৯ মাস এবং ৪২ বছর

কয়দিন আগে বিজয় দিবস গেল । বাসার ছাঁদে এত্ত বড় একটা পতাকা লাগিয়ে ছিলাম । পুরনো হয়ে গেছে পতাকাটা । সবুজ রঙটা একটু টিয়া কালার আর লাল বৃত্ত টা কমলা হয়ে গেছে । অনেক দিন তো উড়ল । ভেবেছিলাম পতাকাটা সবসময় যেমন পুরো ডিসেম্বর মাস টাঙ্গিয়ে রাখতাম , এবারও তাই করবো ।


কয়দিন আগে বিজয় দিবস গেল । বাসার ছাঁদে এত্ত বড় একটা পতাকা লাগিয়ে ছিলাম । পুরনো হয়ে গেছে পতাকাটা । সবুজ রঙটা একটু টিয়া কালার আর লাল বৃত্ত টা কমলা হয়ে গেছে । অনেক দিন তো উড়ল । ভেবেছিলাম পতাকাটা সবসময় যেমন পুরো ডিসেম্বর মাস টাঙ্গিয়ে রাখতাম , এবারও তাই করবো ।

একটা স্বপ্ন আমি প্রায় দেখি , বাহিরের দেশের ছেলেপেলে আমাদের দেশে আসবে পড়া শুনা করার উদ্দেশে । তারা আসবে , জানবে আমাদের সংস্কৃতিকে , জানবে আমাদের ধারা কে , দেখবে আমাদের প্রকিতিকে , অনুভব করবে আমাদের অতিথিপরায়ন প্রবনতাকে। স্বপ্নটা সত্যি করার প্রবনতা আমার একার পক্ষে সম্ভব না । যাদের দরকার তাদের এক জনের প্রুতি অন্য জনের মনোভাব ………আল্লাহ…

গতকালকের ঘটনা ,
-হাইকোর্ট চত্তর
-খালেদা জিয়ার বাসভবন

নতুন করে কিছু বলার নাই । সবাই সব কিছুই জানেন । কিন্তু কিছু কথা …
সৈয়েদ আশরাফুল ইসলাম এমপি … জাতীয় টিভিতে বললেন খালেদা জিয়ার কথা… “আর উনার সাজ সোজ্জা যা ছিলো ,মনে হলো যেন পার্টীতে যাচ্ছেন … হালকা গোলাপি শাড়ী আর যে সাজ… দেখে মনে হলো না যে আন্দোলনে যাচ্ছেন” … এক জন এম পি … তার মুখ থেকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রি সম্পর্কে এ কি ধরনের কথা ???!!!

যাই হোক আমার মনে হয় না এসব লোকদের কোন ক্লাস আছে । কিন্তু আমাদের দুই প্রান(!!) প্রিয় নেত্রিদের একের অন্নের প্রুতি যে শ্রদ্ধাবোধ তা আর নতুন করে কি বলার আছে……

হাদিস শরিফে একটা লাইন আমার হালকা হালকা মনে আছে …
“””তুমি তোমার প্রতিপক্ষকে লড়াইতে পরাস্ত কর। যুক্তি দিয়ে , বুদ্ধি দিয়ে ।
কিন্তু তাকে অপমান করবে না।
আর অন্য কাউকে অপমান করতে দিবে না।
সমকক্ষদের মধ্যে লড়াইতে যে কেউই জিততে পারে।”””

আপনারা যারা এই লেখাটি পরছেন আশা করি তারা বুজতে পেরেছেন আমি কেন এই কথাটা বললাম । বলার কোন উপায় রাখে নাই , একদল পতাকা হাতে, লাঠিতে বেঁধে ঢাকা যাত্রা করেছে দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে উদ্ধার করবে বলে।
অন্যদল পতাকা গালে, কপালে, গায়ে জড়িয়ে ঢাকা পাহারা দিচ্ছে দেশকে শত্রু আর হানাদারদের হাত থেকে রক্ষা করবে বলে।
আমি ভেবেছি পতাকা ৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরই অর্জিত হয়ে গেছে। সেইদিন বা আবার ও বিজয় দিবস হলে বুঝতে সুবিধা হত। দুই পক্ষই পতাকা নিয়ে মুখোমুখি।

এত সচেতন হলে ৭১ এ স্বাধীনতা অর্জন করতে ৯ মাস লাগার তো কথা নয়। কদিনেই ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারতাম পাক বাহিনীকে।

আসলে আমরা স্বার্থের বেলায় যতটা না বাংলাদেশি, দেশের বেলায় ততটা নই।
সত্যিকারের বাংলাদেশি হলে বারবার পতাকা দেখিয়ে প্রমানের কিছু নেই।

পতাকা বুকে ধারন করতে হয়…………এখন অবশ্য পতাকার অনেক গেঞ্জিও বের হইছে । কাল থার্টি ফাস্ট নাইটে অনেকেই দেখবেন তা ধারন করে সেই ৯ মাসের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবে ।

অবশেষে পতাকাটা আজকে আমি নামিয়ে ফেললাম । একটা নতুন পতাকা কিনব , যখন দেখব দেশের অবস্থা আমার পতাকার মত রঙচটা না …

২ thoughts on “৯ মাস এবং ৪২ বছর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *