লোকপ্রিয় হুমায়ুন আহমেদ এবং কিছু অপ্রিয় কথা

বন্ধু আমার জীবনে হুমায়ুন আহমেদের বই ছাড়া আর তেমন কোন বই পড়েনি একথা শুনে বিশ্বাস করতে পারি নি। তারপর সে আমাকে অনেক কস্টে বোঝালো যে হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া আর কোন সাহিত্যিক তার মন ভেজাতে পারে নি। তার সংগ্রহে অন্তত ৪০ খানা হুমায়ুন আহমেদের বই আছে, আর পি ডি এফ -এ প্রায় সবগুলোই! সে নিজেকে একাধারে হিমু ও মিসির আলি ভাবতে ভালবাসে, মেয়ে হলে সে রুপা হত, ভয়ানক ব্যাপার! তবে একসাথে হিমু আর মিসির আলি চরিত্র কেমন হতে পারে তা ভাবা নিতান্তই অসম্ভব। হিমু এক অদ্ভুত চরিত্র সন্দেহ নেই, হুমায়ুন আহমেদের বাকি চরিত্রগুলোও বিচিত্র। তবে উনার বাজারি বই গুলোর এই শক্তি অনেক আক্ষেপের জন্মও দেয়!


বন্ধু আমার জীবনে হুমায়ুন আহমেদের বই ছাড়া আর তেমন কোন বই পড়েনি একথা শুনে বিশ্বাস করতে পারি নি। তারপর সে আমাকে অনেক কস্টে বোঝালো যে হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া আর কোন সাহিত্যিক তার মন ভেজাতে পারে নি। তার সংগ্রহে অন্তত ৪০ খানা হুমায়ুন আহমেদের বই আছে, আর পি ডি এফ -এ প্রায় সবগুলোই! সে নিজেকে একাধারে হিমু ও মিসির আলি ভাবতে ভালবাসে, মেয়ে হলে সে রুপা হত, ভয়ানক ব্যাপার! তবে একসাথে হিমু আর মিসির আলি চরিত্র কেমন হতে পারে তা ভাবা নিতান্তই অসম্ভব। হিমু এক অদ্ভুত চরিত্র সন্দেহ নেই, হুমায়ুন আহমেদের বাকি চরিত্রগুলোও বিচিত্র। তবে উনার বাজারি বই গুলোর এই শক্তি অনেক আক্ষেপের জন্মও দেয়!

হুমায়ুন আহমেদের গত জন্মদিনে এক বিচিত্র ব্যাপার চোখে পড়ল এবং পীড়াও দিল, সেটা হল তার ভক্তকূলের বিপুল পাগলামো! একদল যুবক হিমু সেজে আর মেয়েরা রুপা সেজে দল বেধে নুহাস পল্লী আর মোহনগঞ্জ যাবে, সুধু যাবেই না তারা উদ্ভট সব কর্মকান্ডও করে যাবে। তারা গেল এবং মোটামুটি মাজারী ভক্তের মত উদ্ভট পন্থায় উপাসনা(!) করল। বাংলা সাহিত্য কি এমনই দরিদ্র যে হুমায়ুন আহমেদের পূজো দিতে হবে? নাকি চ্যানেল আই এর বানিজ্যের ফাদ আমরা বুঝতে অক্ষম? আমি বলছি না হুমায়ুন আহমেদ কোন সাধারন মানুষ বা সাহিত্যিক, কিন্তু এত বাড়াবাড়ি কিসের? হিমু সেজে কি লাভ? আপনাদের ভাষায় বাংলা বস্তাপচা সিনেমার নায়কেরাও তো হিমুর চাইতে উত্তম চরিত্র , সাজতে হলে জসিম সাজুন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন, তাতে সমাজের লাভ বৈ ক্ষতি হবে না। বাস্তবতা বিচারে হিমুর চাইতে জসিমের বস্তির রাজা অনেক লৌকিক এবং উৎকৃস্ট। কারন নদীর পাড়ে গর্ত খুড়ে গলা পর্যন্ত ডুবে চাদ দেখার চাইতে এক ঘুষিতে গুন্ডা বাহিনীর পালের গোদার তিন চারটি দাত ভেঙে ফেলা বেশি কাংখিত।
হুমায়ুন ভক্তদের বড় সমস্যা তে আমার ঐ বন্ধু ভুগছে, তার জগতে হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া আর কেউ নেই সে আহমেদ ছফা কে চেনে না, চেনে না আহমেদ শরীফ কে, হুমায়ুন আজাদ ও তার অচেনা ,আর এগুনো বৃথা। এক মানসিক বৈকাল্য তাকে গ্রাস করছে অনবরত। আমি ক্লাস এইটে থাকতে হুমায়ুন সাহিত্যে ঢুকেছি ক্লাস টুয়েল্ভ -এ থেমেছি, মাঝখানে মোহে মেতে ছিলাম তার। এক সমরেশ পড়েই মোহ ভঙ্গ, পরের দিকে আর নাই বা গেলাম। হুমায়ুন আহমেদের লেখা বই গুলোর মধ্যে ৭/৮ টি বাদ দিলে বাকি সব বানিজ্যিক বই। যেগুলো তাকে লোকপ্রিয় করেছে। আর এক হুমায়ুন আজাদ চাইলে বছরে এমন জনপ্রিয় বাজারি ১ ডজন বই বের করতে পারতেন, ভাগ্যিস উনি সেই পথে হাটেন নি। আহমেদ ছফা তাকে নিয়ে বলেছিলেন-

“হুমায়ূনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের ইতিহাস
যাঁরা জানেন, তাঁদের অনেকেই তাঁর এই
উন্নতি বা অবনতির জন্য অংশত আমাকেই
দায়ী করতে চান। তাঁর প্রথম বই যখন
বেরিয়েছিল, আমিই সবচাইতে বেশি উচ্ছ্বাস
প্রকাশ করেছি। তখন আমার মনে হয়েছিল হয়ত
হুমায়ূনের মধ্যে কালে কালে আমরা চেখভের মত
একজন প্রতিভার সন্ধান পাব।
তিনি তো সে পথে গেলেন না।
উপর্যুপরি সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক
আকাঙ্ক্ষার পরাজয় সব
মিলিয়ে এখানে যে চিন্তাহীন অরাজক
পরিস্থিতি—হুমায়ূন সেই সময়ের প্রোডাক্ট।
অবশ্য হুমায়ূনের ব্যক্তিগত কামালিয়াত এটুকু
যে তিনি পাঠকদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন।
আমার প্রশ্ন, এটা কি স্থান? হুমায়ূনের
পরবর্তী সময়ের রচনা চানাচুরের মত।
খেতে মজা লাগে, কিন্তু পেট ভরে না এবং সার
পদার্থও বিশেষ নেই। (ছফা, স্মা., পৃ. ৬০)
এটা এক নিখুত মন্তব্য হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে। হুমায়ুন আহমেদ জনপ্রিয়তার দিকে ঝুকেছিলেন প্রচন্ডভাবে। তাই তিনি লোকপ্রিয়তা ধরে রাখতে উদ্ভট সব চরিত্র সৃস্টি করা শুরু করেন আর তা আমাদের মাথায় গেথে দেন। হুমায়ুন আজাদ তার এই সব উপন্যাস কে অপোন্যাস হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন-

” নিকৃস্ট লঘু অপোন্যাসের লোকপ্রিয়তা দেখে আঘাত পায় আমার উপন্যাসানুভূতি”

বলা বাহুল্য এখানে হুমায়ুন আজাদ হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাস কে ইঙ্গিত করে কথাটি বলেছেন। তো জনপ্রিয়তাই সব নয়, আমাদের হুমায়ুন আহমেদ পূজো দেবার আগে একটু ভাবা উচিত বলে মনে করি। উনি বানিজ্য করতে চেয়েছিলেন এবং পেরেছেনও তবে অবস্থা যা হচ্ছে তাতে হয়তো নুহাশ পল্লীতে কয়েক দিন পর তার মাজার বসবে হিমু আর রুপারা হবে ভক্ত, হুমায়ুন পত্নী শাওন হবেন প্রধান খাদেম।

৩৩ thoughts on “লোকপ্রিয় হুমায়ুন আহমেদ এবং কিছু অপ্রিয় কথা

  1. তবে উনার বাজারি বইগুলোর এই

    তবে উনার বাজারি বইগুলোর এই শক্তি অনেক আক্ষেপের জন্মও দেয়।

    :মানেকি: :মানেকি:

    …….হুদাই :মানেকি:

    1. যে আক্ষেপ টা ছফার ছিল। তার
      যে আক্ষেপ টা ছফার ছিল। তার বিরল প্রতিভা টাকার জন্যে যে তিনি বেচে দিয়ে হলুদ হিমু কালো র্যাব টাইপের বই লিখেছেন।

  2. সহমত আপনার সাথে। উনার প্রথম
    সহমত আপনার সাথে। উনার প্রথম দিকের সাহিত্যের সাথে পরবর্তী রচনা নিছক বিনোদন।
    আরও বিস্তারিত লিখলে ভাল হতো।

  3. হুমায়ুন আহমেদের লেখা বই গুলোর

    হুমায়ুন আহমেদের লেখা বই গুলোর মধ্যে ৭/৮ টি বাদ দিলে বাকি সব বানিজ্যিক বই।

    কথাটির সাথে দ্বিমত কারণ আমি যারা উনার লেখা পড়েছেন শুধু মাত্র তারাই বলতে পারবেন হিমু চরিত্র এবং মিসির আলী চরিত্র সম্পর্কে আপনি নিজেও অনেকদিন পড়েছেন বলে আপনার লিখায় উল্লেখ আছে কিন্তু আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি শুধুমাত্র পড়েই গেছেন কিচ্ছু বুঝেন নাই ।। আমি নিজে উনার হিমু চরিত্রের বিরাট ভক্ত এবং আমার মত হাজারো পাঠক তিনি তৈরি করে গিয়েছেন যারা বাস্তবে হিমু হওয়ার জন্য পাগল ।। আপনাকে একটি ব্যাপার অবশ্যই স্বীকার করতে হবে পাঠকদের বই পড়ার বিমুখতা অনেকখানি দূর করেছেন এই হুমায়ূন আহমেদ যা অবশ্যই আমাদের জন্য উপকারী একটা দিক ।।

    একদল যুবক হিমু সেজে আর মেয়েরা রুপা সেজে দল বেধে নুহাস পল্লী আর মোহনগঞ্জ যাবে, সুধু যাবেই না তারা উদ্ভট সব কর্মকান্ডও করে যাবে।

    আর পাগলামির কথা বলছেন বাকের ভাইয়ের নাটক দেখেছেন কিনা জানিনা যদি দেখে থাকেন তাহলে বাকের ভাইয়ের ফাঁসির কথা নিশ্চয় মনে আছে আর তার জন্য আন্দোলনের কথাও নিশ্চয় মনে আছে ।। সেদিনও মানুষ রাস্তায় নেমেছিলো চোখে কালো চশমা আর গাঁয়ে জ্যাকেট দিয়ে ঐদিন মানুষ পাগলামি করেছিলো কিন্তু সবাই সেই পাগলামিতে সামিল হয়েছিলো আজকেও হতে দেন মানা করেন কেনো কারণ হিমু এবং হুমায়ূনের জন্ম একবার হয়েছে বার বার হবেনা ।।

  4. পথিক দা, হিমু স্বত্ত্বা ধারন
    পথিক দা, হিমু স্বত্ত্বা ধারন করার যৌক্তিকতা কি? আপনি তো আর আতিমানবিক ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসেন নি। আর পারবেন পকেট বিহীন পাঞ্জাবী পড়ে ঢাকা শহর চক্কর দিতে ? আর তার লোকপ্রিয়তা সর্বজন স্বীকৃত।

    1. হিমু স্বত্বা ধারণ করার
      হিমু স্বত্বা ধারণ করার একমাত্র কারণ হিমুর ব্যবহার এবং তার কাজের প্রকৃতি যা মানুষকে অনেকখানি অনুপ্রাণিত করে বলে আমার মনে হয় আর অতিমানবিক ক্ষমতার কথা বলছেন ঐ ক্ষমতাটুকু বাদ দিলাম কিন্তু উপকার করার ক্ষমতা তো আছে সবার মাঝে ঐটুকু করলে তো অনেকখানি হিমু হওয়া যায় বলে আমার বিশ্বাস ।। আর দাদা

      হুমায়ুন আহমেদের গত জন্মদিনে এক বিচিত্র ব্যাপার চোখে পড়ল এবং পীড়াও দিল, সেটা হল তার ভক্তকূলের বিপুল পাগলামো! একদল যুবক হিমু সেজে আর মেয়েরা রুপা সেজে দল বেধে নুহাস পল্লী আর মোহনগঞ্জ যাবে, সুধু যাবেই না তারা উদ্ভট সব কর্মকান্ডও করে যাবে।

      বলেই দিয়েছেন আপনি এবং যারা হিমু সেজেছে ওরা মনে হয় খালি পায়ে হলুদ পাঞ্জাবি পড়েই পাগলামি করেছে ।। আমার আপনার কথা বাদ ই দিলাম আর একটা কথা হুমায়ূন আহমেদ তার লেখা চলে যায় বসন্তের দিন এই উপন্যাসে বলেছেন

      দু বছর আগে আমি কোলকাতা বইলেমায় গিয়েছিলাম । বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে মাত্র ঢুকেছি, হটাত ধিতি পাঞ্জাবি পড়া এক ছেলে আমাকে চমকে দিয়ে পা ছুয়ে সালাম করে বলল, দাদা আমি হিমু দেখুন আমার পাঞ্জাবি হলুদ । আমি বললাম হিমুরা তো খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি করে দেখি তোমার পা ।। সে সবগুলি পা বের করে তার খালি পা দেখাল ।। নিজের দেশে অনেক হিমুর দেখা পেয়েছি বিদেশে এই প্রথম খাঁটি হিমুর দেখা পেলাম ।। আমার ত্রিশ বছরের লেখালেখির ফসল যদি কিছু হিমু তৈরি হয় তাহলে তায় সই। আমি এতেই খুশি ।।

        1. একদম ঠিক আমি এই ব্যাপারটা
          একদম ঠিক আমি এই ব্যাপারটা বুঝাতে চেয়েছি উনার জনপ্রিয়তার জন্য আজ উনার সৃষ্টি চরিত্র মানুষের মাঝে বেঁচে আছে আর সেই চরিত্রের মাঝে বেঁচে আছেন তিনি ……

  5. বাস্তবতা বিচারে হিমুর চাইতে

    বাস্তবতা বিচারে হিমুর চাইতে জসিমের বস্তির রাজা অনেক লৌকিক এবং উৎকৃস্ট। –

    – একদম সহি কথা ।

    তবে অবস্থা যা হচ্ছে তাতে হয়তো নুহাশ পল্লীতে কয়েক দিন পর তার মাজার বসবে হিমু আর রুপারা হবে ভক্ত, হুমায়ুন পত্নী শাওন হবেন প্রধান খাদেম।

    – ভাই, কালবিলম্ব না করে বুকে আসেন । মনের কথাগুলো কইছেন । পোস্টখানা প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম । আপনার জন্য –
    :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. বাস্তবতা বিচারে হিমুর চাইতে

      বাস্তবতা বিচারে হিমুর চাইতে জসিমের বস্তির রাজা অনেক লৌকিক এবং উৎকৃস্ট। –

      রাহাত ভাই এটা আমিও লিখতে চাইছিলাম, ভুলে গেছি।
      হিমুর এমন ভাবালুতা দিয়ে লাভটা কি হয় !!!!

  6. ভালোই লিখেছেন তবে, কারো
    ভালোই লিখেছেন তবে, কারো সৃষ্টির বিরোধিতা না করে এবং সমালোচনা না করে বরং, নিজে এমন কিছু সৃষ্টি করে দেখান যাতে করে সবার মন কে আমূল প্রভাবিত করতে পারেন। একবার হলেও করে দেখান। পরের বাজনা ভাল না লাগলে, নিজের বাজনা বাজান অথবা সরে যান। পরের বাজনা বন্ধ করতে গেলে সেটা অন্যায় হয়ে যাবে, জেনে শুনে কেন অন্যায় করবেন। 🙂

  7. সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে
    সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। (-প্রমথ চৌধুরী) সেই কেউটা হুমায়ুন আজাদই হোক কিংবা হোক জাওয়াদ শুভ। এখানেই আমি হুমায়ুন আহমেদকে কৃতিত্ব দেব। তিনি সবার জন্যেই লিখেছেন। উঠতি বয়সের স্বপ্নালু ছেলেটার জন্যে হিমু। খানিকটা গম্ভীর আর ভাবালু মানুষটার জন্য মিসির আলি। কিংবা আমার মত পাঠকের জন্য “জোছনা ও জননীর গল্প” বা “কবি”।

  8. ভাই, আপনি সম্পুর্ণ যুক্তিহীন
    ভাই, আপনি সম্পুর্ণ যুক্তিহীন বিষয় অবতারনা করেছেন বলে আমার মনে হচ্ছে। তবে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করাটা যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে ঠিক আছে। আচ্ছা, হুমায়ূন আহমেদ কি কাউকে পায়ে ধরে সেধে বলেছিলেন “ভাই আমার বই নিজের পকেটের পয়সায় কিন্না পড়, আমি একটু হিট খাই, দুইটা পয়সা কামাই”? মনে হয় না। উনি যেভাবে লিখতে পছন্দ করতেন সেভাবে লিখেছেন। যার ভালো লেগেছে সে পড়েছে, যার লাগেনি সে পড়েনি। হুমায়ূন আজাদ সাহেবের কথা বলছেন? তিনিতো মিঃ পার্ফেক্ট। দুনিয়ার সবকিছু ওনার চোখে খারাপ। তবে লুকিয়ে লুকিয়ে দুই কিশোরীর সমকামিতার দৃশ্য দেখাটা ওনার বর্ননায় পবিত্র (সূত্র = ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল)। রবীন্দ্রনাথকেই তিনি মনে করতেন প্রাক-আধুনিক যুগের মাঝারী মানের রোমান্টিক কবি, হুমায়ূন আহমেদ কোন ছার? হুমায়ূন আজাদ সাহেব বলতে গেলে হুমায়ূন আহমেদকে গালি দেয়ার পর্যায়ে সমালোচনা করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ কি পালটা গালি দিয়েছিলেন? আমি কোথাও দেখিনি। বরং হুমায়ূন আহমেদ নিজেই অনেক যায়গায় হাস্যরস করে বলেছেন তিনি “হালকা মেজাজের অগভীর” লেখক।

    আহমেদ ছফা সাহেবের মন্তব্য ঈর্ষাপ্রসুত। মুয়ান্মার গাদ্দাফীর পয়সায় নিজের ভবিষ্যত গড়তে ব্যার্থ হয়ে টিয়া পাখি কাঁধে নিয়ে তিনি দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করেছিলেন। তাতেও ব্যর্থ হয়ে তিনি লেগেছিলেন হুমায়ূন আহমেদের পেছনে। তিনি বলেন নি, বাংলা সাহিত্যে সাইন্স ফিকশনকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যে Paranormal ধারার বিকাশের কৃতিত্বের দাবীদার তিনি। হাসন রাজার মত প্রতিভাকে আমরা যখন ভুলতে বসেছিলাম, তখন তিনি আবার তুলে এনেছেন হাসন রাজার গান তাঁর গল্প নাটকের মাধ্যমে। বাংলা সিনেমা যখন “বেদের মেয়ের জোছনা”র পর্যায়ে নেমে গেছে, জসীমরা যখন হলুদ/কমলা চিপা প্যান্ট পরে ফুলের বাগানে সম-আকৃতির নায়িকা নিয়ে নাচছে, তখন হুমায়ূন আহমেদ আমাদের উপহার দিয়েছেন “আগুনের পরশমণি”র মত ছায়াছবি। বিটিভিতে যখন পাকিস্তানী বলা যেত না, বলতে হত হানাদার বাহিনী, তখন তিনি উচ্চারন করেছিনলেন “তুই রাজাকার” যা আমাদের এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান।

    আপনি এমন একটা ধারনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন যে যারা হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে তারা অন্য লেখকদের বই পড়ে না। আপনার এই ধারনা একেবারেই ভুল। বই পড়াটা একেবারেই ব্যাক্তিগত ব্যাপার। সবাই জ্ঞানের জন্য পড়ে না। এটা ব্যাক্তিগত আনন্দের ব্যাপার। তাই আপনি অন্যের আনন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন না, চড়াও হতেও পারেন না। এক্ষেত্রে আমি জনাব মজনু শাহ ভাইয়ের সাথে একমত।

    ভালোই লিখেছেন তবে, কারো সৃষ্টির বিরোধিতা না করে এবং সমালোচনা না করে বরং, নিজে এমন কিছু সৃষ্টি করে দেখান যাতে করে সবার মন কে আমূল প্রভাবিত করতে পারেন। একবার হলেও করে দেখান। পরের বাজনা ভাল না লাগলে, নিজের বাজনা বাজান অথবা সরে যান। পরের বাজনা বন্ধ করতে গেলে সেটা অন্যায় হয়ে যাবে, জেনে শুনে কেন অন্যায় করবেন।

    কথা কি জানেন? আপনি যাই বলেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লিখতে গেলে হুমায়ূন আজাদ, আহমেদ ছফা যেমন থাকবেন, তেমনি হুমায়ূন আহমেদও তার “সস্তা অপোন্যাস” নিয়ে স্বদর্পে থাকবেন।

      1. আপনি সঠিক কর্মটি করেছেন|
        আপনি সঠিক কর্মটি করেছেন| হেসেছেন| আহমেদ ছফার কান্ড-কারখানা হাসার মতই| উনি যতনা লেখক, তার চেয়ে বেশী আঁতেল| না পড়ে থাকলে উনার লেখা পড়বেন| তবে খুব বেশী গুরুত্ব দেবেন না| নাতো কিন্তু ওনার মত কাঁধে টিয়া পাখি নিয়ে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরতে হবে! শুধু হুমায়ূন বিরোধিতা করার জন্য হুমায়ুনই পড়ে যাবেন তা ঠিক না| হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া অন্য লেখকদের সম্পর্কে পড়াটাও জরুরী| তাহলে বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে আপনার কিছুটা ধারণা জন্মাবে| যদি মাইন্ড না করেন তাহলে সময় পেলে বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখকের ও তাঁদের বইয়ের নাম দেব| পড়ে দেখবেন, ভালো লাগলেও লাগতে পারে|

  9. হুমায়ূন আহমেদ এমন একটা সময়
    হুমায়ূন আহমেদ এমন একটা সময় বাংলা সাহিত্যে এসেছিলেন যখন আমাদের দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের লেখকরা ।
    আমাদের সাহিত্য তখন রসাতলে
    গিয়ে ঠেকেছে ।
    ঠিক তখন আমাদের প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ আসলেন পাঠকদের বাংলা সাহিত্যে মনোনিবেশ
    করাতে ।
    তিনি সফল হয়েছিলেন বলেই আজ আমাদের দেশের মানুষ সাহিত্য প্রেমিক হয়েছে ।
    আমাদের দেশের অন্যান্য লেখকদের আমি খারাপ বলছিনা ।
    কিন্তু এটা বড়ই বাস্তব যে আমাদের দেশের অন্যান্য কবি সাহিত্যিকরা পাঠকদের মনে তেমধ গাঁথতে পারেনি যেমন পেরেছিন হুমায়ূন আহমেদ ।
    একটা কথা মনে রাখবেন ক্লাস নাইন-টেনের পোলাপাইন হুমায়ূন আজাদ,আহমেদ ছফার বই পড়েন না অথবা তারা জানেনা যে এই নামে লেখক আছে ।
    কিন্তু তারা জানে যে হুমায়ূন আহমেদ নামে একজন লেখক আছে যিনি মানুষকে আনন্দ দিতে ভালোবাসতেন,যিনি আমাদের বই পড়া শিখিয়েছেন ।।
    হুমায়ূন আহমেদ এতো ক্ষুদ্রভাবে বিশ্লেষণ করা অসম্ভব ।
    আপনি সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ।
    আপনি তো পুরাই জলন্ত জলিল ।

    ও আরেকটা কথা বলা হয় নাই-
    হুমায়ূন আজাদ এতোটাই নিকৃষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী ছিল যে তিনি নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে মানুষ বলে মনে করতেন না ।
    তিনি ছাড়া আর সবাই নাকি ছিল অদেশপ্রেমিক,দেশদ্রোহী,উগ্র
    মৌলবাদী ।
    তিনি কি বলছেন না বলছেন তা নিয়ে তার জন্য আমরা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসকে খাটো করে দেখবো ওতো বড় বোকা,মূর্খ আমরা হুমায়ূন ভক্তরা নই ।।

    1. আনন্দ পাওয়াই যদি সাহিত্যের
      আনন্দ পাওয়াই যদি সাহিত্যের মূল কথা হয় তবে আপনার কথা ঠিক আছে , কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল সাহিত্য নিছক আনন্দের জন্যে নয়। আর হুমায়ুন আজাদ নিয়ে আপনার মন্তব্য নিতান্তই যুক্তিহীন।

  10. সাহিত্য নিছক আনন্দের জন্য নয়
    সাহিত্য নিছক আনন্দের জন্য নয় তবে কিসের জন্য পুরোপুরি জ্ঞানের জন্য। জ্ঞান অর্জন করতে চাই পাঠ্যপুস্তক পড়েন। ঐখানে ব্যাপক আকারে জ্ঞানগর্ভ লেখা আছে।

    আর সাহিত্য কার কাছে কিরকম লাগবে সেটা নির্ভর করে সম্পূর্ন ব্যক্তিমনের উপর। আপনার কাছে একটা লেখা ভাল লাগতে পারে, আমার কাছে নাও লাগতে পারে। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের বই পড়তে শিখিয়েছেন। তিনি আমাদের তার বইয়ের মাধ্যমে, তার নাটক ছবির মাধ্যমে আমাদের বাস্তব জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর তিনি নিজেই বলেছেন উনি বাজারি লেখক। লেখালেখি করে তার জীবন চলে। একটা দু ঘন্টার নাটক লিখে তার যে টাকা পাবেন সেটা দিয়েই তার ঘরে চাল ডাল আসবে।

    আর আপনার একটা কথার সাথে একমত চ্যানেল আইয়ের স্যারকে নিয়ে ব্যবসা করা ঠিক হয় নি।

    1. উনি পড়তে শিখিয়েছেন এবং উনার
      উনি পড়তে শিখিয়েছেন এবং উনার অধিকাংশ ভক্ত এক উনাতেই আটকে গেছেন, লাভ কি হয়েছে? মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

      1. জ্বী না আটকে যাই নি। আমিও তো
        জ্বী না আটকে যাই নি। আমিও তো স্যারের লেখার একজন পাঠক। তবে এই নয় যে আমি অন্য লেখকের বই পড়ি না। যখন যেটা ভালো লাগে, সেটাই পড়ি। আসল কথা স্যারের লেখায় একটা মোহ আছে…যেটা আর কোন লেখকের নেই। মোহটা হচ্ছে স্যারের লেখা একটা শেষ হলে ঐ মোহের টানে আরেকটা পড়তে ইচ্ছে করে। এই মোহ তৈরী করাই তার সবথেকে বড় গুন, যেটা অন্য সবার থেকে তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে।

  11. অসাধারণ একটি পোস্ট।প্রশংসা না
    অসাধারণ একটি পোস্ট।প্রশংসা না করে পারলামনা।আসলে সত্য কথা বলতেকি আপনার মত কিছু জ্ঞ্যানী এবং সাহিত্য সমঝদার সমালোচক পাঠক না থাকলে আমার মত সাধারণ পাঠকরা উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট সাহিত্য সম্পর্কে ধারনাইবা পেতো কোথায় বলেন? হুমায়ুন আহমেদের লেখা যদি এতই ভালো হবে তবে আমার এলাকার মুচি থেকে শুরু করে আহমদ ছফা পর্যন্ত জ্ঞ্যানী গুনিরা তার লেখার এত সমালোচনাইবা করবে কেন?হুমায়ুন ভক্তদের তিরস্কার আপনার জন্য রইলো পুরস্কার। আসেন জাওয়াদ শুভ ভাই আপনার সাথে একটু কোলাকুলি করি। :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *