বাংলা চলচ্চিত্রের একটি নাতিদীর্ঘ ইতিহাস …




মা – বাবার কাছে শুনেছি ওনারা একসময় নিয়মিত সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতেন । বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল তখন সিনেমা । আর তখন ছিল পুরোপুরি বিটিভির যুগ । টিভিতে আফজাল – সুবর্নার নাটক আর সিনেমায় জাফর ইকবাল – ববিতার অভিনয় ওনাদের মন কেড়ে নিতো অহর্নিশ । তবে সিনেমায় যেভাবে ও যতো মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় টিভি প্রোগ্রামের কি সেই শক্তি আছে ! তখনো ছিলোনা এখনো নেই । বাংলা চলচ্চিত্র আমাদের সম্পদ । অথচ সেই সম্পদকে আমরা হারাতে বসেছি । কর্পোরেট পুঁজির সর্বগ্রাসী আঘাত আর সরকারী উদাসীনতা , খামখেয়ালীপনা , ঘুষ – দুর্নীতির কারণে বাংলা সিনেমা আজ মৃতপ্রায় । তবে আশার কথা হল পোড়া ধংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পও মাথা তুলে জেগে উঠছে ফের । বর্তমান সরকারের আমলে চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে । নেওয়া হয়ে নানা মুখী কর্ম পরিকল্পনা । সেসব বিষয়ে অন্যদিন আলোচনা হবে । আজ আমি জানাতে চাই বাংলা চলচ্চিত্রের একটি নাতিদীর্ঘ ইতিহাস ।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বলতে অবিভক্ত বঙ্গ (১৯৪৭ পর্যন্ত) থেকে শুরু করে পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালের পর স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বোঝায়।
পৃথিবীর অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও (তদানীন্তন পূর্ব বঙ্গ) ১৮৯০-এর দশকে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল। এই সূত্র ধরে এই অঞ্চলে ১৯০০-এর দশকে নির্বাক এবং ১৯৫০-এর দশকে সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন শুরু হয়। চলচ্চিত্র মঞ্চের উৎপত্তি ১৯১০-এর দশকে হলেও এখানে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে ১৯৫০-এর দশকেই। এখানকার সাংস্কৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খেতে চলচ্চিত্রের প্রায় ৫০ বছরের মত সময় লেগেছে। ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৮০টির মত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি পেতো। আর ২০০৪ সালের হিসাব মতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে বছরে গড়ে প্রায় ১০০টির মত চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। এ হিসেবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বেশ বড়ই বলা যায়, যদিও এশিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পে তা অনেকটাই উপেক্ষিত।

বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম বায়োস্কোপ প্রদর্শনী হয় কলকাতার ব্রেডফোর্ড বায়োস্কোপ কোম্পানির উদ্যোগে ১৮৯৮ সালের ৪ এপ্রিল বাকেরগঞ্জ জেলার ভোলা মহকুমার (অধুনা ভোলা জেলা) এসডিওর (অধুনা ডিসি) বাংলোতে। ১৭ এপ্রিল বায়োস্কোপ প্রদর্শনী হয় ঢাকায় পাটুয়াটুলীর ক্রাউন থিয়েটারে। ক্রাউন থিয়েটারের অস্তিত্ব এখন আর নেই। এই বায়োস্কোপের ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন চলচ্চিত্র ছিল। গবেষক অনুপম হায়াতের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, এই সব চলচ্চিত্রের মধ্যে ছিল মহারানী ভিক্টোরিয়ার জুবিলি মিছিল, গ্রিস ও তুরস্কের যুদ্ধ, তিনশত ফুট উঁচু থেকে প্রিন্সেস ডায়ানার লাফ, রাশিয়ার সম্রাট জারের অভিষেক, পাগলা নাপিতের ক্ষৌরকর্ম, সিংহ ও মাহুতের খেলা, ইংল্যান্ডের তুষারপাতে ক্রীড়া, ফ্রান্সের রাস্তাঘাট ও পাতাল রেলপথ ইত্যাদি। তখনও বায়োস্কোপের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্র দেখার জন্য সাধারণ দর্শকের টিকেটের ব্যবস্থা ছিল। টিকেটের দাম ছিল আট আনা থেকে তিন টাকা।

ঢাকার পাটুয়াটুলী ছাড়াও জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), ভিক্টোরিয়া পার্ক (বাহাদুর শাহ্ পার্ক), আহসান মঞ্জিল এবং ঢাকার বাইরে তৎকালীন মানিকগঞ্জ মহকুমার (অধুনা জেলা) বগজুরি গ্রামে, জয়দেবপুরে (অধুনা গাজীপুর জেলা) ভাওয়াল এস্টেটের রাজপ্রাসাদে, ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার (অধুনা শরিয়তপুর জেলা) পালং-এ বায়োস্কোপ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রাজশাহী শহরের বোয়ালিয়া জমিদার শরৎকুমার রায়ের বাড়িতে বায়োস্কোপ দেখানো হয় ১৯০০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে। স্থানভেদে টিকেটের দামের তারতম্য ছিল। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক হিন্দুরঞ্জিকা পত্রিকায় এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঢাকার আরমানিটোলার পাটের গুদাম থেকে নিয়মিতভাবে বায়োস্কোপ প্রদর্শনীর গৌরবের অভিযাত্রা সূচিত হয় ১৯১৩-১৪ সালে। পরে এখানেই নির্মিত হয় ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হল পিকচার হাউজ, যা পরে শাবিস্তান হল নামে রূপান্তরিত হয়।

কলকাতায় যে বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠিত হয়, তার মূল ভূমিকায় বাঙালিরা ছিল না। ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার (অধুনা জেলা) বগজুরী গ্রামের হীরালাল সেন (১৮৬৬-১৯১৭) দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠন করে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনী শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানিই বাঙালির প্রথম চলচ্চিত্র-প্রচেষ্টা। অবিভক্ত বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হীরালাল সেনের নাম স্বীকৃত। বিভিন্ন স্থানে অভিনীত নাটকের খণ্ডিত অংশের চিত্রায়ণ করে ১৯০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ক্ল্যাসিক থিয়েটারে প্রদর্শন করেন। সেই সময়ের সীতারাম, আলীবাবা, দোললীলা, ভ্রমর, হরিরাজ বুদ্ধ প্রভৃতি জনপ্রিয় নাটক পরিবেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বিশেষ অংশ ক্যামেরায় ধারণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রদর্শন করে তিনি বাঙালির চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রবল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেন। প্রামাণ্যচিত্র, বিজ্ঞাপনচিত্র এবং সংবাদচিত্র নির্মাণের পথিকৃৎ হিসেবেও হীরালাল সেন নমস্য ব্যক্তিত্ব।

১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত মুখ ও মুখোশ বাংলাদেশ (তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রথম স্থানীয়ভাবে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র।
১৯২৭-২৮ সালে ঢাকায় প্রথম চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। নওয়াব পরিবারের কয়েকজন তরুণ সংস্কৃতিসেবী নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র সুকুমারী। এর পরিচালক ছিলেন জগন্নাথ কলেজের তৎকালীন ক্রীড়াশিক্ষক অম্বুজপ্রসন্ন গুপ্ত। চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা ছিলেন খাজা নসরুল্লাহ ও সৈয়দ আবদুস সোবহান। উল্লেখ্য তখন নারীদের অভিনয়ের রেওয়াজ চালু হয়নি। নাট্যমঞ্চের নারীচরিত্রেও পুরুষেরাই অভিনয় করতেন।

নওয়াব পরিবারের উদ্যোগে ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানি গঠিত হয়। এর প্রযোজনায় অম্বুজপ্রসন্ন গুপ্ত নির্মাণ করেন নির্বাক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দ্য লাস্ট কিস। খাজা আজমল, খাজা আদিল, খাজা আকমল, খাজা শাহেদ, খাজা নসরুল্লাহ, শৈলেন রায় বা টোনা বাবু ছিলেন এই চলচ্চিত্রের অভিনেতা। তবে এতে নারীচরিত্রে নারীরাই অংশ নেয়। নায়িকা চরিত্রে ছিলেন লোলিটা বা বুড়ি নামের এক যৌনকর্মী। চারুবালা, দেববালা বা দেবী নামের আরও দুই যৌনকর্মী এতে অভিনয় করেন। হরিমতি নামে একজন অভিনেত্রীও এতে অভিনয় করেন। ১৯৩১ সালে এই চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ঢাকার মুকুল হলে (অধুনা আজাদ হল)। এর প্রিমিয়ার শো উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার (১৮৮৮-১৯৮০)। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (১৯৩৬-১৯৪২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ওবায়েদ-উল হক দুঃখে যাদের জীবন গড়া (১৯৪৬) প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন হিমাদ্রী চৌধুরী ছদ্মনামে। কলকাতায় চলচ্চিত্রটি নির্মিত হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশী কোনও মুসলিম পরিচালকের হাতে নির্মিত এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। উদয়ন চৌধুরী ছদ্মনামে ইসমাইল মোহাম্মদ নির্মাণ করেন মানুষের ভগবান (১৯৪৭) চলচ্চিত্রটিও। দেশভাগের পরে এঁরা ঢাকায় ফিরে আসেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ সৃষ্টি করেন। রাজধানী ঢাকায় চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান এবং স্টুডিও নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে নাজীর আহমদ (১৯২৫-১৯৯০) ইন আওয়ার মিডস্ট নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যা বাংলাদেশ-ভূখণ্ডের প্রথম তথ্যচিত্র হিসেবে স্বীকৃত।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরের বছর বছর সরকারি প্রচারচিত্র নির্মাণের জন্য জনসংযোগ বিভাগের অধীনে চলচ্চিত্র ইউনিট (১৯৫৩) গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালে এখান থেকে নাজীর আহমদের পরিচালনায় নির্মিত হয় প্রামাণ্য চিত্র সালামত।

নাজীর আহমদ একাধারে অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বেতারকর্মী ও লেখক। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি শিল্পী হামিদুর রহমান ছিলেন তাঁর সহোদর। ১৯৫৫ সালে নাজীর আহমদের উদ্যোগে ঢাকায় প্রথম ফিল্ম ল্যাবরেটরি এবং স্টুডিও চালু হয়। তিনি পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার প্রথম নির্বাহী পরিচালক হন। তাঁর কাহিনী থেকে ফতেহ লোহানী নির্মাণ করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র আসিয়া (১৯৬০)। নবারুণ (১৯৬০) নামের একটি প্রামাণ্য চিত্র। নতুন দিগন্ত নামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন নাজীর আহমদ।[৭]
১৯৫৪ সালে ইকবাল ফিল্মসের ব্যানারে এই ভূখণ্ডের প্রথম চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর কাজ শুরু করেন আবদুল জব্বার খান।

১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার খান পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম সবাক বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ মুক্তি পায়। পরিচালক নিজেই নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। নায়িকা চরিত্রে ছিলেন চট্টগ্রামের পূর্ণিমা সেন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন ইনাম আহমেদ, নাজমা (পিয়ারী), জহরত আরা, আলী মনসুর, রফিক, নুরুল আনাম খান, সাইফুদ্দীন, বিলকিস বারী প্রমুখ। চিত্রগ্রাহক কিউ.এম জামান, সুরকার সমর দাস, কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীম ও মাহবুবা হাসানাত এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধু, পরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি) উত্থাপিত বিলের মাধ্যমে পূর্বপাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (ইপিএফডিসি) প্রতিষ্ঠিত হলে এর সহযোগিতায় ১৯৫৯ সালে থেকে প্রতিবছর চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকে। ১৯৫৭ এবং ১৯৫৮ সালে এদেশে কোনও চলচ্চিত্র মুক্তি পায়নি। এফডিসি ছাড়াও পপুলার স্টুডিও, বারী স্টুডিও এবং বেঙ্গল স্টুডিও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিস্ফুটনে বিরাট ভূমিকা পালন করে।

এফডিসি প্রতিষ্ঠার পরে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক যোগ্য ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। ১৯৫৯ সালে ফতেহ লোহানীর আকাশ আর মাটি, মহিউদ্দিনের মাটির পাহাড়, এহতেশামের এদেশ তোমার আমার এই তিনটি বাংলা চলচ্চিত্র ছাড়াও এ.জে. কারদারের জাগো হুয়া সাভেরা উর্দু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দশকে নির্মিত ৫টি চলচ্চিত্রের প্রতিটিই নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিল্পমানে উত্তীর্ণ বলেই চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করেন। অর্থাৎ আমাদের চলচ্চিত্রের অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল শুদ্ধতার অঙ্গীকার নিয়েই। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত। বেবী ইসলামের তানহাও উর্দু ভাষার নির্মিত। এটি ১৯৬০ সালে সেন্সর সার্টিফিকেট পায় কিন্তু মুক্তি পায় কিন্তু মুক্তি পায় ১৯৬৪ সালে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যা কিছু প্রথম

* প্রথম বাঙ্গালি চলচ্চিত্র নির্মাতা, তথ্যচিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক: হীরালাল সেন

* প্রথম বায়োস্কাপ প্রদর্শনী: ১৭ এপ্রিল ১৮৮৯, ঢাকার ক্রাউন থিয়েটারে

* প্রথম প্রেক্ষাগৃহ: পিকচার হাউজ (শাবিস্তান), ঢাকা, ১৯১৩-১৪

* প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্র (নির্বাক): সুকুমারী (১৯২৭-২৮, পরিচালক-অম্বুজ গুপ্ত)

* প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র (নির্বাক): দি লাস্ট কিস বা শেষ চুম্বন (১৯৩১, পরিচালক-অম্বুজ গুপ্ত)

* প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র (সবাক): মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬, পরিচালক- আবদুল জব্বার খান)

* প্রথম তথ্যচিত্র: ইন আওয়ার মিডস্ট (১৯৪৮, পরিচালক- নাজীর আহমদ)

* প্রথম বাঙ্গালি মুসলমান চলচ্চিত্রকারঃ কাজী নজরুল ইসলাম- ধ্রুব (১৯৩৪)

* প্রথম বাঙ্গালি মুসলমান চলচ্চিত্র প্রদর্শক: মির্জা আবদুল কাদের সরকার, (লায়ন সিনেমা, ঢাকা)

* প্রথম বাঙ্গালি মুসলিম অভিনেত্রী: মিস রোকেয়া আহমদ (ওয়ান্ডারিং ড্যান্সার, ১৯৩০-৩১, লাহোর)

* সরকারী অনুদান প্রাপ্ত প্রথম ছবি – সূর্য দীঘল বাড়ি, পরিচালক – মসিহ উদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলি

* প্রথম নারী চিত্রপরিচালক: রেবেকা (বিন্দু থেকে বৃত্ত, ১৯৭০)

* প্রথম নারী সংগীত পরিচালক পরিচালক: ফেরদৌসী রহমান (রাজধানীর বুকে ছবিতে যৌথভাবে রবিন ঘোষের সঙ্গে, ১৯৬০)

* প্রখম চলচ্চিত্র পত্রিকা: মাসিক সিনেমা (১৯৫০)

* এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়: ৩ এপ্রিল, ১৯৫৭

* ফিল্ম আর্কাইভ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৮

* এফডিসির প্রথম ছবি: আসিয়া (৪ নভেম্বর ১৯৬০, পরিচালক ফতেহ লোহানী)

* প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র: সংগম (১৯৬৪, পরিচালক- জহির রায়হান)

* প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র: বাহানা (১৯৬৫,পরিচালক- জহির রায়হান)

* প্রথম আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত ছবি:
জাগো হুয়া সাভেরা (উর্দু), মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৫৯
সুতরাং (বাংলা), ফ্রাঙ্কফুট এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৬৫

* প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র: লাঠিয়াল (১৯৭৬)

(তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস-অনুপম হায়াত)

৪৩ thoughts on “বাংলা চলচ্চিত্রের একটি নাতিদীর্ঘ ইতিহাস …

  1. সোজা প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম আপু।
    সোজা প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম আপু। ইস্টিশনে স্বাগতম। সুন্দর পোস্ট করেছেন।

    স্টিক করা যেতে পারে। মডারেশন প্যনেল এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  2. ধন্যবাদ এমন তথ্যবহুল পোষ্টের
    ধন্যবাদ এমন তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য। :থাম্বসআপ: :তালিয়া: আরেকটু বিস্তারিতভাবে লিখলে ভালো হত। আমার মতে পোষ্ট স্টিকি হওয়ার যোগ্য।

  3. লেখাটি ছোট হলেও বাংলাদেশের
    লেখাটি ছোট হলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে চমৎকার একটি পোস্ট। ফেবু’তে শেয়ার দিলাম।

  4. বাঙলার চলচ্চিত্রের ইতিহাস
    বাঙলার চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে আসলেই সংগ্রহে রাখার মত একটা পোস্ট! মাস্টার সাব স্টিকি করবেন আশাকরি…
    আর প্রথম পোস্টে আপনি সবার নজর কেড়েছেন আপনাকে একরাশ :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: স্বাগতম…
    আশাকরি ভাল ভাল সব পোস্ট পাব!! ফিল্ম বিষয়ে বিশেষায়িত কোন ব্লগ না হয়েও ইস্টিশনেই চলচ্চিত্র সম্পর্কে সবচে ভাল আলোচনা হয়। মুভি দেখা দেখির জয় হোক…

  5. সংগৃহীত তথ্য হলেও বিষয়টিকে
    সংগৃহীত তথ্য হলেও বিষয়টিকে সাজানো, পিকচার আপলোড করা , শুরুতে নিজের কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং পরিশেষে বাংলা চলচ্চিত্রের যা কিছু প্রথম ইত্যাদির মধ্যদিয়ে পোস্টটি পূর্ণতা পেয়েছে । আপনাকে সাধুবাদ জানাই । প্রথম পোস্টেই বাজিমাত করলেন । প্রত্যাশা কিন্তু বেড়ে গেলো । আপনাকে পেয়ে ইস্টিশন আরও একজন সিমেনা বিষয়ক লেখক পেলো । নিয়মিত লিখবেন আশা করি ।

    আর একখান কথা । বাংলা চলচ্চিত্র’র আরও অনেক ব্যাপার কিন্তু বাদ রয়ে গেলো । যেমন ৭১ পরবর্তী সিনেমার উত্থান পতন বিষয়ে জানাবেন আশা করি ।

  6. স্টিকি করার জন্য ইস্টিশন কে
    স্টিকি করার জন্য ইস্টিশন কে একরাশ :ধইন্যাপাতা:
    স্টিকি করার আবেদন জানানোয় একরাশ :গোলাপ:

  7. অনেক তথ্যবহুল একটি পোষ্ট
    অনেক তথ্যবহুল একটি পোষ্ট ধন্যবাদ মাষ্টার সাহেবকে স্টিকি করার জন্য খুব ভাল লিখেছেন সবাই যা বলেছেন তাই বললাম ।। আপনাকে আর একটি জিনিস বলতে চাই সরকারি অনুদানে আরো একটি ছবি খুব শীঘ্রই মুক্তি পাচ্ছে আমাদের ইস্টিশন ব্লগে ছবিটার পোষ্টার দেওয়া আছে নাম জীবনঢুলী ।। অপেক্ষায় আছি ছবিটা দেখার জন্য আশা করি আপনিও দেখবেন ।। প্রথম লিখা স্টিকি অবশ্যই :পার্টি: চাই :নৃত্য: চাই

    1. আই মাস্ট গো ফর ইঞ্জয়িং ‘
      আই মাস্ট গো ফর ইঞ্জয়িং ‘ জীবনঢুলী ‘ । তানভীর মোকাম্মেল স্যার ইজ অন অফ মাই ফেবারেট ডিরেক্টর ইন বাংলাদেশ । আই হাভ লারন্ট মাচ ফ্রম হিম । আই’ম হাআংরিলি ওয়েটিং ফর দিস মাস্টারপিস :অপেক্ষায়আছি:
      ধন্যবাদ :ফুল:

  8. ইষ্টিশনে স্বাগতম এবং
    ইষ্টিশনে স্বাগতম :ফুল: :ফুল: :ফুল: এবং অভিনন্দন প্রথম পোস্টটিই স্টিকি হওয়ার জন্য। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: ভালো লিখেছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আপনি এক কমেন্ট ৩ বার করছেন
      আপনি এক কমেন্ট ৩ বার করছেন কেন ?
      :মানেকি:
      আমিও :ভাবতেছি:
      এইভাবে আপনার পিক শো করলে তো আমার প্রবলেম :দেখুমনা:

    2. সামনে জয়ের পরীক্ষা। তাই
      সামনে জয়ের পরীক্ষা। তাই ফেসবুক দেখায় দিচ্ছে এই পোলা পড়ালেখা বাদ দিয়া সারাদিন ফেসবুকে পইড়া থাকে। এইজন্য জয়ের পিকচার দেখায়। 😀

  9. চমৎকার বললেও কম বলা হবে…
    চমৎকার বললেও কম বলা হবে… :খাইছে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *