রিপোর্টিং গণতন্ত্র

নিজস্ব গণতান্ত্রিক | ১৩/১৩/১৩ | গণতন্ত্রনগর:

আমি গণতন্ত্র বলছি। রিপোর্ট করছি, পড়ুন।
রিপোর্ট করছি। এখানে, গণতন্ত্রনগরে আজ উজ্জাপিত হবে,
‘পাঞ্চবার্ষিক গণতন্ত্র উৎসব’।

রিপোর্ট করছি, আমি গণতন্ত্রের দেবতা। পড়ুন।
আজ পাঁচ বছর পর আমার পূজো অর্চিত হবে।
মন্দিরের আঙ্গিনায় সব সাংবাদিকের লাইন ধরে দাড়িয়ে যান।
ক্যামেরা তাক করে রাখুন হাড়িকাঠে।
আমার জন্য আজ নরবলি হবে। লাল সুরা পান করব আজ আমি।



নিজস্ব গণতান্ত্রিক | ১৩/১৩/১৩ | গণতন্ত্রনগর:

আমি গণতন্ত্র বলছি। রিপোর্ট করছি, পড়ুন।
রিপোর্ট করছি। এখানে, গণতন্ত্রনগরে আজ উজ্জাপিত হবে,
‘পাঞ্চবার্ষিক গণতন্ত্র উৎসব’।

রিপোর্ট করছি, আমি গণতন্ত্রের দেবতা। পড়ুন।
আজ পাঁচ বছর পর আমার পূজো অর্চিত হবে।
মন্দিরের আঙ্গিনায় সব সাংবাদিকের লাইন ধরে দাড়িয়ে যান।
ক্যামেরা তাক করে রাখুন হাড়িকাঠে।
আমার জন্য আজ নরবলি হবে। লাল সুরা পান করব আজ আমি।
কারণ, আমি গণতন্ত্র; মহান দেবতা।

রিপোর্ট করছি। আজ আমি গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারকে দত্তক নেব।
সকল প্রজারা সরকার কিংবা রাজা নির্বাচন করবে আজ।
আজকে ‘পাঞ্চবার্ষিক গণতন্ত্র উৎসব’।

সার বেধে সব ক্যামেরাম্যানেরা দাড়িয়ে যান।
আমাকে ফেলে ক্যামেরা তাক করুন হাড়িকাঠে।
এই তো! বলি হয়ে গেল শততম জনের।
পাশে রক্তের নহর দেখার প্রয়োজন নেই। রক্তের উৎসব দেখুন।
আমি গণতন্ত্র, এক যুদ্ধবাজ দেবতা রিপোর্ট করছি। পড়ুন।
এখানে, এই গণতন্ত্রনগরে, সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু গণতন্ত্র।
তাই এখানে প্রতি সাংবাদিকদের আড্ডায় গণতন্ত্রের মানববন্ধন হয়।
পত্রিকায় বড় বড় কলাম ছাপে। মিটিং হয়। মিছিল হয়।
পাঁচবছর অন্তর গণতন্ত্রের মহোৎসব হয়।
তবু, গণতন্ত্র অধরাই।

রিপোর্ট করছি। পড়ুন।
এখানে সবচেয়ে বেশি লাশ পড়ে আমাকে তুষ্ট করতে।
এখানে বলি দেয়ার রীতি ভিন্ন।
বলি হোক পুড়িয়ে, রগ কেটে, জবাই করে;
বা স্লোগানের উদ্ধত হাতে, মিছিলের মাঝে সমুজ্জ্বল বুকে গুলি করে;
কিংবা সন্তান উৎপাদনের মানবিক আখ্যানকে অমানবিক করে তুলে।
তারা সবাই গণতন্ত্রের বলি। এই গণতন্ত্রনগর পুরোটাই এক বিশাল হাড়িকাঠ।

আমার সতীর্থ রিপোর্টারগণ,
আজ আমার অর্চনার দিনে, আমি নিজেই রিপোর্ট করছি। পড়ুন।
ক্যামেরা তাক করে রাখুন হাড়িকাঠে কিংবা
পাশে স্তূপীকৃত হয়ে থাকা নরমুণ্ডের ঝাঁকে।
ওরা সবাই গণতন্ত্রের বলি। এবার আমি নতুন কাউকে;
নতুন কোন গণতান্ত্রিক স্বৈরশাসককে দত্তক নেব।
তাকে শুভ বরণ করতে বলি হোক।
দু’চার-দশটি কিংবা দশ হাজারটি।

রিপোর্ট করছি। পড়ুন।
আমি রক্তলোভী দেবতা গণতন্ত্র বলছি।

৭ thoughts on “রিপোর্টিং গণতন্ত্র

  1. সার বেধে সব ক্যামেরাম্যানেরা

    সার বেধে সব ক্যামেরাম্যানেরা দাড়িয়ে যান।
    আমাকে ফেলে ক্যামেরা তাক করুন হাড়িকাঠে।
    এই তো! বলি হয়ে গেল শততম জনের।
    পাশে রক্তের নহর দেখার প্রয়োজন নেই। রক্তের উৎসব দেখুন।
    আমি গণতন্ত্র, এক যুদ্ধবাজ দেবতা রিপোর্ট করছি। পড়ুন।
    এখানে, এই গণতন্ত্রনগরে, সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু গণতন্ত্র।
    তাই এখানে প্রতি সাংবাদিকদের আড্ডায় গণতন্ত্রের মানববন্ধন হয়।
    পত্রিকায় বড় বড় কলাম ছাপে। মিটিং হয়। মিছিল হয়।
    পাঁচবছর অন্তর গণতন্ত্রের মহোৎসব হয়।
    তবু, গণতন্ত্র অধরাই।
    রিপোর্ট করছি। পড়ুন।
    এখানে সবচেয়ে বেশি লাশ পড়ে আমাকে তুষ্ট করতে।
    এখানে বলি দেয়ার রীতি ভিন্ন।
    বলি হোক পুড়িয়ে, রগ কেটে, জবাই করে;
    বা স্লোগানের উদ্ধত হাতে, মিছিলের মাঝে সমুজ্জ্বল বুকে গুলি করে;
    কিংবা সন্তান উৎপাদনের মানবিক আখ্যানকে অমানবিক করে তুলে।
    তারা সবাই গণতন্ত্রের বলি। এই গণতন্ত্রনগর পুরোটাই এক বিশাল হাড়িকাঠ

    পুরো কবিতাটাই কোট করতে ইচ্ছা করছিল… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মুগ্ধৈছি: অসাধারন … স্রেফ অসাধারন… :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ফুল: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *