একজন আপাদমস্তক বাঙালী পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু স্মরণে


১ জানুয়ারি ১৮৯৪ – ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল গাণিতিক পদার্থবিদ্যা। কলকাতায় জন্ম নেয়া সত্যেন্দ্রনাথ শুধুমাত্র বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রবল সমর্থকই ছিলেন না, সারা জীবন ধরে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার ধারাটিকেও পুষ্ট করে গেছেন এই আপাদমস্তক বাঙালী বিজ্ঞানী। এই প্রসঙ্গে তাঁর অমর উক্তি,


১ জানুয়ারি ১৮৯৪ – ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল গাণিতিক পদার্থবিদ্যা। কলকাতায় জন্ম নেয়া সত্যেন্দ্রনাথ শুধুমাত্র বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রবল সমর্থকই ছিলেন না, সারা জীবন ধরে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার ধারাটিকেও পুষ্ট করে গেছেন এই আপাদমস্তক বাঙালী বিজ্ঞানী। এই প্রসঙ্গে তাঁর অমর উক্তি,

” যাঁরা বলেন বাংলায় বিজ্ঞান চর্চ্চা সম্ভব নয় তাঁরা হয় বাংলা জানেন না অথবা বিজ্ঞান বোঝেন না”।

বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা প্রসারের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান পরিচয় নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন নিরলস, কর্মঠ ও মানবদরদী মণীষী।
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারী উত্তর কলকাতার গোয়া বাগান অঞ্চলে স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুলের পাশে ২২ নম্বর ঈশ্বর মিত্র লেনে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম । তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ২৪ পরগণার কাঁড়োপাড়ার সন্নিকটে বড়োজাগুলিয়া গ্রামে । তাঁর পিতা সুরেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন পূর্ব ভারতীয় রেলওয়ের হিসাবরক্ষক এবং মাতা আমোদিনী দেবী ছিলেন আলিপুরের মতিলাল রায়চৌধুরীর কন্যা । কথিত আছে সুরেন্দ্রনাথ বসু খবরটা পেয়েছিলেন দেরীতে কারণ পূর্ব ভারতীয় রেলওয়ের হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতে করতে তাঁর হাঁফ ছাড়ার সময় ছিলো না। বংশের প্রথম নাতি কে কোলে তুলে নিলেন নানা মতিলাল রায়চৌধুরী। এক চিলতে হাসি রেখা ফুটে উঠলো তাঁর মুখে। মেয়েকে বললেন “আমোদ, তোর ছেলে দেখিস একদিন বিশ্বজয় করবে, বলে দিলাম আমি।” সত্যিই তিনি তাই করেছিলেন। সত্যেন্দ্রানাথ বসু তার সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার সাধারণ একটি বিদ্যালয়ে। যদিও পরে বাড়ীর কাছের নিউ ইন্ডিয়ান স্কুলে ভর্তি হন তিনি। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছাত্রজীবন নিয়ে অনেক বিস্ময়কর উপকথা প্রচলিত আছে। যেমন তিনি স্কুলে পড়বার সময় একবার গণিত পরীক্ষায় ১০০ তে ১১০ পেয়েছিলেন। এই অসম্ভব ব্যাপারটি কিভাবে ঘটল সেটা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গেল, তিনি প্রতিটি সমাধান সঠিকও তো করেছেনই, উপরন্তু একটার সমাধান করেছেন ২ টি ভিন্ন নিয়মে। ফলশ্রুতিতে মুগ্ধ শিক্ষক দু’বারই নম্বর দিয়েছিলেন। এরপর তিনি হিন্দু স্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাশে ভর্তি হন। সেখান থেকে১৯০৯ খৃষ্টাব্দে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেন এবং ভর্তি হোন প্রেসিডেন্সী কলেজে। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে আই.এস.সি পাশ করেন প্রথম হয়ে। এই কলেজে তিনি সান্নিধ্যে আসেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এবং আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র বসুর মতন যশস্বী অধ্যাপকদের । ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক এবং ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে একই ফলাফলে মিশ্র গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।


মহামতি আইনস্টাইনের সাথে এস এন বসু

এই সময়কালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠা করলে ১৯১৫ সালে তিনি সেখানে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। সেখানে তিনি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার সঙ্গে মিশ্র গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে যৌথভাবে গবেষণা শুরু করেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে রিডার হিসাবে যোগ দেন এবং ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তেজস্ক্রিয়তা নীতি ক্লাসিক্যাল পদার্থবিজ্ঞানের সাহায্য ছাড়াই প্রতিপাদন করে একটি গবেষনা প্রবন্ধ রচনা করেন এবং সদৃশ কনার সাহায্যে দশার সংখ্যা গণনার একটি চমৎকার উপায় উদ্ভাবন করেন। এই নিবন্ধটি ছিল মৌলিক এবং কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের ভিত্তি রচনাকারী। প্রবন্ধটি প্রকাশ করবার প্রাথমিক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বসু তা সরাসরি আলবার্ট আইনস্টাইনের নিকট প্রেরণ করেন যিনি প্রবন্ধটির গুরুত্ব অনুধাবন করে নিজেই তা জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন এবং বসুর পক্ষে তা Zeitschrift für Physik সাময়িকীতে প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে বসু ভারতের বাইরে গবেষণার সুযোগ লাভ করেন এবং দু’বছর ইউরোপে অবস্থান করে লুই ডি ব্রগলি, মেরি কুরি, এবং আইনস্টাইনের সাথে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন।


আইনস্টাইনকে লিখা পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সেই চিঠি

তিনি কী লিখেছেন দেখুনঃ
Physics Department
Dacca University
4th June, 1924

Respected Sir,

I have ventured to send you the accompanying article for your persual and opinion. I am anxious to know what you think of it. You will see that I have tried to deduce the coefficient 8piv2/c3 in Planck’s law independent of the classical electrodynamics only assuming that the ultimate elementary regions in the Phase-space has the content h3. I do not know sufficient German to translate the paper. If you think the paper worth publication, I shall be grateful if you arrange its publication in Zeitscrift fur Physik.

Though a complete stranger to you, I do not feel any hesitation in making such request. Because we are all your pupils though profiting only by your teachings through your writings…

Yours faithfully,

S.N. Bose

১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। বসু ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন এবং দেশবিভাগ আসন্ন হলে তিনি কলকাতায় ফিরে যান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে অবসর গ্রহণের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে এমেরিটাস অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ করে। ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি বিশ্বভারতীতে উপাচার্য হিসাবে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। ভারত সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত করেন১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে।

১৯২১ থেকে ১৯৪৫, ২৪ বছর তাঁর গবেষণার সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ সময়টিই তিনি বাংলাদেশে কাটিয়েছেন। আমি জানি না ঢাকা ইউনিভার্সিটি তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে কোন কিছু করেছে কিনা যেখানে আমরা আমাদের দেশে জনম নেয়া অমল কুমার রায় চৌধুরী, জগদীশ চন্দ্র বসু বা মেঘনাথ সাহার মত বৈজ্ঞানিকদেরকেই মূল্যায়ন করতে পারি নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে সত্যেন বসু অধ্যাপক (Bose Professor) পদ রয়েছে। কেবল মাত্র এই ব্যাপারটিই যথেষ্ট না। আমাদের উচিৎ এইসব মহান বৈজ্ঞানিকদের নামে কোন গবেষণাকেন্দ্র করে তাদের স্মরণ করা সাথে সাথে নতুন প্রজন্মকে গবেষণায় অনুপ্রাণিত করা, যেমন হার্ভার্ডের ‘বেল ল্যাব’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসু তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞান ও এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফির ওপর কাজ শুরু করেন। এছাড়া তিনি শ্রেণী কক্ষে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা পড়াতেন। ক্লাসে একদিন আলোকতড়িৎ ক্রিয়া ও অতিবেগুনি বিপর্যয় পড়ানোর সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বর্তমান তত্ত্বের দূর্বলতা বোঝাতে এই তত্ত্বের সঙ্গে পরীক্ষালব্ধ ফলাফলের ব্যত্যয় তুলে ধরেন। সে সময় তিনি ঐ তত্ত্ব প্রয়োগ করতে গিয়ে একটি ভুল করেন। পরে দেখা যায় তাঁর ঐ ভুলের ফলে পরীক্ষার সঙ্গে তত্ত্বের অনুমান মিলে যাচ্ছে! (বসু পরে তাঁর ঐদিনের লেকচারটি একটি ছোট নিবন্ধ আকারে Planck’s Law and the Hypothesis of Light Quanta নামে প্রকাশ করেন।)


মিট ম্যাক্স ভন ল এর সাথে এস এন বসু

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামানুসারে “Boson” Particle এর নামকরণ করা হয়। ইংরেজ তত্ত্বীয় পদার্থবিদ Paul Dirac এস.এন.বসুর স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক এই নামটি সুপারিশ করেন। কারণ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে এস.এন.বসু যে Bose–Einstein statistics ডেভেলপ করেন, তার উপর ভিত্তি করে elementary particles-এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত থিওরি প্রদান করা হয়েছিলো। তাই দুই প্রকার elementary particles-এর মধ্যে এক প্রকারের নাম রাখা হয়েছে Boson (Bose থেকে)। আরেক প্রকারের নাম হলো Fermion।

বসু-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান, বসু-আইনস্টাইন ঘনীভবন, বোসনের উপর গবেষণা করে ১৯৮৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন Carlo Rubbia এবং Simon van der Meer, ১৯৯৬ সালে David M. Lee, Douglas D. Osheroff, Robert C. Richardson, ১৯৯৯ সালে Martinus J. G. Veltman ও Gerardus ‘t Hooft, ২০০১ সালে Eric Allin Cornell, Carl Edwin Wieman এবং Wolfgang Ketterle) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বোসকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়নি। পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী পিটার হিগস ও বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কোইস অ্যাংলার্ট। ‘হিগস-বোসন’ কণার অস্তিত্বের ধারণা দেয়ায় তাঁদের এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। নোবেল কমিটি জানায়, অতিপারমাণবিক কণার ভর উৎপত্তি খুঁজতে গিয়ে ‘হিগস-বোসন’ বা ঈশ্বর কণার অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা দেয়ায় তাঁদের এই পুরস্কার দেয়া হল। ১৯৬০-এর দশকে এই দুই বিজ্ঞানীসহ একদল কণাতত্ত্ববিদ একটি মডেল প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে পরমাণুর কিছু প্রাথমিক কণার ভরের উৎস ব্যাখ্যা করা হয়। ওই মডেলে একটি কণার কথা বলা হয়, যার নাম রাখা হয় পিটার হিগস ও বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে। তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যার এই মত অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সবকিছুই ‘ভর’ পেয়েছে এই হিগস-বোসন কণার মাধ্যমে। এ কারণে এই কণার নাম হয়ে যায় ‘ঈশ্বর কণা’; তত্ত্বের সেই হিগস-বোসন কণা যে বাস্তবেও আছে- ২০১২ সালে তার প্রমাণ পাওয়া যায় ইউরোপের সার্ন গবেষণাগারে।

ঈশ্বরকণার অস্তিত্ব প্রমাণে আমাদের বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অবদান উপেক্ষিতঃ
সাম্প্রতিক পার্টিক্যাল ফিজিক্স বা কণিকা পদার্থবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণায় সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স বর্ডারে সার্ন ল্যাব একটি ব্যাপক পরীক্ষা করেন যা বিগ ব্যাং বিষয়ের গবেষণায় বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান বিশ্বের একটি অত্যন্ত আলোচিত। এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী গবেষণা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানী মহল এবং মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। এ গবেষণার মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য নিয়ে অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর জানা সম্ভব হবে।


সার্নের ট্যানেল, ১৫ মিটার লং LHC Cryodipole

প্রোটনের দুটি বিম ঘড়ির দিকে এবং ঘড়ির বিপরীত দিকে তাক করে সার্নের বিজ্ঞানীরা ছুড়ে দিয়েছেন ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে অবস্থান নেয়া ট্যানেলে। এ দুই বিপরীতমুখী বিমের যখন সংঘর্ষ হয় তখন ঘটে বিগ ব্যাংয়ের সময়কার পরিবেশ। এই পরীক্ষাটি কেবলই আলোড়ন সৃষ্টিকারী নয় ব্যাপক বিপদজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যেহেতু যেকোন বেগের এই সংঘর্ষ এ পরিবেশ অর্জন করতে সক্ষম নয় তাই ছুড়তে হবে আলোর প্রায় কাছাকাছি বেগে। সার্নের বিজ্ঞানীরা এ কাজটিই করেছেন। এ ধরনের প্রোটন বিমের সংঘর্ষের মাধ্যমে বিগ ব্যাং শুরুর সময়কার পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় বিজ্ঞানীরা অর্জন করবেন তা হচ্ছে নতুন নতুন কণা আবিষ্কার। তারা আশা করছেন হিগস-বোসোন নামক কণিকা আবিষ্কারের। এ হিগ বোসোন পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণিকা। এ কণিকাকে অনেকে মজা করে ঈশ্বরের কণিকাও বলে থাকেন। হিগস-বোসোন কণিকা নিয়ে গবেষণার দিক দিয়েও তাই এই গবেষণা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। The Large Hadron Collider (LHC) বা লার্জ হাড্রন কলাইডারের মাধ্যমে এ গবেষণা পরিচালিত করেছে ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ বা সার্নের বিজ্ঞানীরা। উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের বেশকিছু প্রশ্নকে সামনে রেখে ১৯৭১ সাল থেকে এই LHC-এর উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ২০০৮ সাল থেকে এই LHC-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। হিগ বোসোন হচ্ছে সৃষ্টির শুরুর সময়কার প্রাথমিক কণিকা। ২০১৩ সালের নোবেল প্রাইজ দেয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কি বলছে দেখুনঃ The Nobel Prize in Physics 2013 was awarded jointly to François Englert and Peter W. Higgs “for the theoretical discovery of a mechanism that contributes to our understanding of the origin of mass of subatomic particles, and which recently was confirmed through the discovery of the predicted fundamental particle, by the ATLAS and CMS experiments at CERN’s Large Hadron Collider”

১৯২৯ সালে সত্যেন বসু ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের পদার্থবিজ্ঞান শাখার সভাপতি এবং ১৯৪৪ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তিনি লন্ডনের রয়েল সোসাইটির ফেলো হন। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্স্টিটিউট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সত্যেন বসুকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক পদে মনোনীত করেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে দেশিকোত্তম এবং ভারত সরকার পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে বসু অধ্যাপক (Bose Professor) পদ রয়েছে। J V Narlikar কি বলছে দেখুন:

“S. N. Bose’s work on particle statistics (c. 1922), which clarified the behavior of photons (the particles of light in an enclosure) and opened the door to new ideas on statistics of Microsystems that obey the rules of quantum theory, was one of the top ten achievements of 20th century Indian science and could be considered in the Nobel Prize class.”

জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর (Jayant Vishnu Narlikar)


নিলস বোরের সাথে এস এন বসু

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চ্চার ক্ষেত্রে তার অমূল্য অবদান রয়েছে। তার নেতৃত্বে কলকাতায় ১৯৪৮ খৃষ্টাব্দে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদের মুখপাত্র হিসাবে বাংলা ভাষার বিজ্ঞান পত্রিকা জ্ঞান ও বিজ্ঞানপ্রকাশিত হয়। ১৯৬৩ খৃষ্টাব্দে জ্ঞান ও বিজ্ঞান এ কেবলমাত্র মৌলিক গবেষণা নিবন্ধ নিয়ে ” রাজশেখর বসু সংখ্যা” প্রকাশ করে তিনি দেখান, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের মৌল নিবন্ধ রচনা সম্ভব। বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত ও সাহিত্যেও ছিল তাঁর আন্তরিক আগ্রহ ও বিশেষ প্রীতি। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে নিজের বিশ্বপরিচয় বিজ্ঞানগ্রন্থ, অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁর জাপানে ভ্রমণরচনা ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর অর্কেস্ট্রা কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯৭৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এই মহান বাঙালী পদার্থবিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটে।


কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু

শেষকথাঃ
আজ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্মদিন। এদিকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের আজ নতুন বছর। নতুন বছরকে গত বছরের ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় যথাক্রমে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল। এই বয়সেই যদি আমরা তাদের কোমল মনে আমাদের দেশের বা বাঙলা ভাষাভাষী বৈজ্ঞানিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, কবি, সাহিত্যিক এবং চিত্রশিল্পী সহ সকল কীর্তিমানের জীবনের গল্প তুলে না ধরতে পারি তবে আমাদের সামনে আগানোর পথমসৃণ হবে না। বাঙলাই একমাত্র ভাষা যার অনেক গৌরব উজ্জ্বল বর্ণাঢ্য একটা সংগ্রামী ইতিহাস আছে। আজ আমার এই পোস্ট দেয়ার কারণ কোন বিতর্ক সৃষ্টি নয় বরং বিতর্কের অবসান ঘটানো। নতুন বছরে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। অনেক অনেক চটকদার এবং কার্যকর অনেক ইশতেহার হয়তো তারা দিয়েছে। আগের ধারাবাহিকতায় আমরা চাই দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা হবে একরকম। কারিকুলাম হবে এক এবং সার্বজনীন। কোন বর্ণ গোত্র ধর্মের জন্যে যেন সরকার বিশেষায়িত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতা না করে। কেননা শুধু এস এন বসু নন, জগদীশচন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও একই কথা মনে করতেন শিশুর শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিৎ মাতৃভাষা। নিজের নিকটাত্মীয়দের মাঝে কেউ ইংরেজি মিডিয়ামে অধ্যয়নরত থাকলে তাদের বুঝাবেন এবং কাউন্সিলিং করবেন। এই অনুরোধটুকু আমার থাকল সবার কাছে।

বাঙলার কীর্তিমানদের ইতিহাস পড়ুন, আগামীর প্রজন্মকে পড়তে দিন এবং তাদের প্রেরণা দিন মানুষের মত মানুষ হতে… এই কামনায় সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আবারও মহামতি সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সেই মহান উক্তিটি সবার জন্যঃ

“যারা বলেন বাংলায় বিজ্ঞান চর্চ্চা সম্ভব নয় তাঁরা হয় বাংলা জানেন না অথবা বিজ্ঞান বোঝেন না।”

তথ্যসুত্রঃ
ক) উইকিপিডিয়া
খ) বায়োগ্রাপি ডট কম
গ) নোবেল প্রাইজ ডট ওআরজি
ঘ) সার্ন ল্যাবের অফিশিয়াল সাইট

৪০ thoughts on “একজন আপাদমস্তক বাঙালী পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু স্মরণে

  1. অসাধারণ তথ্যবহুল এবং
    অসাধারণ তথ্যবহুল এবং পরিশ্রমলব্ধ একটি পোস্ট।পোস্টটি স্টিকি করার আবেদন জানাচ্ছি।

    কিছু সত্য তেতো হলেও হজমে সহায়ক হয়।তারিকভাইকে ধন্যবাদ কিছু বিষয় তুলে আনার জন্য।

    পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর শুভ জন্মজয়ন্তীতে তাকে বিনম্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

    1. শঙ্খনীল ভাই অফুরন্ত ধইন্যা…
      শঙ্খনীল ভাই অফুরন্ত ধইন্যা… ভাল থাকবেন!!
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ইমো দেখে ভেবেছিলাম
      ইমো দেখে ভেবেছিলাম ব্রহ্মপুত্র ভাই এখন দেখি আপনি!! কি দিন আইলো আতিক ভাই ও শুধু ইমো দিয়ে কমেন্ট দেয়।

  2. দারুণ পোস্ট! বাঙ্গালী এই মহান
    দারুণ পোস্ট! বাঙ্গালী এই মহান বিজ্ঞানীকে নিয়ে এর আগেও পড়েছি কিন্তু পোস্টটিতে অনেক কিছুই নতুন পেলাম। ধন্যবাদ লিংকনকে এতো শিক্ষামূলক একটি লেখার জন্য। :গোলাপ:
    সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামানুসারে “Boson” Particle এর নামকরণ করা হয়। ইংরেজ তত্ত্বীয় পদার্থবিদ Paul Dirac এস.এন.বসুর স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক এই নামটি সুপারিশ করেন। কারণ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে এস.এন.বসু যে Bose–Einstein statistics ডেভেলপ করেন, তার উপর ভিত্তি করে elementary particles-এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত থিওরি প্রদান করা হয়েছিলো। তাই দুই প্রকার elementary particles-এর মধ্যে এক প্রকারের নাম রাখা হয়েছে Boson (Bose থেকে)। আরেক প্রকারের নাম হলো Fermion।

    1. আপনার তথ্যও পোস্টের সাথে জুড়ে
      আপনার তথ্যও পোস্টের সাথে জুড়ে দিলাম। ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. বরাবরই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে
    বরাবরই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে পোস্ট দেন … সেই ধারাবাহিকতার স্মারক বহক করছে এই পোস্ট । যেহেতু কোমলমতিদেরও পড়ার জন্য উৎসাহিত করছেন সেহেতু লেখাটি আরও কোমল করে লিখলে ভালো হয় । আমার কাছে এই লেখার সবচেয়ে ভালো লাগা অংশ হোল এস এন বসুর পরীক্ষায় ১০০ তে ১১০ পাওয়ার ঘটনা । আমার মনে হয় এই ধরণের লেখায় উল্লেখযোগ্য কর্মের অধিক উল্লেখের চেয়ে কর্মী হয়ে ওঠার কঠোর সাধনার কাহিনী বেশি উদ্বুদ্ধ করবে মানুষকে।
    এ বছর আপনার কাছ থেকে বোমা ফাটানো পোস্ট চাই । ধন্যবাদ । হ্যাপি নিউ ইয়ার !

    1. বোমা কিন্তু ফাটিয়ে দিয়েছে এই
      বোমা কিন্তু ফাটিয়ে দিয়েছে এই পোষ্ট দিয়ে এখন শুধু দরকার বোমাটা যেন পারমাণবিক হয় অমানবিক না তাহলেই মানুষের বিস্তীর্ণ হ্রদয়জুড়ে স্থান করে নিতে পারবে ।। এই পোস্ট স্টিকি করার জোর দাবি জানাচ্ছি মাষ্টার সাবের কাছে …… সত্যেন্দ্রনাথ বসু:bow: তারিক ভাই :বুখেআয়বাবুল:

    2. রাহাত ভাই আমি বিশ্বাস করি না
      রাহাত ভাই আমি বিশ্বাস করি না এই লিখা কোন কোমলমতি পড়বে. আমার অনুরোধও ছিল আপনাদের কাছে যেন আপনারা বা আমরা নিজেদের নিকটাত্মীয়দের এইসব বুঝিয়ে বলি। আর কি যে বোম ফাটানোর কথা বললেন বুঝলাম নাআ। এইটাতো ভাই সংকলন আপনিও জানেন ইচ্ছা আমার আছে তাই কষ্ট করে সবার সামনে নিজেদের গর্বের যায়গাগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে চাই…
      আর আপনাদের প্রেরণা আর ভালবাসায় সব… ভাল থাকবেন রাহাত ভাই!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. বছর শুরুই হলো আপনার লেখা পইড়া
        বছর শুরুই হলো আপনার লেখা পইড়া … বুঝতে পারছি কোমর বাইন্ধা নামছেন এক্কেরে প্রথম দিন থিক্কা … ওই যে কয় না … Morning shows the day সকাল দেইখা দিন কেমন যাইবো বুঝা যায় … আপনার সাফল্য কামনা করছি … ফুলে – ফলে – সৌরভে ভরে উঠুক আপনার গোলা !!! এত্তগুলা :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

        1. তুই কোমল মতি? আমি কোমলমতি
          তুই কোমল মতি? আমি কোমলমতি বলতে পিএসসি-জেএসসি স্টুডেন্টদের কথা বুঝাইছি… আর যে এখনই বিয়া কইরা কোমলমতির পূর্বসুরি হতে চাই তাকে কি কোমলমতির কাতারে রাখা সাজে? জাতি জানতে চাই…

          1. আরেহ কোমল মতি বলতে মতিচুর
            আরেহ কোমল মতি বলতে মতিচুর রহমানরে বুঝানো হইছে… বুঝিস না ক্যান???

            এরপরও কি তুই নিজেকে কোমল মতির সাথে তুলনা করবি???

  4. ……অসাধারণ,তথ্যবহুল একটি
    ……অসাধারণ,তথ্যবহুল একটি পোস্ট।ধন্যবাদ তারিক ভাই।। :থাম্বসআপ:

    ……পোস্টটিকে স্টিকি করার আবেদন জানাচ্ছি।।

    ……এস.এন. বসু :স্যালুট: :স্যালুট:

  5. চমৎকার তথ্যবহুল একটি লিখা
    চমৎকার তথ্যবহুল একটি লিখা ।ধন্যবাদ লিংকন ভাই ।

    শুভ জন্মজয়ন্তীতে কীর্তিমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

    1. (No subject)
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. (No subject)
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  6. তারিক ভাই অসাধারণ তথ্যবহুল
    তারিক ভাই অসাধারণ তথ্যবহুল পোস্ট। আপনি এমন বিষয় গুলো তুলে আনেন যা আসলেই আমাদের নাড়া দেয়। শুধু রাজনীতির বাইরেই যে আগ্রহ সহকারে পড়ার মত পোস্ট থাকতে পারে আপনি, শঙ্খনীল ভাই, ডন, এবং অরফিয়ায় লেখায় মাঝে মাঝে পাওয়া যায়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোস চেয়ার নামে মনে হয় একটা সন্মাননা পদ আছে। এর বাইরে আমারা ওনাকে খুব বেশি সন্মান দেখতে পারিনি।
    ২০১২ সালে যারা নোবেল পেলেন ঈশ্বর কণা এর উপর গবেষণা করে। যেটা সম্পূর্ণ বোস থিয়রির উপর ভিত্তি করে। বিষয় টা এমন যে মরণোত্তর হলেও ওনাকে নোবেল দেয়া দায় ছিল। যাহোক যেখানে আমারা নিজেরাই সন্মান দেখাতে পারি না। ওনাদের কি বলি।

    লিংকন ভাই সত্যেন্দ্রনাথ বোসের কর্ম জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে আরও কিছু থাকলে ভাল লাগতো।

    এই লেখা অন্য কোন ব্লগে প্রকাশ না হয়ে থাকলে ইস্টিশন মাস্টারের কাছে স্টিকি করার আবেদন জানাই।

    1. ব্যক্তিগত জীবনের বাকি কিছু
      ব্যক্তিগত জীবনের বাকি কিছু আমার তেমন জানা নেই। যদি কেউ হেল্প করত আমি এড করে দিতাম। মিসিং ইলেকট্রন… সে নিশ্চিতভাবেই কিছু না কিছু নতুন তথ্য দিতে পারতো!! যাহোক আপনাকে অফুরন্ত ধন্যবাদ… ভাল থাকবেন…
      :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  7. আচ্ছা এই লেখা এখনো স্টিক হয়
    আচ্ছা এই লেখা এখনো স্টিক হয় নাই!!! অন্য কোন ব্লগে কি দিয়েছে নাকি ইস্টিশন মাস্টার সাহেব আমার জন্য ওয়েট করছিল। যাই হোক নো টেনশন। স্টিক করা হোক এই দাবী জানাই ।

    আপনি পারেনও এত ধৈর্য!! আপনাকে আর তাকে দুই জনকেই স্যলুট।

    (((( “ “যারা বলেন বাংলায় বিজ্ঞান
    চর্চ্চা সম্ভব নয় তাঁরা হয় বাংলা জানেন
    না অথবা বিজ্ঞান বোঝেন না।” )))

  8. “যারা বলেন বাংলায় বিজ্ঞান

    “যারা বলেন বাংলায় বিজ্ঞান চর্চ্চা সম্ভব নয় তাঁরা হয় বাংলা জানেন না অথবা বিজ্ঞান বোঝেন না।”

    এ ভ্যালুয়াবল পোস্ট ! প্রিয়তে কালেক্ট করলাম । থ্যাংকস টু তারিক লিংকন ।

  9. সত্যেন বোস প্রাশ্চাত্য
    সত্যেন বোস প্রাশ্চাত্য বিজ্ঞানী মহলে বরাবরই উপেক্ষিত। সম্ভাব্য কারণটা হয়তো তার জন্মপরিচয়। যেমনটা হয়েছিল আচার্য জগদিশচন্দ্র বসুর ক্ষেত্রে।

    অসাধারণ তথ্যবহুল পোস্ট… স্টিকি করার দাবী জানাই…

    1. সত্যেন বোস প্রাশ্চাত্য
      সত্যেন বোস প্রাশ্চাত্য বিজ্ঞানী মহলে বরাবরই উপেক্ষিত। সম্ভাব্য কারণটা হয়তো তার জন্মপরিচয়। যেমনটা হয়েছিল আচার্য জগদিশচন্দ্র বসুর ক্ষেত্রে।
      ঠিক বলেছ!! তবে এইবারের নোবেল কমিটির বক্তব্যের পর্যালোচনায় আবার ঘুরেফিরে সত্যেন বসুর নাম চলে আসে…

  10. বরাবর এর মত অসাধারন পোস্ট
    বরাবর এর মত অসাধারন পোস্ট বলব। আপনার মত এতো পরিশ্রম করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং এতো বিশ্লেষণ ধর্মী পোস্ট খুব কম ব্লগার রা দেই। অনেক তথ্যবহুল , এবং গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্ট এর জন্য :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    1. মোশফেক ভাই আপনাকেও অফুরন্ত
      মোশফেক ভাই আপনাকেও অফুরন্ত ধইন্যা… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *