয়ালে চিকা মারা আর লিফলেট ছড়িয়ে দেবার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি হরতালের ডাক দেয়। জনগন নিঃশব্দে সমর্থন জানায়। সেদিনের সেই হরতালের সাফল্য আমাদের জানিয়ে দিয়েছিল যে আমরা জনগনের হৃদয়ে স্থান করতে সমর্থ হয়েছি। শুধু তাই নয় সেই হরতালের সাফল্য তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের নিদ্রাহরন করতেও সমর্থ হয়েছিল ।

সিয়াম: সিরাজ সিকদার নিহত হওয়ার পর আপনি কি করেছিলেন? দল ছেড়ে দিয়েছিলেন?

আয়শা মেহের: স্থানীয় একজন সিনিয়র কমরেডের কাছ থেকে আমি জানতে পারি যে জানুয়ারির ২ তারিখে কমরেড সিরাজ সিকদারকে গুলি করা হয়েছে। পরে পত্রিকাতে অনেক বড় হেডলাইন দেখলাম – ‘কোথায় এখন সিরাজ সিকদার?’ সাথে বিস্তারিত বিবরণসহ লেখা ছিল যে জানুয়ারির ২ তারিখে ক্রশ ফায়ারে তাঁকে হত্যা করা হয়।

আমি বিশ্বাস করি, জানুয়ারির ১ তারিখে শুধু কমরেড সিরাজ সিকদারের মৃত্যু হয়নি পূর্ব বাংলাতে সেদিন বিপ্লবের সম্ভাবনার মৃত্যু হয়েছিল। মেহনতী মানুষের জন্য গোটা আন্দোলনের মৃত্যু হয়েছিল । সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বিদেশী দালালদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের লড়াইয়ের মৃত্যু হয়েছিল। সেদিন শেখ মুজিব পূর্ব বাংলাতে যে ক্রশ ফায়ারের উদ্ভোধন করেছিল সেই ক্রশ ফায়ার আজও চলছে এবং চলবে যতদিন না আরেকজন কমরেড সিরাজ সিকদার এই পূর্ব বাংলাতে জন্ম নেবে। সেদিন শুধু একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়নি সেদিন পূর্ব বাংলা আত্মসমর্পন করেছিল কাপুরুষ আর বিদেশীদের দালালদের হাতে। বেহাত হয়ে যাওয়া পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা ফিরে পাবার আশার আলো নিভে গেছিল সেদিন । সেই অন্ধকারের ঘোর আজও কাটেনি।

সেদিন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সকল কাজকর্ম স্থগিত করা হয় পার্টির আরেকজন নেতৃত্ব ঘোষনা করার আগ পর্যন্ত। পার্টির খুব কাছের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সেদিন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। আমি দল ছেড়ে দিয়েছিলাম।

সিয়াম: এই যে একসময় সর্বহারা পার্টি করতেন। এখন কি কোন অনুশোচনা হয়?

আয়শা মেহের: আমি গর্ববোধ করি । কৈশোরে আমি কমরেড সিরাজ সিকদারের ছায়া অনুসরন করে অন্তত দুই পা হেঁটে যেতে পেরেছিলাম। সেদিন সেখানে সেই দুই পা না হাটলে আমি হয়তো এত সহজেই আর সবার মত সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য করতে পারতাম না।

সিয়াম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আয়শা মেহের: তোমাকেও ধন্যবাদ।

siam33jamil@gmail.com

১০ thoughts on “সিরাজ সিকদারের সহযোদ্ধা কমরেড আয়শা মেহেরের সাক্ষাৎকার

  1. সিরাজ শিকদার বিপ্লব করেছিলেন
    সিরাজ শিকদার বিপ্লব করেছিলেন নাকি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছিলেন তা জানার আগ্রহবোধ রইলো ।

  2. মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু
    মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু চীনপন্থীরা নিজের মাতৃভূমির চেয়ে চীনের বৈদেশিক নীতির স্বার্থ বেশি দেখে মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন। সিরাজ শিকদার তাদের ই একজন। বরিশালের পেয়ারা বাগানে তিনি মুক্তিবাহিনী ও মুজিব বাহিনীর সাথে লড়াই চালিয়েছেন। অনেকে হয়তো বলবেন, কোন ‘মহান’ আদর্শের জন্য তিনি এ কাজ করেছেন। তাহলে রাজাকারদের আর কি দোষ? তারাও তো ‘মহান’ ধর্মরাষ্ট্র অক্ষুণ্ব রাখতে এই কাজ করেছেন। হত্যার রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত, নিজের দলের মাঝেই গণহত্যাকারী সিরাজ শিকদারকে মানবতাবাদের প্রচারক ভাবাও দুষ্কর। সামান্য সন্দেহ হলেও নিজের ঘনিষ্ঠ সহচরের রক্তে হাত রাঙ্গানো সিরাজ শিকদারকে অসীম শ্রদ্ধা করার মত আমি কোন কারণ খূঁজে পাই না।

    আজিজ মেহের জেল খানার জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন,
    …আমাকে নিউ ২০ সেলে স্থানান্তর করা হলো। পাশের সেলে ছিলো বৃহত্তর বরিশালের কাকচিরা গ্রামের ও বরিশাল কলেজের ছাত্র কমরেড সেলিম শাহনেওয়াজ। সে ছিলো সিরাজ সিকদারের পার্টির সদস্য। ১৯৭১ এর পরে ১৯৭৩ এ পার্টির সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় সিরাজ সিকদারের নির্দেশে এই আত্নত্যাগী তরুণকে হত্যা করা হয়। যেমন হত্যা করা হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবিরকে।

    সিরাজ শিকদার সম্পর্কে আরো জানতে এই লিখাটি পড়তে পারেন… http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=7150

    এই নকশালপন্থিদের কারণেই যুদ্ধপরবর্তী ভঙ্গুর বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে ৪০বছর সময় লেগেছে ।অন্যথায় বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেই বাংলাদেশ মোটামোটি মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হতে পারতো ।

  3. নিজেস্ব কোন বক্তব্য, মতামত,বা
    নিজেস্ব কোন বক্তব্য, মতামত,বা বিশ্লেষণ ছাড়া এধরনের স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে, বিশেষ কোন একজনের বক্তব্য ব্লগে তুলে ধরা উচিত হয়নি।

    ……..ইতিহাসে সর্বহারা পার্টি কিন্তু অন্যভাবেও চিহ্নিত হয়ে আছে।

    কথিত আছে সর্বহারা পার্টি নাকি সদস্য রিক্রুট করার জন্য বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠাতো, ”যেন কর্মক্ষম ছেলে তাদের দলে পাঠানো হয়,না হলে তাদের কে হত্যা করা হবে।”
    এবং এই কারনে নাকি অনেক হত্যাকান্ডও সংঘটিত হয়।

    …..আর বাম রাজনীতি সেতো এক চরম সেলুকাস।বাম নেতারা তো আমাদের মুক্তিযুদ্ধকেও বিতর্কিত করার কম চেষ্টা করে নি। তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কে দুই কুকুরের লড়াই বলার মতোও উদ্ধ্যত প্রকাশ করেছে।

    ……বস্তুতপক্ষে ৭১ পরবর্তীতে মুজিব পরিবারকে ”মূলত কিছু বাম পন্থি নেতা” হেয় করার এমন কোন মিথ্যাচার নেই যা তারা করেনি।আর এসব বামপন্থি নেতাদের অন্যতম সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে কিন্তু সর্বহারা পার্টিও ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে।

    ……তাই আবারো বলব, ”নিজেস্ব কোন বক্তব্য, মতামত,বা বিশ্লেষণ ছাড়া এধরনের স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে, বিশেষ কোন একজনের বক্তব্য ব্লগে তুলে ধরা উচিত হয়নি।”

  4. সর্বহারা পার্টির চুরি,
    সর্বহারা পার্টির চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যদি বিপ্লব হয় তবে, বর্তমানে জামাত-শিবির, হিজবুত তাহরীর, জামাতুল মুজাহিদীন সহ জঙ্গি সংগঠনগুলি যা করতেছে তা মহাবিপ্লব ।

  5. ধন্যবাদ লেখক কে এই
    ধন্যবাদ লেখক কে এই সাক্ষাতকারটি নেয়া এবং প্রকাশ করার জন্য।

    আমি রাগান্বিত ও ঘৃনায় মুখ বিকৃত করলাম আপনাদের প্রতি—

  6. যারা সিরাজ শিকদারকে নিয়ে আজো
    যারা সিরাজ শিকদারকে নিয়ে আজো উদ্ভট ফ্যান্টাসিতে ভোগেন, তাদের জন্য আমাদের ব্লগার অর্ফিয়াসের কিছু কথা তুলে দিলাম। আশা করি আপনাদের ফ্যান্টাসি দূর হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করা বেইমান সিরাজকে নিয়ে আপনারা অযথা পরিবেশ গরম করা থেকে বিরত থাকবেন…

    প্রসঙ্গঃ সিরাজ শিকদার

    সিরাজ শিকদারকে নিয়ে আজও বেশ ফ্যান্টাসিতে ভোগে আমাদের কিছু বামপন্থী । সিরাজকে নিয়ে অত্যুক্তি করা হয় বাংলার চে বলে । সিরাজ শিকদারকে বলা হয় ‘শহীদ’ এবং ‘দেশপ্রেমিক’ । একথা অনস্বীকার্য যে সিরাজ শিকদারের যদি খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী থাকতো , আজ বাংলার ঘরে ঘরে শহীদ সিরাজের আদর্শ ছড়িয়ে পরতো । সিরাজ শিকদার মরিয়া প্রমান করিলো সে মানুষ ছিলো ।

    যা হোক । কমরেড মাও এর গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও নীতিতে বিশ্বাসী সিরাজ শিকদার সশস্ত্র বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন বরাবরই । পেশায় প্রকৌশলী হলেও বামপন্থী আন্দোলনে জড়িয়ে ছিলেন সবসময় । কিন্তু প্রথাগত বামপন্থীদের তিনি এক হাত নেন । সিরাজ শিকদারের থিসিস তার দলে টেনে আনে বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর ছেলেদের ।

    আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই সিরাজ শিকদার গঠন করেন চরমপন্থী সর্বহারা পার্টি । এরপর তিনি ঘোষণা দেন শ্রেণী শত্রু খতম করার । কাটা রাইফেল আর মল্টোভ বোমা , এই ছিলো তাদের হাতিয়ার ।

    দেশ ও জাতির স্বার্থে আওয়ামী লীগ আর বামপন্থী সবগুলো দল একসাথে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয় , সিরাজ শিকদার তখন ত্রিমুখী যুদ্ধ ঘোষণা করেন মুক্তিবাহিনী , ভারতীয় বাহিনী এবং পাকিস্থানী বাহিনীর বিরুদ্ধে । মুক্তিযোদ্ধাদের বারবার আক্রমন করে তার সর্বহারা বাহিনী । পুরো মুক্তিযুদ্ধে তেমন কোনো সফলতা নাই তাদের । অথচ ফ্যান্টাসীতে ভরা বিপ্লব করতে যেয়ে সিরাজ শিকদারের হঠকারিতায় মারা যায় অনেক যোদ্ধা ।

    আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশের সিল মারা যুদ্ধাপরাধী দল জামাত ইসলাম পর্যন্ত যেটা করার সাহস পায়নি , সেটা করেছিলো সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি । ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে হরতাল ডাকে সর্বহারা পার্টি । পার্টির মুখপত্র ‘স্ফুলিঙ্গ’ ও প্রচারপত্রে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী শক্তির কাছে মুজিব সরকারের আত্ন সমর্পণ দিবস । গুয়াজমের সাথে সিরাজ শিকদারের বা পাকিপন্থী জামাতের সাথে চীনপন্থী সর্বহারা পার্টির কোনো পার্থক্য নাই ।

    এক এনএসআই সদস্যের স্ত্রীর সাথে সিরাজ শিকদারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো । আই এম দ্য পার্টি ভাবভঙ্গি নিয়ে চলা সিরাজের সাথে এ নিয়ে মতভেদ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের । সিরাজের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয় । নিপাত চক্র প্রতিষ্ঠা করে সিরাজ শিকদার দক্ষিনাঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন । বরিশাল কলেজের ছাত্র কমরেড সেলিম শাহনেওয়াজকে মেরে ফেলেন তিনি ।

    পচাত্তরের ২ জানুয়ারি পুলিশের হাতে নিহত হন সিরাজ শিকদার । মাওবাদী আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পরিনত করা সিরাজ শিকদার এবং তার প্রলেতারিয়েত পার্টির মুভমেন্টে সদ্য স্বাধীন একটা দেশ যে ভয়ানক পরিস্থিতিতে পরেছিলো তার দায়ভার আমরা আজও বয়ে বেরাচ্ছি ।

    সিরাজ শিকদার । একজন ভুল বিপ্লবের বাঁশীওয়ালা ।

  7. ইন্টারভিউ সম্পর্কে বেশ কিছু
    ইন্টারভিউ সম্পর্কে বেশ কিছু পয়েন্ট ধরে ধরে আলাপ করা যেতো কিন্তু সময়ের অভাবে করতে পারলাম না। তবে যেটা না বললেই নয় তা হলো তথ্য বিভ্রাট।
    বিশ্বাস করার কঠিন যে সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আয়েশা মেহের ইন্টারভিউতে আদৌও এটা বলেছনে কিনা।’ ‘১৯৬৮ সালের ৮ই জানুয়ারি সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।’’
    ইন্টারভিউ যিনি নিয়েছেন তিনি দাবি করছেন, তার কাছে আয়েশা মেহের বলেছেন ‘১৯৬৮ সালের ৮ই জানুয়ারি সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।’। আমি েএই লাইনগুলো বিশ্বাস করিনি। ভাল হয় আয়েশা মেহেরের ইন্টারভিউটা ইউটিউবে বা সাউন্ড ক্লাউডে দিয়ে দেয়া।
    কেন অবিশ্বাস করছি? কারণ হলো স্বয়ং সিরাজ সিকদার সর্বহারা পার্টির প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে জানাচ্ছেন, ৩ জুন ১৯৭১ সালে সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠা হচ্ছে বরিশালের পেয়ারা বাগানে।
    পূর্ববাংলার শ্রমিক আন্দোলন সংগঠনটি বিলুপ্ত করে এই তারিখে পার্টি আত্মপ্রকাশ করছে।
    আরো গুরুত্বপূর্ন যে, ১৯৬৮ সালের ৮ই জানুয়ারি সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এই দিনে প্রতিষ্টিত হয়েছে ‘পূর্ববাংলার শ্রমিক আন্দোলন।’ ১৯৬৮ সালের ৮ই জানুয়ারি বহুল আলোচিত পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস্ও দেয়া হয়। যেখানে পাকিস্তানের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার কথা বলা হয়।
    তাহলে প্রশ্ন হলো েআয়েশা মেহের কী এতো বড় ভুল করতে পারেন?
    পার্টির উচু নেতৃত্বের কমরেডের পক্ষে কোনভাবেই এতোবড় ভুল করার কথা নয়। যিনি ইন্টারভিউ নিয়েছেন, তিনিই জবাব দিক বিষয়টি কি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *