“দাঁড়াও! আমি ঈশ্বরকে সব বলে দিচ্ছি।”

ইন্টারনেটজুড়ে বাক্যটি ঘুরে বেড়াচ্ছে-“দাঁড়াও! আমি ঈশ্বরকে সব বলে দিচ্ছি।”



ইন্টারনেটজুড়ে বাক্যটি ঘুরে বেড়াচ্ছে-“দাঁড়াও! আমি ঈশ্বরকে সব বলে দিচ্ছি।”
৩ বছর বয়সী এক সিরিয়ার বালকের শেষ কথা এটি। ক্যামেরায় তোলা তার শেষ ছবিটির বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয় কিন্তু ছবিটি সিরিয়ার ভেতরকার দুঃখ দুর্দশার বাস্তব অবস্থাকেই তুলে ধরে। অনেক মিডিয়াই হয়তো বলবে এটা ঘটছে কারণ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ নির্মম হত্যাকারী। সেটা অবশ্যই আংশিক সত্য। অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মতই তিনি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন এবং সেই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুৎখাত হয়ে রিফুজি ক্যাম্পে ঠাই নিয়েছে।
এখানেই কিন্তু শেষ নয়। এটি মার্কিন, ইজরায়েল এবং কাতার বা সৌদি আরবের মত অন্যান্য সুন্নি দেশগুলোর মধ্যে বিধ্বংসী অন্তর্দ্বন্দ্বের অনিবার্য ফল।আঞ্চলিক রাজনীতির কথা চিন্তা করেই সিরিয়ার জনগণ স্বৈরাচারী আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।যদি তারা সিরিয়াকে মুক্ত করতে পারে, ঐ অঞ্চলে ইরানের আধিপত্যকে ম্লান করে দিতে পারে।সমস্যা অবশ্য একটি জায়গায় রয়েছে। বাশার আল আসাদ এবং মার্কিন সরকার একজোট হয়ে যেহেতু আল কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তাই অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আল কায়েদা সিরিয়ার জনগণের পাশেই আছে। আসলে কিন্তু তা নয়।সিরিয়ার জনগণ এবং আল- কায়েদার রাজনৈতিক স্বার্থ পুরোপুরি আলাদা।বরং জনগণকে আল- কায়েদার রাজনৈতিক স্বার্থের বলি হতে হয়।

আরো একটি বিষয়, সিরিয়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক অস্ত্রগুলো আল- কায়দার নাকি সিরিয়ার সরকারের-সিরিয়ার জনগণ এই বিষয়ে কিছুই জানে না।

যখন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ে, রূপকথা থেকে বাস্তবতাকে আলাদা করা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। সিরিয়ার জনগণ বিশ্বের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছে না যে গণতন্ত্র সাম্রাজ্যবাদ নামক শিশুর চিৎকার ছাড়া আর কিছুই নয়।

রবার্ট ফিস্ক একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক। নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা বিশেষ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কঠোর সমালোচক। জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধাভিযানের সংবাদ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষতার সাথে তা পরিবেশনার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বর্তমানে লন্ডনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত।তিনি তার অভিজ্ঞতাকে ভাষা দেন এভাবে,

এবং মাহের আল আসাদের বিধ্বংসী ৪র্থ ডিভিশন দ্বারা দামাস্কাসের যুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং প্রায় সকল বাড়িই গুড়িয়ে দেওয়া হয় যা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।“এটি ছিল ব্যাপক মাত্রার মানবসংহার,গণহত্যা,” একজন সিরিয়ান সামরিক বিশেষজ্ঞ আমাকে তাই বলছিলেন। “ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখার কারণে মৃতদেহগুলো ফুলে উঠেছিল। কিন্তু তার মাঝেও বোঝা যাচ্ছিল কিছু মানুষ সিরিয়ান ছিল না; কেউ ছিল মিশরের, কেউ ছিল জর্ডানের, কেউ ছিল প্ল্যালেস্টাইনের, একজন তুরস্কের, একজন সুদানের। তিনি সত্তরটি মৃতদেহ দেখতে পান যাদের মধ্যে ৪২ জনই আরবের অধিবাসী ছিলেন না।এফ এস এ ( ফ্রি সিরিয়ান আর্মি)তাদের ২০ জন যোদ্ধার নিহতের কথা জানায় এবং তারা বলে যে নিহতদের মধ্যে ‘বিদেশি যোদ্ধা’ বেশি ছিল। এক তরুণ তো বলে ফেলল যে, সিরিয়ার সৈন্য তাদের ভাই সিরিয়ানদের গুলি করে না বরং তারা বিদেশিদের গুলি করে মারতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।সিরিয়া যুদ্ধের ক্ষয়- ক্ষতির বিষয়টি বিতর্কই থেকে যাবে,যুদ্ধের সময় উভয়পক্ষই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করবে; যখন যুদ্ধ শেষ হবে তখন নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলবে।না জানা যাবে বেসামরিক নিহতের সংখ্যা, না জানা যাবে তাদের হত্যাকারীদের আসল পরিচয়। মেজর এবং জেনারেলদের নজিরবিহীন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল যাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই যুদ্ধাপরাধ সংগঠনের অভিযোগ করে আসছে। এই সকল মেজর ও জেনারেলদের মাঝখানে মাত্র একজন অফিসারই সুন্নি অধ্যুষিত মুসলিম শহর ও গ্রামে নৃশংসতার সাথে জড়িত সাবিহা মিলিশিয়া অস্তিত্ব থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছিল। যদিও সেই অফিসারই আমাকে ‘ সাবিহা’ এর অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করেছিলেন। তিনি আরো বলেন যে , এটা কল্পনাপ্রসূত। কিছু ‘ গ্রামরক্ষী’ আছে যারা এলাকা পাহারা দেয়… এর বেশি কিছু নয়।”

(আই এ সি নলেজ ব্লগ অবলম্বনে)
লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে

৮ thoughts on ““দাঁড়াও! আমি ঈশ্বরকে সব বলে দিচ্ছি।”

    1. সভ্যতা কই এগুচ্ছে ভাই?
      সভ্যতা কই এগুচ্ছে ভাই? মানবিকতা যেখানে ভয়ংকরভাবে বিপন্ন, ইট- পাথর, বন্দুক,মর্টার সেলের সভ্যতা দিয়ে কি করব?

  1. আজ অ্যামেরিকা আর পাকিমনারা সব
    আজ অ্যামেরিকা আর পাকিমনারা সব চুপ অথবা সুশীল সেজে বসে আছে…
    সেইদিন আর বেশী দূরে নাই যদি শেখের বেটি এই জামাতকে নির্মূল আর হেফাজতকে লাইনে আনতে না পারে তবে ঐ সাম্রাজ্যবাদীরা এই বাঙলায়ও একই কাণ্ড বাঁধাবে!
    তখন বাঙালী নিজ কপালে ঝাঁটা মারবে…
    একাত্তর পরবর্তী সময়ে তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু সরকার যেই কাঠিন্যে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরোধিতা করেছিলো আজও অনেকটা একই কাজ করছে মহাজোট সরকার কিছুটা ব্যলেন্সড হয়ে যদি এইবার ফেইল করে তবে সামনে আমাদের সামনেও আফগান-সিরিয়া দশা অপেক্ষা করছে…
    সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক, মানবতা মুক্তি পাক..

    1. একাত্তর পরবর্তী সময়ে তাজ

      একাত্তর পরবর্তী সময়ে তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু সরকার যেই কাঠিন্যে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরোধিতা করেছিলো আজও অনেকটা একই কাজ করছে মহাজোট সরকার কিছুটা ব্যলেন্সড হয়ে

      তবে আপনি বলতে চাচ্ছেন মহাজোট সরকার ব্যালেন্সড হয়েই টিকফা চুক্তি করেছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *