শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সমীপে, আমাদের বাঁচতে দিন।

এই লেখা আপনাদের চোখে পরবে কিনা জানি না, আর পরলেও আপনাদের মোটা চামড়াতে কোন আঁচড় কাটতে পারবে কিনা সন্দিহান, তবুও একজন সাধারন জনগণ হিসেবে আমার মনের কথা জানা তো আপনাদের উচিত, আর আপনারা মানেন আর নাই মানেন, আমরাই মানে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।

এই লেখা আপনাদের চোখে পরবে কিনা জানি না, আর পরলেও আপনাদের মোটা চামড়াতে কোন আঁচড় কাটতে পারবে কিনা সন্দিহান, তবুও একজন সাধারন জনগণ হিসেবে আমার মনের কথা জানা তো আপনাদের উচিত, আর আপনারা মানেন আর নাই মানেন, আমরাই মানে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।
আপনাদের দুজন একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী হয়েছেন। আমাদের মত আমজনতার তুলনায় আপনাদের বিচার, বোধ ও বিবেচনা শক্তি প্রখর হবে তাই বিবেচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। পিতৃ ও পতিসুত্রে আপনারা দুজন দুইটি দলের প্রধানের আসন দীর্ঘ দিন থেকে দখল করে রেখেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে একটি বিষয় চর্চা করলে তাতে পারদর্শীতা অর্জন হয়। কিন্তু দুঃখের সাথে লক্ষনীয় আপনারা দীর্ঘ দিন রাজনীতিতে থেকে একাধিক বার ক্ষমতাসীন হয়েও রাজনীতি জানে না বা করেন না বা হয়ত পারেন না।
কারন আপনারা যা করছেন তা কে আর যায় বলুক রাজনীতি বলা যায় না। তবে হ্যাঁ অনেক ভেবে মনে হয়েছে আপনারা একদল লাঠিয়াল নিয়ে চর দখলে মত্ত আছেন দীর্ঘ দিন ধরে। আপনাদের দুজনেরই চাই বাংলাদেশ নামক চর। আর একারনে আপনাদের ন্যায় নীতি প্রজ্ঞা মায়া মমতা বলে কোন কিছুর আর অবশিষ্ট নেই। আপনারা দুইজন যে চরের দখল নিয়ে খুনো খুনিতে লিপ্ত সেখানে বসবাসরত প্রায় ষোল কোটি মানুষের আর কিছু দুপেয়ে হায়েনা বাইরেটা মানুষের মত যারা জামায়াত শিবির নামে পরিচিত ওদের ছাড়া কাউকে আপনারা মানুষ বলে মনে করার প্রয়োজন মনে করছেন না।
আপনারা গণতন্ত্রের নামে হিংসা আর নির্যাতন আর লুঠতন্ত্র চালাচ্ছেন। একেকবার আসেন ৫ বছরের জন্য দেশ সেই প্রতি পাঁচ বছর পিছিয়ে যায় আরো ১০ বছর। আপনারা দুইজনই দাবি করেন দেশের মানুষ আপনাদের সাথে আছে আদৌ কি আমরা কেউ আপনাদের সাথে আছি না আপনারা আমাদের সাথে আছেন? আমাদের কষ্ট, বেদনা বা কান্না কোনটাই আপনাদের কানে পৌছায় না। আপনারা কানে ঠুলি, চোখে রঙিন চশমা পড়ে বসে আছেন, দেশের কথা না ভেবে, দেশ সেবা না করে, আপনারা রাতদিন কিভাবে দেশকে ও দেশের মানুষকে নিপীড়ন করা যায় তাই ভাবেন। আপনাদের আবার এর জন্য লাগে ৫/৬ জন করে উপদেষ্টা।
আপনারা দুজনই জোর গলায় বলছেন জনগণ আপনাদেরই সাথে, আর তাই যদি মনে প্রানে বিশ্বাস করেন। তাহলে হাতের অস্ত্র ফেলে দেন। শেখ হাসিনা আপনি নির্বাচন করুন বি এন পি কে সাথে নিয়ে, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে। কারন আপনার বিশ্বাস কে পরোখ করে নেন। আর খালেদা জিয়া, আপনার দাবী জনগণ আপনার সাথে আছে তাহলে শেখ হাসিনার সরকার কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন করুক আর নাই করুক আপনি দেখিয়ে দেন চরের না না দেশের মানুষ আপনার সাথে আছে।
আপনারা দুজনই এ কাজ করবেন না জানি, কারন আপনারা দুজনেরই নিজেরদের উপর আস্থা নেই। আর নেই বলেই আপনারা কেউ এতটুকু ছাড় দিতে পারছেন না। আপনারা নিজেরা ভাল করে জানেন, কে কত টুকু দেশ ও দেশের মানুষের উন্নতিতে কি করেছেন। দেশের মানুষ কে কতটুকু মুল্যায়ন করেন মানুষ হিসেবে। তা আপনারা ভাল করেই অবগত আছেন বলেই কেউ ছাড় দিতে চাইছেন না বা পারছেন না। কর্মই মানুষ কে মুল্যায়ন করে। আপনারা নিজেদের কর্মে নিজেরাই সন্দিহান, তাই নিজেদের ক্ষমতায় পুনরায় প্রবর্তন যে কোন উপায়ে সিদ্ধি করতে পিছপা নন।
যে দেশ নিয়ে, ক্ষমতা নিয়ে কামড়া কামড়ি করছেন, দেশের সাধারন মানুষগুলিকে দিনের পর দিন জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের নোংরা খেলায় মেতেছেন, তাতে কত সাধারন মানুষের প্রান চলে যাচ্ছে, কত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে, কত মানুষ স্বজন হারা হচ্ছে, কত মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে, কত মানুষের চোখের নোনা জলই হয়ে উঠছে এক মাত্র সম্বল, কত সম্পদে বিনষ্ট হচ্ছে তা জেনেও না জানার ভান করছেন। নিজের দেশ কে ক্ষত বিক্ষত করে চলেছেন দিনের পর দিন। বাংলাদেশ কে সন্ত্রাসের জনপদ করে তুলেছেন আপনারা দুইজন।
মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন আপনারা। স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও হানাদার বাহিনীর করাল থাবা থেকে মুক্ত হতে পারিনি আমরা, শুধু মাত্র আপনাদের দুই দলের ক্ষমতার লোভের কারনে। আজ স্বাধীন বাংলার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে আপনাদের কারনে। রাজাকার, হানাদার, ৭১ এর খুনী লুটেরারা বারে বারে আপনাদের মদদে পুষ্ট হয়ে উঠেছে। আর তাদের এতো বাড় বেড়েছে আমাদেরই স্বাধীন দেশে তারা মিনি পাকিস্থানের নামে পতাকা ওড়াই। ধিক আপনাদের, যাদের টুঁটি আপনাদের একজোট হয়ে টিপে ধরার দরকার, সেখানে আপনারা তাদের সাহায্য করছে ও তাদের সাহায্য নিচ্ছেন। আর তারই জন্য আজ আবার পাকিস্থানি জারজ গুলা উন্মুক্ত হয়ে, নির্ভয়ে হামলা চালাচ্ছে সাধারন মানুষের উপর যারা এই দেশটাকে স্বাধীন করতে সর্বস্ব ত্যাগ করেছিল। আর সাধারন মানুষ সব কিছু ত্যাগ করেছিল বলেই আপনারা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছেন যাকে আপনাদের দলের কিছু মানুষ ছাড়া সবাই লুটে পুটে খাচ্ছে। আর শুধু খেয়েই ক্ষান্ত নন নিয়ে যাচ্ছেন ধ্বংসের দারপ্রান্তে।
আজ যাদের জোরে আপনারা ক্ষমতায় তাদের প্রতি সব থেকে অবজ্ঞা অবহেলা। তারা মরল কি বাঁচল তা নিয়ে ভাবিত নন আপনারা। সাধারন মানুষ কি ভাবে জীবন কাটাছে জানেন না কেউ। এই কারনেই কি আপনারা এসেছিলেন ক্ষমতায়? কি আপনাদের শান্তি কিসে হবে? কোন হবেন শান্ত? কবে বন্ধ হবে মৃত্যুর এই হলি খেলা?
খালেদা জিয়া আলাদা করে কিছু কথা আপনার জন্য, আপনি তো একজন মুক্তি যোদ্ধার স্ত্রী, স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী হয়ে আপনি কি করে মুক্তি যুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির স্বার্থে লিপ্ত, আপনার দল কেমন করে জামাতের বি টিম হয়ে কাজ করছে। আপনি কি জানেন আপনার তুমুল জনপ্রিয়তা আজ কোথায়? জামায়াত শিবির কে নিয়ে ক্ষমতায় আসার চিন্তা একটা অসুস্থ মনোবিকার ছাড়া আর কিছু না। আপনার দল দেশের অন্যতম বড় দল হিসেবে জনপ্রিয় ছিল, সেই দল কে আপনাদের মত মত মতলববাজ ক্ষমতা লোভীরা জামায়াত শিবির কে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে। জামায়াত শিবির কি আপনারা এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন কি করে। আপনি হাসিনা সরকার কে বিপদের ফেলার জন্য নিজে খারাপ হচ্ছেন। হাসিনা সরকার কত খারাপ বোঝাতে যেয়ে আপনি যে আরও খারাপ প্রমানিত হচ্ছেন তা কি বুঝতে পারছেন না, না চাইছেন বুঝতে, নাকি আপনার চার পাশে ঘিরে থাকা মানুষগুলি আপনাকে বুঝতে দিচ্ছে না।
ছোটবেলায় পড়াশোনায় বেশ ভালোই ছিলাম, তাই বেশি পড়তে চাইতাম না, একারনে আমার মা প্রায় বলতেন, ফেলে রাখলে ধারাল ছুরিতেও মরচে পড়ে যায়, আর দিনের পর দিন শান দিলে ভোঁতা ছুরিও ধারাল ও চকচকে হয়ে ওঠে। আপনি এতো দিন রাজনীতি চর্চা করেও ভোতা থাকলেন, সঠিক চর্চা কি করেন নি, আর তাই কি কিছু শিখলেন না। শিখলে তো দেশের মানুষ কে জিম্মি করতেন না, পাকিস্থানের তাবেদার হয়ে থাকতেন না, দেশ কে পাকিস্তান বানানোর জন্য জামাত শিবির কি সহায়তা দিতেন না। কি মনে করেন আপনারা ক্ষমতায় আসলে জামাত আপনাদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকবে? খুবই ভুল চিন্তা হবে সেটা, বরং জামাত আপনাদের বাই পাস করে ক্ষমতার মসনদে ছড়ি ঘোরাবে, আপনাদেরই ওদের আজ্ঞাবহ হয়ে বাকি জীবন কাটাতে হবে। অনুগ্রহ করে আমাদের কষ্টে অর্জিত দেশটাকে পাকিস্থান হতে সাহায্য করেন না।। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কিছু কাজ করলেই কেউ আপনার ক্ষমতায় ফিরে আসা ঠেকাতে পারবে না। দেশের মানুষের নিরাপত্তা, দুর্নীতি দমন, আইনের সঠিক প্রয়োগ, এই কটা কাজ কি খুবই দুরহ? কেমন করে এগুলা করতে হয় না জানলে বই পড়েন, বহিঃর বিশ্বের দিকে তাকান দেখেন শেখেন প্রয়োগ করেন, চাইলে গুগল সার্চ ও দিতে পারেন।
সকাল ১১টায় সমাবেশ ডেকে কি কারনে আপনি বেলা তিনটাতে বাড়ি থেকে বের হোন মানুষ কি বোঝে না আপনার চালাকি, সমাবেশ কি সিডিউল টাইমের চার ঘণ্টা পরে শুরু করতে চেয়েছিলেন, আপনি কি হেটে যেতে পারতেন না। আপনি জানতেন বাইরে সাংবাদিকরা ভিড় করে আছে আপনি যায় করবেন বা বলবেন তা তড়িৎ গতিতে পৌছে যাবে জন সাধারনের কাছে কিন্তু তাতে কি মিথ্যা সত্যি হয়ে যাবে? ক্ষমতায় আসার জন্য মানুষ কে না মেরে দেশ ধনসম্পদের ক্ষতি না করে দেশের উন্নতি তে নিয়োজিত হন। মানুষের জন্য দেশের জন্য কাজ করেন, জামায়াত শিবিরের জন্য এতো যে পরিশ্রম না করছেন, এর দশভাগের এক ভাগ যদি দেশ ও মানুষের কল্যাণ করতেন তাহলে দেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে আপনাকে সবাই মাথায় করে রাখত।
তাই সাধারন মানুষ কে মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে, তাদের দুর্ভোগের কারন না হয়ে তাদের কল্যানে নিয়োজিত হন। জনবিচ্ছিন্ন না থেকে জনগণের সাথে থাকুন, ন্যায়ের পক্ষে থাকুন, ছেঁড়া জুতা বা নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত মোজা যেমন মানুষ পা থেকে ছুঁড়ে ফেলে সে ভাবে জামায়াত শিবির কে ছুঁড়ে ফেলুন জনগণ আপনাকে আবার মাথায় করে রাখবে। আপনারদের অতীতের সব কর্মকাণ্ড হয়ত ক্ষমা করে দেবে, কারন জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আর পুড়িয়ে মারবেন না আমাদের, আর নিঃস্ব করবেন আমাদের পরিবারগুলোকে। ৭১এর পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশীয়ও দোসর রা হত্যা, খুন লুঠ ও ধ্বংসের যে পরিবেশ তৈরি করেছিল, আজ আবারও তাদের জন্য আপনারা আবার সেই পরিবেশ তৈরি করতে চলেছে, এর থেকে মুক্ত করেন আমাদের। আপনাদের হাতে, মানুষ, পশু, কল কারখানা, যানবাহন এমন কি গাছও নিরাপদ নয়। দয়া করে বন্ধ করেন আমাদের উপর পাশবিক-নারকীয় নির্যাতন।
শেখ হাসিনা এবার আপনার জন্য কিছু কথা, আপনার উপর জন মানুষের আস্থা ছিল অগাধ। এ কারনেই নিরাংকুশ ভোট পেয়েছিলেন সরকার গঠনের জন্য। আপনার প্রতি স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষের সমর্থন ছিল বরাবরই, আর আপনার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এই বিচার কেন্দ্র করে যুদ্ধাপরাধীদের অপতৎপড়তা, হামলা, খুন, লুঠ, জ্বালানো-পোড়ানো, সাধারন মানুষের জীবন অতিস্ট করে তোলা বন্ধ করতে পারেন নি। আপনার সরকারের নিষ্ক্রয়তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ৫ই ফেব্রয়ারীর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পর থেকে দেশে যে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, তা সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন, কিন্তু আপনার সরকার তা করেনি, বি এন পি জামাত জোটের নিচুতা প্রমানের জন্য আমাদের মত সাধারন মানুষ বিভিষিকাময় জীবনযাপন করছেন।
সেই সাথে আপনার ছাত্রলীগ তো কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। কোন নোংরামি আর বাদ রাখছে না তারা। হাইকোর্টের সামনে আপনার ছাত্রলীগের ছেলেরা পুরুষাঙ্গ দেখিয়ে হুমকি ধামকি দিতে কুন্ঠিত নয়, কি নির্মমভাবে একজন আইনজীবী মহিলা কে আপনার দলের ছেলেরা পেটাল তা কি আপনি দেখেছেন? দেখে থাকলে কি ব্যবস্থা নেবেন? আর কেনই বা এমন লজ্জাজনক ঘটনার জন্মদিল আপনার দলীয় ছেলেরা? আপনি একজন মহিলা হয়ে কি ভাবে দেখছেন এই বিষয়টি জানাবেন কি?
আর কত এবার ক্ষান্ত দেন, আমরা জানি জামায়াত শিবির কি? আর বি এন পি কি? আর আওয়ামি লিগ কি? দয়া করে সাধারন মানুষের ধরয্যের পরীক্ষা নিয়েন না। সাধারন মানুষই এদেশের স্বাধীনতার নায়ক তাদের অর্জিত দেশটা আর তাদের কে অবজ্ঞা করেন না। মানুষের কথা ভাবুন। অন্যায়কারি যেই হোক তাকে প্রতিহত করুন। দেশের মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা, তাদের জানমালের রক্ষার দায়িত্ব আপনার সরকারের, আর এই নিরাপত্তা দিতে আপনারা ব্যর্থ। আপনার এক তরফা নির্বাচন করা কি খুবই জরুরী? আপনার কি নিজের কাজের উপর আস্থা নাই। আপনার ও আপনার দলীয় ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড কি আপনাকে শঙ্কিত করে তুলেছে। আপনি ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতা কি করে ধরে রাখতে হয় এতো বছরের শেখেন নি। শেখেন নি দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর কর্মই আপনাদের বারবার ফিরিয়ে আনবে ক্ষমতার গদিতে। আপনার কেন ক্ষমতায় যেয়ে দেশের মানুষ কে ভুলে যান। আর ভুলে জান বলেই, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আমজনতার উপর বয়ে চলা নির্যাতনে আপনারা নিরব। এতো খুনের পরের আপনারা নিশ্চুপ, জামাত বি এন পির হাত থেকে মানুষ পশু কেউ রেহায় পাচ্ছে না। আর আপনারা তামাশা দেখছেন, এতো কিছুর পরেও জামাত কে নিষিধ করছেন না, পাকিস্থান কে বয়কট করছেন না। নাকি আপনাদের করা বিভিন্ন সময়ের অন্যায় দুর্নীতি আপনাদের কে স্থবির করে রেখেছে।
শেখ হাসিনা, আপনার সরকার কি একটি দুর্নীতিমুক্ত দল হয়ে দেশ কে দুর্নীতি থেকে রেহাই দিতে পারত না, আইনের শাসন প্রয়োগ করা কি খুবই কঠিন? সাধারন মানুষের জান মানের নিরাপত্তার বিধান কি খুবই কষ্টসাধ্য? দেশের উন্নতির জন্য বিভিন্ন কলকারখানা খোলা কি অসম্ভব? দেশ ও দশের কল্যাণ কি অকল্পনীয় কোন বিষয়? সহজ হলে আপনারা বারে বারে ক্ষমতায় এসে কেন করলেন না, আর কঠিন হলে কেন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এক তরফা নির্বাচন দিচ্ছেন? দেশের কাজ করবেন না শুধু দলীয় নেতা কর্মীদের সম্পদের পাহাড় বানানোর জন্য আর নাই বা ক্ষমতায় আসলেন। যদি আসতে চান মানুষের ও দেশের কল্যাণ করুন, বি এন পির নোংরা করা পথে কেন হাটছেন? এক তরফা নির্বাচনে কালিমা তো বি এন পির কপালে জ্বল জ্বল করছে, তাদের কালিমা লিপ্ত পথে হেটে কেন নিজেরাও কলঙ্কিত হচ্ছেন। আপনি তো ধারাল ছুরি ছিলেন, আপনার পিতার মত না হয়ে কেন দিন দিন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছেন? কেন সাধারণ মানুষের হাহাকার আপনাদের কানে যায় না। আপনি এতো আবেগশুন্য কি করে হলেন? এমন প্রধানমন্ত্রী তো আমরা চাই নি। আমাদের কথা না শুনলে দয়া করে আমাদের মুক্তি দেন।
২৯ ডিসেম্বরের সমাবেশে আসতে চাওয়া মানুষদের আপনারা গ্রেফতার করলেন তার মানে সমাবেশ অবৈধ্য, তাহলে যে এই সমাবেশের আয়োজক তাকে কেন গ্রেফতার করছেন না? বি এন পি, জামায়াত রাস্তায় বের হতে না পারলেও এই অবরোধ সমাবেশ সফল করলেন আপনি সরকারী ভাবে।
শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া আবার আপনাদের দুজন কে এক সাথে কিছু কথা, আপনারা দুজনই অনেক ক্ষমতা ভোগ করেছেন, কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের কথা মনে রাখেন না। কারন এ দেশে আপনারা খুব নিরাপদ ও সুরক্ষার মাঝে থাকেন। আপনাদের সন্তানরা বিদেশের মাটিতে নিরাপদে, আরাম ও আয়েশের মাঝে জীবন কাটাচ্ছে, আপনার অগাধ সম্পদ, আপনাদের হারানোর কিছু নেই। দেশের মঙ্গলের জন্য আপনারা কক্ষনো ঐক্যমত হন নি, দেশের স্বার্থে এক না হয়ে আপনারা দু দিকে হেটেছেন। দেশের উন্নতির চেয়ে ক্ষতিকর চুক্তি করেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বে যত সুনাম কুরিয়েছে, তার অধিকাংশ এদেশের সাধারন মানুষের ব্যক্তিগত অবদানের কারন। আমাদের চাকরির ব্যবস্থা আপনারা করেন না, আমাদের খাদ্যের সংস্থান করেন না, আমাদের পরিধেয় নিয়ে আপনাদের ভাবতে হয় না, আমাদের মৌলিক অধিকারের কিছু আপনারা মানেন না, আমাদের টা আমরাই করে নেয়, তার পরও কেন আপনারা এতো নিষ্ঠুর, কেন পারেন না মানবিক হতে?
আপনারা আমাদের উপর দয়া করুন, আর কত মানুষের লাশ চান, আর কত পরিবার কে নিঃস্ব করতে চান? আর কত মানুষের শেষ সম্বলটুকু ছিনিয়ে নিতে চান? আর কত মানুষ আর গৃহ পালিত পশুর পোড়া মৃত দেহ আপনাদের তৃপ্ত করবে? কবে আপনারা নিজ ও নিজ দল থেকে দেশ ও দেশের মানুষ কে বড় ভাব্বেন? কবে বন্ধ হবে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ? কবে আর সাধারন মানুষের রক্তে রঞ্জিত হবে না রাজপথ? কবে আমরা কাজ থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসব? কবেই বা নিজ গৃহে শান্তি তে ঘুমাতে পারবো? কবে আপনাদের মাঝে দেশের মানুষ ও দেশের জন্য মায়া মমতা অনুভূত হবে? কবে আপনারা আমাদের ও আমাদের দেশ কে হৃদয় দিয়ে ভালবাসবেন? কবে আমরা অবরোধ আর হরতাল থেকে মুক্তি পাব চিরতরে? আর এক দিন পরে নতুন বছর, দুজন নতুন করে দেশ কে ভালবাসুন, জামায়াত শিবির কে পতিহত করুন।
বেশি দূরে নয়, রাজনৈতিক দল গঠনের মাত্র একবছর ক্ষমতায় এসেছে আম আদমী পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লীর নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এথেকেও কিছু শিখতে পারেন। আপনাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কোন দিন এদেশের মানুষ না আপনাদের ছুঁড়ে ফেলে দেয়। সময় থাকতে শিক্ষা নিন। কারন আপনাদের কুকর্ম আপনাদের পিছু ছাড়বে না। শিক্ষা দেবে এই দেশের মানুষ যাদের ভোটে আসেছেন, তারাই দূর দূর করে দেবে।
এদেশের মানুষের সম্মান ও ভালবাসা ছাড়া আপনাদের সব কিছুর পরিমাণ অকল্পনীয়। এই দেশ আপনাদের দিয়েছে অঢেল। আপনাদের প্রতি সর্বচ ভালবাসা দিয়েছে এদেশের মানুষ, আপামর মানুষের অকৃত্তিম ভালবাসার মুল্যায়ন যিনি করবেন তিনিই ফিরে আসবেন ক্ষমতার মসনদে। তারজন্য এক তরফা বা চার তরফা নির্বাচন কোন বাঁধা হয়ে দাড়াবে না।

৮ thoughts on “শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সমীপে, আমাদের বাঁচতে দিন।

  1. কুইজ: খাতায় একটা রেখা আঁকা
    কুইজ: খাতায় একটা রেখা আঁকা আছে। সেটাকে কাটা যাবে না, মোছা যাবে না। স্পর্শ করা যাবে না। কিন্তু, তাকে ছোট করতে হবে। কীভাবে?

    উত্তর: সে রেখার পাশে আরও বড় একটা রেখা আঁকতে হবে।
    ————————
    আমাদের রাজনীতিটাও তেমন। অন্য দলকে ছোট করতে, তার চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধারের কোন প্রয়োজন নেই। তাদের চেয়ে বড় কিছু করে দেখাতে পারলেই হল। আমাদের রাজনীতিবিদদের কবে যে সেই বোধোদয় হবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *