একটি এ কে ৪৭ এবং একজন কালাশনিকভ এর গল্প ……


১৯৪৭-৪৮ তে তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী নকশার বন্দুককে একত্রে পরীক্ষা করা হয়। এতে ছিল এডি ৪১০ [Dementiev KB-P-410], এ বি ৪৭ [Bulkin TKB-415] এবং সকলের পরিচিত এ কে ৪৭ ।। এবি ৪৭ এর লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা একে ৪৭ থেকে বেশি হলেও সোভিয়েত সরকার দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং নির্ভরযগ্যতার কারনে একে ৪৭ কে তাদের পছন্দের রাইফেল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে । ১৯৪৮ এর মাঝামাঝিতে ইজমাশ কারখানায় শুরু হয় এর উৎপাদন যা কিনা এখন অব্দি পৃথিবীর বহু দেশে চলছে। হ্যাঁ আমি এ কে ৪৭ রাইফেলের কথা বলছি আর সেই রাইফেলের আবিষ্কারক হচ্ছেন মিখাইল কালাশনিকভ ।।


১৯৪৭-৪৮ তে তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী নকশার বন্দুককে একত্রে পরীক্ষা করা হয়। এতে ছিল এডি ৪১০ [Dementiev KB-P-410], এ বি ৪৭ [Bulkin TKB-415] এবং সকলের পরিচিত এ কে ৪৭ ।। এবি ৪৭ এর লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা একে ৪৭ থেকে বেশি হলেও সোভিয়েত সরকার দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং নির্ভরযগ্যতার কারনে একে ৪৭ কে তাদের পছন্দের রাইফেল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে । ১৯৪৮ এর মাঝামাঝিতে ইজমাশ কারখানায় শুরু হয় এর উৎপাদন যা কিনা এখন অব্দি পৃথিবীর বহু দেশে চলছে। হ্যাঁ আমি এ কে ৪৭ রাইফেলের কথা বলছি আর সেই রাইফেলের আবিষ্কারক হচ্ছেন মিখাইল কালাশনিকভ ।।

কালাশনিকভ জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯১৯ সালের ১০ নভেম্বর, পশ্চিম সাইবেরিয়ায়। জন্মেছিলেন একেবারে সাধারণ কৃষক পরিবারে। পুরো নাম মিখাইল কালাশনিকভ পিতাঃ টিমোফে কালাশনিকভ, মাতা আলেকজান্দ্রা কালাশনিকভ ।। কিশোর বয়স থেকেই কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন তিনি। রাইফেলের মতো আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করলেও আজীবন কবিতার সাধনা করেছেন কালাশনিকভ। ছোটবেলা থেকেই নিত্যনতুন উদ্ভাবনের দিকে ঝোঁক ছিল তাঁর। কিশোর বয়সেই প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে। ট্যাংক থেকে গোলা নিক্ষেপের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে সেনাবাহিনীতে তরুণ উদ্ভাবকের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন।

যে হাতে কলমে লেখা হয়েছিল শান্তির কবিতা, সেই একই হাত তৈরি করেছিল বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র একে-৪৭ ।। ২০০৯ সালে কবিতার ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন,

‘আমি ছাড়াও এখানে আরও খারাপ কবি আছেন। আমি একাই ভিন্ন পথে চলে গেছি।’

অক্টোবর ১৯৪১ সালে তিনি Battle of Bryansk যুদ্ধে আহত হন । হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি এমন একটি অটোমেটিক রাইফেলের নকশা করেছিলেন, যা সব পরিস্থিতিতে টেকসই হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে হবে বিধ্বংসী। প্রায় সাত বছরের পরিশ্রমে তিনি তৈরি করেন একে-৪৭। কালাশনিকভের সেই নকশা করা আগ্নেয়াস্ত্রটিই গত অর্ধশতাব্দীতে সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়ে আছে। চল্লিশের দশকে সে সময়কার সোভিয়েত ইউনিয়নের নকশাবিদ মিখাইল কালাশনিকভের কাছ থেকে বিশ্ববাসী পেয়েছিল ধ্রুপদি নকশার সহজলভ্য, শক্তিশালী আর পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই মারাত্মক এ আগ্নেয়াস্ত্রটি। ধ্রুপদি নকশার জন্য লন্ডনের ডিজাইন মিউজিয়াম ২০১১ সালে যেসব পণ্য নির্বাচন করেছিল, তার একটি ছিল একে-৪৭।।

কালাশনিকভ যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি উদ্ভাবন করেন, তা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহূত একটি আগ্নেয়াস্ত্র। তাই তাঁর নামেই এটির নামকরণ হয়েছিল । এর নকশাও খুবই সাদামাটা আর এটি তৈরি করতে খরচও খুব কম। এ ছাড়া অস্ত্রটির রক্ষণাবেক্ষণও সহজ। বিশ্বে বর্তমানে ১০ কোটিরও বেশি কালাশনিকভ রাইফেল বা এ কে ৪৭ রাইফেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ রাইফেল আবিষ্কারের জন্য কালাশনিকভ তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে “রায়” সম্মান পান। কিন্তু এ থেকে তিনি আর্থিকভাবে খুব বেশি লাভবান হননি। এই অটোম্যাটিক রাইফেলের গঠনের বৈশিষ্ট্য হল তার ব্যবহারের সহজ উপায়, খুবই ভরসা করার মতো ও বহুদিন ধরে একটানা ব্যবহার করার মতো ক্ষমতা. আমাদের দেশের ও বাইরের দেশের সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই স্বীকার করেছেন “একে-৪৭” বিংশ শতকের সেরা অস্ত্র বলেই।।

মিখাইল কালাশনিকভ তিনটি স্মৃতি কথা নিয়ে আত্ম জীবনীর বই লিখেছেন. “অস্ত্র তৈরী করা লোকের ডাইরি” (১৯৯২), “অন্যের উঠান থেকে বিখ্যাত স্পাসকি তোরণ অবধি” (১৯৯৭) এবং “আমি আপনাদের সঙ্গে একই রাস্তায় চলেছি” (১৯৯৯). একে-৪৭-এর মতো ভয়ংকর অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে দেখে দুঃখ পেয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন,

‘আমার তৈরি অস্ত্র দিয়ে যখন সন্ত্রাসীদের গুলি চালাতে দেখি, তখন কষ্ট পাই।’


২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেলের উদ্ভাবক মিখাইল কালাশনিকভ। ৯৪ বছর বয়সে রাশিয়ার উদমুরত প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ইজহভস্কে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বিশ্বখ্যাত স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের এই নকশাবিদ। কর্মে আগ্রহী মিখাইল কালাশনিকভ এমনকি প্রবীণ বয়সেও কাজ করে গিয়েছেন. তিনি তাঁর জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ““ইঝমাশ” অস্ত্র নির্মাণ কনসার্নের” মুখ্য অস্ত্র নির্মাতা ছিলেন.

এ কে ৪৭ রাইফেলের সম্পর্কে কিছু ধারনা এবং অজানা কিছু কথা
একে ৪৭
প্রকৃতিঃ অ্যাসাল্ট রাইফেল
উৎপত্তিস্থলঃ সোভিয়েত ইউনিয়ন
নকশাকারঃ মিখাইল কালাশনিকভ
প্রস্তুতকারকঃ ইযহমাশ
ওজনঃ ৪.৭৮ কেজি
দৈর্ঘ্যঃ ৩৫-২৫ ইঞ্চি
ব্যারেলের দৈর্ঘ্যঃ ১৬.৩ ইঞ্চি
কার্তুজঃ ৭.৬২x৩৯ মিমি
কার্যকরণঃ গ্যাস দ্বারা পরিচালিত, ঘূর্ণায়মান বোল্ট
গুলির হারঃ স্বয়ংক্রিয় অবস্থায় ৬০০ রাউন্ড
গুলির বেগঃ৭১৫মিটার/মিনিট
কার্যকরী রেঞ্জঃ ৩৫০ মিটার
ম্যাগাজিনঃ হ্যাঁ
গুলি ধারন ক্ষমতাঃ ৩০ , ৭৫, ১০০

১।একে-৪৭ রাইফেলটিতে মাত্র আটটি নড়াচড়া করানো সম্ভব এমন অংশ রয়েছে। এই রাইফেলটির অংশগুলো খুলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই তা আবারও জোড়া লাগানো সম্ভব। অস্ত্রটি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশেও ব্যবহার করা যায়।
২।২০০৪ সালে বিশ্বকে বদলে দিয়েছে এমন ৫০টি পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছিল প্লে বয় ম্যাগাজিন, যেখানে স্থান করে নিয়েছিল একে-৪৭।
৩।একে-৪৭ নিয়ে বিখ্যাত হয়েছে অনেক গান। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন র্যাপ গায়ক লিল ওয়েনের একে-৪৭ গান্টি অনেক জনপ্রিয় ।
৪।ধ্রুপদি নকশার জন্য লন্ডনের ডিজাইন মিউজিয়াম ২০১১ সালে যেসব পণ্য নির্বাচন করেছিল তার একটি ছিল একে-৪৭। বিশ্বে বর্তমানে ১০ কোটিরও বেশি কালাশনিকভ রাইফেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
৫।মোজাম্বিকের জাতীয় পতাকায় দেশটির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে কালাশনিকভ রাইফেল।
৬। জনপ্রিয়তার জন্য এই রাইফেল “গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে” জায়গা পেয়েছে. বিশ্বে এই ধরনের অস্ত্র রয়েছে ১৫ কোটির চেয়েও বেশী ।।

৪১ thoughts on “একটি এ কে ৪৭ এবং একজন কালাশনিকভ এর গল্প ……

    1. অদিতি ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নাই
      অদিতি ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নাই কারণ বুলেট পকেটে নিয়ে আমি লিখাটা লিখেছি সুতরাং নিশ্চিন্তে মনে থাকেন আর অবশ্যই পড়ার জন্য :ধইন্যাপাতা: খান 😀 :নৃত্য:

  1. ১. এর নাম করণের ইতিহাস পেলাম
    ১. এর নাম করণের ইতিহাস পেলাম না।
    ২. পোষ্টের এক জাগায় লিখেছেন ১০ কোটি। শেষে লিখলেন ১৫ কোটি। ৫ কোটি পার্থক্য!! কোনটা সঠিক?
    ৩. এলসিডি গান শটের ব্যাপারটা বুঝলাম না!

    সব মিলিয়ে চমৎকার তথ্য ও চিত্রবহুল পোষ্ট! 🙂

    1. প্রলয় ভাই এর নাম করণের ইতিহাস
      প্রলয় ভাই এর নাম করণের ইতিহাস দেওয়া আছে

      কালাশনিকভ যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি উদ্ভাবন করেন, তা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহূত একটি আগ্নেয়াস্ত্র। তাই তাঁর নামেই এটির নামকরণ হয়েছিল । এর নকশাও খুবই সাদামাটা আর এটি তৈরি করতে খরচও খুব কম।

      আর পেপার এবং উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেওয়া ১০ এবং ১৫ কোটি ।। এলসিডি গান শটের ব্যাপারটা লেখার মধ্য আমার চোখে পড়ল না এবং এই ধরনের কোন তথ্য ইন্টারনেটে পেলাম না ।। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য :বুখেআয়বাবুল: :ভালুবাশি:

    1. মোবাইলে থেকে ভাল মত কিছু দিতে
      মোবাইলে থেকে ভাল মত কিছু দিতে পারছি না কাল পিসি থেকে জানাবো অনুভুতি কেমন জয় দা :মুগ্ধৈছি:

    2. জয় দা আমি ইস্টিশনে আছি প্রায়
      জয় দা আমি ইস্টিশনে আছি প্রায় ৮ মাস হয়ে যাচ্ছে বলা যায় অনেকদিন এবং অনেকটা শখের বসে লিখি কিন্তু যখন দেখি কেউ আমার লিখা পড়ে এবং ভাল/খারাপ কিছু সমালোচনা করে তখন আসলেই ভাল লাগে এবং মনে হয় লিখাটা স্বার্থক হয়েছে ।। আর স্টিকি হওয়ায় আসলেই অনেক ভাল লাগছে এবং আপনাদের সবার একটি করে আর ইস্টিশন মাষ্টার সাহেবের ২টি লজেন্স পাওনা রইল …… :ভালুবাশি: 😀 :বুখেআয়বাবুল:

    1. এমন একটা পৃ্থিবী চাই যেখানে
      এমন একটা পৃ্থিবী চাই যেখানে সন্ত্রাসী নামক কোন জানোয়ার কিংবা মানুষখেকো থাকবে না তাহলেই এ কে ৪৭ অথবা পারমাণবিক বোমা কোন কিছুরই দরকার হবেনা ।। ধন্যবাদ মন্তব্যর জন্য :বুখেআয়বাবুল: :ফুল:

  2. নতুন অনেক কিছুই জানলাম।
    নতুন অনেক কিছুই জানলাম। আপনাকে ধন্যবাদ। :থাম্বসআপ: ইষ্টিশন মাষ্টারকেও স্পেশাল থ্যাঙ্কস এই রকম ভিন্নধর্মী তথ্যবহুল পোস্ট স্টিকি করে নবীন লেখকদের উৎসাহ প্রদানের জন্য।

    1. দিলেন তো আমারে চিন্তায় ফেলে
      দিলেন তো আমারে চিন্তায় ফেলে আমার যতদূর ধারণা এ দিয়ে অ্যাসাল্ট হবে কারণ এটি অ্যাসাল্ট রাইফেল প্রকৃতির রাইফেল সুতরাং এ দিয়ে অ্যাসাল্ট এবং কে দিয়ে কালাশনিকভ আর দুইয়ে দুইয়ে ৪৭ হয়ে গেলো এ কে ৪৭ 😀 ধন্যবাদ মন্তব্য এবং প্রশ্নের জন্য :নৃত্য:

        1. কি আর করবো বলেন আপনি যদি আবার
          কি আর করবো বলেন আপনি যদি আবার প্রশ্ন করে বসেন ৪৭ কেনো তাই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটাও দিয়ে দিলাম ।। 😀 আপনার একটি লজেন্স পাওনা রইল :নৃত্য:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *